Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০২ নভেম্বর, ২০২৬
০২ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০২ নভেম্বর, ২০২৬
০২ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ | স্বত্ব © চরচা
> এক্সপ্লেইনার

ই-রিকশার নিবন্ধন কীভাবে করবেন, ফি কত? না করলে শাস্তি কী?

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৫: ৪৫
ই-রিকশার নিবন্ধন কীভাবে করবেন, ফি কত? না করলে শাস্তি কী?
ছবি: সংগৃহীত

দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে আজ সোমবার থেকে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথমে যানবাহনগুলোকে আইনি নিয়ন্ত্রণকাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার। পরে পর্যায়ক্রমে চালকদের লাইসেন্স দেওয়া হবে।

Advertisement

গতকাল রোববার সচিবালয়ে সিটি করপোরেশন এলাকায় ধীরগতির ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান (ই-রিকশা) চলাচল-সংক্রান্ত বিধিমালা নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। নির্ধারিত বিধিমালা অমান্য করে নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালালে শাস্তির ব্যবস্থাও রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এর আগে গত ২৯ অক্টোবর স্থানীয় সরকার বিভাগ ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ শিরোনামে প্রজ্ঞাপন জারি করে। বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত এই বিধিমালা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালে জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ সংশোধনের মাধ্যমে ই-রিকশা নিবন্ধনের আইনি ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে। আইনের ১২০ ধারায় এ-সংক্রান্ত বিধান যুক্ত করা হয়েছে। বিধিমালা প্রণয়নের পর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে তা সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করতে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানান তিনি।

ই-রিকশা নিবন্ধনের এই বিধিমালায় কী আছে এই প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হয়েছে।

ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে কারা?

সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপন থেকে জানা গেছে, প্রতিটি সিটি করপোরেশন সরকারের পূর্বানুমোদন নিয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে তাদের আওতাধীন এলাকায় কতটি ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে, তা নির্ধারণ করবে। প্রয়োজনে পুরো সিটি করপোরেশন এলাকা অথবা পৃথক জোনভিত্তিকভাবে এই সংখ্যা নির্ধারণ করা যাবে। অর্থাৎ কোনো এলাকায় ই-রিকশার সংখ্যা কত হবে, তা আর চালক বা মালিকদের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে না। এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখতে হবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. শহীদুল হাসান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, “ই-রিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও নগর পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করতেই নতুন বিধিমালা করা হয়েছে।”

শহীদুল হাসান আরও বলেন, “আমরা চাই, দেশের সব সিটি করপোরেশনে একই নীতিমালার ভিত্তিতে ই-রিকশার নিবন্ধন ও চলাচল নিয়ন্ত্রিত হোক। এতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি রোধ ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”

পর্যায়ক্রমে সব সিটি করপোরেশনকে এ বিধিমালা বাস্তবায়নের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

ই-রিকশার নিবন্ধন কীভাবে করতে হবে?

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট আকারের ছবি, ফি জমার রসিদ ও নির্ধারিত ফরমে ফিটনেস সার্টিফিকেটসহ আবেদন করতে হবে। কর্তৃপক্ষ আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ই-রিকশার উপযুক্ততা পরীক্ষা করবে।

সব শর্ত পূরণ হলে, আবেদন পাওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। কোনো আবেদন নামঞ্জুর হলে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তার কারণ লিখিতভাবে জানাতে হবে। এ সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আদেশ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করতে পারবেন।

নীতিমালা করে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হবে?Auto-rickshaw

একজন মালিক কয়টি ই-রিকশার নিবন্ধন নিতে পারবেন?

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে। তবে একটি সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো যাবে না। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে একই মালিকের নামে অতিরিক্ত সংখ্যক ই-রিকশা নিবন্ধন এবং এক এলাকার যানবাহন অন্য এলাকায় নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে চলাচলের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ থাকবে।

নিবন্ধন ও নবায়ন ফি কত?

