Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ অক্টোবর, ২০২৬
১২ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ অক্টোবর, ২০২৬
১২ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> এক্সপ্লেইনার

শান্তিতে নোবেল এলে, শান্তি কেন যায় চলে?

সাইরুল ইসলাম

সাইরুল ইসলাম

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮: ৫৫
শান্তিতে নোবেল এলে, শান্তি কেন যায় চলে?

নোবেল শান্তি পুরস্কার–বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত, মর্যাদাপূর্ণ অথচ বিতর্কিত এক পদক। ডিনামাইটের আবিষ্কারক আলফ্রেড নোবেল যখন তার উইলে এই পুরস্কারের কথা লিখেছিলেন, তখন তার উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বের সবগুলো দেশের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব রক্ষা, সশস্ত্র বাহিনী বিলোপ এবং শান্তির বার্তা দেওয়া ব্যক্তিদের সম্মানিত করা।

Advertisement

কিন্তু বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই পুরস্কার শান্তির চেয়ে অশান্তি, বিভাজন ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছর যখনই কোনো নাম ঘোষণা করা হয়, পৃথিবীর কোথাও না কোথাও ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। কেন এই বৈপরীত্য?

রাজনীতির দাবার ঘুঁটি

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নোবেল শান্তি পুরস্কারকে পশ্চিমা দেশগুলোর রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। তুর্কি সম্প্রচারমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নোবেল কমিটি অনেক সময় এমন ব্যক্তিদের পুরস্কৃত করে, যারা নির্দিষ্ট কোনো দেশের শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে পশ্চিমা আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করেন। নিকট অতীতেই কিন্তু এটি চাক্ষুষ করেছে বিশ্ব।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

২০২৫ সালের প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদোর পুরস্কার প্রাপ্তি বা মনোনয়ন নিয়ে যে আলোচনা, তা এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। যখন কোনো একটি সার্বভৌম দেশের রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে এক পক্ষকে পুরস্কৃত করা হয়, তখন অন্য পক্ষ এটিকে ‘বিদেশি হস্তক্ষেপ’ হিসেবে গণ্য করে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট দেশে শান্তি স্থাপনের আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে যায় এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র হয়।

সংবাদমাধ্যম অস্ট্রেলিয়ান আউটলুক এই পরিস্থিতিকে নোবেল পুরস্কারের ‘বৈধতার সংকট’ হিসেবে অভিহিত করেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এভাবে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার পর দেশটিতে তৈরি হয় নতুন অস্থিরতা। আর একটি দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্কের ফাটল শুরু হয়। তাতে বাড়তে থাকে ক্ষোভ-বিক্ষোভ।

ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো। ছবি: রয়টার্স
ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো। ছবি: রয়টার্স

‘হারকিউলিস’ নোবেল কমিটি

নোবেল শান্তি পুরস্কারের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভুলগুলো হয়েছে, যখন কমিটি কোনো কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই ‘ধারণার ভিত্তিতে’ পুরস্কার প্রদান করেছে। ব্যাপারটা এমন যে, কোথাও সংকটের চিত্র দেখিয়ে সেখানে হারকিউলিসের মতো গিয়ে ত্রাতা হিসেবে হাজির হয়েছে তারা। আর তাদের প্রতিনিধি হিসেবে একজনকে বানানো হয়েছে ‘শান্তির দূত’। কিন্তু এই হারকিউলিস হাত দেওয়ার পরই আসলে মূল সংকট শুরু হয়–সমালোচনা এটা নিয়েই।

বারাক ওবামা মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার মাত্র নয় মাসের মাথায় তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। অথচ তার পরবর্তী কয়েক বছরে মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন হামলা বৃদ্ধি এবং লিবিয়া ও সিরিয়ায় মার্কিন হস্তক্ষেপ বিশ্ব শান্তির জন্য ইতিবাচক ছিল না।

ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদকে ইরিত্রিয়ার সাথে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ মেটানোর জন্য পুরস্কৃত করা হয়েছিল। কিন্তু পুরস্কারের রেশ কাটতে না কাটতেই তিনি নিজ দেশের টাইগ্রে অঞ্চলে এক ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন, যেখানে মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়।

এই উদাহরণগুলো প্রমাণ করে, টেকসই শান্তির আগে পদক দিয়ে দিলে তা অনেক সময় সংশ্লিষ্ট নেতার স্বৈরাচারী মনোভাবকে উৎসাহিত করে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এবং কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বেশ কয়েকজন বিজয়ীর নাম উঠে এসেছে, যাদের হাতে রক্ত লেগে থাকার অভিযোগ রয়েছে।

