যুদ্ধবিমানগুলো ৪.৫ প্রজন্মের। মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান, অর্থাৎ আকাশ থেকে আকাশে ও আকাশ থেকে মাটিতে মিসাইল ছুড়তে পারে। তবে এগুলো সিঙ্গেল ইঞ্জিন, ওজনে হালকা, রক্ষণাবেক্ষণের খরচও কম। অর্ধেক সিংহ, অর্ধেক ঈগলের রূপকথার চরিত্র গ্রিফিনের সুইডিশ শব্দ ‘গ্রিপেন’ হচ্ছে এই যুদ্ধজাহাজগুলোর নাম।
যুদ্ধজাহাজগুলোও আকারে ছোট, তবে গতি বেশি। করভেট যুদ্ধজাহাজগুলো মূলত প্যাট্রোলিংয়ের কাজে বেশি ব্যবহৃত হয়।
এমনই কিছু গ্রিপেন যুদ্ধবিমান আর করভেট যুদ্ধজাহাজকে ফিনল্যান্ডের সীমানায় পাঠিয়েছে সুইডেন। অন্তত এ বছরের শেষ পর্যন্ত ফিনল্যান্ডের সীমানায় নজরদারি ও সুরক্ষার কাজে যুক্ত হবে এই সমরযানগুলো, আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে এমনই জানিয়েছে ফিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষাবাহিনী।
‘সুইডিশ যানগুলোর কারণে আমাদের আকাশপথের নজরদারি বিশেষভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠবে। এতে ফিনিশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিজস্ব যুদ্ধযানগুলোকে আলাদা করে রাখা যাবে, যাতে আগ্রাসন বা এরকম কোনো ঘটনা ঘটলে সেগুলো দিয়ে জবাব দেওয়া যায়’ – বিবৃতিতে লিখেছে ফিনল্যান্ডের মিলিটারি।
রাশিয়ার সঙ্গে ১৩৪০ কিলোমিটারের সীমান্ত আছে ফিনল্যান্ডের।
দুই প্রতিবেশি দেশ ফিনল্যান্ড ও সুইডেন হচ্ছে ন্যাটোর সর্বশেষ, অর্থাৎ ৩১ ও ৩২তম সদস্য দেশ। দুই দেশের মধ্যে আগে থেকেই দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতার চুক্তি কার্যকর রয়েছে।
সুইডেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্যাল জনসন রয়টার্সকে বলেছেন, “নিরাপত্তা পরিস্থিতি যেভাবে ক্রমেই খারাপ হচ্ছে, তার প্রেক্ষিতে ফিনল্যান্ডের দিক থেকে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে একটা অনুরোধ এসেছিল। সুইডেন সে অনুরোধে সাড়া দিয়েছে।”
প্যাল জনসন এটাও জানিয়ে দিয়েছেন যে, দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি অনুযায়ী, ফিনল্যান্ডের সীমানায় কোনো আগ্রাসনের ঘটনা ঘটলে সেটার জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে ফিনল্যান্ডের সঙ্গে লড়বে সুইডেনের সশস্ত্রবাহিনী। এও বলেছেন, যুদ্ধবিমান ও ড্রোন দিয়ে যুদ্ধ করার ক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ পাঠানোর পাশাপাশি ফিনল্যান্ডের সীমানায় মাটিতে থাকা অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম জোরদার করতেও সাহায্য করবে সুইডেন।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে ফিনল্যান্ড, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমানায় মিলিটারি ড্রোনের উপস্থিতি দেখা গেছে। এতে ইউক্রেন যুদ্ধটা রাশিয়ার উত্তর দিকের সীমান্তবর্তী ন্যাটো সদস্য দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে কি না– এই আশঙ্কা বেড়ে গেছে। ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ান অংশের বাল্টিক সাগরে অবস্থিত তেলবাহী জাহাজের বন্দরগুলোতে হামলার পরিমাণ বাড়িয়েছে, কিন্তু তাদের কিছু ড্রোন লক্ষ্যচ্যুত হয়ে প্রতিবেশি দেশগুলোতে নিরাপত্তা হুঁশিয়ারির জন্ম দিয়েছে।
সুইডেন যেদিন ফিনল্যান্ডে সমরযান পাঠানোর বিবৃতি দিয়েছে, সেদিনই অর্থাৎ, শুক্রবার– গ্রিপেন যুদ্ধবিমানের প্রস্তুতকারক সুইডিশ কোম্পানি এসএএবি জানিয়েছে, তাদের তৈরি করা বহনযোগ্য এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেম ‘আরবিএস সেভেনটি এনজি’র জন্য ফিনল্যান্ডের দিক থেকে অনেক অর্ডার এসেছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলার।