পেন্টাগন ন্যাটোর বেশ কয়েকটি মিত্র দেশকে রাশিয়ার হুমকি নিয়ে প্রকাশ্যে দেওয়া বক্তব্যের মাত্রা কমিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছে। পেন্টাগনের যুক্তি, ইউরোপীয় নেতাদের কিছু মন্তব্য মহাদেশটির নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, এই মিত্র দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে লিথুয়ানিয়া, লাতভিয়া ও এস্তোনিয়া। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সময় এই অনুরোধ জানানো হয়। তবে অন্যান্য ইউরোপীয় সরকারের কাছেও এমন সতর্কবার্তা পৌঁছেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চার ব্যক্তির বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
আলোচনার সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যক্তি রয়টার্সকে জানান, পেন্টাগনের নীতি বিষয়ক প্রধান এলব্রিজ কোলবি বাল্টিক অঞ্চলের এক কর্মকর্তাকে রাশিয়াকে ‘উত্ত্যক্ত’ না করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি এমন কিছু মন্তব্যের উল্লেখ করেন, যেখানে মস্কোকে ‘কোণঠাসা ইঁদুরের’ সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে—যা কোলবির মতে কোনো গঠনমূলক বক্তব্য নয়।
কোলবি ঠিক কোন মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করেছেন তা স্পষ্ট না হলেও, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেন মিচাল রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘কোণঠাসা ইঁদুর’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইউক্রেনে নিজেদের অধিকাংশ সম্পদ ব্যয় করে ফেলায় মস্কো এখন ইউরোপে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের পথ বেছে নিচ্ছে।
ইউরোপের আরেক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের এই বার্তার সারমর্ম এভাবে তুলে ধরেন, “আমরা আপনাদের সাহায্য করছি। আমেরিকানরা আপনাদের পাশে আছে। শুধু খুব বেশি উচ্চবাচ্য করবেন না, অহেতুক শোরগোল করবেন না।”
যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনে রাশিয়ার পাঁচ বছরের পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন, আলোচনার মাধ্যমে শেষ করার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। এই নতুন প্রচেষ্টার আওতায় একদিকে মস্কোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মতো প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। অন্যদিকে কিয়েভের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে যেন তারা রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করে।
এই বার্তাটি ন্যাটোর ভেতরে থাকা মতপার্থক্যকেও ফুটিয়ে তোলে। রাশিয়ার হুমকি নিয়ে ঠিক কতটা প্রকাশ্যে কথা বলা উচিত, তা নিয়ে তাদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। কিছু কর্মকর্তার মতে, কঠোর ভাষা ভীতি ছড়াতে পারে এবং তা ক্রেমলিনের উদ্দেশ্য হাসিলে সহায়তা করতে পারে।
আবার অন্যদের মতে, ইউরোপের প্রতিরক্ষার জন্য জনসমক্ষে সতর্কবার্তা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
ইউরোপের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, পেন্টাগনের এই পরামর্শ বেশ বিভ্রান্তিকর। কারণ, বাল্টিক দেশগুলোর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বরাবরই এমন সম্ভাবনাকে নাকচ করে এসেছে যে, রাশিয়া ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতিকে চ্যালেঞ্জ করার মতো কোনো পদক্ষেপ নেবে।
পেন্টাগন সরাসরি এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, “মিত্র দেশগুলোর মধ্যকার ব্যক্তিগত আলোচনা একান্তই তাদের নিজস্ব বিষয়; তাই আমরা এসব অভিযোগ নিয়ে কোনো মন্তব্য করব না।”