
লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে
গত ১১ মে দক্ষিণ লেবাননের এক সংঘাতপূর্ণ এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হওয়ার প্রায় তিন মাস ২৫ দিন পর আজ সকাল ১০টার দিকে তার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছায়।
“পৃথিবী আজ শুধু ভৌগোলিকভাবে বিভক্ত, কিন্তু মানুষের ভবিষ্যৎ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।”
মানবসভ্যতার ইতিহাসে মানুষ সবসময় একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেছে। বাণিজ্য, জ্ঞান, সংস্কৃতি এবং চিন্তার আদান-প্রদানের মাধ্যমে বিভিন্ন সভ্যতা পরস্পরকে সমৃদ্ধ করেছে। কিন্তু আধুনিক যুগে এই সম্পর্ক এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রযুক্তি, যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কারণে পৃথিবীর এক প্রান্তের ঘটনা অন্য প্রান্তের মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করছে।
একটি দেশের অর্থনৈতিক সংকট, একটি অঞ্চলের যুদ্ধ, একটি মহামারি কিংবা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, সবকিছুই আজ বৈশ্বিক বাস্তবতার অংশ। তাই বর্তমান পৃথিবীতে উন্নয়ন ও নিরাপত্তা শুধু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; এটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত।
বিশ্বায়ন বলতে শুধু আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বা অর্থনৈতিক সম্পর্ক বোঝায় না। বিশ্বায়ন হলো জ্ঞান, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, যোগাযোগ এবং মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের একটি বিস্তৃত প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে একটি দেশের মানুষ অন্য দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে পারে, নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করতে পারে এবং বৈশ্বিক সুযোগের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
তবে বিশ্বায়নের কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অর্থনৈতিক বৈষম্য, সাংস্কৃতিক ভারসাম্যের পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত বিভাজন এবং বৈশ্বিক সম্পদের অসম বণ্টন নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাই বিশ্বায়নের লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু অর্থনৈতিক লাভ নয়, বরং মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করা।
একটি দেশের প্রথম দায়িত্ব অবশ্যই তার নিজের জনগণের প্রতি। নাগরিকদের নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং কল্যাণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রধান কাজ। কিন্তু বর্তমান পৃথিবীতে জাতীয় স্বার্থ ও বৈশ্বিক দায়িত্ব একে অপরের বিরোধী নয়।
একটি দেশ যখন জলবায়ু রক্ষা করে, আন্তর্জাতিক শান্তিতে অবদান রাখে, জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময় করে এবং মানবিক সংকটে সহযোগিতা করে, তখন সেটি শুধু বিশ্বকে সাহায্য করে না; নিজের ভবিষ্যৎকেও নিরাপদ করে। কারণ আজকের পৃথিবীতে অন্যের সমস্যা অনেক সময় আগামী দিনের নিজের সমস্যায় পরিণত হতে পারে।
মানুষের পরিচয় শুধু জাতীয়তা, ভাষা বা সংস্কৃতির মাধ্যমে নির্ধারিত হয় না। এর গভীরে রয়েছে একটি মৌলিক পরিচয়, মানুষ হিসেবে মানুষের পরিচয়। যুদ্ধ, দুর্যোগ, মহামারি কিংবা মানবিক সংকটের সময় এই সত্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একজন মানুষের জীবন, মর্যাদা এবং নিরাপত্তার মূল্য কোনো সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
একটি মানবিক পৃথিবীর জন্য প্রয়োজন এমন একটি চিন্তাধারা, যেখানে নিজের দেশের প্রতি ভালোবাসার পাশাপাশি অন্য মানুষের প্রতিও সম্মান ও সহমর্মিতা থাকবে।
