‘ট্রাম্প: আ সেকেন্ড চান্স?’—২০২৪ সালের অক্টোবরে বিবিসির অনুসন্ধানমূলক অনুষ্ঠান ‘প্যানোরামা’য় প্রচারিত এই পর্বটির ল্যান্ডিং পেজে এখন আর কোনো প্লে বাটন নেই। প্লে বাটনের জায়গায় ভেসে আছে একটি বার্তা। ‘দুঃখিত, এই পর্বটি বর্তমানে দেখা যাচ্ছে না।’ একই সাথে একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে প্রামাণ্যচিত্রটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পেজটিতে এখন শুধু ট্রাম্পের একটি ছবিই বাকি রয়েছে, যেখানে তাকে ক্যামেরার দিকে থমথমে মুখে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়।
ওই পর্বটির একটি ছোট অংশ বিবিসির বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মানহানি মামলার মূল ভিত্তি। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ট্রাম্পের দেওয়া এক ভাষণের সম্পাদিত ভিডিওতে বিবিসি এমন দুটি বাক্য একত্র করে দেয়, যা তিনি মূল ভাষণে প্রায় ৫০ মিনিটের ব্যবধানে বলেছিলেন। এতে মনে হয়েছিল, তিনি যেন সেদিন ক্যাপিটল ভবনের দাঙ্গায় সরাসরি উসকানি দিচ্ছেন। ২০২৫ সালে ফাঁস হওয়া এক অভ্যন্তরীণ দাপ্তরিক বার্তায় এই বিকৃতির বিষয়টি সামনে এলে বিবিসি তাদের ভুলের জন্য ক্ষমা চায় (যদিও ট্রাম্প যে একটি গণতন্ত্রবিরোধী দাঙ্গায় ইন্ধন জোগাচ্ছিলেন—প্রামাণ্যচিত্রের সেই মূল বক্তব্য কিন্তু মিথ্যা নয়)।
তবে ট্রাম্প কেবল ক্ষমা চাওয়ায় সন্তুষ্ট হননি। ওই পর্বটি ফ্লোরিডায় কখনোই সম্প্রচার করা না হলেও, তার আইনজীবীরা সেখানকার একটি ফেডারেল আদালতে ১০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, পর্বটি ফ্লোরিডার ‘অন্যায্য এবং প্রতারণামূলক ব্যবসা অনুশীলন আইন’ লঙ্ঘন করেছে। ট্রাম্পের আইনজীবীরা বলেছেন, ওই বিভ্রান্তিকর এডিটটি ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।
পুলিৎজার মামলাটির মতো এ ক্ষেত্রেও বিবিসির তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের আবেদনে নানা টালবাহানা করছেন ট্রাম্পের আইনজীবীরা। গত ১৬ অক্টোবর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারিত থাকলেও অন্যান্য জাতীয় ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যস্ততার’ কারণ দেখিয়ে তারা তা বাতিল করে। সেদিন ট্রাম্পের ব্যস্ততা বলতে জর্জিয়ায় একটি জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। মঞ্চে উঠে তিনি লি গ্রিনউডের ‘গড ব্লেস দ্য ইউএসএ’ গানের তালে সামান্য নেচেও দেখান। দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবারের এক শুনানিতে বিবিসির আইনজীবী চার্লস টবিন অভিযোগ করেন যে, নথিপত্র চেয়ে পাঠানো অনুরোধের জবাবে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কার্যকর বা উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্যই দেওয়া হয়নি।
ওই শুনানিতে ফ্লোরিডার দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট এঞ্জোলিক এ. লেট নির্দেশ দেন যে, আগামী ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে ট্রাম্পকে জবানবন্দি দিতেই হবে। পাশাপাশি, জবানবন্দির সময় ভিডিও ধারণ না করার জন্য তার আইনজীবীদের করা আবেদনটিও তিনি খারিজ করে দেন। এছাড়া মার-এ-লগো রিসোর্টসংক্রান্ত ব্যবসায়িক নথিপত্র তলব করার অনুমতিও বিবিসিকে দেওয়া হয়েছে। বিচারক কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপনের জন্য বাকি রয়েছে মাত্র দুই মাস। এই বিচারপ্রক্রিয়ায় যথাযথ সহযোগিতা না করলে মামলা খারিজ হওয়াসহ যেকোনো কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সহজ কথায়, ট্রাম্পকে হয় নিয়ম মেনে তথ্য দিতে হবে, নতুবা মামলাটি আদালতের টেবিলেই বাতিল হয়ে যাবে।
বিবিসির ওপর ভালোই ক্ষেপেছেন ট্রাম্প! ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
সংবাদমাধ্যমগুলো এই খবরটিকে বেশ উৎসাহের সঙ্গেই লুফে নিয়েছে। ‘দ্য ডেইলি বিস্ট’ আদালতের এই নির্দেশকে ট্রাম্পের জন্য এক কঠিন পরাজয় হিসেবে অভিহিত করেছে। আর ‘দ্য নিউ রিপাবলিক’ পত্রিকার শিরোনাম ছিল, ‘বিবিসি মানহানি মামলা খাদের কিনারায় পৌঁছানোয় ট্রাম্পকে সাক্ষ্য দেওয়ার নির্দেশ।’
