
আর কোন কোন দেশে জেলহত্যা হয়েছে?
কারাবন্দিদের নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুযোগ–সুবিধার দায়িত্ব পুরোপুরি রাষ্ট্রের। সেই নিরাপদ কারাগারেই যখন রাজবন্দীদের গুলি করে হত্যা করা হয়, তখন সেই ঘটনা হয়ে যায় রাষ্ট্রের জন্য এক বড় ‘কলঙ্কের ইতিহাস’।

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটে এরই মধ্যে বিপর্যস্ত এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো। এসব অঞ্চলের সরকার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর চোখ এখন মঙ্গলবারের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ অঞ্চলের অনেকেই চান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের বাকি সময়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আসুক। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে শুরু করে বাণিজ্যনীতি ও শুল্কনীতিসহ সব ক্ষেত্রেই পরিবর্তন চান তারা। তবে এমন পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ এবং সম্ভবত সিনেটেও ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারপরও বড় ধরনের পরিবর্তন হবে, এমনটা মনে আশা করছেন না বিশ্লেষকেরা।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এপিএসি অ্যাডভাইজার্সের প্রধান নির্বাহী ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ স্টিভেন ওকুন কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলেন, “অবশ্যই সবাই এই নির্বাচনের দিকে নজর রাখছে। এটি দারুণ এক রাজনৈতিক নাটক।”
মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে। জানুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে যে পরিমাণ তেল ও গ্যাস রপ্তানি হতো, তার বেশির ভাগই কিনত এ অঞ্চলের দেশগুলো।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধ করে দিলে এ অঞ্চলের অনেক দেশ জ্বালানি সংকটে পড়ে।
আল জাজিরা বলছে, ফিলিপাইন উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর তেলের জন্য ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। দেশটির আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ৯০ শতাংশের বেশি আসে ওই অঞ্চল থেকে। এ কারণে গত মার্চ থেকে দেশটিতে জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা চলছে।
সিঙ্গাপুরের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব সাউথইস্ট এশিয়ান স্টাডিজের (আইএসইএএস)-ইউসুফ ইশাক ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানির দাম হু হু করে বেড়ে যাওয়ায় কম্বোডিয়া, লাওস, মিয়ানমার ও পূর্ব তিমুরের মতো এ অঞ্চলের দরিদ্র দেশগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, জ্বালানির বাড়তি দাম থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম সরকারকে জ্বালানিতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মানুষ ও মার্কিন নাগরিকরা এখনো এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে। তবে স্টিভেন ওকুনের মতে, মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলেও আট মাস ধরে চলা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাধ্য করা কঠিন হবে।
তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটরা পেলে ইরান যুদ্ধ নিয়ে তদন্ত হতে পারে এবং এ বিষয়ে কংগ্রেসে শুনানি হতে পারে। এমনকি প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে অভিশংসনের উদ্যোগও দেখা যেতে পারে। কিন্তু তাতে যুদ্ধের সামগ্রিক প্রভাবের কোনো পরিবর্তন হবে না বলে মত ওকুনের।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, আত্মরক্ষার জন্যই ইরানে হামলা চালানো হয়েছে। এ পর্যন্ত কংগ্রেসের এমন প্রস্তাবও তিনি উপেক্ষা করেছেন, যেখানে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাত থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেস যদি সামরিক অভিযান সীমিত করা বা এর অর্থায়ন বন্ধ করার জন্য কোনো আইন পাস করে, তাহলে ট্রাম্প তাতে ভেটো দিতে পারেন। তবে প্রেসিডেন্টের ভেটো বাতিল করতে হলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে এত ভোট পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
‘শুল্কনীতিতে পরিবর্তন আসবে না’
বাণিজ্য ও শুল্কনীতির ক্ষেত্রেও ট্রাম্পকে নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগও কংগ্রেসের খুব বেশি নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্য নিয়ে প্রায় ৯০টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্কারোপ করেছিলেন ট্রাম্প। এতে বিশ্ববাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়।
বিশেষ করে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো এর প্রভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ অঞ্চলের প্রায় ১৫টি দেশের পণ্যের ওপর শুল্কারোপ করা হয়। এর মধ্যে কম্বোডিয়ার পণ্যে ৪৯ শতাংশ এবং লাওসের পণ্যে ৪৮ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়। ভিয়েতনামের পণ্যে ৪৬ শতাংশ এবং মিয়ানমারের পণ্যে ৪৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এসব শুল্ক বাতিল করে দেন। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ক আরোপের জন্য অন্য পথ বেছে নেয়।
জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে তৈরি পণ্য আমদানি বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এই তালিকায় রয়েছে চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাতটি দেশ–কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম।
ওকুনের মতে, বিভিন্ন দিক বিবেচনা করলে নতুন কংগ্রেস এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য তেমন গুরুত্বপূর্ণ হবে না। কারণ, এতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতির কোনো পরিবর্তন আসবে না। কংগ্রেস এই নীতি পরিবর্তন করতে পারবে না। শুল্কনীতি যেমন আছে, তেমনই থাকবে। যুদ্ধের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসবে না।