ই-রিকশার যাত্রী ধারণক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে নিবন্ধন ও নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিধিমালার তফসিল অনুযায়ী, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি আট হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি চার হাজার টাকা। চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা ও বার্ষিক নবায়ন ফি পাঁচ হাজার টাকা। নিবন্ধন ও নবায়ন থেকে প্রাপ্ত অর্থ সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আয় হিসেবে গণ্য হবে।

বিধিমালা অনুযায়ী, একটি ই-রিকশা সর্বোচ্চ ১২ বছর চলাচল করতে পারবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের দেওয়া কিউআর কোডযুক্ত ফিটনেস সনদ প্রদর্শনের জন্য অতিরিক্ত এক হাজার টাকা ফি দিতে হবে।

নিবন্ধনের তারিখ থেকে একটি ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ বছর। এ সময়সীমা শেষ হলে সংশ্লিষ্ট ই-রিকশার নিবন্ধন ও নম্বর প্লেট বাতিল করতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিবন্ধিত প্রতিটি ই-রিকশার জন্য কিউআর কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নিবন্ধন নম্বর ও নম্বর প্লেট দেওয়া হবে। চালককে বিনামূল্যে এই নম্বর প্লেট এবং যানবাহনের বিস্তারিত তথ্যসংবলিত ব্লু-বুক সরবরাহ করা হবে। ব্লু-বুকে সংশ্লিষ্ট চার্জিং স্টেশন বা চার্জিং গ্যারেজের তথ্যও উল্লেখ থাকবে।

ই-রিকশার দৃশ্যমান স্থানে নিবন্ধন নম্বর প্রদর্শন করতে হবে, যাতে কর্তৃপক্ষ সহজেই নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত যানবাহন শনাক্ত করতে পারে।

ই-রিকশার নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে তা নবায়ন করতে হবে। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বুয়েটের নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য অনুসারে নকশা ও কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফিটনেস সার্টিফিকেট নিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষর ছাড়া নিবন্ধন বা নবায়ন করা যাবে না। বর্তমানে সড়কে চলাচলকারী ই-রিকশাগুলোকেও প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংশোধনের মাধ্যমে নতুন মানদণ্ডের উপযোগী হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব যানবাহনকে বিমার আওতায় আনার বিধানও রাখা হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান বাসসকে বলেন, “নতুন বিধিমালা অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশার সংখ্যা নির্ধারণ, নিবন্ধন এবং জোনভিত্তিক চলাচলের পরিকল্পনা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কোন এলাকায় কতটি ই-রিকশা চলবে এবং কোন রুট ব্যবহার করবে, তা নির্ধারণ করা হবে। নিবন্ধিত যানবাহন সহজে শনাক্ত করতে কিউআর কোডযুক্ত নম্বর প্লেট ও নির্দিষ্ট রংয়ের ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।”

এদিকে, বিধিমালায় চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিধান থাকলেও সরকার এখনই তা চালু করছে না বলে জানান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক চালকের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করা সিটি করপোরেশনগুলোর জন্য কঠিন হবে। তাই প্রথমে যানবাহন নিবন্ধনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পরে আলাদা প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে চালকদের লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে।

ই-রিকশার গতিসীমা কত?

বিধিমালা অনুযায়ী, ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। প্রতিটি যানবাহনে স্পিডোমিটার অথবা ওডোমিটার স্থাপন করতে হবে।

স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় সর্বোচ্চ গতিসীমা হবে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার।

নতুন বিধিমালায় ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার।

তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় সর্বোচ্চ গতিসীমা হবে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার।

প্রতিটি ই-রিকশায় স্পিডোমিটার অথবা ওডোমিটার স্থাপন করতে হবে।

এ ছাড়া নিবন্ধনের তারিখ থেকে একটি ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ বছর। এই সময়সীমা শেষ হলে সংশ্লিষ্ট ই-রিকশার নিবন্ধন ও নম্বর প্লেট বাতিল করতে হবে।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় বসছে কিউআর কোড-ডিজিটাল ট্র‌্যাকিং সিস্টেমautorikshaw

কোন কোন সড়কে ই-রিকশা চলতে পারবে না?

