ফজলে রাব্বি

২০২১ সালের এপ্রিল মাস থেকে তরলীকৃত গ্যাসের (এলপি) দাম ঠিক করে দিচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। যদিও তাদের ঠিক করা দামে বাজারে এলপি গ্যাস পাওয়া যায় না।
২০২১ সালে বিইআরসির তৎকালীন চেয়ারম্যান আব্দুল জলিলকে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “বাড়তি দাম নেওয়ার সুযোগ নেই। সরকার নির্ধারিত দামেই বিক্রি করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ভোক্তা অধিদপ্তর এ নিয়ে কাজ করছে।”
একই বিষয়ে পরবর্তী চেয়ারম্যান নূরুল আমিনকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তার উত্তর মিলে যেত আব্দুল জলিলের সঙ্গে। বর্তমান চেয়ারম্যান জালাল আহমেদেরও কথায়ও একই সুর। শব্দের রকমফের শুধু। কিন্তু একই থাকে ভোক্তার ভোগান্তি।
প্রথম দফা বিইআরসি এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার প্রতি দাম নির্ধারণ করার দুই-এক মাস পর থেকে কখনোই বাজারে ওই দামের প্রতিফলন দেখা যায়নি বললেই চলে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপি গ্যাসের দাম আগের চেয়ে ৩৮ টাকা বাড়িয়ে ১২৫৩ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। আন্তর্জাতিক বাজার দর এবং ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে অনুযায়ী এলপিজির দাম বাড়ানো হয়। কিন্তু বাজারের বাস্তবতা ভিন্ন। খোদ রাজধানীর কারওয়ান বাজারে গত বৃহস্পতিবার ১৬০০-১৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস।
রাজধানীর বাইরে কোথাও কোথাও দুই হাজার টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে ১২ কেজির এলপি গ্যাস। গত সপ্তাহের শেষ দিকে হঠাৎ করেই বাজারে এলপিজির ঘাটতি দেখা দেয়। দাম বৃদ্ধির এই নিয়মিত ঘটনাকে একরকম নিয়তি হিসাবে মেনে নিয়েছেন গ্রাহকরা। কোথাও ১৫৫০ টাকার নিচে এলপিজি পাওয়া যায়নি।
তবে গত বৃহস্পতিবারে পর থেকে পরিস্থিতি অন্য দিকে চলে যায়। খুচরা বাজারে ১৮০০ টাকার নিচে এলপিজি কিনতে পারেননি কেউ। কোনো কোনো দোকানে দাম চাওয়া হয়েছে ২২০০ টাকা পর্যন্ত।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডিলাররা চাহিদা মতো গ্যাস সরবরাহ করছে না। আর ডিলার বলছেন আমদানিকারকরা তাদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দিচ্ছে না। অন্যদিকে আমদানিকারকরা বলছেন, জাহাজ সংকটের কথা।
রাজবাড়ির ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ইসমত গনি ক্ষোভ প্রকাশ করে চরচাকে বলেন, “নির্ধারিত দামে বাজারে এলপি গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার দরকার কী? বাজারের উপর ছেড়ে দিলেই হয়।”
২০২১ সালের এপ্রিল মাসের আগে বাজারই নির্ধারণ করত এলপি গ্যাসের দাম। তখন সিন্ডিকেট করে এলপি গ্যাসের দাম বাড়িয়ে রাখার অভিযোগ ছিল আমদানিকারক ও বিতরণকারীদের বিরুদ্ধে।
দোকানিরা বলছেন, এক হাজার সিলিন্ডারের অর্ডার দিলে ডিলাররা ২০০ সিলিন্ডার দিচ্ছে। ভোক্তার জন্য নির্ধারিত দামের চেয়ে ১০০-১৫০ টাকা বেশি রাখছে ডিলারই।
একই বক্তব্য ডিলারেরও। মেসার্স সোনার বাংলার স্বত্বাধিকারী সুমন মিয়া বলছেন, আমদানিকারকরা চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করছেন না। প্রয়োজন অনুযায়ী আমদানি করা যাচ্ছে না বলে তাদের জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চরচাকে ওমেরা এলপি’র একজন কর্মকর্তা বলেন, “সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র এলপিজি পরিবহনকারী কয়েকটি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় পরিবহন সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকটের কারণে কিছু কোম্পানি এলপিজি আমদানি করতে পারছে না। এ কারণে বাজারে ঘাটতি হয়ে থাকতে পারে। এই সংকট কতদিন চলবে তাও স্পষ্ট নয়।”
বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ চরচাকে বলেন, “নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ আগেও ছিল। তবে তখন পার্থক্য এতটা বেশি ছিল না। এবারের দাম বৃদ্ধি অস্বাভাবিক।” তিনি জানান, এলপিজি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কম থাকায় এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি জাহাজ সংকটও রয়েছে।
