গত কয়েকদিনের উত্তেজনা আর উদ্বেগের পর সিলেটের বিয়ানীবাজারে এবারের মতো নৌকাবাইচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ‘তৌহিদি জনতা’র চাপের প্রেক্ষিতে এবারের নৌকাবাইচ আয়োজনে একটা শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। শর্তটা হলো, আগামী বছর থেকে আর কখনো নৌকাবাইচ আয়োজন করা যাবে না। অর্থাৎ, সুনাই নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ এবারই শেষবারের মতো হতে যাচ্ছে!
গতকাল শনিবার রাত ৮টার দিকে বারইগ্রাম বাজারে লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এ বিষয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের যুবক, মুরুব্বি, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন। তারা আলোচনার মাধ্যমে ‘পরের বছর থেকে আর নয়’ শর্তে এ বছরের পূর্বনির্ধারিত নৌকাবাইচটি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল করিম আজ রাত ৯টার দিকে চরচাকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। বলেছেন, আগামী বছর থেকে ওই নদীতে আর নৌকাবাইচ আয়োজন করা হবে না– এমন শর্তে স্থানীয়রা এবারের পূর্বনির্ধারিত সময়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।
এ ঘটনায় আলোচনায় আসা ‘তৌহিদি জনতা’ গতকালের বৈঠকে উপস্থিত ছিল কি না– জানতে চাইলে ওসি মাহফুজুল করিম বলেন, “তৌহিদি জনতা– এটি একটি গুজব।”
নৌকাবাইচ নিয়ে এই পুরো ঘটনায় ‘তৌহিদি জনতা’র হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেন মাসুম বিন নুর উদ্দিন নামের এক যুবক। তার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, “এ বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।”
বৈঠকে কীভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, এ ব্যাপারে লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন চরচাকে বলেন, “পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে নৌকাবাইচ নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং সুনাই নদীতে এরপর আর নৌকাবাইচ আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
গতকাল লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকটিতে মোল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ মান্নান, লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গউছ উদ্দিন, ইউপি সদস্য আবদুল লতিফ, বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আতাউর রহমান, লাউতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জালাল উদ্দিন, জাসাস বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান, সমাজসেবক আব্দুল ওয়াহাব, লাউতা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আব্দুল আহাদ, বিয়ানীবাজার উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও লাউতা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এনাম উদ্দিন দিলাল, আব্দুল মালিক ও খালেদ আহমদসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, যুবসমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।