Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০৩ নভেম্বর, ২০২৬
০৩ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০৩ নভেম্বর, ২০২৬
০৩ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ | স্বত্ব © চরচা
> বিশ্লেষণ

‘বিদেশি’ বনাম ‘ত্যাগী’: বিএনপির ভেতরে কি নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব?

মেরিনা মিতু

মেরিনা মিতু

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ২১: ৩৩
‘বিদেশি’ বনাম ‘ত্যাগী’: বিএনপির ভেতরে কি নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব?
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। ছবি: চরচা

‘ভবিষ্যতে কখনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে যেন সমালোচকেরা বিদেশ থেকে দেশে এসে সেই আন্দোলনে যোগ দেন’—মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার আগে ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে এমন একটি লাইন লিখেছিলেন ইশরাক হোসেন। ইশরাকের এই বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রেক্ষাপট ছিল পদত্যাগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে সমালোচনা।

Advertisement

কিন্তু পোস্টের এই বাক্যটি বিএনপির ভেতরে দীর্ঘদিন চলা আরেকটি বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে। সেটি হলো, দলের দুঃসময়ে দেশে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করা নেতা-কর্মীদের তুলনায় বিদেশে থাকা, বিদেশ থেকে ফিরে আসা কিংবা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছাকাছি থাকা ব্যক্তিরা কি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন?

Advertisement
Advertisement
Advertisement

তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় বিভিন্ন পর্যায়ে দলটির নেতা-কর্মীদের কাছে এই প্রশ্ন উঠেছে। কোথাও এর ভাষা ‘বিদেশি সিন্ডিকেট’, কোথাও ‘লন্ডননির্ভর সিদ্ধান্ত’, আবার কোথাও ‘বিদেশ থেকে লোক এনে কমিটি দখল’। বিশেষ করে সাংগঠনিক কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন নিয়ে বিরোধের সময় এই অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে।

এমন পরিস্থিতিতে ইশরাকের বক্তব্য শুধু একজন রাজনীতিবিদের ক্ষোভই না, বরং ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির ভেতরে নেতৃত্ব, ত্যাগের স্বীকৃতি ও রাজনৈতিক সুযোগ বণ্টনে তৈরি হওয়া অসন্তোষ নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?bnp oath 2 (1)

১৭ বছরের প্রবাসজীবন, লন্ডন থেকে দল পরিচালনা

দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘসময় প্রবাসে থেকে দল পরিচালনা করেছেন। প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফেরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। এরপর শুরু হয় এই ‘বিদেশি’ বিতর্কের প্রেক্ষাপট।

২০০৭ সালের ৭ মার্চ সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার করা হয় তারেক রহমানকে। প্রায় দেড় বছর কারাবন্দি থাকার পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পান। এর আট দিন পর, ১১ সেপ্টেম্বর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে লন্ডনে যান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: বাসস
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: বাসস

তারেক রহমানের দেশত্যাগের পেছনে সে সময়কার রাজনৈতিক পরিস্থিতি, কারাবন্দি অবস্থায় নির্যাতনের অভিযোগ এবং চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে এসেছিল। বিএনপির বক্তব্য ছিল, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিলেন।

লন্ডনে যাওয়ার পর প্রথম কয়েক বছর তারেক রহমান সরাসরি সক্রিয় রাজনীতিতে ছিলেন না। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান তিনি। এরপর লন্ডনে থেকেই বিএনপির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রধান ভূমিকা পালন করতে থাকেন।

তার এই নেতৃত্ব ছিল মূলত ভার্চুয়াল যোগাযোগনির্ভর। স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে শুরু করে জেলা, উপজেলা ও তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগই হতো ভিডিও কনফারেন্স ও ফোনে। বিএনপির নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান নিয়মিত নেতা-কর্মীদের খোঁজখবর নিতেন, মামলা-হামলার পরিস্থিতি জানতেন এবং আন্দোলনের কর্মসূচি নির্ধারণে ভূমিকা রাখতেন।

