
আন্দোলনে জোট, আলাদাভাবে ভোট: স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াত কতটা ‘একা’?
জোটের অন্য শরিকরাও আলাদা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে তাদের মধ্যেও ভিন্নমত রয়েছে।

ভোক্তা পর্যায়ে এলপি গ্যাসের দাম ২০৬০ টাকা; অথচ ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে কোনো কোনো অপারেটর ১২ কেজি এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করছে ২৩০০ টাকা পর্যন্ত দামে। এ অবস্থায় গণশুনানি করে অপারেটর, ডিস্ট্রিবিউটর ও রিটেইলারের কমিশন অক্টোবরের চেয়ে ২২৩ টাকা বাড়িয়ে নভেম্বরের জন্য দাম পুনঃনির্ধারণের অর্থ কী–তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বাজারের বড় ও প্রভাবশালী কয়েকটি অপারেটর ডিস্ট্রিবিউটর পর্যায়েই এলপি গ্যাস সরবরাহ করছে ভোক্তা পর্যায়ে নির্ধারিত সর্বোচ্চ দামের চেয়ে আড়াই শ টাকা বেশি দরে। চরচার হাতে আসা ডিস্ট্রিবিউটর পর্যায়ে বিভিন্ন কোম্পানির ডিও প্রাইসের একটি চার্ট অন্তত সে স্বাক্ষ্যই দিচ্ছে। চার্টটিতে থাকা মূল্যতালিকার সত্যতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির (লোয়াব) সভাপতি সেলিম খান।
মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ১২ কেজি সিলিন্ডার গ্যাসের ডিও প্রাইস বসুন্ধরা এলপিজি রাখছে ২ হাজার ৩০০ টাকা। এ ছাড়া ইউনি গ্যাস রাখছে ২ হাজার ১৯০ টাকা, জেএমআই এলপিজি ২ হাজার ১৯০ ও গ্রিন এলপিজি ২ হাজার ১৫০ টাকা। তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করা কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে–ইউরো এলপিজি ২০৫০ টাকা, জি গ্যাস ২০৩০ টাকা, বেক্সিমকো এলপিজি ২০১০ টাকা ও যমুনা গ্যাস ১৯১৩ টাকা। এর বাইরে ফ্রেশ নিউ ডিও, ওমেরা, আইগ্যাজ, সেনা, বিএম এলপিজি ও টিএমএসএস ১৯০৫ টাকায় এবং পিএলপিজি ও পেট্রোম্যাক্স ১৯০০ টাকা দরে ১২ কেজির এলপি সিলিন্ডার বিক্রি করছে। মূল্যতালিকায় ইউনিভার্সেল এলপিজি ও ওরিয়ন এলপিজির কোনো দর উল্লেখ নেই।
গত ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত গণশুনানির ভিত্তিতে ২ নভেম্বর ডিস্ট্রিবিউটর কমিশন ৫০ টাকা থেকে ৮৫ টাকা এবং রিটেইলার কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা নির্ধারণের পর ১২ কেজির এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২০৬০ টাকা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এই হিসাবে ডিস্ট্রিবিউটর পর্যায়ে সর্বোচ্চ ডিও প্রাইস ১৯০৫ টাকা হওয়ার কথা।
কিন্তু বিইআরসি নির্ধারিত এই দর কাগজেই শুধু আছে। এমনকি ডিলারদের কেউ কেউ বাড়তি দরে এলপি গ্যাস নিচ্ছেন না। ফলে ভোক্তা পর্যায়ে চাহিদা বনাম সরবরাহ সংকটের সূত্র মেনে দাম যাচ্ছে আরও বেড়ে।
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকায় কথা হয় স্থানীয় দোকানি শোভন আহমেদের সঙ্গে। চরচাকে তিনি বলেন, “আমরা চাইলেই বলে গ্যাস নাই। পরিচয় জানতে চায়। দোকানদার পরিচয় দিলে গ্যাস দেয়। তখন যে দাম বলে, সেই দামেই নিতে হয়।”
এ বিষয়ে বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের ডিলার এবং লোয়াবের সিনিয়র সহসভাপতি নাজির মোল্লা চরচাকে বলেন, “ভোক্তা পর্যায়ে দামের চেয়ে বেশি ডিও প্রাইস হওয়ায় আমি গ্যাস নিই নাই। ২৩০০ টাকা দিয়ে মাল নিয়ে কততে বিক্রি করব? পরে দেখা যাবে সরকারের অভিযানে আমাকে দায়ী করা হবে। এইটা মান-সম্মানের বিষয়। অভিযানে আসা ম্যাজিস্ট্রেটরা তো অপারেটরদের চিনেন না।”
তবে নাজির মোল্লার মতো বাড়তি দামে এলপি সিলিন্ডার না নিয়ে বসে নেই অন্যরা। ভোক্তা চাহিদা বিবেচনায় বাড়তি দামেই বাজারে এলপি গ্যাস বিক্রি হচ্ছে। চাপ গিয়ে পড়ছে ভোক্তার ওপরই। ভোক্তা মুজিবুর রহমান চরচাকে বলেন, “সরকার যে রেট দেয়, তা তো কেউ মানতেছে না। ডিস্ট্রিবিউটররা মানে না, ডিলাররাও মানে না, আবার যে দোকান থেকে আমরা নিই, তারাও মানে না। কত করে আনছে–সেই স্লিপ চাইলে, সেটাও দেয় না।”
এ বিষয়ে বসুন্ধরা, ইউনি গ্যাস ও জেএমআই পরিবেশক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের কেউ ফোন ধরেননি।
অপারেটর কোম্পনিগুলো কেন বাড়তি দামে এলপি গ্যাস সরবরাহ করছে–এমন প্রশ্নের জবাবে নাজির মোল্লা চরচাকে বলেন, “এলসি খুলতে না পারাসহ নানা কারণে বাজারের বড় ও প্রভাবশালী এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরাসরি এলপিজি আমদানি করতে পারছে না। যারা আমদানি করছে, তাদের কাছ থেকে নিয়ে বোতলজাত করে এসব কোম্পানি সম্ভবত ব্যবসা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।”
এ বিষয়ে গণশুনানিতেও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে বিইআরসির আদেশে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আসেনি। নাজির মোল্লার মতে, “এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন চাইলেই এই সমস্যার সমাধান করতে পারত। কিন্তু তারা সেটি না করায় বাজার আবারও অস্থিরতার শঙ্কায় থাকছে।”
ডিলার পর্যায়ে বাড়তি দাম নিয়ে বিইআরসির অবস্থান জানতে কমিশনের সদস্য (গ্যাস) মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদকেও চেষ্টা করে ফোনে পাওয়া যায়নি।
এ নিয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম চরচাকে বলেন, “আমরা তো দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছি, বিইআরসি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ না করে পুরোপুরি ব্যবসায়ীদের ডিকটেশনে চলছে। টেকনিক্যাল কমিটির প্রস্তাবিত হারের চেয়েও বেশি দাম নির্ধারণ এবং ব্যবসায়ীদের চাহিদামতো বটলিং ও মজুতকরণ চার্জ বাড়িয়ে দিয়ে ব্যবসায়ী স্বার্থকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল। এরপরও বাজারে অপারেটরদের স্বেচ্ছাচারি আচরণ বন্ধে কমিশন কিছু করতে পারবে বলে মনে করার কোনো কারণ নাই।”
এলসি খোলাসহ অন্যান্য জটিলতায় আমদানি করতে না পারা ব্যবসায়ীরা বাড়তি দামে এলপি গ্যাস সরবরাহ করছে। এর যৌক্তিকতা নিয়ে অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, “মামা বাড়ির আবদার! কমিশন এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেয়, তা দেখার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।”
অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, “যৌক্তিক প্রমাণ ও গাণিতিক বিশ্লেষণের অভাব। বটলিং বা মজুতকরণ চার্জ কেন একটি নির্দিষ্ট অঙ্কে নির্ধারণ করেছিল কমিশন, তার কোনো বাস্তবসম্মত গাণিতিক বিশ্লেষণ বা ডিটেইলড অ্যানালাইসিস প্রকাশ করেনি কমিশন। প্রমাণ ছাড়া এমন মূল্য নির্ধারণই তো অগ্রহণযোগ্য।”
নির্ধারিত দরের বেশি দামে অপারেটরদের সিলিন্ডার সরবরাহ করাকে ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান। চরচাকে তিনি বলেন, “এই যে দাম বাড়ানো হলো, এটা তো এক বছরে প্রায় পাঁচ দফা বাড়ানো হলো। এই দামটা ঠিক করল কীসের ভিত্তিতে? আমরা গণশুনানিতে এগুলো নিয়ে অনেক কথা বলেছি এবং আমি অফিশিয়ালি চিঠিও দিয়েছি। এখন এনার্জি কমিশন (বিইআরসি) এই দামটা ঠিক করল কীভাবে? আর দাম নির্ধারণের পরও অপারেটর পর্যায়েই যদি বেশি দাম নেয়–এটা তো আরও দুর্ভাগ্যজনক।”
শফিকুজ্জামান বলেন, “যা ইচ্ছা তা-ই যদি হয়, তবে তো ভোক্তাদের ওপরই সমস্ত চাপ। আমাদের গণশুনানি করার পরও যদি শেষ পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের পক্ষেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে আর বলার কিছু থাকে না। পুরো বিষয়টি নিয়ে কমিশনের উচিত ভোক্তাদের কাছে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া। ন্যায্য দামে বাজারে এলপি গ্যাস প্রাপ্তি নিশ্চিতের দায়িত্ব এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের। স্থানীয় প্রশাসনকেও তাদের দ্বায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।”