বর্তমান বিশ্বের বড় সমস্যাগুলো কোনো একটি দেশ একা সমাধান করতে পারে না। জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি, সাইবার নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা অপরিহার্য। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আমাদের দেখিয়েছে, জ্ঞান ভাগাভাগি করলে মানবসভ্যতা দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে। একইভাবে, বৈশ্বিক সমস্যার সমাধানও সম্ভব সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে।
ইন্টারনেট, ডিজিটাল যোগাযোগ এবং আধুনিক পরিবহন পৃথিবীর মানুষকে আগের চেয়ে অনেক বেশি কাছাকাছি এনেছে। তবে প্রযুক্তির এই শক্তি যেন বিভাজন নয়, সহযোগিতা তৈরি করে, সেটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ডিজিটাল জ্ঞান, তথ্যের নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার ভবিষ্যতের বৈশ্বিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হবে।
বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে নিজের উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক ব্যবস্থার একটি অংশ। বাণিজ্য, প্রযুক্তি, জলবায়ু, শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আরও বিস্তৃত সুযোগের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য বিশ্ব এখন শুধু একটি ভৌগোলিক সীমারেখা নয়; এটি জ্ঞান, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার একটি বিশাল ক্ষেত্র। তবে বৈশ্বিক অংশগ্রহণের সঙ্গে নিজের সংস্কৃতি, মূল্যবোধ এবং জাতীয় স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
আগামী দিনের পৃথিবীতে শুধু শক্তিশালী দেশ নয়, সহযোগিতাপূর্ণ দেশগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। যে দেশ জ্ঞান ভাগ করে, মানবিক মূল্যবোধকে সম্মান করে এবং বৈশ্বিক সমস্যার সমাধানে অংশগ্রহণ করে, সেই দেশ দীর্ঘমেয়াদে সম্মান ও আস্থা অর্জন করবে। ভবিষ্যতের নেতৃত্ব হবে এমন নেতৃত্ব, যা প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সহযোগিতার গুরুত্ব বুঝবে।
মানুষ রাষ্ট্রের ভিত্তি। পরিবার তাকে গড়ে তোলে। শিক্ষা তাকে প্রস্তুত করে। সমাজ ও প্রতিষ্ঠান তাকে সংগঠিত করে। নেতৃত্ব তাকে পথ দেখায়। উন্নয়ন ও প্রযুক্তি তার সম্ভাবনাকে বৃদ্ধি করে। পরিবেশ তাকে বাঁচার উপযোগী পৃথিবী দেয়। আর বিশ্বায়ন সেই মানুষ ও রাষ্ট্রগুলোকে একটি বৃহত্তর মানবিক সম্পর্কের মধ্যে যুক্ত করে।
কারণ, “একটি নিরাপদ পৃথিবী কোনো এক দেশের একক অর্জন নয়; এটি সমগ্র মানবজাতির সম্মিলিত দায়িত্ব।”
বিশ্বায়নের যুগে কোনো দেশ একা এগিয়ে যেতে পারে না। মানবতা, সহযোগিতা এবং পারস্পরিক দায়িত্বের ভিত্তিতে গড়ে উঠতে হবে ভবিষ্যতের পৃথিবী।
তাহলে আত্মজিজ্ঞাসা হওয়া উচিত, আমি কি পৃথিবীকে শুধু নিজের পরিচয় ও সীমার মধ্যে দেখি, নাকি একজন বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে মানবতার বৃহত্তর দায়িত্বকেও উপলব্ধি করি?
শেষ পর্যন্ত এই সব প্রশ্ন আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে। কারণ আমরা আজ যে পৃথিবী তৈরি করছি, সেটিই আগামী প্রজন্ম উত্তরাধিকার হিসেবে পাবে।
“আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছ থেকে পৃথিবী উত্তরাধিকার হিসেবে পাইনি; আমরা এটি তাদের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।”
মানবসভ্যতার ইতিহাস মূলত একটি প্রজন্ম থেকে আরেকটি প্রজন্মের কাছে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, সংস্কৃতি এবং মূল্যবোধ হস্তান্তরের ইতিহাস। প্রতিটি প্রজন্ম তার পূর্ববর্তী প্রজন্মের কাছ থেকে কিছু অর্জন করে এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কিছু রেখে যায়। প্রশ্ন হলো, আমরা ভবিষ্যতের মানুষের জন্য কী রেখে যেতে চাই? শুধু উন্নত প্রযুক্তি, বড় অর্থনীতি এবং আধুনিক অবকাঠামো কি যথেষ্ট? নাকি এর পাশাপাশি প্রয়োজন এমন একটি সমাজ, যেখানে মানুষ সত্য, ন্যায়, সহমর্মিতা এবং দায়িত্ববোধকে মূল্য দেবে? একটি নতুন সভ্যতার স্বপ্ন আসলে এখান থেকেই শুরু হয়।