২০২২ সালে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে বলা হয়েছিল, লন্ডনে থেকেই তারেক রহমান বিভাগীয় সমাবেশ ও যুগপৎ আন্দোলনের সমন্বয় করছিলেন। দলের নেতারা দাবি করেছিলেন, তার সরাসরি যোগাযোগ বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করেছে।

কথায় পটু নই, কাজে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি: তারেক রহমানtarek back

তবে এই সময়ের আরেকটি বাস্তবতা ছিল, আন্দোলনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করেছেন দেশের ভেতরে থাকা নেতা-কর্মীরা। পুলিশের বাধা, গ্রেপ্তার, হামলা-মামলা, কারাবাস, সংঘর্ষ এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন তারাই। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশনায় কর্মসূচি পরিচালিত হলেও মাঠের ঝুঁকি ও ত্যাগের বড় অংশ বহন করেছেন দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের সংগঠকেরা।

ফলে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে থাকা নেতা-কর্মীদের একটি অংশের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে, আন্দোলনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আন্দোলনের ঝুঁকি বহনের মধ্যে দূরত্ব রয়েছে। আর ক্ষমতায় আসার পর যদি সেই দূরত্ব নেতৃত্ব ও পদায়নের ক্ষেত্রেও থেকে যায়, তাহলে অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে।

তারেক রহমানের সাথে ফিরলেন বিদেশে থাকা অনেক নেতাও

১৭ বছরের বেশি সময় পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তার প্রত্যাবর্তন বিএনপির রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তন নিয়ে আসে। দীর্ঘদিন ভার্চুয়াল মাধ্যমে পরিচালিত দলটির নেতৃত্ব এবার সরাসরি দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পায়।

তারেক রহমানের দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে শুধু একজন শীর্ষ নেতার প্রত্যাবর্তন ঘটেনি; দীর্ঘদিন বিদেশে থাকা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদেরও দেশে ফিরে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। দলের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, কূটনীতি এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যুক্ত থাকা অনেক নেতা আগে থেকেই বিদেশে অবস্থান করছিলেন। তাদের কেউ কেউ দেশে ফিরে দল ও সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যুক্ত হয়েছেন।

বিদেশে থাকা নেতাদের অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং কূটনৈতিক দক্ষতা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। দীর্ঘদিন বিদেশে থেকে রাজনৈতিক যোগাযোগ রক্ষা করা বা আন্তর্জাতিক পরিসরে দলের অবস্থান তুলে ধরাও এক ধরনের রাজনৈতিক কাজ।

কিন্তু তৃণমূলের অসন্তোষের জায়গাটি অন্যত্র। যারা দেশে থেকে দীর্ঘদিন দলের সাংগঠনিক কাঠামো ধরে রেখেছেন, তাদের প্রশ্ন, বিদেশে থাকা নেতাদের অভিজ্ঞতা ও যোগাযোগের মূল্যায়ন হবে, অথচ দেশে থেকে আন্দোলনের ঝুঁকি নেওয়া নেতাদের ত্যাগের মূল্যায়ন কীভাবে হবে?

এখানেই বিদেশে থাকা এবং দেশে থাকা নেতাদের মধ্যে একটি ‘বিভাজন’ তৈরি হয়েছে। এই বিভাজন বাস্তব সাংগঠনিক বিভাজনে রূপ নিচ্ছে কি না, সেটিই এখন বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

শরিকদের মান ভাঙাতে পারল বিএনপি?bnp-shorik-2-chaarcha

কমিটি গঠন নিয়ে ক্ষোভ, ‘বিদেশি সিন্ডিকেট’ অভিযোগ

বিএনপির সাংগঠনিক কমিটি গঠনকে ঘিরে এই অসন্তোষ নতুন না। বিভিন্ন সময়ে জেলা, মহানগর, উপজেলা ও অঙ্গসংগঠনের কমিটি ঘোষণার পর পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি, গণপদত্যাগের হুমকি কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

দেশের গণমাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন জেলায় কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ, বিক্ষোভ এবং স্থানীয় নেতাদের মধ্যে বিভক্তির চিত্র উঠে এসেছে। কোথাও কমিটি বাতিলের দাবি, কোথাও নতুন নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ, আবার কোথাও সম্মেলন আয়োজন নিয়ে সংঘাতের ঘটনাও দেখা গেছে।

চলতি বছরের ৮ জুন যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ না পাওয়া একদল নেতা বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও নির্যাতনের ইতিহাস বিবেচনা না করে কমিটিতে ব্যক্তিগতভাবে ঘনিষ্ঠ বা ‘মাই ম্যান’দের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

সেদিন সেখানে থাকা একাধিক নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা হয় চরচার এই প্রতিবেদকের। নাম না বলতে চাইলেও ‘লন্ডনভিত্তিক সিন্ডিকেটের’ কারণে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না এমন অভিযোগ জানান তারা।

এসব বিরোধের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বিদেশি সিন্ডিকেট’ শব্দটির ব্যবহারও দেখা যায়। পদবঞ্চিতদের একাংশের অভিযোগ, দেশে থাকা পরীক্ষিত নেতাদের পাশ কাটিয়ে বিদেশে থাকা বা বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের পরামর্শ ও প্রভাবের ভিত্তিতে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

কিছু নেতা-কর্মীর ফেসবুক পোস্টে বিদেশ থেকে লোক এনে সাংগঠনিক কর্মসূচি বা আন্দোলনে ব্যবহার করার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে বিদেশ থেকে লোক ভাড়া করে আনার অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে এসব বক্তব্যকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে নয়, বরং দলের ভেতরে তৈরি হওয়া সন্দেহ ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা প্রয়োজন।

তবে প্রশ্নটি একেবারে উপেক্ষা করারও সুযোগ নেই। কারণ, একটি রাজনৈতিক দলের কমিটি গঠন যদি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য না হয়, তাহলে পদবঞ্চিতদের মধ্যে নেতৃত্বের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে চরচাকে বলেন, ‘‘আমি এ ব্যাপারে স্পষ্ট জানি না। তবে, তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে এই বিষয়ে চর্চা রয়েছে, তারা এ নিয়ে ক্ষুব্ধ সেটার ধারণা পেয়েছি।’’

দ্বিপক্ষীয় নাকি বহুপক্ষীয়, কোন কূটনীতির পথে বিএনপি সরকার?bangladesh government

ত্যাগের হিসাব বনাম ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার সুবিধা

বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়া, মামলা-হামলার শিকার হওয়া এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সংগঠন ধরে রাখার বিষয়গুলো নেতা-কর্মীদের রাজনৈতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিশেষ করে ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত, দীর্ঘসময় বিএনপি ক্ষমতার বাইরে ছিল। এই সময় দলটির নেতা-কর্মীদের বড় একটি অংশ মামলা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেছে। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কারাবাস, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা এবং সাংগঠনিক সংকটের মধ্যেও দলটির কার্যক্রম অব্যাহত ছিল।

কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর নেতৃত্বের কাছে থাকা, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যোগাযোগ এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দ্রুত অবস্থান তৈরি করার সক্ষমতা অনেকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে তৃণমূলের অভিযোগ।

এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ কি নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রধান মানদণ্ড, নাকি প্রশাসনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক যোগাযোগ, ব্যক্তিগত আস্থা এবং নতুন বাস্তবতায় কাজ করার সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ-সেই বিতর্ক সামনে এসেছে।

এখানে বিএনপির জন্য একটি সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দলের নেতৃত্ব যদি কেবল অতীতের ত্যাগের ভিত্তিতে পদায়ন করে, তাহলে নতুন প্রজন্ম ও নতুন দক্ষতার মানুষদের জন্য জায়গা সংকুচিত হতে পারে। আবার অতীতের ত্যাগকে উপেক্ষা করে শুধু নেতৃত্বের কাছাকাছি থাকা বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের ভিত্তিতে পদ দেওয়া হলে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়তে পারে।

অর্থাৎ, প্রশ্নটি বিদেশে থাকা বনাম দেশে থাকার নয়; প্রশ্নটি হলো—দলের অবদান ও যোগ্যতা মূল্যায়নের মানদণ্ড কতটা স্বচ্ছ?

