রাজধানীর সড়কে এখন অন্যতম ‘সংকট’ ব্যাটারিচালিতঅটোরিকশা। রিকশাচালক, পথচারী ও গাড়ির চালকদের বচসা থেকে হাতাহাতি নিত্য চিত্র। এ চিত্র ঢাকার বাইরেও দেখা যায় প্রতিনিয়ত। আর দুর্ঘটনা তো লেগেই আছে।
অটোরিকশা চালু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সরকার বিভিন্ন সময়ে এর নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, লাইসেন্সের আওতায় আনতে নানারকম বিধি প্রণয়নের চেষ্টা করেছে। তবে এর কোনোটাই এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন হয়নি।
২০১০ সালের দিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রথমে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের অনুমোদন দেন তৎকালীন মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। প্যাডেল রিকশা বা সাধারণ পায়ে টানা রিকশার চেয়ে অটোরিকশার গতি বেশি এবং চালাতে পরিশ্রম কম হওয়ার কারণে যাত্রী ও চালক উভয় পক্ষই অল্প সময়ের মধ্যে অটোরিকশার নিয়মিত ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এই রিকশা।
২০২৪-এর ৫ আগস্টের আগে ঢাকার মূল সড়কগুলোয় অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হতো। দিনে এসব রিকশা মূল সড়কে উঠতে দেওয়া হতো না। রাত ১০টার পর ঢাকার রাস্তায় নামত অটোরিকশা। তবে ২০২৪ সালের ওই সময়ের পর ঢাকার সব সড়কেই দেখা যায় অটোরিকশার আধিক্য।
ওই বছরের নভেম্বরে হাইকোর্ট সারা দেশের মহানগর এলাকা ও মহাসড়কে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক বন্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ নির্দেশের পর রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা শহরে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন চালকরা। পরে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ ওই আদেশের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন।
কোথা থেকে আসে এত অটোরিকশা
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় যেসব অটোরিকশার গ্যারেজ আছে, এর মধ্যে কিছু আগে পায়ে টানা, অর্থাৎ প্যাডেল রিকশা ছিল। অটোরিকশার বাড়তি চাহিদার কারণে সেসব গ্যারেজে এখন আর প্যাডেল রিকশা রাখা হয় না। গাবতলী, মিরপুরের বোটানিক্যাল বা রূপনগর-সংলগ্ন এলাকা, মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকা, রায়েরবাজার, বাড্ডা, রামপুরা ও খিলগাঁওয়ের শেষ মাথা, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, টঙ্গী, কামরাঙ্গীরচর, কেরানীগঞ্জ-সংলগ্ন ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে অটোরিকশা গ্যারেজের সংখ্যা বেশি। এসব গ্যারেজের সবগুলোতেই আছে চার্জিং স্টেশন।
বেড়িবাঁধের এক গ্যারেজের মালিক মো. আসলাম চরচাকে বলেন, “আগে আমার প্যাডেল গাড়ির (রিকশার) গ্যারেজ আছিল। পরে দেখি সবাই ব্যাটারির গাড়ি চায়। এজন্য গত দুই বছরে ব্যাটারির গাড়ি কিনলাম ১৫টা। প্যাডেল গাড়ি যেই কয়টা আছিল, সব মেকানিকের কাছে নিয়া ব্যাটারি লাগায়ে আনছি। আগের থেকে ইনকাম বেশি হয় এখন।”
ওই গ্যারেজে আছে অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার জন্য একটি চার্জিং স্টেশন। মালিক আসলামের কাছে বিদ্যুৎ বিলের কাগজ দেখতে চাইলে তিনি কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি। বিদ্যুতের লাইন কোথা থেকে নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে স্পষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি তার কাছ থেকে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর আটটি অপরাধ বিভাগে প্রায় ৪৮ হাজার ১৩৬টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট এবং ৯৯২টি গ্যারেজ রয়েছে। এসব গ্যারেজে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রিকশা রাখা হয়, চার্জ দেওয়া হয়। ফলে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার যেমন বাড়ছে, তেমনি অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়ছে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা।
