Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০৩ নভেম্বর, ২০২৬
০৩ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০৩ নভেম্বর, ২০২৬
০৩ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ | স্বত্ব © চরচা
> এক্সপ্লেইনার
জেলহত্যা দিবস

মোশতাক বল‌লেন, সেনাবা‌হিনীর লোকজন যা কর‌তে চায়, তা‌দের যেন বাধা না দেওয়া হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১: ২৮
মোশতাক বল‌লেন, সেনাবা‌হিনীর লোকজন যা কর‌তে চায়, তা‌দের যেন বাধা না দেওয়া হয়
৩০ ঘণ্টা পর দেশের মানুষ জানতে পেরেছিলেন কারাগারে বন্দী অবস্থায় জাতীয় নেতাদের হত্যা করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা করা হয় চার জাতীয় নেতা—সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এএইচএম কামারুজ্জামান, এম মনসুর আলী ও তাজউদ্দীন আহমদকে। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অবদান রাখা এই চার জাতীয় নেতাকে কারাগারে বন্দী অবস্থায় হত্যা করে কিছু বিপথগামী সেনাকর্মকর্তা। বাংলাদেশের ইতিহাসের কলঙ্কিত এক অধ্যায় এই জেলহত্যা। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে এমন এক নৃশংস ঘটনা ঘটে গেলেও দেশের মানুষের কাছ থেকে তা গোপন রাখা হয়। ঘটনার ৩০ ঘণ্টা পর দেশের মানুষ জানতে পারে কারাগারে বন্দী অবস্থায় জাতীয় নেতাদের হত্যা করা হয়েছে।

Advertisement

১৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর স্বাভাবিকভাবেই তার সরকারের পতন ঘটে। শেখ মুজিবেরই অন্যতম সহযোগী খন্দকার মোশতাক আহমেদের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের বেশ কিছু নেতাদের নিয়েই সরকার গঠন করা হয়। খন্দকার মোশতাক রাষ্ট্রপতি হলেও সরকারের নিয়ন্ত্রণ ছিল পুরোপুরি শেখ মুজিব হত্যার সঙ্গে জড়িত সেনাকর্মকর্তাদের হাতে। শুরুতে শেখ মুজিবের ঘনিষ্ঠ চার সহযোগী সৈয়দ নজরুল, এম মনসুর আলী, তাজউদ্দীন আহমেদ ও এএইচএম কামারুজ্জামানকে সরকারে যোগ দেওয়ার প্রলোভন দেখান রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক। কিন্তু তারা রাজি না হওয়ায় ২২ আগস্ট চারজনকেই গ্রেপ্তার করে কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

খন্দকার মোশতাক আহমেদের সরকার বাংলাদেশের ইতিহাসের এক ক্ষণস্থায়ী সরকার। তিন মাসের কম সময়ের মধ্যে তার বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীতে পাল্টা অভ্যূত্থান ঘটে। রাষ্ট্রপতির আশপাশে শেখ মুজিবের হত্যাকারী সেনাকর্মকর্তাদের অবস্থান ও তাদের কর্মকাণ্ডে সেনাবাহিনীর একাংশের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ১৯৭৫ সালের ২ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে যে পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটে যায়, সেই সময় খন্দকার মোশতাক ও তার সহযোগী সেনাকর্মকর্তারা ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব হারানোর আতঙ্কের মধ্যে পড়ে যান। ওই সময়ই সর্বোচ্চ মহল থেকে জেলে বন্দী জাতীয় চার নেতাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়।