ইশরাকের সামনে কী?ishrak (2)

ইশরাকের বক্তব্যে কেন নতুন করে আলোচনায়?

ইশরাক হোসেনের ফেসবুক পোস্টে বিদেশ থেকে দেশে এসে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার যে আহ্বান বা কটাক্ষ রয়েছে, তার রাজনৈতিক তাৎপর্য এখানেই।

ইশরাক নিজেও বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালে ঘোষিত চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সহায়ক কমিটিতে তার নাম ছিল। ফলে তাকে বিদেশে থাকা নেতাদের বিপরীতে দাঁড় করিয়ে দেখার সুযোগ নেই।

তার বক্তব্যের তাৎক্ষণিক লক্ষ্য ছিল সমালোচকদের উদ্দেশে পাল্টা জবাব দেওয়া। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে এটি দলের ভেতরে বিদেশে থাকা বা বিদেশ থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও দৃশ্যমান করেছে।

আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি এখন আর কেবল বিরোধী দল নয়। সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা একটি বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের সামনে প্রশাসনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক শৃঙ্খলা এবং সাংগঠনিক ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ক্ষমতায় আসার পর দলের ভেতরে পদ-পদবি, মনোনয়ন, দায়িত্ব এবং প্রভাব নিয়ে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।

কিন্তু এই প্রতিযোগিতা যদি ‘দেশে থাকা’ বনাম ‘বিদেশে থাকা’ পরিচয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে, তাহলে তা দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিএনপির সামনে মূল পরীক্ষা

বিএনপির নেতৃত্বের সামনে এখন অন্তত তিনটি প্রশ্ন রয়েছে।

প্রথমত, দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা নেতা-কর্মীদের অবদান কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মূল্যায়ন করা হবে? শুধু বক্তব্য বা আশ্বাস নয়, কমিটি গঠন ও দায়িত্ব বণ্টনে তার প্রতিফলন কতটা থাকবে?

দ্বিতীয়ত, বিদেশে থাকা বা বিদেশ থেকে ফিরে আসা নেতাদের অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগকে কীভাবে দলের সাংগঠনিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করা হবে, যাতে দেশে থাকা নেতাদের মধ্যে বঞ্চনার অনুভূতি তৈরি না হয়?

তৃতীয়ত, কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ হবে? নেতৃত্ব নির্বাচনে ব্যক্তিগত যোগাযোগ, কেন্দ্রীয় আনুগত্য কিংবা প্রভাবের পরিবর্তে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক অবদান ও স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা কতটা গুরুত্ব পাবে?

বিএনপির সামনে অনেক ‘পরীক্ষা’, রেজাল্ট ভালো করায় চ্যালেঞ্জ কতটা?bnp-logo

বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র, জনগণের অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলে আসছে। এখন সেই দলকেই নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামোর ভেতরে অংশগ্রহণ ও জবাবদিহির চর্চা নিশ্চিত করতে হবে।

ইশরাকের একটি ফেসবুক পোস্ট হয়তো দলের এই বিতর্কের সূচনা করেনি। কিন্তু সেটি এমন একটি অসন্তোষকে সামনে এনেছে, যা কমিটি গঠন, নেতৃত্ব নির্বাচন এবং ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক সুযোগ বণ্টনের প্রশ্নে বারবার প্রকাশ পাচ্ছে।

তারেক রহমানের ১৭ বছরের প্রবাসজীবন বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই সময়ে লন্ডন থেকে দল পরিচালনা যেমন বাস্তবতা ছিল, তেমনি দেশের ভেতরে থাকা নেতা-কর্মীদের আন্দোলন-সংগ্রামও ছিল দলটির টিকে থাকার অন্যতম ভিত্তি।