অটোরিকশা সাধারণত দুই ধরনের হয়। এক ধরনের রিকশা তৈরিই করা হয় অটোরিকশা হিসেবে। রিকশার সিটের নিচে থাকে ব্যাটারি। আরেক ধরনের রিকশা হলো–প্যাডেল রিকশাকে মেকানিকের কাছে নিয়ে রূপান্তর করা হয় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায়। দেশব্যাপী অগণিত অটোরিকশার দোকান, গ্যারেজ ও ওয়ার্কশপ আছে। ঢাকার মোহাম্মদপুর, বসিলা, কেরাণীগঞ্জ, বেড়িবাঁধ, পুরান ঢাকা, যাত্রাবাড়ী, মুগদা, মান্ডা ও মিরপুরে দেখা যায় নতুন অটোরিকশার দোকান। আর বিভিন্ন ওয়ার্কশপে মেকানিকরা প্যাডেল রিকশায় ব্যাটারি আর মোটর লাগিয়ে তৈরি করেন অটোরিকশা।
বাংলাদেশে অটোরিকশা তৈরি, বিক্রি ও চালানো–তিনটাই অবৈধ। তবুও কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই চলছে প্রতিনিয়ত অটোরিকশা তৈরি ও বিক্রি। নারায়ণগঞ্জের সেলিম ইজিবাইকের মালিক মোহাম্মদ সেলিম চরচাকে বলেন, “প্রতিদিন তিন-চারটা করে ইজিবাইক বিক্রি হয় গড়ে। বানাতে খরচ হয় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা।
অল্প লাভেই বিক্রি করে দিই আমরা। মোটর, হর্ন, ব্রেক আর অন্যান্য ইলেক্ট্রনিক পার্টস চীন থেকে নিয়ে আসা হয়। আর বডি বানাই দেশের ওয়ার্কশপে।”
অটোরিকশা আর দূর্ঘটনা
অটোরিকশা নিয়ে সবচেয়ে বড় বিতর্ক হলো এর দূর্ঘটনাপ্রবণতা। যারা অটোরিকশা চালান, তাদের বড় অংশ মোটরচালিত যান চালানোর জন্য প্রশিক্ষিত নন। সড়কে মোটরচালিত যান চালানোর জন্য যেসব আইন মানতে হয়, তাও তেমন কেউ জানেন না। অটোরিকশা চালকদের জন্য কোনো লাইসেন্সের ব্যবস্থাও নেই।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের ২০২৫ সালের সড়ক দুর্ঘটনার বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সে বছরে সারা দেশের মোট সড়ক দূর্ঘটনার ১৭.১৮ শতাংশের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল থ্রি হুইলার বাহন (ইজিবাইক, সিএনজি, অটোরিকশা)। একই বছরে থ্রি হুইলার বাহনের দুর্ঘটনায় মারা গেছে ১৩৭৬ জন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাফিক-সংক্রান্ত বিভিন্ন গ্রুপে ঢুকলেই দেখা যায় অটোরিকশার কারণে হওয়া বিভিন্ন দূর্ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে ধরনের অভিযোগ করা হয়, তা হলো–অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বা ব্রেক ফেল করে অন্য গাড়িতে ধাক্কা দেওয়া বা পথচারীর শরীরে আঘাত করা।
এলিফ্যান্ট রোডের বাসিন্দা মাহফুজ আলমের গাড়িতে দুবার এমন অটোরিকশার ধাক্কা লেগেছে। তিনি চরচাকে বলেন, “রাস্তায় গাড়ি চালানোর জন্য বছরে সরকারকে ট্যাক্স দেই কতগুলা টাকা। নিয়ম ভাঙলে জরিমানাও দেই ট্রাফিককে। আমার গাড়িতে দুইবার অটোরিকশা লাগায়ে দিল গত ৬ মাসের মধ্যে। ৫৫ হাজার টাকার মেরামত করা লাগছে আমার। অটোচালকদের ধরলেই পা ধরে বলে গরীব মানুষ, মাফ করে দেন। ওদের কেউ জরিমানাও করে না।”
তবে অটোরিকশার গ্যারেজ মালিকরা দুর্ঘটনার জন্য দায় নিতে রাজি নন। গ্যারেজ মালিক আসলাম বলেন, “খোঁজ নিয়া দেখেন, অটো থেকে হুন্ডার (মোটরসাইকেল) অ্যাক্সিডেন্ট বেশি হয়। ট্রাকের অ্যাক্সিডেন্ট বেশি হয়। সরকার কি হুণ্ডা আর ট্রাক বন্ধ করে দিব? অ্যাক্সিডেন্ট স্বাভাবিক জিনিস। যে কারোর হইতে পারে।”
সড়ক, মহাসড়কে অটোরিকশার দৌরাত্ম্য বন্ধের দাবিতে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন ও কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তবে গত কয়েক দিনে অটোরিকশা বন্ধ করার আন্দোলন এবং তৎপরতা বেড়েছে। একই সাথে অটোরিকশা মালিক-চালকরাও পাল্টা আন্দোলন করছেন। অটোরিকশা চলবে না বন্ধ হবে–এ বিষয়ে সরকার থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা এখনো আসেনি। তবে সম্প্রতি অটোরিকশা নিয়ে একটি নীতিমালার খসড়া প্রায় চূড়ান্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।
অটোরিকশার নিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে সড়ক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ চরচাকে বলেন, “আমাদের দেশে বর্তমানে সরকারি গণপরিবহনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ মানুষের কাছে অটোরিকশার কোনো কার্যকর বিকল্প নেই। এটি যেমন সাশ্রয়ী, তেমনি অলি-গলিতে সহজলভ্য হওয়ায় সাধারণ মানুষ এর ওপর নির্ভরশীল। আধুনিক যুগে প্যাডেলচালিত রিকশায় ফিরে যাওয়া যেমন অমানবিক, তেমনি ধীরগতির কারণে তা সময়োপযোগী নয়। অটোরিকশার মূল সমস্যা বাহনটি নয়, বরং এর সঠিক তদারকি ও ব্যবস্থাপনার অভাব। অটোরিকশাকে প্রতিটি ওয়ার্ডভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার আওতায় আনা, এআই ক্যামেরার মাধ্যমে ট্র্যাকিং এবং চালকদের লাইসেন্সিং বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।”
চার্জের বিষয়ে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, “একইসঙ্গে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে ব্যক্তিগত পর্যায়ে চার্জিং বন্ধ করে সরকারিভাবে নির্দিষ্ট স্থানে চার্জিং মেকানিজম তৈরি করতে হবে। যদিও প্রধান সড়ক বা মেইন করিডোরগুলোতে অটো-রিকশা থাকা উচিত নয়, তবে নারী, শিশু বা বয়স্কদের জন্য বাসে চড়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হওয়ায় তারা এই আরামদায়ক বাহনটি ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। তাই মানসম্মত বিকল্প গণপরিবহন নিশ্চিত না করে হুট করে অটোরিকশা বন্ধ করে দিলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম হাহাকার ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।”
বিদ্যুতের সংকটের মধ্যে সরকারের পদক্ষেপ
ব্যাটারিচালিত এসব রিকশার কারণে জাতীয় গ্রিডে যে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হচ্ছে, সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন মিলনায়তনে সিপিডি আয়োজিত এক সংলাপে তিনি রাতের বেলায় বিদ্যুতের অস্বাভাবিক চাহিদার চিত্র তুলে ধরে বলেন, “অতীতে আমাদের দেশে বিদ্যুতের ‘পিক আওয়ার’ বা সর্বোচ্চ চাহিদার সময় ছিল সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত। এর পরপরই স্বাভাবিকভাবে চাহিদা অনেক নেমে যেত। কিন্তু এখন সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। মধ্যরাতেও ১৮ হাজার মেগাওয়াটের মতো অস্বাভাবিক চাহিদা থাকছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। এর কারণ হলো রাতের বেলা রিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হচ্ছে।”
দেশের ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ই-রিকশাগুলোকে একটি সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে এবং জাতীয় গ্রিডের ওপর বিদ্যুতের চাপ কমাতে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহারসংক্রান্ত এক পর্যালোচনা সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, এখন থেকে এসব রিকশার নিবন্ধন বিআরটিএ নয়, বরং সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা দেবে। রিকশাগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জ দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “সৌরবিদ্যুতের বাইরে রিচার্জ করলে ব্যাটারিচালিত বা ই-রিকশাগুলোকে রেজিস্ট্রেশন দেব না এবং নবায়ন করব না। তারা সৌর বিদ্যুৎ ছাড়া রিচার্জ করলে জরিমানা হবে।”
সরকারের এই নতুন নীতিমালার আওতায় ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে এসব রিকশা চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে এবং অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের জন্য পুরো ঢাকাকে আটটি পৃথক জোনে ভাগ করা হবে। প্রতিটি জোনের রিকশার জন্য আলাদা রং নির্ধারিত থাকবে এবং এক জোনের রিকশা অন্য জোনে প্রবেশ করতে পারবে না। এ ছাড়া রিকশাগুলোর কারিগরি মান নিশ্চিত করতে বুয়েট বা সরকারি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল শাখা থেকে ফিটনেস সার্টিফিকেট এবং ট্রাফিক বিভাগের ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ঢাকা শহরে শুধু দুই ও চারজন যাত্রী বহনকারী রিকশাকে নিবন্ধনের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে গ্রামীণ এলাকায় ছয়জন যাত্রী বহনকারী রিকশা চলতে পারবে। পাশাপাশি রিকশা তৈরির কারখানা এবং চার্জিং পয়েন্টগুলোকেও এখন থেকে নিবন্ধিত হতে হবে এবং রুট নিয়ন্ত্রণে জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিভিন্ন সময়ে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ বা বন্ধে সরকারগুলো নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। সর্বশেষ নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে বর্তমান সরকার এই কাজ হাতে নিয়েছে। এখন অপেক্ষার পালা, নীতিমালার বাস্তবায়ন কতটুকু হয় এবং কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে এই যান।