আজকের পৃথিবীতে নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করবে। আমরা কীভাবে পরিবেশ ব্যবহার করছি, কী ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করছি, কী ধরনের প্রযুক্তি গ্রহণ করছি এবং কী ধরনের সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তুলছি, এসব কিছুই আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
একটি দায়িত্বশীল সমাজ শুধু বর্তমানের সুবিধা নিয়ে চিন্তা করে না; সে ভবিষ্যতের অধিকার সম্পর্কেও সচেতন থাকে। কারণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কোনো ভোট নেই, কোনো কণ্ঠ নেই, কিন্তু তাদেরও একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে।
সভ্যতার অগ্রগতি শুধু প্রযুক্তি বা অর্থনীতির মাধ্যমে পরিমাপ করা যায় না। একটি সমাজ কতটা মানবিক, কতটা ন্যায়ভিত্তিক এবং কতটা দায়িত্বশীল, সেটিও তার সভ্যতার পরিচয়। মূল্যবোধ হলো সেই অদৃশ্য ভিত্তি, যার ওপর মানুষের আচরণ, পরিবার, প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্র দাঁড়িয়ে থাকে। সততা, সহমর্মিতা, ন্যায়বোধ, স্বাধীন চিন্তা, অন্যের প্রতি সম্মান এবং দায়িত্বশীলতা, এসব মূল্যবোধ ছাড়া কোনো উন্নত সমাজ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।
কারণ প্রযুক্তি মানুষকে শক্তিশালী করতে পারে, কিন্তু মূল্যবোধই নির্ধারণ করে সেই শক্তি কোন পথে ব্যবহার হবে।
আগামী দিনের পৃথিবী দ্রুত পরিবর্তিত হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তি, বৈশ্বিক যোগাযোগ এবং নতুন অর্থনৈতিক কাঠামো মানুষের জীবনকে নতুনভাবে গড়ে তুলবে। কিন্তু ভবিষ্যতের মানুষের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা নয়। প্রয়োজন হবে এমন মানুষ, যারা চিন্তা করতে পারে, নতুন কিছু সৃষ্টি করতে পারে, পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে এবং একই সঙ্গে মানবিকতা ধরে রাখতে পারে।
ভবিষ্যতের সফল মানুষ হবে সেই ব্যক্তি, যিনি জ্ঞান ও নৈতিকতা, স্বাধীনতা ও দায়িত্ব, প্রযুক্তি ও মানবতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে পারবেন।
ভবিষ্যতের সভ্যতা গড়ার প্রথম কাজ শুরু হবে পরিবার থেকে। একটি শিশু যদি ছোটবেলা থেকেই সম্মান, সততা, সহযোগিতা এবং দায়িত্বের শিক্ষা পায়, তাহলে সে ভবিষ্যতে শুধু একজন সফল ব্যক্তি নয়, একজন ভালো নাগরিক হয়ে উঠবে। এরপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব হলো সেই মূল্যবোধকে জ্ঞান ও দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত করা। শিক্ষার লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন মানুষ তৈরি করা, যারা শুধু নিজের জীবন উন্নত করবে না, বরং সমাজের উন্নয়নেও অবদান রাখবে।
ভবিষ্যতের সভ্যতা প্রযুক্তি ছাড়া কল্পনা করা যাবে না। কিন্তু প্রযুক্তির অগ্রগতি যদি মানবিক মূল্যবোধ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, তাহলে তা নতুন ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে। তাই ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ হলো, কীভাবে প্রযুক্তিকে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা যায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল ব্যবস্থা এবং বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি তখনই প্রকৃত অর্থে সফল হবে, যখন এগুলো মানুষের মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করবে।
মানুষ প্রযুক্তির স্রষ্টা; তাই প্রযুক্তির চূড়ান্ত লক্ষ্যও মানুষের উন্নতি হওয়া উচিত।