এখন তারেক রহমান দেশে, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায়। ফলে দলের ভেতরে পুরনো হিসাব-নিকাশ নতুন করে সামনে আসা স্বাভাবিক।

তবে এই হিসাব মেলাতে গিয়ে যদি ত্যাগী নেতাদের মনে হয়, দুঃসময়ে তাদের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু সুসময়ে তাদের জায়গা হচ্ছে না—তাহলে সেটি শুধু কিছু পদবঞ্চিত নেতার অসন্তোষে সীমাবদ্ধ থাকবে না। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মীদের সঙ্গে নেতৃত্বের দূরত্ব তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থাকবে।

কে দেশে ছিলেন, আর কে বিদেশে ছিলেন—এমন প্রশ্নের চাইতে বিএনপির সামনে এখন বড় প্রশ্ন, দলের দুঃসময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মানুষদের সঙ্গে ক্ষমতার সময়ের নেতৃত্ব কতটা ন্যায্য আচরণ করতে পারছে?

বিষয়: বিএনপিপ্রধানমন্ত্রীতারেক রহমানইশরাক হোসেনতৃণমূল বিএনপি
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সুন্দরবনে অপহৃত ৫ জেলেসহ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

  • ২

    ‘বিদেশি’ বনাম ‘ত্যাগী’: বিএনপির ভেতরে কি নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব?

  • ৩

    ইরানের সঙ্গে আবার যুদ্ধে জড়ানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় জুয়া

  • ৪

    জাতীয় চার নেতাকে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রদর্শনী নিরাপত্তার স্বার্থে স্থগিত

  • ৫

    এক ফাউলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন স্প্যানিশ ফুটবলার

সম্পর্কিত
  • ইরানের সঙ্গে আবার যুদ্ধে জড়ানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় জুয়া

    ইরানের সঙ্গে আবার যুদ্ধে জড়ানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় জুয়া

    প্রভাবশালী মার্কিন সাময়িকী ফরেন পলিসিতে প্রকাশিত জন হালটিওয়াঙ্গারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করতে পারেন ট্রাম্প।

  • ব্যবসায়ীরাই ঠিক করল জ্বালানির দাম, ভোক্তার কথা শুনবে কে?

    ব্যবসায়ীরাই ঠিক করল জ্বালানির দাম, ভোক্তার কথা শুনবে কে?

    অবশেষে ভোক্তাদের শঙ্কাই সত্যি হলো। কাঠামোগতভাবে বাড়ানো হলো এলপি গ্যাসের দাম। গত ২৯ অক্টোবর রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে এনার্জি রেগুরেটরি কমিশনের (বিইআরসি) গণশুনানিতে অংশ নেওয়া ভোক্তাদের কেউ কেউ তাদের বক্তব্যে সরাসরিই শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন, “বিইআরসি শুনানি করছে মানে ধরেই নেওয়া যায় দাম বাড়বে।”

  • ইরান যুদ্ধ কি বিশ্ব জ্বালানি বাজারের ভারসাম্য বদলে দিচ্ছে?

    ইরান যুদ্ধ কি বিশ্ব জ্বালানি বাজারের ভারসাম্য বদলে দিচ্ছে?

    ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিশ্ব জ্বালানি বাজারের দীর্ঘদিনের কাঠামোকে বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। এই সংঘাতের প্রভাব শুধু তেলের উৎপাদন, রপ্তানি কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

  • সৌদিতে হামলা চালাতে রাশিয়ার স্যাটেলাইটের তথ্য নিচ্ছে হুতিরা?

    সৌদিতে হামলা চালাতে রাশিয়ার স্যাটেলাইটের তথ্য নিচ্ছে হুতিরা?

    ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে গত জুলাই থেকেই হুতিদের সংঘর্ষ চলছে। সেপ্টেম্বরে এই সংঘাত আরও বেড়ে যায়। ওই সময় হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের পুরো এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।