Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

চিরনিদ্রায় অপ্রতিম: অনেক প্রশ্নের জবাব মেলেনি

গাজীউল হক সোহাগ

গাজীউল হক সোহাগ

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ৩৪
চিরনিদ্রায় অপ্রতিম: অনেক প্রশ্নের জবাব মেলেনি
কিশোর অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ছবি: ইউএনবি

শুক্রবার রাতটি ছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও মোবাইল ফোন যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী ইয়েসটেকের স্বত্বাধিকারী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের দম্পতির জন্য আকুতির, উৎকণ্ঠার। শনিবার সকালের পর যতই বেলা বাড়ছিল, তা হয়ে উঠল ওদের জন্য বিবর্ণ। দুপুরের দিকে তা রূপ নিল আর্তনাদে। এ দম্পতির সন্তান হারানোর ঘটনায় পুরো বাংলাদেশ স্তব্ধ। শোকে আচ্ছন্ন জাতি। ১৩ বছরের একমাত্র সন্তান সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের লাশ মিলল কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের ঝোপ-জঙ্গলে। মুঠোফোন ছিনিয়ে নিতে একদল ‘অসম বয়সী’ বন্ধু তাকে বাঁশ দিয়ে মাথায় আঘাত করে মৃত্যু ঘটায়। এ ঘটনায় আইফোনটি উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান কোনোভাবেই গ্রেপ্তার হওয়া চার ব্যক্তিকে ‘কিশোর গ্যাং’ বলতে নারাজ। তিনি তাদের অসম বয়সী বন্ধুই বলছেন। জেলা পুলিশ সুপার স্বীকার করুক আর না-ই করুক কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং শহর ছাড়িয়ে লালমাই পাহাড় ও গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এদের হাতে কেউ নিরাপদ নয়। গত কয়েক মাসে কুমিল্লায় যে পরিমাণ ঠেকবাজি, ছিনতাই ও চুরি হয়েছে এদের সিংহভাগই কিশোর গ্যাংয়ের হাত ধরে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের দায়ভার কার তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এতে অনেক প্রশ্নের জবাব মেলেনি। জবাব মিলবে কিনা তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।

শিক্ষক নাহিদার পুরো পৃথিবী জুড়েই ছিল সন্তান অপ্রতিম। বয়স ১৩ হলেও মায়ের কাছে আরও একটু বেশি। আদরে সোহাগে যতনে ছেলেকে রাঙিয়ে রাখতেন তিনি। মাঝে মধ্যে সাজগোজও করাতেন। নানা নামে ছেলেকে ডাকতেন। ছেলের গাল টিপে দিতেন। আহা কি অপত্য স্নেহ। এমন নিষ্পাপ শিশুকে হারানোর পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমকে (লেখালেখি করেন নাহিদা নাহিদ) একজন আইন প্রণেতা বিএনপি দলীয় স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী তার বাসায় শনিবার সান্তনা দিতে যান। নাহিদা আইনপ্রণেতার কাছে জানতে চেয়েছেন, তার ছেলের কি অপরাধ ছিল? কেন তাকে হত্যা করা হলো? এই প্রশ্নের কেনো সদুত্তর ওই আইনপ্রণেতা দিতে পারেননি। তবে তিনি কাঁদলেন। অন্যদেরও কাঁদালেন, চোখ মুছালেন। তিনি তার জীবনে যতগুলো করুণ মৃত্যুর খবর শুনেছেন ও দেখেছেন এটি তার একটি বলে মন্তব্য করেছেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

মনে পড়ে, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাত আটটার দিকে কুমিল্লা সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজের ঝোপ-জঙ্গল থেকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেনি। কিন্তু দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার লাশ সংরক্ষিত এলাকায় মেলে। তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ড পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। তখন বিচারের দাবিতে তনুর মা আনোয়ারার বেগম কয়েকজনের নাম বলেছিলেন। তৎকালীন প্রশাসন তাদের আইনের আওতায় আনেননি। এক দশকে বিচার মেলেনি তনুর। তবে বর্তমান সরকারের সময়ে সন্দেহভাজন একজন আসামি গ্রেপ্তার ও দুইজনকে ধরতে ইন্টারপোলের রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে।

কিন্তু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা ও শাহরিয়ার দম্পতির সন্তান অপ্রতিমের সন্ধানই দিতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ আসলে জিডি নেওয়ার পর কতটুকু তৎপর ছিলেন, সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ আজকাল পুলিশ ক্ষমতাবান ছাড়া অন্য কারও ফোনও ধরতে চায় না। পুলিশকে আগের মতো রাস্তায় দেখা যায় না।

অপ্রতীম হত্যা: কুবিতে ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিতoprotim cumilla teacher

অপ্রতিমকে কেন হত্যা করা হলো?

