হরমুজ প্রণালি যৌথভাবে পরিচালনার জন্য ওমানের দেওয়া আঞ্চলিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। এ তথ্য আজ বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। এর ফলে কয়েক মাস ধরে উপসাগরীয় বাণিজ্য কার্যত স্থবির করে রাখা এই অচলাবস্থা নিরসনের আশা বড় ধরনের ধাক্কা খেল।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালানোর আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করত। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়ে বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে ওমান নতুন একটি আঞ্চলিক সমঝোতার প্রস্তাব দেয়।
তবে তেহরান ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, প্রণালিটি যৌথভাবে পরিচালনার পরিকল্পনার সফল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
ইরানের ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, কৌশলগত এই নৌপথ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব তাদের ‘অবাস্তব পরিকল্পনা’ এগিয়ে নিতে ওমানের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির পুরো প্রবেশপথ এবং বহির্গমনপথের একটি অংশ অবশ্যই ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে—এটাই তেহরানের অবস্থান।
তিনি বলেন, ওমানের সঙ্গে ৫০-৫০ ভিত্তিতে যৌথ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ইরানের স্বার্থ রক্ষা করবে না। তবে তেহরান ওমানকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হিসেবে বিবেচনা করে।
ওমানের প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের একক নিয়ন্ত্রণ থাকবে না এবং জাহাজ থেকে নেওয়া ফি হবে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক।
এদিকে আজ বুধবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে আঘাত হেনে সেগুলোকে থামতে বাধ্য করেছে। আইআরজিসির দাবি, জাহাজগুলো ‘অনিরাপদ ও অবৈধ রুট’ ব্যবহার করছিল এবং সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিল।
আইআরজিসির নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, তারা কৌশলগত এই নৌপথের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং ‘অবৈধ আমেরিকান সামরিক হস্তক্ষেপ’ ও এ অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজকে দেওয়া নির্দেশনার জবাব দেওয়া হবে।
তবে আইআরজিসির এ দাবি তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।