তবে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, শুল্কনীতিতে সামান্য পরিবর্তনের সুযোগ এখনো রয়েছে। সিঙ্গাপুরের আইএসইএএস-ইউসুফ ইশাক ইনস্টিটিউটের ভিজিটিং ফেলো স্টিফেন ওলসন সম্প্রতি এক নিবন্ধে লিখেছেন, নির্বাচনে ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে জোরালো জনমত দেখা গেলে রিপাবলিকান পার্টির মুক্তবাণিজ্যপন্থী অংশ আবার সক্রিয় হতে পারে। ট্রাম্পের শাসনামলে এই অংশের অনেকেই চাপের মুখে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে গিয়েছিলেন।
ওলসনের মতে, এতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর নির্ভরশীল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জন্য কিছুটা আশার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে এ অঞ্চলের রপ্তানিকারকদের জন্য শুল্কের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় বা বিশেষ সুবিধা দেওয়ার দাবি উঠতে পারে। এতে তারা সামান্য হলেও স্বস্তি পাবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে হলে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক জশুয়া কারলানজিক বলেন, এশিয়ার দেশগুলোর প্রত্যাশা শুধু বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, নিরাপত্তার বিষয়টিও তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, “আমার মনে হয়, এশিয়ার প্রায় সব দেশই ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের বাকি সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখতে চায়। তবে এ অঞ্চলের বেশির ভাগ দেশই মনে করে, এমন পরিবর্তন আসবে না।”
কারলানজিক বলেন, বাণিজ্য ও শুল্কনীতিতে আরও স্থিতিশীলতার পাশাপাশি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তাও আরও ভালোভাবে পেতে চায়। দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের আরও স্পষ্ট ও দৃশ্যমান উপস্থিতি চায় এ অঞ্চলের দেশগুলো। এই সাগরের মালিকানা নিয়ে চীনের সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পাঁচটি দেশের বিরোধ রয়েছে।
এছাড়া তাইওয়ান প্রণালিতেও যুক্তরাষ্ট্রের আরও সক্রিয় উপস্থিতি চায় তারা। এই প্রণালি চীন ও তাইওয়ানকে আলাদা করেছে। স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে চীন।
কারলানজিক বলেন, রিপাবলিকান পার্টি নির্বাচনে হারলে এশিয়ার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো কংগ্রেসে দলটির অবস্থানের দিকে নজর রাখবে। বিশেষ করে এশিয়ার ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধিতা করে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে রিপাবলিকানরাও কতটা সক্রিয় হয়, তা দেখতে চাইবে তারা। এসব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে শুল্ক, বাণিজ্যনীতি, অস্ত্র বিক্রি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতির অনিশ্চয়তা।
যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, চীনের বিষয়ে নতুন কংগ্রেস কিছু পদক্ষেপ নেবে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ যে দলের হাতেই থাকুক না কেন, চীনের প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ আরও সীমিত করতে কঠোর বিধিনিষেধ পাস হতে পারে।
এপিএসি অ্যাডভাইজার্সের ওকুন বলেন, এমন কয়েকটি প্রস্তাব রয়েছে, যেগুলো পাস হলে চীনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি পাওয়া আরও কঠিন হবে। এর মধ্যে রয়েছে ‘রিমোট অ্যাকসেস সিকিউরিটি অ্যাক্ট’। এই আইনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য, সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি দূর থেকে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের বিধিনিষেধ বাড়ানো হবে।
আরেকটি প্রস্তাব হলো ‘চিপ সিকিউরিটি অ্যাক্ট’। এর মাধ্যমে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চিপ অনুমোদিত স্থানেই রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করা হবে। এর উদ্দেশ্য হলো, এসব চিপ যেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ কোনো দেশের হাতে না পড়ে।
এ ছাড়া রয়েছে ‘ম্যাচ অ্যাক্ট’। এই আইনের মাধ্যমে চিপ তৈরির যন্ত্রপাতি রপ্তানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে একই ধরনের বিধিনিষেধ মানতে চাপ দেওয়া হবে। এর লক্ষ্য, উন্নত চিপ তৈরির প্রযুক্তি যেন চীনের হাতে না যায়।
ওকুন বলেন, “মধ্যবর্তী নির্বাচনে যে দলই জিতুক না কেন, পরবর্তী কংগ্রেস এসব আইন পাস করবে। কারণ, এ বিষয়ে দুই দলেরই একমত রয়েছে।” চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “এই মুহূর্তে চীনের ওপর সবচেয়ে কম বিধিনিষেধ আরোপ করতে চাইছেন এমন ব্যক্তি হলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।”
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে তীব্র বাণিজ্যযুদ্ধের পর দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা উষ্ণ হয়েছে। চলতি বছর দুই নেতা দুবার বৈঠক করেছেন।
দুই দেশের মধ্যে ভঙ্গুর বাণিজ্যিক সমঝোতা ধরে রাখতে তাইওয়ানের জন্য ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির একটি প্রস্তাব অনুমোদন থেকেও বিরত রয়েছেন ট্রাম্প। এটি অনুমোদন পেলে তাইওয়ানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অস্ত্র বিক্রির চুক্তি হতো।
এদিকে কিছু বিশ্লেষক আশঙ্কা করছেন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে ডেমোক্র্যাটরা গেলে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ট্রাম্প অনেকটা চাপে পড়ে যেতে পারেন। আর এমন পরিস্থিতিতে তিনি পররাষ্ট্রনীতির দিকে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারেন।
ইন্দোনেশিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক জেমস গিল্ড বলেন, “ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতিতে যে অস্থিরতা রয়েছে, তা চলতে থাকলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।” তিনি আরও বলেন, “কংগ্রেসের প্রচলিত নজরদারির মাধ্যমে ট্রাম্পের বিরোধিতা করা এবং তাকে জবাবদিহির আওতায় আনার ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের অতীত রেকর্ড খুব একটা ভালো নয়। এবার তারা পরিস্থিতি অনুযায়ী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে কি না, তা দেখতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।”

আর কোন কোন দেশে জেলহত্যা হয়েছে?
কারাবন্দিদের নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুযোগ–সুবিধার দায়িত্ব পুরোপুরি রাষ্ট্রের। সেই নিরাপদ কারাগারেই যখন রাজবন্দীদের গুলি করে হত্যা করা হয়, তখন সেই ঘটনা হয়ে যায় রাষ্ট্রের জন্য এক বড় ‘কলঙ্কের ইতিহাস’।

বাংলাদেশের বেকার সমস্যায় পাশে কি দাঁড়াবে চীন? কতটা?
বাংলাদেশের চাকরির বাজারে বাড়ছে প্রতিযোগিতা। আর ক্রমবর্ধমান এই প্রতিযোগিতার মধ্যে যখন কর্মসংস্থান খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে দেশের হাজারো স্নাতক, তেমন পরিস্থিতিতেই চাকরির উপযোগী দক্ষতা গড়ে তুলতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ।

মোশতাক বললেন, সেনাবাহিনীর লোকজন যা করতে চায়, তাদের যেন বাধা না দেওয়া হয়
মহাপরিদর্শকে নির্দেশ দিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক নিজেই। বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে আসে সেই কথপোকথন। রাষ্ট্রপতি কারা মহাপরিদর্শককে সরাসরি বলেন, “সেনাবাহিনীর লোকজন যা করতে চায়, তাদের যেন বাধা দেওয়া না হয়।”

কী আছে ‘আমাদের’ উচ্চকক্ষে? ভারত-যুক্তরাজ্যের উচ্চকক্ষ কেমন?
বাংলাদেশে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদে। এতে জাতীয় সংসদকে নিম্নকক্ষ এবং ১০০ সদস্যের সিনেটকে উচ্চকক্ষ হিসেবে গঠনের কথা বলা হয়েছে। নিম্নকক্ষের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর পাওয়া ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের সদস্য নির্বাচিত হবেন। উচ্