কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
আজ ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলার পেঁয়াজ ও পাটচাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বেশি দাম না দিলে সার পাওয়া যাচ্ছে না– এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সারের সংকট প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৫ লাখ টন বেশি সার আমদানি করা হয় এবং সমপরিমাণ সারের নিরাপত্তা মজুত থাকে। ফলে দেশে সার সংকট হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে কিছু দুষ্কৃতকারী ও ষড়যন্ত্রকারী পরিকল্পিতভাবে সারের দাম বাড়িয়ে রাখার চেষ্টা করছে।
মন্ত্রী বলেন, কিছু খুচরা সার বিক্রেতা বাজারে সার নেই বলে প্রচার করছেন। অথচ অতিরিক্ত টাকা দিলে তারাই আবার সার সরবরাহ করছেন। এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষিপণ্যের আমদানি নির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আমিন উর রশিদ বলেন, পাট ও পেঁয়াজের বীজ যাতে ভবিষ্যতে বিদেশ থেকে আমদানি করতে না হয়, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। কৃষিতে সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে, প্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের আমদানি কমিয়ে দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করা।
মন্ত্রী বলেন, “আগামীতে যাতে কোনো কৃষিপণ্য আমদানি করতে না হয়, বরং রপ্তানি করা যায়—সেটাই কৃষিতে সরকারের লক্ষ্য। আমরা নিজেরাই উৎপাদন করার চেষ্টা করছি। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে কষ্ট ও পরিশ্রম করতে হবে।” কাঁচামরিচ, আদা, রসুনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্য উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।