বিইআরসির চেয়ারম্যান আরও বলেন, “নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে অভিযান চলছে। শুক্রবারও ভোক্তা অধিকার অভিযান পরিচালনা করেছে।” তবে বিষয়টি এককভাবে বিইআরসির পক্ষে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
এলপিজি বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক সমিতি লোয়াবের সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশিদ চরচাকে বলেন, “সাপ্লাই চেইনে বড় ধরনের ব্যত্যয় ঘটায় কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে। গত মাসের ২০ তরিখে যুক্তরাষ্ট্র এলপিজি পরিবহনকারী কয়েকটি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় অনেক আমদানিকারকের চালান আটকে গেছে।”
তার প্রতিষ্ঠান এনার্জিপ্যাকেরও একটি জাহাজ এই তালিকায় আছে বলে জানান হুমায়ুন রশিদ।
তার আশা, “চলতি মাসের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তবে, সরবরাহ ঘাটতিকে পুঁজি করে ডিলাররা যেভাবে দাম বাড়িয়েছে বলে খবর আসছে তা কিছুতেই সমর্থন করে না লোয়াব। বিইআরসির উচিত এদিকে নজর দেওয়া। লোয়াব কমিশনের বেঁধে দেওয়া দামে পণ্য সরবরাহে অঙ্গীকারাবদ্ধ।”
২০২১ সালের পর থেকে বিইআরসির নির্ধারিত দাম এবং বাজারের দামের এই পার্থক্য এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বন্যা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিইআরসি নির্ধারিত ও বাজারের দামের পার্থক্য ছিল সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিইআরসির নির্ধারিত ১৪৯৮ টাকার বিপরীতে ডলার সংকট ও এলসি সমস্যার অজুহাতে ৪০০ টাকা বাড়িয়ে ভোক্তার কাছে ১২ কেজি সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছিল ১৯০০ টাকায়। এবার দামের পার্থক্য পৌঁছেছে ৮০০ টাকায়। এ অবস্থায় নিয়মিত দাম ঘোষণার অংশ হিসাবে রোববার চলতি জানুয়ারি মাসের দাম ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

২০২১ সালের এপ্রিল মাস থেকে তরলীকৃত গ্যাসের (এলপি) দাম ঠিক করে দিচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। যদিও তাদের ঠিক করা দামে বাজারে এলপি গ্যাস পাওয়া যায় না।
২০২১ সালে বিইআরসির তৎকালীন চেয়ারম্যান আব্দুল জলিলকে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “বাড়তি দাম নেওয়ার সুযোগ নেই। সরকার নির্ধারিত দামেই বিক্রি করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ভোক্তা অধিদপ্তর এ নিয়ে কাজ করছে।”
একই বিষয়ে পরবর্তী চেয়ারম্যান নূরুল আমিনকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তার উত্তর মিলে যেত আব্দুল জলিলের সঙ্গে। বর্তমান চেয়ারম্যান জালাল আহমেদেরও কথায়ও একই সুর। শব্দের রকমফের শুধু। কিন্তু একই থাকে ভোক্তার ভোগান্তি।
প্রথম দফা বিইআরসি এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার প্রতি দাম নির্ধারণ করার দুই-এক মাস পর থেকে কখনোই বাজারে ওই দামের প্রতিফলন দেখা যায়নি বললেই চলে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপি গ্যাসের দাম আগের চেয়ে ৩৮ টাকা বাড়িয়ে ১২৫৩ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। আন্তর্জাতিক বাজার দর এবং ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে অনুযায়ী এলপিজির দাম বাড়ানো হয়। কিন্তু বাজারের বাস্তবতা ভিন্ন। খোদ রাজধানীর কারওয়ান বাজারে গত বৃহস্পতিবার ১৬০০-১৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস।
রাজধানীর বাইরে কোথাও কোথাও দুই হাজার টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে ১২ কেজির এলপি গ্যাস। গত সপ্তাহের শেষ দিকে হঠাৎ করেই বাজারে এলপিজির ঘাটতি দেখা দেয়। দাম বৃদ্ধির এই নিয়মিত ঘটনাকে একরকম নিয়তি হিসাবে মেনে নিয়েছেন গ্রাহকরা। কোথাও ১৫৫০ টাকার নিচে এলপিজি পাওয়া যায়নি।