শান্তিতে নোবেলজয়ী মাচাদো কি ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতায় আসবেন?machado

তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হয়তো হেনরি কিসিঞ্জারকে নিয়ে। এই নেতা ভিয়েতনাম যুদ্ধ অবসানে ভূমিকার জন্য পুরস্কার পান। কিন্তু কম্বোডিয়ায় বোমা হামলা এবং বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের গণহত্যার প্রতি সমর্থনের কারণে তিনি বেশ বিতর্কের মুখে পড়েন। এটি ইতিহাসের সবচেয়ে ‘বিতর্কিত শান্তি পুরস্কার’ হিসেবে বিবেচিত। এমনকি এই পুরস্কারের প্রতিবাদে নোবেল কমিটির দুজন সদস্য পদত্যাগ করেছিলেন।

উদাহরণ রয়েছে আমাদের প্রতিবেশী দেশেও। অং সান সু চি গণতন্ত্রের মানসকন্যা হিসেবে যখন নোবেল পান, সারা বিশ্ব তাকে অভিনন্দন জানিয়েছিল। কিন্তু পরে তিনি যখন রাষ্ট্রক্ষমতার অংশ হলেন এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সেনাবাহিনীর জাতিগত নিধনযজ্ঞে নীরব সমর্থন দিলেন, তখন বিশ্বজুড়ে তার নোবেল ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি ওঠে।

এটি প্রমাণ করে যে, শান্তির পদক অনেক সময় ভুল মানুষের হাতে পড়ে।

পশ্চিমা আধিপত্য

ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউর তথ্য অনুযায়ী, নোবেল বিজয়ীদের একটি বিশাল অংশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর নাগরিক। যদিও গত কয়েক দশকে এশিয়া বা আফ্রিকার কিছু ব্যক্তি পুরস্কৃত হয়েছেন, তবুও বিশ্বশান্তির সংজ্ঞায় পশ্চিমা মূল্যবোধকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রকৃত শান্তিকামীদের চেয়ে যারা পশ্চিমা মিডিয়া ও রাজনীতিতে বেশি পরিচিত, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। আর এই পক্ষপাতই পুরস্কারটির সর্বজনীন আবেদনকে নষ্ট করছে।

পুরস্কারটি এখন আর কেবল শান্তির কাজকে উৎসাহিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের দিকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি বিতর্কিত চরমপন্থী আদর্শের মানুষদের নাম যখন মনোনয়নের তালিকায় উঠে আসে, তখন পুরস্কারটির নৈতিক ভিত্তি কেঁপে ওঠে।

যখন সমাজের একটি বড় অংশ মনে করে যে, পুরস্কারটি কোনো বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর স্বার্থ হাসিল করছে, তখন তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে। ফলে দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ সংহতি নষ্ট হয়। যেমনটি দেখা গেছে ইথিওপিয়া, ভেনেজুয়েলা বা মিয়ানমারের ক্ষেত্রে। শান্তি পুরস্কার এখানে ঐক্যের প্রতীক হওয়ার পরিবর্তে বিভাজনের রেখা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মিয়ানমারে কেন পিছু হটছে বিদ্রোহীরাarakan army

গোপন কথা যায় না রাখা গোপনে

নোবেল কমিটি পুরস্কার ঘোষণার পর তাতে মনোনয়নকারীদের নাম ৫০ বছর পর্যন্ত গোপন রাখে। এই গোপনীয়তা নিয়ে সংবাদমাধ্যম দ্য কনভারসেশন বলছে, এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব থাকায় অনেক সময় যোগ্য ব্যক্তিরা আড়ালে থেকে যান। রাজনৈতিক লবিংয়ের মাধ্যমে প্রভাবশালীরা পদকটি বাগিয়ে নেন। এই অস্বচ্ছতা সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করে। কেননা তাতে মনে হতেই পারে, শান্তি পুরস্কারটি আসলে পর্দার আড়ালের কোনো চুক্তির ফল।

সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে শান্তিতে নোবেলজয়ী বিতর্কিত ব্যক্তিদের যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, তাতে দেখা যায়, নোবেল কমিটি প্রায়ই পুরস্কারের মাধ্যমে একটি ‘বার্তা’ পাঠাতে চায়। তারা যখন রাশিয়ান বা বেলারুশিয়ান মানবাধিকার কর্মীদের পুরস্কৃত করে, তখন সেটি শান্তির চেয়ে রাশিয়ার প্রতি একটি কড়া রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি হিসেবে কাজ করে। এতে করে মানবাধিকারের ইস্যুটি রাজনীতির কাছে গৌণ হয়ে পড়ে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে দমন-পীড়ন আরও বেড়ে যায়।

শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের মহৎ উদ্দেশ্য থাকলেও এটি বর্তমানে ভূ-রাজনীতির গ্যাঁড়াকলে বন্দী। ‘শান্তি’ একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, যা কোনো পদক বা স্বীকৃতির চেয়ে অনেক বেশি গভীর। কিন্তু নোবেল কমিটি যখন রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে কাউকে এ পুরস্কারের বেছে নেয়, তখন তারা অজান্তেই আগুনে ঘি ঢেলে দেয়।

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার যে কেবল সংঘাতের সমাধান দেয় না, বরং অনেক সময় ট্র্যাজেডির জন্ম দেয়, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে মিয়ানমার। ১৯৯১ সালে অং সান সু চি যখন এই পুরস্কার পান, তখন তিনি ছিলেন বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র ও অহিংসার এক অবিসংবাদিত প্রতীক। তার এই পুরস্কার প্রাপ্তি ছিল মিয়ানমারের জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে এক বিশাল নৈতিক জয়। কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করেছে যে, এই পদকটি শেষ পর্যন্ত মিয়ানমারে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে পারেনি, বরং পরিস্থিতির এক চরম বিদ্রূপ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

অং সান সু চি। ছবি: রয়টার্স
অং সান সু চি। ছবি: রয়টার্স

শান্তির নোবেল যখন সুচির ‘সুরক্ষা’

নৈতিক পতনের বেদনাদায়ক সাক্ষী দীর্ঘ গৃহবন্দী দশা থেকে মুক্তি পেয়ে সু চি যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় বসেন, তখন নোবেল শান্তি পুরস্কার তাকে যে নৈতিক উচ্চাসনে বসিয়েছিল, তার অপপ্রয়োগ দেখে বিশ্ব স্তম্ভিত হয়। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর যে ভয়াবহ জাতিগত নিধন চালানো হয়, সেখানে শান্তির এই অগ্রদূত কেবল নীরবই থাকেননি, বরং আন্তর্জাতিক আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বর্বরতাকে নির্লজ্জভাবে সমর্থন করেছিলেন।

শান্তির পদকজয়ী একজন নেত্রীর হাতে যখন একটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠী নিশ্চিহ্ন হওয়ার উপক্রম হয়, তখন সেই পদকের পবিত্রতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য। এটি প্রমাণ করে যে, নোবেল কমিটি যখন কাউকে পুরস্কৃত করে, তখন তারা সেই ব্যক্তির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বিবর্তন বা আদর্শিক স্খলনকে আন্দাজ করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়।

সু চির নোবেল পুরস্কারটি স্বৈরাচারের ঢাল হিসেবে দীর্ঘদিন সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করেছিল। বিশ্ব সম্প্রদায় তার প্রতি অগাধ আস্থা রেখেছিল কেবল ওই একটি মেডেলের কারণে। কিন্তু এর আড়ালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ক্ষমতা সুসংহত হয়েছে এবং গণতন্ত্রের মুখোশ পরা একটি শাসনব্যবস্থা দাঁড়িয়েছে।

শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে যে, নোবেল পুরস্কার কোনো দেশের সেনাবাহিনীর বন্দুকের নল ঠান্ডা করতে পারে না। বরং আন্তর্জাতিকভাবে একতরফা স্বীকৃতি অনেক সময় স্থানীয় শক্তিগুলোকে আরও বেশি সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয়।

শান্তিতে নোবেল এলেই কেন শান্তি যায় চলে–এই প্রশ্নের উত্তর মিয়ানমারের ট্র্যাজেডির মধ্যেই লুকিয়ে আছে। যখন শান্তিকে কোনো আদর্শের মোড়কে ‘পুরস্কার’ হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া হয়, আর সেই ব্যক্তির হাতে যখন দেশের প্রান্তিক মানুষের নিরাপত্তা থাকে না, তখন সেই শান্তি হয়ে ওঠে শ্মশানের শান্তি। মিয়ানমার আজ এক ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের কবলে, সু চি আজ কারাবন্দী, আর নোবেল পদকটি সেখানে কেবল একটি নিষ্প্রাণ ধাতব টুকরো হিসেবে পড়ে আছে।