পুলিশ বলছে, আইফোন ছিনিয়ে নিতে এই হত্যাকাণ্ড। ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে- ছিনতাই করা, ঠেকবাজি করা, ফুঁসলিয়ে অন্যত্র নেওয়া। এটা ফৌজদারি অপরাধ। এটা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পুলিশের। পুলিশ এইক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে। কুমিল্লায় চুরি, ছিনতাই, ঠেকবাজি আমাদের সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়।

অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করা হয়েছে। তার শরীরে রক্তের ছোপ। বুকে রক্তের দাগ। শুক্রবার রাতেই যদি লালমাই পাহাড়ের পার্ক ও পিকনিক স্পটগুলোর আশপাশে তল্লাশি অভিযান হতো তাহলে আরও আগেই মরদেহ পাওয়া যেত। এমনকি অপ্রতিমকে অচেতনও পাওয়া যেতে পারত। তার মাথা ও বুকে যে পরিমাণ রক্তের ছোপ দেখা গেছে, তাতে মনে হচ্ছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সে মারা গেছে। লালমাই পাহাড়ে মরদেহের কিছু অংশ শেয়ালে খেত না।

ব্যবসায়ী-শিক্ষক দম্পতির একমাত্র সন্তান অপ্রতিম। তাকে ঘিরেই ছিল বাংলাদেশের নেটিজেনরা। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তা-ই দেখা গেছে।

নাহিদা বেগম জুলাই আন্দোলনের অন্যতম উৎসাহদাতাও। তিনি তখনকার পরিস্থিতি নিয়ে ফেসবুক শিক্ষার্থীদের পাশে ছিলেন। জুলাই আন্দোলনে তারই সহকর্মী ড. কামরুন নাহার শীলার একমাত্র ছেলে মেঘ গুলিবিদ্ধ হয়। তার শরীরে ছররা গুলি। কোমরে গুলি। দুই বছর আগে মেঘের মায়ের আকুতি দেখেছি। দুই বছর পর অপ্রতিমের মায়ের আর্তনাদও দেখতে হলো গোটা জাতিকে।

ছেলের লাশ উদ্ধারের পর ড. নাহিদা বেগম বলেছিলেন, ‘বিচার চেয়ে কী করব? আমার ছেলে তো আর ফিরবে না। আমি কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছি, এটা কী আমার অন্যায়?’ এর আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আপনাদের কাছে হাতজোড় করছি। আমার ছেলেকে বাঁচান।’ রাষ্ট্র নাহিদা বেগমের আকুতি হয়তো শোনার চেষ্টাও করেনি। নাহিদা বেগম তার ছেলেকে আর ফিরে পাবেন না, এটা নিশ্চিত। কিন্তু যে প্রশ্ন তিনি রেখে গেছেন, এর দায়ভার রাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।

চিরনিদ্রায় শায়িত অপ্রতীম, অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা oprotim cumilla teacher

সংবিধান মোতাবেক রাষ্ট্রের নাগরিকের নিরাপত্তা দেবে সরকার। কুমিল্লা ১৩ বছরের মাসুম বাচ্চার জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারিনি। এর জবাব রাষ্ট্রযন্ত্রকেই দিতে হবে।

যেভাবে লালমাই পাহাড়ের জঙ্গলে মিলল অপ্রতিমের লাশ

সবেধন নীলমণিকে নিয়ে তাদের আবেগ-উচ্ছ্বাসের কমতি ছিল না। মায়ের ফেসবুক ওয়াল জুড়ে ছিল ছেলে অপ্রতিম। হাসি-রঙে রাঙিয়ে তোলা এক ছন্দময় জীবন ছিল তাদের। সেই জীবনে ভয়ংকরভাবে ছন্দপতন হলো অপ্রতিমকে নির্মমভাবে হত্যা করার মধ্য দিয়ে। শনিবার দুপুরে লালমাই পাহাড়ের পাদদেশের ঝোপ-জঙ্গলে সানন্দা এলাকায় তার নিথর মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। নিখোঁজের ২১ ঘণ্টা পর মেলে অপ্রতিমের (১৩) লাশ।

অপ্রতিমের এমন নির্মম মৃত্যুতে পুরো বাংলাদেশই যেন শোকপুরীতে পরিণত হয়। আজ রোববার সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় জানাজা কোটবাড়ি এলাকার গন্ধমতি-দক্ষিণ বাগমারার এলাকায় হয়। এরপর তাকে গন্ধমতি কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ রোববারের সব ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

অপ্রতিমের বাবার বাড়ি কুষ্টিয়া জেলায়, মায়ের বাড়ি চাঁদপুরে। অপ্রতিম কোটবাড়ির বর্ডার গার্ড পাবলিক হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত নিয়ে কোটবাড়ির ভাড়া বাসা থেকে এতবার বিকেল তিনটায় আইফোন বেরিয়ে যায় সে। সন্ধ্যা নাগাদ বাসায় না ফেরায় পরিবারের পক্ষ থেকে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় জিডি করা হয়। গতকাল শনিবার সকালে মেলে তার মরদেহ।

এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে কাজ করে। সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, পুলিশ জিডি হাতে পাওয়ার পরেই কাজ শুরু করেছে।

হত্যাকাণ্ডের শুরুটা করে তুহিন। ওই যুবকই বিকেল থেকে অপ্রতিমের সঙ্গে ছিল। একাধিক সিসিটিভি ফুটেজে ওই যুবকের সঙ্গে একটি দোকানের সামনে দেখা হয়েছে অপ্রতিমের। একটু পর তারা দুজন হাতও মেলায়। এ সময় অপ্রতিমের হাতে আইফোনটি ছিল। ফুটেজ দেখে তাদের পূর্ব পরিচিত মনে হয়েছে। অপর একটি ফুটেজে দেখা যায়, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে হেঁটে যাচ্ছে। আরও দুইটি ফুটেজের একটি কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রধান ফটকে ও অন্যটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ মোড়ে।

অপ্রতিমের মরদেহের প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী আবদুল কাদের জিলানী বলেন, আমি আর আমার ভাতিজা বাঁশ কাটার জন্য এখানে এসেছিলাম। হাতে ঘড়ি বা সঙ্গে মোবাইল ছিল না। সময়টা আনুমানিক সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা হবে। আমাকে ভাতিজা বলছিল ওখানে কেউ ঘুমায়। ভালোভাবে খেয়াল করে দেখি ওর মাথায় জখম আছে। ভয় পেয়ে যাই। একটু পর মামুন নামে একজনের সঙ্গে দেখা হয়। তিনি বলেন, ম্যাডামের ছেলে নিখোঁজ। আমরা এ ঘটনা খুলে দেখেন অপ্রতিমের মরদেহ পড়ে আছে।

নিখোঁজের ২২ ঘণ্টা পর কিশোর অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার, আটক ১oprotim cumilla teacher

বিচার চেয়ে কি হবে, আমার সন্তান কি ফিরে আসবে?

‘শাহরিয়ারের আব্বু বলো না আমি কী করব! এখন আমি কি নিয়ে বাঁচব? তুমি বলো না শাহরিয়ারের আব্বু’- স্বামী ফিরোজ শাহরিয়ারের বাম হাত জাপটে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন নাহিদা বেগম।

গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্ন- আপনি বিচার চান কি না? কান্নামাখা কণ্ঠে একমাত্র বুকের ধন হারানো মা নাহিদা বললেন, ‘বিচার চেয়ে কি হবে, আমার সন্তান ফিরে আসবে? আমার ছেলেরে এত কষ্ট দিয়া মারছে। ফাঁসি হইলে কি, না হইলে কি, আমার ছেলেরে আমি ফিরে পাব? আমার ছেলেকে তো আমি ফিরে পাব না। বলেই অঝোর চোখের পানিতে স্বামীর কাঁদে মুখ ঢাকলেন নাহিদা।

গণমাধ্যমকর্মীদের দুই হাতজোড় করে অপ্রতিমের বাবা বললেন, ‘আমি বাবা-সে মা। আমাদের কিছুই বলার নেই। আমরা অসহায় হয়ে গেছি। আমাদের কিছুই বলার নেই। বিচার চাইলে কি আমাদের সন্তানকে ফিরে পাব- বলেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন তিনি।

মামলার আসামিরা

এ মামলার চার আসামি হলেন সান্দনা মৈশান বাড়ির সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), সালমানপুর মেম্বার বাড়ির মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও আদর্শ সদর উপজেলার কালিরবাজার ইউনিয়নের হাতিগাড়া এলাকার মো. কামরুল হাসান ও সদর দক্ষিণ উপজেলার এলাহীপুরের মো. সিয়াম (১৯)।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পুলিশ জানায়, তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হই যে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর আনুমানিক বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা নামক স্থানে চারপাশে পাহাড় ঘেরা নির্জন জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর আমরা সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতীমের সঙ্গে থাকা তুহিনকে হেফাজতে নিই। একটানা জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন আমাদের কাছে স্বীকার করে যে, অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পনা করে সে তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। তুহিন জানায়, এ ঘটনায় ফাহাদ ও ফাহাদের এক বন্ধু জড়িত ছিল। আমরা তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে ফাহাদকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করি। জিজ্ঞাসাবাদে ফাহাদ জানায় তার বন্ধু কামরুলও এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। ফাহাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা কামরুলকেও হেফাজতে নিই। তুহিনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে আমরা তার বাসায় অভিযান পরিচালনা করি এবং সেখান থেকে অপ্রতিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করি।