আন্দোলনে জোট, আলাদাভাবে ভোট: স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াত কতটা ‘একা’?
জোটের অন্য শরিকরাও আলাদা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে তাদের মধ্যেও ভিন্নমত রয়েছে।

ঢাকার শপিংমল কেন হয়ে পড়ছে অচল?
কর্ণফুলী গার্ডেন সিটির ২০ তলা ভবনের নিচের তিন তলা জুড়ে ছিল শপিং কমপ্লেক্সটি। পোশাক, জুতা, প্রসাধনী আর উপহারসামগ্রী থেকে শুরু করে এখানে ছিল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুম। চতুর্থ তলায় ছিল ফুড কোর্ট। শপিং কমপ্লেক্সটি যখন চালু হয়, তখন এর দোকান সংখ্যা ছিল ১৯৮টি।

কোন পথে বাংলা কিউআর
বাংলা কিউআরের যাত্রা শুরু হয় একক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি বাংলা কিউআরের নির্দেশিকা জারি করে। পরে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ঢাকার মতিঝিলে পরীক্ষামূলকভাবে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান বাংলা কিউআর পেমেন্ট চালু হয়

এসআরবির অভিযানে শ্রমিকের মৃত্যু: গুলি করা ‘দুর্বৃত্ত’ আসলে কারা?
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি-১০) অভিযানের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে কারখানা শ্রমিক মারুফ ওরফে দুখু মিয়ার (২০) মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার এজাহারের সঙ্গে নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে অসংগতি পাওয়া গেছে। পরিবারের দাবি, ঘটনাস্থলে এসআরবি সদস্যরাই গুলি ছুড়েছেন।