অবশ্য মূল্যায়নগুলো একটু বেশি বাড়াবাড়ি মনে হতে পারে। ইয়েল ল স্কুলের ‘মিডিয়া ফ্রিডম অ্যান্ড ইনফরমেশন অ্যাক্সেস ক্লিনিক’-এর পরিচালক ডেভিড এ. শুল্জ কলাম্বিয়া জার্নাল রিভিউকে বলেন, “এই মামলার প্রেক্ষাপটে বিচারকের আদেশটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ প্রেসিডেন্ট হয়তো নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে করেন। তবে একটি রুটিন মানহানি মামলায় এগুলো খুবই মামুলি আদেশ মাত্র। ক্ষতিপূরণ দাবির স্বপক্ষে প্রাসঙ্গিক প্রমাণ পাওয়ার অধিকার আপনার আছে, আবার তথ্যের সত্যতা নিয়ে বিরোধ থাকলে বাদীর জবানবন্দি নেওয়ার অধিকারও আপনার রয়েছে।”
ট্রাম্প যদি শেষ পর্যন্ত নিয়ম মেনে জবানবন্দি দেন এবং বিবিসির আইনজীবীদের তার ব্যবসায়িক নথিপত্র পরিদর্শনের সুযোগ দেন, তবুও নিশ্চিত করে বলা যায় না যে, এসব থেকে সাংবাদিকতার জন্য কোনো বড় সুবিধা মিলবে। সংগৃহীত নথিপত্র যদি সিলগালা করে রাখা হয়, তবে তা প্রকাশ করতে পরবর্তীতে আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হবে। তা সত্ত্বেও, বিবিসি যেভাবে শুরু থেকেই পিছু না হটে শক্ত অবস্থান নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, তা সত্যিই বেশ স্বস্তিদায়ক। আশা করা যায়, সম্প্রচারমাধ্যমটি শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের জবানবন্দি ও ব্যবসায়িক নথিপত্রের সঠিক ব্যবহার করে নিজেদের এবং জনগণের পক্ষে ইতিবাচক কোনো সুফল আদায় করে নিতে পারবে।
আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো এবং ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ক্লে ক্যালভার্ট কলাম্বিয়া জার্নাল রিভিউকে বলেন, “স্বভাবতই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওই নথিপত্রগুলো গোপনীয় রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়ানি মামলার নথিপত্র সাধারণত উন্মুক্ত থাকে। আর আমার বিশ্বাস, কোনো না কোনোভাবে এই তথ্যের বড় একটা অংশ শেষ পর্যন্ত ঠিকই জনসমক্ষে চলে আসবে।”
ট্রাম্পকে জবানবন্দি দেওয়ার জন্য বিবিসির এই উদ্যোগকে তিনি একটি ‘দূরদর্শী কৌশল’ বলে অভিহিত করেছেন। ক্যালভার্ট যোগ করেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা মামলার শিকার ব্যক্তিদের এখন ঘুরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। পাশাপাশি ট্রাম্পকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে এটা স্পষ্ট করতে হবে যে, তিনি যেন একটি জবানবন্দিতে জনসমক্ষে রেকর্ডবন্দি করে বুঝিয়ে দেন, ঠিক কোন যুক্তিতে তিনি এই মামলাগুলোতে এত বিশাল পরিমাণ অর্থ ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন।”
২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কিছু সংবাদমাধ্যম যেভাবে তার আইনি হয়রানির কাছে আত্মসমর্পণ করেছে, তা এক দীর্ঘ ও কালো ছায়া ফেলে গেছে। যেমন-ই. জিন ক্যারোলের করা মানহানি মামলায় ট্রাম্পের আইনি জয়কে উপস্থাপক জর্জ স্টেফানোপুলোস যেভাবে মূল্যায়ন করেছিলেন, তার জেরে করা মানহানি মামলাটি ১ কোটি ৬০ লাখ ডলারে রফা করে নেয় এবিসি নেটওয়ার্ক।
একই ঘটনা ঘটে সিবিএস-এর মূল প্রতিষ্ঠান প্যারামাউন্টের ক্ষেত্রেও। স্কাইড্যান্সের সঙ্গে একীভূত হওয়ার ঠিক আগে তারাও ট্রাম্পের একটি মামলা মেটাতে ১৬ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করে। ডেভিড এ. শুল্জ বলেন, “বিবিসি মামলার সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক হলো তারা সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।” অথচ বর্তমান প্রশাসনের শুরুর দিকে বড় বড় মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন মামলার মুখেও ট্রাম্পের কাছে নতি স্বীকার করতে এবং সমঝোতা করে ফেলতে দেখা গেছে। এর পেছনে বড় একটি কারণ হলো সংবাদমাধ্যমের মালিকানা গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানের হাতে কুক্ষিগত থাকা। কারণ, যেসব করপোরেট সংস্থার সরকারের সঙ্গে নানা ব্যবসায়িক স্বার্থ জড়িত থাকে, তারা সবসময় নিজেদের রিপোর্টিং বা সংবাদ পরিবেশনের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিতে সাহস পায় না।
সংবাদমাধ্যমগুলো এই নতি স্বীকারের বৃত্ত থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পেরেছে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত, এমনটাই মনে করেন শুল্জ। জনমত জরিপ অনুযায়ী ডেমোক্রেটিক পার্টি প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে এবং সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে তা নিয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে; ফলে ভবিষ্যতে ট্রাম্পের ক্ষমতা হয়তো কিছুটা খর্ব হতে পারে। তবে সংবাদমাধ্যমগুলোকে বাগে আনার বা নিয়ন্ত্রণে বাধ্য করার ক্ষমতার বিষয়ে শুল্জ বলেন, “আমার মনে হয় এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলার সময় এখনো আসেনি। কারণ, তিনি অত্যন্ত উদ্বেগজনক উপায়ে সরকারের অন্যান্য প্রশাসনিক ক্ষমতাও ব্যবহার করে যাচ্ছেন।”
ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের (এফসিসি) চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কারের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যের কথা উল্লেখ করে শুল্জ জানান, ব্রেন্ডন বলেছেন-সম্প্রচার মাধ্যমগুলো যদি ‘সম্পূর্ণ ভুয়া জনমত জরিপ’ প্রচার করে, তবে তা তাদের লাইসেন্স সংক্রান্ত আইনি বাধ্যবাধকতার লঙ্ঘন হতে পারে। শুল্জ আরও বলেন, “ক্ষমতার মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে ট্রাম্প তার প্রভাব হারিয়ে ফেলবেন, এমন কোনো আশার আলো আমি দেখছি না। কারণ বর্তমান মার্কিন রাজনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হলো অর্থ, আর নিজের মেয়াদের শেষ দিকে এসেও তিনি অর্থের নিয়ন্ত্রণ নিজের মুঠোতেই ধরে রাখবেন।”
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোর বড় করপোরেট মালিকদের মতো বিবিসি নিউজ অর্থ ও ক্ষমতার এমন সংকীর্ণ সমীকরণে ততটা বন্দী নয়। যুক্তরাষ্ট্রে ‘ওয়েদার চ্যানেল’কে বাদ দিলে, নিরপেক্ষভাবে সংবাদ পরিবেশনের আইনি কাঠামোর কারণেই বিবিসি সম্ভবত সবচেয়ে বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যমে পরিণত হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি প্রতি সপ্তাহে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪৬ কোটি ৭০ লাখ মানুষ এর সংবাদ গ্রহণ করেন।
এখানে একটি ঘটনা উল্লেখ না করলেই নয়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে মস্কোয় ভ্লাদিমির পুতিনের বছর শেষের দীর্ঘ সংবাদ সম্মেলনে বিবিসি নিউজের রাশিয়া সম্পাদক স্টিভ রোজেনবার্গ হাতেগোনা যে কটি কড়া ও সমালোচনামূলক প্রশ্ন করেছিলেন, তার মধ্যে এটি ছিল অন্যতম। দেশের বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি সরাসরি প্রশ্ন করেন, “আপনার কি মনে হয় আপনি নিজ দেশের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পেরেছেন?”
সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়া মাত্রই রুশ সাংবাদিকরা রোজেনবার্গকে ঘিরে ধরে তার ওপর ক্যামেরা তাক করেন। তাদের একজন তেড়েফেড়ে প্রশ্ন করেন, “আপনি তাকে উসকানি দিতে চেয়েছিলেন, তাই তো?” অন্য একজন জানতে চান, “আপনি কি রাশিয়াকে ভালোবাসেন?”
স্বাভাবিকভাবেই রোজেনবার্গ বেশ অস্বস্তিতে পড়েন। তাকে খবরের শিরোনাম বানানোর চেষ্টা চললেও, তিনি সেই মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে নিজের ও পেশাগত কাজের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেন। পরবর্তীতে ‘প্যানোরামা’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমি স্পষ্ট জানিয়েছিলাম যে আমার প্রশ্নটি কোনো উসকানিমূলক ছিল না, বরং ছিল একদম স্বাভাবিক এক সাংবাদিকতাসুলভ জিজ্ঞাসা। আমি অন্ধভাবে সরকারের বয়ান প্রচার করি না, বরং তা যাচাই করার চেষ্টা করি। সাংবাদিকের কাজ তো সেটাই।”
‘আওয়ার ম্যান ইন মস্কো’ নামের সেই পর্বে রোজেনবার্গ সংবাদ সম্মেলনের ওই ফুটেজ ব্যবহার করে পুতিনের শাসনামলে রাশিয়া এবং রুশ গণমাধ্যমের কী করুণ পরিবর্তন ঘটেছে, তা তুলে ধরেছিলেন। এখন দেখার বিষয় হলো, ট্রাম্পের মামলার জেরে উন্মোচিত তথ্যপ্রমাণ কাজে লাগিয়ে বিবিসি ও ‘প্যানোরামা’ ঠিক এমন জোরালো কোনো ভূমিকা রাখতে পারে কি না।
(লেখাটি কলাম্বিয়া জার্নালিজম রিভিইউয়ের সৌজন্যে প্রকাশিত)