মোদ্দাকথা, নোবেল শান্তি পুরস্কার বর্তমান বিশ্বে একটি ‘প্যারাডক্স’ বা স্ববিরোধী ধারণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিয়ানমার থেকে শুরু করে ভেনেজুয়েলা পর্যন্ত–প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, পুরস্কারটি শান্তির দূত হওয়ার পরিবর্তে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার বারুদ বাড়িয়ে দিচ্ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত নোবেল কমিটি কেবল রাজনৈতিক সংহতি প্রদর্শনের জন্য পদক দেবে এবং দীর্ঘমেয়াদী শান্তির পরিবেশ তৈরিতে ব্যর্থ হবে, ততক্ষণ শান্তির সুবাতাস বইবে না। বরং প্রতিটি পুরস্কারের ঘোষণা শান্তির পথকে আরও কণ্টকাকীর্ণ করবে এবং বিশ্বজুড়ে অশান্তির নতুন কোনো অধ্যায় উন্মোচন করবে।

শান্তি পুরস্কার তখনই তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে, যখন এটি কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে না। যদি নোবেল কমিটি তাদের রাজনৈতিক মানসিকতা পরিহার করে এবং আগাম পুরস্কার দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ না করে, তাহলে প্রতি বছর শান্তিতে নোবেল আসার সাথে সাথে বিশ্বে নতুন নতুন অস্থিরতা ও সংঘাতের জন্ম হতেই থাকবে। আলফ্রেড নোবেলের স্বপ্ন তখন বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকবে, আর বাস্তব পৃথিবীতে শান্তি থাকবে অধরা।

বিষয়: আমেরিকানোবেলনোবেল শান্তি পুরষ্কারইউরোপমিয়ানমারপ্রেসিডেন্টনোবেল পুরস্কারযুক্তরাষ্ট্ররাজনীতিভেনেজুয়েলাপুরস্কার
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সাজেক ভ্যালিতে পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

  • ২

    রিয়াদ বিমানবন্দরে শনিবারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২৪ বাংলাদেশি আহত

  • ৩

    সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে আবার হামলা, টার্মিনালে আগুন

  • ৪

    রাশিয়া-ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ট্রাম্পের, বিস্মিত জেলেনস্কি

  • ৫

    ইউপি নির্বাচন: জানুয়ারি থেকে শুরু পাঁচ ধাপের ভোট

সম্পর্কিত
  • ২১০০ সালের মধ্যে বিলুপ্ত হতে পারে মানবজাতি, কীভাবে ?

    ২১০০ সালের মধ্যে বিলুপ্ত হতে পারে মানবজাতি, কীভাবে ?

    পারমাণবিক যুদ্ধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহারের কারণে ২১০০ সালের মধ্যে মানবজাতি বিলুপ্ত হতে পারে বলে সতর্ক বার্তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিজ্ঞান সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট’। সংস্থাটির নতুন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। যদিও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এই সম্ভাবনার হার তুলনামূলকভাবে কম।

  • কীভাবে ‘অপহরণ’ করা হয় ধ্রুব রাঠিকে

    কীভাবে ‘অপহরণ’ করা হয় ধ্রুব রাঠিকে

    ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি আজ রোববার অভিযোগ করেছেন যে, গতকাল শনিবার পুলিশ তাকে দিল্লির বাড়ি থেকে জোর করে নিয়ে যায় এবং প্রায় এক দিন আটক করে রাখে। এ সময় তাকে কোনো আইনজীবী বা নিজের ফোন ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি এই ঘটনাকে ‘অপহরণ’ বলে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন যে, এটি পুলিশের কোনো বৈধ

  • ‘নিষিদ্ধ’ রাশিয়ার তেলই কিনবে যুক্তরাষ্ট্র, কেন ও কীভাবে? লাভ হবে এই চুক্তিতে?

    ‘নিষিদ্ধ’ রাশিয়ার তেলই কিনবে যুক্তরাষ্ট্র, কেন ও কীভাবে? লাভ হবে এই চুক্তিতে?

    যে রাশিয়ার ওপর বছরের পর বছর ধরে নানান নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে, গত মাসেই রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা দেশগুলোর ওপরই যেখানে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে, সেই রাশিয়ার কাছ থেকেই এবার ডিজেল সরবরাহের চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র!

  • নতুন গঙ্গা চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’-এ গুরুত্ব ঢাকার, কেন?

    নতুন গঙ্গা চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’-এ গুরুত্ব ঢাকার, কেন?

    বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে পানি বণ্টন নিয়ে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি রয়েছে কেবল গঙ্গা নদীকে ঘিরে। আগামী ১২ ডিসেম্বর গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নতুন বা সংশোধিত চুক্তিতে শুষ্ক মৌসুমে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে গ্যারান্টি ধারা অন্তর্ভুক্ত করাকে