কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের ২২ ঘণ্টা পর আজ শনিবার দুপুর ১টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পেছনের একটি টিলা থেকে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় এক কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ।
মৃত অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের সন্তান।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সাথে শালবন বিহারে ছবি তোলার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় অপ্রতীম। কিন্তু সন্ধ্যায় বাসায় না ফেরায় তার মা কুবি শিক্ষক ড. নাহিদা বেগম সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
আজ শনিবার বেলা ১২টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন টিলায় বাঁশ কাটতে গিয়ে প্রথম মরদেহটি দেখতে পান আব্দুল কাদের জিলানী নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা। তিনি জানান, বাঁশ কাটার সময় এক কিশোরকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন তারা, যার শরীরে রক্তের দাগ ছিল। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে জানানো হলে তিনি সহপাঠীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং পুলিশে খবর দেন।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও দক্ষিণ মোড়ের বিভিন্ন দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রক্টোরিয়াল টিম। সেখানে দেখা যায়, অপ্রতীম এক কিশোরের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে ম্যাজিক প্যারাডাইসের দিকে যাচ্ছিল।
আজ শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারীকে ওই কিশোরের বাসায় পাঠালে তার কথাবার্তায় অসংলগ্নতা দেখা যায়। পরে বিষয়টি কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়িকে জানানো হলে বেলা ১২টায় পুলিশ তাকে আটক করে। আটক কিশোরের মোবাইল মেসেজ পরীক্ষা করে দেখা যায়, গতকাল বিকেলে সেই অপ্রতীমকে বাইরে বের হতে বলেছিল।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরিফুল করিম জানান, সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল মেসেজের সূত্র ধরেই পুলিশ সন্দেহভাজন ওই কিশোরকে আটক করেছে।
কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মহিবুল আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘‘তদন্তের স্বার্থে এবং সিসিটিভি ফুটেজ ও মেসেজের সত্যতার ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসেবে এক কিশোরকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে তা বিস্তারিত তদন্তের পর বলা সম্ভব হবে।’’
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।