নতুন বিধিমালায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ই-রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

• জাতীয় মহাসড়ক।

• এক্সপ্রেসওয়ে।

• এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে।

• বাস র‍্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) প্রধান সড়ক বা করিডোর।

• প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা অন্যান্য সড়ক।

এ ছাড়া ফুটপাত দিয়ে ই-রিকশা চালানো যাবে না। চালকদের সড়কের বাম লেন অনুসরণ করতে হবে।

গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, নিয়মবহির্ভূত ওভারটেকিং এবং অনিয়ম করে লেন পরিবর্তনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ই-রিকশার চলাচল আরও নিয়ন্ত্রিত করতে সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে রুট ও জোন নির্ধারণ করবে। প্রতিটি সিটি করপোরেশন এলাকাকে বিভিন্ন জোনে ভাগ করে সংশ্লিষ্ট জোনে চলাচলকারী ই-রিকশার সংখ্যা, নির্দিষ্ট রুট ও যানবাহনের রং চূড়ান্ত করা হবে।

এক জোনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না। ফলে একই এলাকায় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ কমানো ও সড়কে যান চলাচল ব্যবস্থাপনা সহজ করার সুযোগ তৈরি হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান (চলতি দায়িত্বে) বাসসকে বলেন, “রাজধানীর যান চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য ই-রিকশার নিবন্ধন ও রুট নির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রধান সড়ক, মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ করিডোরে ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা গেলে যানজটের চাপ কমানো সম্ভব হবে।”

আনিছুর রহমান আরও বলেন, “নতুন বিধিমালা বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে ট্রাফিক বিভাগ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি নিবন্ধনবিহীন ও নিয়ম অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কতজন যাত্রী বহন করা যাবে?

ই-রিকশার ধরন অনুযায়ী চালক ছাড়া সর্বোচ্চ দুই বা চারজন যাত্রী বহন করা যাবে।

যাত্রীদের হাতে বহনযোগ্য ব্যক্তিগত মালামাল ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা যাবে না।

এ ছাড়া ৪০ ডেসিবেলের বেশি তীব্রতার হর্ন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যান্ত্রিক বা নিরাপত্তাজনিত ত্রুটিযুক্ত এবং নিবন্ধনবিহীন ই-রিকশাও সড়কে চালানো যাবে না।

ব্যাটারি চার্জিংয়ের জন্য কী ব্যবস্থা থাকছে?

ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জিংয়ের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে অথবা উপযুক্ত স্থানে প্রয়োজনীয় পার্কিং এলাকা নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে।

শুধু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ও সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট বা নির্দিষ্ট গ্যারেজে ব্যাটারি চার্জ করা যাবে।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব, বেসরকারি উদ্যোগ অথবা উপযুক্ত অন্য কোনো ব্যবস্থায় চার্জিং স্টেশন, গ্যারেজ ও ব্যাটারি বিনিময় কেন্দ্র স্থাপন করা যাবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণকারী কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।

চার্জিং স্টেশনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সৌর প্যানেলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে ব্যাটারি চার্জ করার সুযোগ থাকবে।

চার্জিং স্টেশন স্থাপনের আগে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন নিতে হবে। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ করলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

ই-রিকশার চার্জিং স্টেশন নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও বিধিমালায় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নির্ধারিত স্থানে চার্জিং পয়েন্ট স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে ই-রিকশা চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারবে, তারা সিটি করপোরেশনের অনুমোদন বা ট্রেড লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ই-রিকশা চার্জ দেওয়ার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিত এসব কার্যক্রম তদারক করবেন।

পরিবেশ সুরক্ষায় কী ব্যবস্থা রাখা হয়েছে?

