সংবেদনশীল প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য গণমাধ্যমে ফাঁস করেন, এমন সরকারি কর্মকর্তাদের ‘গুলি করে হত্যা করা উচিত’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানে একটি সামরিক অভিযান বাতিল করার বিষয়ে কথা বলার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। হামলার পরিকল্পনা সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর অভিযানটি বাতিল করা হয়েছিল।
স্থানীয় সময় বুধবার অ্যারিজোনার বুলহেড সিটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচার সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, “আমার মতে, তথ্য ফাঁসকারীদের গুলি করে হত্যা করা উচিত। আগের দিনে আমরা তথ্য ফাঁসকারীদের গুলি করে হত্যা করতাম।”
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ও বহুল প্রচারিত সংবাদপত্র ইউএসএ টুডে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি পরিকল্পিত সামরিক অভিযান চালানোর আগে ইরানের সামরিক বাহিনী আমেরিকান সেনাদের জন্য ‘অপেক্ষা করছিল’। তার অভিযোগ, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও সিএনএন ফাঁস হওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খবর প্রকাশ করেছিল—কখন আমেরিকান সেনারা রওনা হবে এবং কখন তারা গন্তব্যে পৌঁছাবে। এ কারণে তিনি হামলার সময় দুই দিন পিছিয়ে দেন বলে জানান।
“কেউ একজন তথ্য ফাঁস করেছে, কোনো এক নিচ প্রকৃতির লোক,” ট্রাম্প বলেন। “তাদের জেলে যাওয়া উচিত এবং তাদের গুলি করা উচিত”, তিনি যোগ করেন।
ট্রাম্পের মন্তব্যে ২০২৫ সালের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ অভিযানের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তিনি নির্দিষ্ট করে কোনো অভিযানের নাম উল্লেখ করেননি।
গণমাধ্যমের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে ট্রাম্প দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও সিএনএনের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছিলেন। ওই দুটি সংবাদমাধ্যম একটি প্রাথমিক গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল, যা ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ‘সম্পূর্ণ ও পুরোপুরি ধ্বংস’ হয়েছে—ট্রাম্পের এমন দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল।
“যখন তারা ফাঁস করে দেয়, আপনি কোনো দেশে আক্রমণ করতে যাচ্ছেন, যদিও আপনার এই আক্রমণের প্রকৃত কারণ হলো আত্মরক্ষা, কারণ আপনি চান না তাদের হাতে এমন কোনো অস্ত্র থাকুক যা দিয়ে এক আঘাতেই লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করা সম্ভব—তখন বিষয়টি অন্যরকম হয়ে দাঁড়ায়। না, যারা তথ্য ফাঁস করে, তাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত," ট্রাম্প বলেন।
তিনি আরও বলেন, “আমার কাছে তারা পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষ। তথ্য ফাঁসকারীরা পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষ।”
ভাষণের কয়েক মিনিট পর ট্রাম্প তথ্য ফাঁসকারীদের প্রসঙ্গ থেকে সাংবাদিকদের দিকে প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে নেন।
তিনি বলেন, “তারা তথ্য ফাঁসকারীদের মতোই খারাপ, কারণ তারাও তথ্য ফাঁস করে। অনেক সময় কোনো সূত্র ছাড়াই তারা মিথ্যা তথ্য ফাঁস করে, এতে তারাও তথ্য ফাঁসকারী হয়ে যায়।”
গত আগস্টে পেন্টাগনপ্রধান পিট হেগসেথ ঘোষণা করেন, সংবেদনশীল তথ্য গণমাধ্যমের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বিভাগ ও বিচার বিভাগ যৌথভাবে একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে।
সে সময় হেগসেথ বলেন, “তথ্য ফাঁস হলে মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে। নতুন এসব সরঞ্জাম ও প্রক্রিয়া আমাদের যৌথ বাহিনীর সদস্যদের সুরক্ষায় ব্যাপক সহায়তা করবে।”
গত সপ্তাহে ট্রাম্প সাবেক সেনা মেজর নিদাল মালিক হাসানের বিরল ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দেন। ২০০৯ সালে ফোর্ট হুডে হামলা চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা করেছিলেন হাসান।
হেগসেথ জানিয়েছিলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। তবে ট্রাম্প পরে বলেন, এটি জনসমক্ষে সম্প্রচার করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।