তবে গত বৃহস্পতিবারে পর থেকে পরিস্থিতি অন্য দিকে চলে যায়। খুচরা বাজারে ১৮০০ টাকার নিচে এলপিজি কিনতে পারেননি কেউ। কোনো কোনো দোকানে দাম চাওয়া হয়েছে ২২০০ টাকা পর্যন্ত।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডিলাররা চাহিদা মতো গ্যাস সরবরাহ করছে না। আর ডিলার বলছেন আমদানিকারকরা তাদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দিচ্ছে না। অন্যদিকে আমদানিকারকরা বলছেন, জাহাজ সংকটের কথা।
রাজবাড়ির ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ইসমত গনি ক্ষোভ প্রকাশ করে চরচাকে বলেন, “নির্ধারিত দামে বাজারে এলপি গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার দরকার কী? বাজারের উপর ছেড়ে দিলেই হয়।”
২০২১ সালের এপ্রিল মাসের আগে বাজারই নির্ধারণ করত এলপি গ্যাসের দাম। তখন সিন্ডিকেট করে এলপি গ্যাসের দাম বাড়িয়ে রাখার অভিযোগ ছিল আমদানিকারক ও বিতরণকারীদের বিরুদ্ধে।
দোকানিরা বলছেন, এক হাজার সিলিন্ডারের অর্ডার দিলে ডিলাররা ২০০ সিলিন্ডার দিচ্ছে। ভোক্তার জন্য নির্ধারিত দামের চেয়ে ১০০-১৫০ টাকা বেশি রাখছে ডিলারই।
একই বক্তব্য ডিলারেরও। মেসার্স সোনার বাংলার স্বত্বাধিকারী সুমন মিয়া বলছেন, আমদানিকারকরা চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করছেন না। প্রয়োজন অনুযায়ী আমদানি করা যাচ্ছে না বলে তাদের জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চরচাকে ওমেরা এলপি’র একজন কর্মকর্তা বলেন, “সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র এলপিজি পরিবহনকারী কয়েকটি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় পরিবহন সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকটের কারণে কিছু কোম্পানি এলপিজি আমদানি করতে পারছে না। এ কারণে বাজারে ঘাটতি হয়ে থাকতে পারে। এই সংকট কতদিন চলবে তাও স্পষ্ট নয়।”
বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ চরচাকে বলেন, “নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ আগেও ছিল। তবে তখন পার্থক্য এতটা বেশি ছিল না। এবারের দাম বৃদ্ধি অস্বাভাবিক।” তিনি জানান, এলপিজি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কম থাকায় এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি জাহাজ সংকটও রয়েছে।
বিইআরসির চেয়ারম্যান আরও বলেন, “নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে অভিযান চলছে। শুক্রবারও ভোক্তা অধিকার অভিযান পরিচালনা করেছে।” তবে বিষয়টি এককভাবে বিইআরসির পক্ষে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
এলপিজি বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক সমিতি লোয়াবের সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশিদ চরচাকে বলেন, “সাপ্লাই চেইনে বড় ধরনের ব্যত্যয় ঘটায় কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে। গত মাসের ২০ তরিখে যুক্তরাষ্ট্র এলপিজি পরিবহনকারী কয়েকটি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় অনেক আমদানিকারকের চালান আটকে গেছে।”
তার প্রতিষ্ঠান এনার্জিপ্যাকেরও একটি জাহাজ এই তালিকায় আছে বলে জানান হুমায়ুন রশিদ।
তার আশা, “চলতি মাসের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তবে, সরবরাহ ঘাটতিকে পুঁজি করে ডিলাররা যেভাবে দাম বাড়িয়েছে বলে খবর আসছে তা কিছুতেই সমর্থন করে না লোয়াব। বিইআরসির উচিত এদিকে নজর দেওয়া। লোয়াব কমিশনের বেঁধে দেওয়া দামে পণ্য সরবরাহে অঙ্গীকারাবদ্ধ।”
২০২১ সালের পর থেকে বিইআরসির নির্ধারিত দাম এবং বাজারের দামের এই পার্থক্য এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বন্যা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিইআরসি নির্ধারিত ও বাজারের দামের পার্থক্য ছিল সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিইআরসির নির্ধারিত ১৪৯৮ টাকার বিপরীতে ডলার সংকট ও এলসি সমস্যার অজুহাতে ৪০০ টাকা বাড়িয়ে ভোক্তার কাছে ১২ কেজি সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছিল ১৯০০ টাকায়। এবার দামের পার্থক্য পৌঁছেছে ৮০০ টাকায়। এ অবস্থায় নিয়মিত দাম ঘোষণার অংশ হিসাবে রোববার চলতি জানুয়ারি মাসের দাম ঘোষণা করার কথা রয়েছে।