পরিবেশ সুরক্ষায় পুরোনো ও অকার্যকর ব্যাটারি ব্যবস্থাপনার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এসব ব্যাটারি উন্মুক্ত স্থানে, মাটিতে, জলাশয়ে কিংবা সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে ফেলতে পারবে না। ব্যাটারি পোড়ানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নতুন ব্যাটারি বিক্রির সময় বিক্রেতাকে ক্রেতার কাছ থেকে পুরোনো একটি ব্যাটারি সংগ্রহ করে অনুমোদিত পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় পাঠানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ব্যাটারি ভাঙা বা গলানোর কাজে নিয়োজিত হতে পারবে না।

ই-রিকশা উৎপাদন ও প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের জন্যও বিধিমালায় একটি কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর উন্নয়ন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে গঠিত এ কমিটিতে সিটি করপোরেশন, পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ, বুয়েট বা সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা থাকবেন।

কমিটি প্রযুক্তিগত মানদণ্ড, নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য ও অনুমোদিত নকশা যাচাই করে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের সুপারিশ করবে। সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উৎপাদন লাইসেন্স দেবে।

নিয়ম না মানলে কী হবে?

বিধিমালা অমান্য করে নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানো, নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার, মোটর বা কাঠামো পরিবর্তন, নিষিদ্ধ এলাকায় চলাচল, বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো, বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য ও দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

এসব অপরাধের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। অবৈধ ই-রিকশার চলাচল বন্ধে মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যৌথভাবে অথবা পৃথকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে জারি করা ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৫’ রহিত করা হয়েছে। তবে আগের বিধিমালার অধীনে সম্পন্ন কাজ, গৃহীত ব্যবস্থা ও অনিষ্পন্ন কার্যধারা নতুন বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিষ্পন্ন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিধানগুলো বাস্তবায়িত হলে সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশার নিবন্ধন, চলাচলের সংখ্যা ও রুট নিয়ন্ত্রণ, কারিগরি নিরাপত্তা ও ব্যাটারি ব্যবস্থাপনায় একটি অভিন্ন কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে। বিশেষ করে রাজধানীতে অনিয়ন্ত্রিত ই-রিকশা চলাচল, একই সড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও বিভিন্ন এলাকায় বিশৃঙ্খলভাবে রিকশা চলাচলের সমস্যা মোকাবিলায় এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিষয়: সিটি করপোরেশনঅটোরিকশাসরকারনিবন্ধনব্যাটারিঅর্থনীতিড্রাইভিং লাইসেন্স
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    হ্যালোইন উৎসবে যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলা, নিহত অন্তত ২৪

  • ২

    খুলনায় তাঁতীদল নেতা হত্যায় মামলা, গ্রেপ্তার ১

  • ৩

    ‘দুর্যোগ মোকাবিলার ক্যাপাসিটি কোনো সরকারেরই নাই’

  • ৪

    ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র, সুশাসনের জন্য এনসিপি ছাড়া কোনো বিকল্প নাই’

  • ৫

    মির্জা ফয়সল আমীন ও এলিজা জামানের শপথ মঙ্গলবার

সম্পর্কিত
  • জার্মানিতে জেন-জি বিক্ষোভে সহিংসতা-লুটপাট, নেপথ্যে কী?

    জার্মানিতে জেন-জি বিক্ষোভে সহিংসতা-লুটপাট, নেপথ্যে কী?

    জার্মানিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অন্যান্য সামাজিক ইস্যুতে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বিক্ষোভ শনিবার রাতে সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। ফ্রাঙ্কফুর্ট, বার্লিন, হামবুর্গ ও কোলনে পরিস্থিতি বিশেষভাবে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে চ্যালেঞ্জের মুখে প্রচলিত সাংবাদিকতা

    যুক্তরাষ্ট্রে চ্যালেঞ্জের মুখে প্রচলিত সাংবাদিকতা

    এখন অধিকাংশ আমেরিকান প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নিয়মিত সংবাদ জানতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্বাধীন সংবাদ নির্মাতাদের ওপর নির্ভর করছেন। এমনকি রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সংবাদ পাওয়ার ক্ষেত্রেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রচলিত টেলিভিশন সাংবাদিকতাকে পেছনে ফেলেছে।

  • তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

    ঢাকার তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের তিন দিন পরও মৃত্যুরহস্যের কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। এর মধ্যে তাহসিফের বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপের বক্তব্য নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

  • ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে ট্রাম্পের অলীক কল্পনা

    ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে ট্রাম্পের অলীক কল্পনা

    ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বিশাল বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন, বাস্তব পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল।