কুমিল্লায় কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যার ঘটনায় চারজন জড়িত থাকার তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯) এবং আরও তিন কিশোর। অপ্রতীমের কাছে থাকা আইফোন ছিনতাই করতে তারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
আজ রোববার দুপুর ২টায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দিয়ে আসামিদের বরাত দিয়ে আনিসুজ্জামান বলেন, “অপ্রতীমকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যায় তুহিন। ওখানে গিয়ে অপ্রতিমে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে কামরুল ফাহাদ ও তুহিন। এতে বাধা দিলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। পরে তুহিনসহ দুই কিশোর বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করেন। একপর্যায়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত হলে আইফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তারা। এ ঘটনায় সিয়ামের সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি সন্দেহ করে তাকে আটক করা হয়। তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”
এই ঘটনার তদন্তের বিষয় উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বলেন, “তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে আমরা নিশ্চিত হই যে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর তারিখ আনুমানিক ২টা থেকে সোয়া ২টার দিকে তুহিন অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা নামক স্থানে চারপাশে পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখি ও পর্যালোচনা করি। এতে অপ্রতীমের সঙ্গে থাকা তুহিনকে মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার আগেই আমরা হেফাজতে নিই। পরে তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা বাকি আসামিদের আটক করি।”
গতকাল আরও দুই কিশোরকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে এমন কাউকে আটক করা হয়নি এমনটি জানান পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান।