ফুটবল মাঠে ফাউল হবে, এটাই স্বাভাবিক। কখনো কখনো ফাউলের শিকার হয়ে ফুটবলাররা গুরুতর চোট পেয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য ছিটকে যান। আবার অনেকের ক্যারিয়ারই শেষ হয়ে যায়। তাই বলে একটি ফাউল থেকে মৃত্যু? স্পেনে হয়েছে এমনই এক মর্মান্তিক ঘটনা।
গতকাল সোমবার স্পেনের লা লিগা-২-তে এফসি আন্দোরার বিপক্ষে ম্যাচে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষের পর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল স্প্যানিশ ফুটবলার জেসুস দে মিগেলকে। একদিন লড়াইয়ের পর মৃত্যুর কাছে হার মানতে হয়েছে তাকে। মঙ্গলবার সকালে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে তার ক্লাব টেনেরিফে।
আন্দোরার বিপক্ষে ম্যাচের শেষ দিকে বলের দখল নিতে প্রতিপক্ষের সীমানার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন দে মিগেল। তাকে রুখে দিতে পোস্ট ছেড়ে ডি-বক্সের বাইরে চলে আসেন গোলরক্ষক জেসুস ওওনো। দুজন দুই দিক থেকে ক্ষিপ্রগতিতে বলের দিকে চোখ রেখে এগিয়ে আসায় কেউই খেয়াল করতে পারেননি আসন্ন বিপদ।
তবে শেষ মুহূর্তে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ওওনো এমন এক কাণ্ড করে বসেন, যা দে মিগেলের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি পা উঁচু করে ঝাঁপ দেন দে মিগেলের ওপর। বুকে প্রবল ধাক্কা লেগে সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন দে মিগেল। রেফারি তখনই খেলা বন্ধ করে দেন।
এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় দে মিগেলকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর তাকে নেওয়া হয় আইসিইউতে। সোমবার রাতে টেনেরিফে জানিয়েছিল, শারীরিক অবস্থা গুরুতর হলেও দে মিগেল স্থিতিশীল আছেন। তবে মঙ্গলবার সকালে ক্লাবটি জানায়, তার অবস্থার অবনতি হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা পরই আসে শোকের খবর।
বিবৃতিতে টেনেরিফে জানিয়েছে, ‘আমরা গভীরভাবে শোকাহত, যেন আমাদের গলায় কিছু আটকে গেছে। আমরা বিশ্বাসই করতে পারছি না যে সত্যিই এমন কিছু ঘটে গেছে। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাতে হচ্ছে যে, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর সকাল ৮টায় জেসুস দে মিগেল আলামেদা মারা গেছেন।’
যে ফাউলের শিকার হয়ে দে মিগেলকে প্রাণ হারাতে হয়েছে, সে কারণে গোলরক্ষক ওওনোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই দাবি করছেন, প্রাণঘাতী এই ফাউলের জন্য যেন তাকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়।
২০২৫ সালের গ্রীষ্মের দলবদলে টেনেরিফেতে যোগ দিয়েছিলেন দে মিগেল। গত মৌসুমে ক্লাবটির স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগে প্রমোশন পাওয়ার পেছনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল অভিজ্ঞ এই স্ট্রাইকারের।
দে মিগেলের মৃত্যুর খবরে মঙ্গলবার সব ধরনের ফুটবল কার্যক্রম স্থগিত করেছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন। এর মধ্যে কোপা দেল রের দুটি ম্যাচও রয়েছে। শোকবার্তা দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনাসহ লা লিগার প্রায় সব ক্লাব।