বর্তমান সরকার তাদের প্রথম ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনসেবা ও প্রশাসনিক পরিচালনায় চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি মন্ত্রিসভায় ব্যাপক রদবদল ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
আজ রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর হেয়ার রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে জোটের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে আসনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বৈঠক থেকে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখে গণলংমার্চের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আদলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে লংমার্চ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত ছয় মাসে দেশে নজিরবিহীন লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। গ্যাসের তীব্র সংকটে শিল্প-কারখানা বন্ধ হচ্ছে এবং কৃষিখাতে সার সংকট দেখা দিয়েছে। সরকার নিজেদের অপেশাদারি ও অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত ঢাকতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। ছয় মাসের মাথায় একাধিকবার মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন প্রমাণ করে সরকারের কোনো সুস্পষ্ট সুশাসন বা সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে নাহিদ বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে সবচেয়ে বেশি ব্যর্থ হয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রযন্ত্র ও প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে নজিরবিহীন দলীয়করণ চলছে এবং সরকার তাদের দেওয়া রূপরেখা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছে। গণভোটের মাধ্যমে জনগণের দেওয়া সুস্পষ্ট রায় বাস্তবায়ন না করাকে তিনি ‘সর্ববৃহৎ জাতীয় প্রতারণা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
পররাষ্ট্র নীতির প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ব্রিফিং ও তৎপরতার বিরুদ্ধে দিল্লিকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। যতক্ষণ পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত না করা হচ্ছে, ততক্ষণ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কারো ভারত সফরে যাওয়া উচিত হবে না।
সরকারকে অবিলম্বে রাজপথের ভাষা বোঝার তাগিদ দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, জনগণের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা অব্যাহত থাকলে অতীতের মতো রাজপথেই এই ব্যর্থতার চূড়ান্ত ফয়সালা করবে আমজনতা।