আইফোন ছিনিয়ে নিতে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে অপ্রতীমকে হত্যা: পুলিশ সুপার police

প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি যে, ঘটনার দিন আনুমানিক বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সানন্দা নামক স্থানে চারপাশে পাহাড় যেরা নির্জন বনের মধ্যে অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করালে অপ্রতীম বাধা দেয়, একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় প্রথমে তুহিন এবং পরবর্তীতে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমকে মাথায় আঘাত করে। একপর্যায়ে অপ্রতীমের মৃত্যু নিশ্চিত হলে তুহিন অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলসহ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

এছাড়া আমরা সিয়াম নামে আরেকজনকে আটক করেছি। তার বিরুদ্ধে প্রাপ্ত তথ্য প্রমাণ যাচাই বাছাই করছি।

এদিকে নাহিদা বেগম গতকাল বাসার দেয়ালে থাকা ছেলের আকাঁ ছবিগুলোর ধুলো মুছছেন। তিনি ছেলের স্মৃতি মনে করে কেবলই কাঁদছেন।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ মৃত্যুর দায়ভার রাষ্ট্র এড়াতে পারে না। পরিবার ও সমাজও এড়াতে পারে না। এটা কিশোর গ্যাংয়ের বলি। আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতে হলে পারিবারিক যত্ন খুবই দরকার।

বিষয়: হত্যাকাণ্ডকুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কিশোর
সর্বশেষ
  • ১

    একেকটি ঘটনা একেকটি বেদনার গল্প

  • ২

    প্রথমবারের মতো তদন্তে এসআরবি

  • ৩

    গবেষণাভিত্তিক একাডেমিক সংস্কৃতি গড়তে আইএসইউতে কর্মশালা

  • ৪

    চিরনিদ্রায় অপ্রতিম: অনেক প্রশ্নের জবাব মেলেনি

  • ৫

    এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

সম্পর্কিত
  • ৮০ কিমি দূরত্ব কমানোর ছক: বদলাবে কি রেলের আয়-ব্যয়ের সমীকরণ?

    ৮০ কিমি দূরত্ব কমানোর ছক: বদলাবে কি রেলের আয়-ব্যয়ের সমীকরণ?

    নিরাপদ ও সাশ্রয়ী ভ্রমণের জন্য অনেকেই রেলপথ ব্যবহার করে থাকেন। রেল শুধু যাত্রীই আনা-নেওয়া করে না, এই পথে তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পরিবহনও করা যায়। এই দুটি ক্ষেত্রে আরও বেশি গতি আনতে দেশের রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার।

  • অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলেও ভারতের মানুষ সুখী নয় কেন?

    অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলেও ভারতের মানুষ সুখী নয় কেন?

    একটি দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ভালো নাকি খারাপ হচ্ছে তার সঙ্গে সেই দেশের মানুষের সুখী হওয়ার সম্পর্ক নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। এই পরিস্থিতির বাস্তব উদাহরণ দেখা গেছে প্রতিবেশী ভারতে। দেশটিতে চলতি বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

  • কাটছে জ্বালানি সংকট, সচল হচ্ছে কারখানা, প্রশ্ন স্থিতিশীল সরবরাহ নিয়ে

    কাটছে জ্বালানি সংকট, সচল হচ্ছে কারখানা, প্রশ্ন স্থিতিশীল সরবরাহ নিয়ে

    প্রায় দুই মাস তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের পর দেশের শিল্পকারখানায় স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। গত তিন-চার দিনে গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ বাড়ায় অনেক কারখানা আবার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়েছে। কোথাও কোথাও উৎপাদন প্রায় স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন শিল্প উদ্যোক্তারা।

  • ‘সর্বাত্মক যুদ্ধের’ মধ্যেও যেভাবে টিকে আছেন তিনি

    ‘সর্বাত্মক যুদ্ধের’ মধ্যেও যেভাবে টিকে আছেন তিনি

    চন্দ্রশেখরনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখনো টাটা সন্সের পরিচালনা পর্ষদ ও এর নিয়ন্ত্রণকারী ট্রাস্টগুলোর প্রকাশ্য বিরোধ। এতে কোম্পানি ও তার সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডারের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।