কৃষি খাতের উৎপাদন বাড়ানো, খাদ্য নিরাপত্তা সুসংহত করা এবং পল্লী অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে এই ঋণ বিতরণ করা হবে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ রোববার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মোসা. ফরিদা ইয়াসমিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এই ঋণের আওতায় পোল্ট্রি ও ডেইরি ফার্ম প্রতিষ্ঠা এবং গুদামজাত বা হিমাগারে সংরক্ষিত কৃষিপণ্যের বিপরীতে নিয়ম মেনে ঋণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে দেশের উত্তরাঞ্চলকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান আমির খসরু।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “গত ৬ জুলাই জারি করা এসিডি-১ সার্কুলার নম্বর-২-এর মাধ্যমে ৩ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে।”
এই তহবিলের আওতায় আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব হিমাগার নির্মাণে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শস্য ও ফসল, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, কৃষি ও সেচ যন্ত্রপাতি এবং আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডেও ঋণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। কৃষি খাতের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতেও উদ্যোগ রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, গত ৮ জুন জারি করা এসিডি সার্কুলার নম্বর-০১-এর মাধ্যমে ১০ হাজার কোটি টাকার আরেকটি পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠন করা হয়েছে। এর আওতায় ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে পল্লী ঋণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
সরকারের প্রত্যাশা, এসব তহবিলের সঠিক ব্যবহার হলে গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা সুসংহত করতেও তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।