সিলেটের ওসমানীনগরে বিয়ে করতে এসে বিপাকে পড়েন এক চীনা নাগরিক। ওই চীনা নাগরিকের ধর্ম ও বিয়ে নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ এবং বিয়ের প্রমাণপত্র দেখিয়ে তাকে বাড়িতে নিয়ে গেছেন তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে লিও ফাভিন নামের ওই চীনা নাগরিককে ওসমানীনগর পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে ওই রাতেই আবার তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের কাদিপুর গ্রামের দিঘিরপাড় এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন জামাল মিয়া। তিনি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সাহারপাড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। জামাল মিয়ার মাদ্রাসাপড়ুয়া মেয়ে ছামিয়া আক্তারের সাথে অনলাইনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে চীনের জিয়াংসি এলাকার বাসিন্দা লিও ফাভিনের।
সম্পর্কের টানে প্রায় এক সপ্তাহ আগে লিও এসে ছামিয়াদের বাড়িতে ওঠেন। বিষয়টি জানাজানি হলে সোমবার বিকেল থেকে এলাকার উৎসুক জনতা বাড়িতে ভিড় করেন। তারা চীনা নাগরিককে দেখার পাশাপাশি তার ধর্ম ও বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন তুলেন।
একপর্যায়ে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে রাত ১১টার দিকে পুলিশ এসে লিওকে নিরাপত্তা হেফাজতে নিয়ে যায়। পরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন লিওর ধর্মান্তরিত হওয়ার এবং বিয়ের প্রমাণপত্র দেখালে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।
লিও ফাভিন জানান, অনলাইনে ছামিয়ার সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেম হয়। সম্পর্কের সূত্র ধরে তিনি ছামিয়াকে বিয়ে করতে বাংলাদেশে এসেছেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তিনি নিজের নাম রেখেছেন আব্দুল্লাহ। আইনী প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তিনি ছামিয়াকে বিয়ে করেছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে ওসমানীনগর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে চীনা নাগরিককে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছিল। পরে বিয়ের প্রমাণপত্র দেখে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের জিম্মায় তাকে ছাড়া হয়েছে।