হরমুজ প্রণালি পরিচালনার জন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থিত একটি প্রস্তাব ইরানের কাছে উত্থাপন করেছে ওমান। এতে প্রণালিটি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে স্বেচ্ছাভিত্তিক ফি নেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি সূত্র এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক পশ্চিমা কূটনীতিক রয়টার্সকে এ প্রস্তাবের কথা জানিয়েছেন ।
তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে যে বাণিজ্যিক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরসনের ভিত্তি হতে পারে এই পরিকল্পনা।
যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে যেত।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান নিজেদের জাহাজ ছাড়া অন্য প্রায় সব জাহাজের জন্য কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।
মালাক্কা প্রণালির আদলে প্রস্তাব
ওমানের প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের একক নিয়ন্ত্রণ থাকবে না এবং ফি প্রদান হবে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাভিত্তিক।সূত্র দুটি জানায়, এ ব্যবস্থা অনেকটা এশিয়ার মালাক্কা প্রণালিতে চালু থাকা ব্যবস্থার মতো হবে। সেখানে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর নৌ-চলাচল নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য জাহাজগুলোর কাছে স্বেচ্ছা অনুদান চায়।
ওই পশ্চিমা কূটনীতিকের ভাষায়, বিষয়টি বিমানযাত্রায় স্বেচ্ছাভিত্তিক কার্বন অফসেট ফি দেওয়ার মতো—যেখানে টিকিট কেনার সময় যাত্রী চাইলে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে পরিবেশগত ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার উদ্যোগে অংশ নিতে পারেন।
উপসাগরীয় সূত্রটি জানায়, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ইরান এ প্রস্তাবের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব দেয়নি। সপ্তাহান্তে ওমানের কর্মকর্তারা তেহরানে গিয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ওমান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
গত জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরান আগস্টের শেষ নাগাদ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছায়।
তবে হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত ওই সমঝোতার ভাষ্য নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সমঝোতা অনুযায়ী ইরানকে অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে ইরানের দাবি, এতে প্রণালিতে চলাচল তদারকির ক্ষমতা তাদেরই দেওয়া হয়েছে।