Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

এলপিজি বাজারের লাগাম কার হাতে?

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮: ২৩
এলপিজি বাজারের লাগাম কার হাতে?
দেশজুড়ে মারাত্মক সরবরাহের তীব্র ঘাটতির মধ্যেই এলপি গ্যাসের দাম আবারও বৃদ্ধি করায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ গ্রাহকেরা। ছবি: চরচা

দেশজুড়ে মারাত্মক সরবরাহের তীব্র ঘাটতির মধ্যেই এলপি গ্যাসের দাম আবারও বৃদ্ধি করায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ গ্রাহকেরা। যেসব এলাকায় সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে সরকার-নির্ধারিত ১,৮৩৭ টাকা মূল্যের ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২,২০০ টাকা থেকে শুরু করে ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত চড়া দামে।

Advertisement

গতকাল রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১,৮৩৭ টাকা নির্ধারণের ঘোষণা দেয়। খবর ইউএনবির।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

তবে মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের খুচরা বাজারে ভোক্তারা আগে থেকেই চরম বিশৃঙ্খলার শিকার হচ্ছেন। যেখানে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২,২০০ থেকে ২,৬০০ টাকায়—যা সরকার-নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রায় ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি। পাশাপাশি দেশের বহু খুচরা দোকানে গ্যাসে ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং অনেক দোকান একেবারেই খালি পড়ে রয়েছে।

যদিও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এলপি গ্যাস লিমিটেড (এলপিজিএল) তাদের ১২.৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৭৭৭ টাকায় অপরিবর্তিত রেখেছে, তবে বাজারে তাদের নগণ্য শেয়ার থাকায় দেশের ৯৮ শতাংশেরও বেশি বোতলজাত গ্যাস ব্যবহারকারী সম্পূর্ণরূপে বেসরকারি পরিবেশকদের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।

উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সচিবালয়ে এলপিজি আমদানিকারকদের সঙ্গে বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে জরুরি বৈঠক করার পরদিনই এই মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটল।

এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি মন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দেন যে বাজার সিন্ডিকেটগুলো কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে কি না তা তদন্ত করে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

বাজারে ‘নেই’ এলপি গ্যাস, টাকা বেশি দিলেই মিলছেlpg-gas

পাইপলাইনের গ্যাসের ঘাটতিতে বেড়েছে এলপিজির চাহিদা

খাতসংশ্লিষ্ট ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় পাইপলাইনে প্রাকৃতিক গ্যাসের চরম ঘাটতিই দেশে এলপিজির অভূতপূর্ব চাহিদার মূল কারণ।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে স্থানীয় উত্তোলন ও এলএনজি মিলিয়ে সরবরাহ মিলছে মাত্র ২,৬০০ এমএমসিএফডি।

এর ফলে সৃষ্ট লোডশেডিং এবং বাসা-বাড়ির পাইপলাইনে গ্যাস না থাকায় হাজার হাজার পরিবার, বাণিজ্যিক রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান বোতলজাত এলপিজির দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হয়েছে। এতে এলপিজির যে চাহিদার বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে বিদ্যমান বেসরকারি সরবরাহ নেটওয়ার্ক।

আন্তর্জাতিক নৌ-পরিবহন ও ফ্রেইট ভাড়া বৃদ্ধি

স্থানীয় সংকটের পাশাপাশি বেসরকারি আমদানিকারকেরা আন্তর্জাতিক বৈরী পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরছেন।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে সমুদ্রে ভাসমান ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট। ছবি: চরচা
কক্সবাজারের মহেশখালীতে সমুদ্রে ভাসমান ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট। ছবি: চরচা

সেপ্টেম্বর মাসের জন্য সৌদি আরামকো প্রোপেনের কন্টাক্ট প্রাইস (সিপি) প্রতি টন ৬২৫ ডলার এবং বিউটেনের দাম ৬৬০ ডলার নির্ধারণ করেছে।

তবে আরও বড় বিষয় হলো, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে এলপিজির সহজলভ্যতা কমে গেছে এবং সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের (ফ্রেইট) খরচ রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে। আমদানিকারকদের দাবি, বিইআরসি প্রতি টন পরিবহন খরচ ১৬০ ডলার ধরে খুচরা মূল্য হিসাব করলেও বাস্তবে বিশ্ববাজারে জাহাজের ভাড়া বেড়ে প্রতি টনে ৪০০ ডলারে পৌঁছেছে। এতে ভারী আর্থিক ক্ষতি এড়াতে বেশ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আমদানি কমাতে বাধ্য হয়েছে।

আমদানি তথ্য নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব

চলতি বাজার সংকট এলপিজি খাতের ভেতরের দ্বন্দ্বকেও প্রকাশ্যে এনেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে এলপিজি আমদানির পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন হলেও সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ২০ হাজার টনে।

প্রস্তুতি নেই, তবু জ্বালানি খাতের বেসরকারিকরণে এত তাড়াহুড়া কেন?petroliam corporation

তবে এলপিজি পরিচালকদের একটি দল জ্বালানি বিভাগে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে দাবি করেছে যে আমদানির পরিমাণ স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল ছিল। তাদের অভিযোগ, কিছু বড় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর লক্ষ্যে জাহাজ থেকে আমদানিকৃত এলপিজি খালাস ও বাজারে ছাড়তে ইচ্ছে করে বিলম্ব করছে। তারা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

শীতকাল ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববাজারে জ্বালানির স্বাভাবিক চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে। ফলে বাজার তদারকি এবং আমদানিতে সুনির্দিষ্ট সহায়তা না দিলে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের এলপিজি বাজার আরও গভীর অস্থিতিশীলতার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা।

বিইআরসির ভূমিকা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের ক্ষোভ

এলপিজির এই মূল্যবৃদ্ধির কড়া সমালোচনা করে কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বিইআরসির এই সিদ্ধান্তকে অবৈধ বাজার কারসাজির স্বীকৃতি বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, খুচরা বাজারে সরকারি দাম বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে এভাবে দাম বাড়িয়ে দেওয়া কেবল অসাধু সিন্ডিকেটকেই সুরক্ষার পথ তৈরি করে দেয়, সাধারণ মানুষের জন্য গ্যাস পাওয়া নিশ্চিত করে না।

প্রখ্যাত জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন নীতিগত দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে বলেন, অবক্ষয়িত দেশীয় পাইপলাইন গ্যাসের বিকল্প হিসেবে জাতীয় চাহিদাকে আমদানিকৃত এলপিজির দিকে ঠেলে দেওয়া হলেও রাষ্ট্রীয় বাফার স্টক (মজুত) বাড়ানো হয়নি বা কোনো মূল্য স্থিতিশীলতা তহবিল গঠন করা হয়নি। এর ফলে আমদানিকৃত এই খাতের সাধারণ ভোক্তাদের পুরোপুরি বেসরকারি কার্টেল এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ ভাড়ার ওঠানামার দয়ার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বিষয়: সরকারদামবাজারবিইআরসিএলপিজিউদ্বেগ
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ দলে রহস্য স্পিনার আলিস

  • ২

    দিল্লির বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়ে আটক সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল ও বিজয়ন

  • ৩

    ভারত: গণ-আন্দোলনের মুখোমুখি এক অনমনীয় রাষ্ট্র

  • ৪

    রাজনৈতিক প্রোপাগাণ্ডা ও বিদ্যায়তনিক পরাধীনতার শিকার তাসনীম সিরাজ

  • ৫

    ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

সম্পর্কিত
  • ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

    ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

    ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের কৌশল, রাজনৈতিক মেরুকরণ, ডিজিটাল প্রচারণা এবং আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে

  • মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

    মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

    বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর প্রায় প্রতিদিনের বিক্ষোভ মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এর মাত্র কয়েক মাস আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় একই ধরনের বিক্ষোভের মুখে তার শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।

  • নড়বড়ে মুশফিকুরকে কেন খেলাচ্ছে বাংলাদেশ?

    নড়বড়ে মুশফিকুরকে কেন খেলাচ্ছে বাংলাদেশ?

    আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র টেস্টের স্কোয়াড যখন ঘোষিত হয়, তখন থেকেই আলোচনা ছিল মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরের এরকম একটা অগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কেন মুশফিকুরকে দলে রাখা হলো, সেটা প্রশ্নের উদ্রেক করেছিল। কেননা মুশফিকুরের স্কোয়াডে থাকা মানেই একাদশে থাকাটাও ন

  • নিউইয়র্ক টাইমস: ট্রাম্পের প্রতি রিপাবলিকানদের হতাশা বাড়ছে

    নিউইয়র্ক টাইমস: ট্রাম্পের প্রতি রিপাবলিকানদের হতাশা বাড়ছে

    ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে। পরিবর্তনটি সরাসরি ডেমোক্র্যাটদের প্রতি মানুষের ভালোবাসা বা রিপাবলিকান ভোটারদের রাজনৈতিক অবস্থান বদলে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। বরং এর কেন্দ্রে রয়েছে ক্লান্তি