একটি নতুন সভ্যতা কেবল আধুনিক ভবন বা উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি হবে না। এটি তৈরি হবে মানুষের চিন্তা ও আচরণের পরিবর্তনের মাধ্যমে। এই নতুন সভ্যতার ভিত্তি হবে এমন মানুষ, যারা জ্ঞানী কিন্তু অহংকারী নয়; এমন সমাজ, যেখানে স্বাধীনতা ও দায়িত্ব পাশাপাশি থাকবে; এমন রাষ্ট্র, যেখানে ক্ষমতার চেয়ে ন্যায় ও জবাবদিহি গুরুত্বপূর্ণ হবে; এমন অর্থনীতি, যেখানে উন্নয়নের সঙ্গে মানবিকতা ও পরিবেশের ভারসাম্য থাকবে; এবং এমন বিশ্ব, যেখানে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সহযোগিতার মূল্য থাকবে।
বাংলাদেশের মতো একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর দেশের সামনে চ্যালেঞ্জ যেমন আছে, তেমনি রয়েছে বিশাল সম্ভাবনা। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কেবল অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন এমন একটি সমাজ, যেখানে মানুষ দক্ষ, নৈতিক এবং দায়িত্বশীল হবে। তরুণ প্রজন্মকে যদি সঠিক শিক্ষা, মূল্যবোধ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং সুযোগ দেওয়া যায়, তাহলে তারাই দেশের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের প্রধান শক্তি হতে পারে।
একটি দেশের ভবিষ্যৎ আসলে তার তরুণদের চিন্তার মধ্যে তৈরি হয়। কারণ সব পরিবর্তনের শুরু একজন মানুষ থেকেই। একজন ভালো মানুষ একটি ভালো পরিবার তৈরি করে। ভালো পরিবার একটি সুস্থ সমাজ তৈরি করে। সুস্থ সমাজ শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র তৈরি করে। আর সেই রাষ্ট্র একটি মানবিক ও সহযোগিতামূলক বিশ্ব নির্মাণে ভূমিকা রাখে।
এটাই একটি নতুন সভ্যতার স্বপ্ন।
যেখানে উন্নয়ন থাকবে, কিন্তু মানবতা হারাবে না। যেখানে প্রযুক্তি থাকবে, কিন্তু বিবেক পরাজিত হবে না। যেখানে স্বাধীনতা থাকবে, কিন্তু দায়িত্ব ভুলে যাওয়া হবে না।
কারণ, “সভ্যতার প্রকৃত অগ্রগতি মানুষের হাতে তৈরি যন্ত্রে নয়, মানুষের হৃদয়ে ও চিন্তায় তৈরি পরিবর্তনে প্রকাশ পায়।”
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত পৃথিবী তৈরি করতে হলে জ্ঞান, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে মূল্যবোধ, মানবিকতা এবং দায়িত্ববোধের সমন্বয় অপরিহার্য।
তাই শেষ আত্মজিজ্ঞাসাটি হতে পারে, আমি আজ যে সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছি, সেগুলো কি শুধু আমার বর্তমানের জন্য, নাকি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও একটি ভালো পৃথিবী তৈরিতে ভূমিকা রাখছে? (শেষ)
লেখক: সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন। বর্তমানে সুইডেনপ্রবাসী।
ইমেইল: [email protected]

লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে
গত ১১ মে দক্ষিণ লেবাননের এক সংঘাতপূর্ণ এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হওয়ার প্রায় তিন মাস ২৫ দিন পর আজ সকাল ১০টার দিকে তার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছায়।

প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও ভবিষ্যতের সমাজ
টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য উন্নয়ন, প্রযুক্তি এবং পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য অপরিহার্য। প্রকৃতি রক্ষা শুধু পরিবেশের বিষয় নয়; এটি মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ রক্ষার বিষয়।

অবৈধ অভিবাসন এখনো গুরুতর উদ্বেগের বিষয়: শামা ওবায়েদ
শামা ওবায়েদ বলেন, সরকারি সংস্থাগুলো তৃণমূল পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। অবৈধ অভিবাসন বেশি হয়—এমন জেলাগুলো চিহ্নিত করে সমস্যা মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ায় অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে ৮ বাংলাদেশিসহ ১৬ জন আটক
দুমাই নৌঘাঁটির প্রধান কর্নেল আগুং এন কুসুমাঝি বলেন, রোববার সন্ধ্যায় পানতাই মুতিয়ারা উপকূলের একটি অবৈধ ঘাট দিয়ে ইন্দোনেশীয় ও বাংলাদেশিদের দলটির দেশে প্রবেশের পরিকল্পনার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যায়। ওই তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয়।