একজন মুক্তিযোদ্ধার অসম্মান: তাসনিম জারার প্রশ্ন ও বিএনপির নীরবতাmanik-poshari-1

কীভাবে হত্যা করা হয়েছিল ৪ নেতাকে

২ নভেম্বর গভীর রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে একদল সেনা সদস্য প্রবেশ করেন। তারা সবাই ওই মুহূর্তে ছিলেন যুদ্ধসাজে। হাতে ছিল স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র। কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী অস্ত্র হাতে সেখানে নিষিদ্ধ হলেও সেনাসদস্যরা জোর করেই প্রবেশ করার চেষ্টা করেন। ওই সময় কারা মহাপরিদর্শক ছিলেন কাজী নুরুজ্জামান। ঢাকার জেলার ছিলেন আমিনুর রহমান। জেলারের কক্ষে ওই রাতে একটি ফোন আসে। অপরপ্রান্ত থেকে বলা হয় রাষ্ট্রপতি কারা মহাপরিদর্শকের সঙ্গে কথা বলতে চান। এর আগে সেনা সদস্যরা কারা মহাপরিদর্শককে একটি কাগজ দিয়ে দ্রুত কারাগারের ফটক খুলে দিতে চাপ দিচ্ছিলেন। জেলার মহাপরিদর্শককে ডেকে ফোন ধরতে বলেন।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মহাপরিদর্শকে নির্দেশ দিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক নিজেই। বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে আসে সেই কথপোকথন। রাষ্ট্রপতি কারা মহাপরিদর্শককে সরাসরি বলেন, “সেনাবাহিনীর লোকজন যা করতে চায়, তাদের যেন বাধা দেওয়া না হয়।”

এরপর দুটি আলাদা সেলে অবস্থান করা চার জাতীয় নেতাকে এক কক্ষে জড়ো করে ব্রাশফায়ারে তাদের হত্যা করা হয়। পুরো ঘটনাটা ঘটে যায় দ্রুত। সেনা সদস্যরা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে দ্রুতই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে চলে যায়।

ওই সময় দেশের পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। ক্যান্টনমেন্ট কিংবা বঙ্গভবনে চলছিল ঘটনার নানা মেরুকরণ। ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একাংশ তখন পাল্টা অভ্যূত্থানের জন্য প্রস্তুত। বন্দী করা হয়েছে সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে। ঢাকার আকাশে উড়ছে মিগ যুদ্ধ বিমান। বঙ্গভবনের ভেতর অবরুদ্ধ রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ। শেখ মুজিবের খুনি সেনা কর্মকর্তারা দেশত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী, বীরবিক্রম তার ‘এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য: স্বাধীনতার প্রথম দশক’ বইয়ে লিখেছেন, “আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় চার নেতাকে বন্দি অবস্থায় হত্যার পর ইচ্ছাকৃতভাবে রাষ্ট্রপতি মোশতাক এ ঘটনা চেপে রাখেন যতক্ষণ মেজর ফারুক-রশিদ ও তাদের সহযোগীরা সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় দেশত্যাগ না করেন।”

মুজিবনগর সরকার ও একজন তাজউদ্দীনtajuddin

প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর এ ঘটনা যখন প্রকাশিত হয়, গোটা দেশ হতভম্ব হয়ে যায়। দেশের মানুষের বুঝতে বাকি ছিল না জাতীয় চার নেতার এই নৃশংস হত্যার নেপথ্যে কারা আছে। ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ অভ্যূত্থানের নেতৃত্ব দিলেও তিনি রাষ্ট্রক্ষমতা না নিয়ে সে সময়ের প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের অনুরোধ করেন। রাষ্ট্রপতি সায়েম ৬ নভেম্বর শপথ নিলেও দেশ ওই সময় চরম শাসনতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক শূন্যতার মধ্যে ছিল। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ ছিল কার্যত সরকারবিহীন।

Nation Leader Monument

২২ আগস্ট গ্রেপ্তার হয়েছিলেন জাতীয় চার নেতা—এ কথা আগেই বলা হয়েছে। ওই সময় থেকেই তাদের পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল। চার জাতীয় নেতার বাড়ির টেলিফোন লাইনই কেটে দেওয়া হয়েছিল। কারাগারে এমন নৃশংস ঘটনা ঘটে গেলেও তারা কিছু জানতে পারেননি। ঢাকা তখন গুজবের শহর। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ভয়ংকর কিছু একটা ঘটে গেছে।

৪ নভেম্বর সকাল থেকে নিহতদের পরিবার জানতে পারেন ঘটনা। খালেদ মোশাররফের অভ্যূত্থানের জেরে ঢাকার আকাশে বিকট শব্দ করে উড়ছিল মিগ যুদ্ধ বিমান। যুদ্ধ বিমানগুলোর লক্ষ্য ছিল বঙ্গভবন যেখানে খন্দকার মোশতাক অবস্থান করছিল। ৪ নভেম্বর সকাল ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় কারাগারের কাছে টিপু সুলতান রোডে বাস করা এক ব্যক্তি তাজউদ্দীন আহমেদের বাসায় এসে তার স্ত্রী জোহরা তাজউদ্দীনকে ভয়াবহ সংবাদটি জানান। একই ভাবে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামানের পরিবার ৪ নভেম্বর থেকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে জানতে পারেন তাদের প্রিয়জন আর বেঁচে নেই।

বিষয়: হত্যাকাণ্ডইতিহাসঅপরাধহত্যাজেলক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীতাজউদ্দীন আহমদসৈয়দ নজরুল ইসলামসেনাবাহিনীবাংলাদেশ
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    ইরান যুদ্ধ কি বিশ্ব জ্বালানি বাজারের ভারসাম্য বদলে দিচ্ছে?

  • ২

    মোশতাক বল‌লেন, সেনাবা‌হিনীর লোকজন যা কর‌তে চায়, তা‌দের যেন বাধা না দেওয়া হয়

  • ৩

    চুয়েটের আন্দোলনের পেছনে কোনো ইগো কাজ করছে কি?

  • ৪

    রূপগঞ্জে কারখানার এয়ার কম্প্রেসার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৪

  • ৫

    গাজীপুরে বহিরাগতদের বিষয়ে জানাতে বাড়ির মালিকদের নির্দেশনা

সম্পর্কিত
  • কী আছে ‘আমাদের’ উচ্চকক্ষে? ভারত-যুক্তরাজ্যের উচ্চকক্ষ কেমন?

    কী আছে ‘আমাদের’ উচ্চকক্ষে? ভারত-যুক্তরাজ্যের উচ্চকক্ষ কেমন?

    বাংলাদেশে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদে। এতে জাতীয় সংসদকে নিম্নকক্ষ এবং ১০০ সদস্যের সিনেটকে উচ্চকক্ষ হিসেবে গঠনের কথা বলা হয়েছে। নিম্নকক্ষের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর পাওয়া ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের সদস্য নির্বাচিত হবেন। উচ্

  • ই-রিকশার নিবন্ধন কীভাবে করবেন, ফি কত? না করলে শাস্তি কী?

    ই-রিকশার নিবন্ধন কীভাবে করবেন, ফি কত? না করলে শাস্তি কী?

    দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে আজ সোমবার থেকে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথমে যানবাহনগুলোকে আইনি নিয়ন্ত্রণকাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার। পরে পর্যায়ক্রমে চালকদের লাইসেন্স দেওয়া হবে।

  • জার্মানিতে জেন-জি বিক্ষোভে সহিংসতা-লুটপাট, নেপথ্যে কী?

    জার্মানিতে জেন-জি বিক্ষোভে সহিংসতা-লুটপাট, নেপথ্যে কী?

    জার্মানিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অন্যান্য সামাজিক ইস্যুতে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বিক্ষোভ শনিবার রাতে সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। ফ্রাঙ্কফুর্ট, বার্লিন, হামবুর্গ ও কোলনে পরিস্থিতি বিশেষভাবে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে চ্যালেঞ্জের মুখে প্রচলিত সাংবাদিকতা

    যুক্তরাষ্ট্রে চ্যালেঞ্জের মুখে প্রচলিত সাংবাদিকতা

    এখন অধিকাংশ আমেরিকান প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নিয়মিত সংবাদ জানতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্বাধীন সংবাদ নির্মাতাদের ওপর নির্ভর করছেন। এমনকি রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সংবাদ পাওয়ার ক্ষেত্রেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রচলিত টেলিভিশন সাংবাদিকতাকে পেছনে ফেলেছে।