অর্ধেক শেষ হতে না হতেই বন্ধ করে দেওয়া হলো ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের এই যৌথ সামরিক মহড়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় ১৮ হাজার সেনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র আরও ১১টি দেশের সৈন্যরাও অংশ নিচ্ছিলেন।
মহড়া শুরুর দিনই যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই মহড়ার সমালোচনা করে একটা পোস্ট দেন। পেন্টাগনকে এই মহড়ার আকার ও খরচ ‘অনেক কমিয়ে আনার’ নির্দেশও দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
কেন এই নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প? এক, এই মহড়াকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাড়তি অপ্রয়োজনীয় খরচ মনে হয়েছে তার। দুই, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়া কেন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে যোগ দেয়নি, তা নিয়ে ক্ষোভ ছিল ট্রাম্পের। তবে তিন নম্বর কারণটা আরও বেশি করে উল্লেখযোগ্য–এই মহড়াকে উত্তর কোরিয়ার প্রতি ‘শত্রুতামূলক’ মনে হয়েছে ট্রাম্পের।
ট্রাম্পের ওই পোস্টের জেরেই কি না, মহড়াটা অর্ধেক পেরোতেই শেষ হয়ে গেল। শেষ হয়ে গেল বলতে, শেষ করে দেওয়া হলো তড়িঘড়ি করে। অন্যদিকে ট্রাম্প এটাও জানিয়ে দিয়েছেন, এই বছরের শেষদিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার বৈঠক হতে পারে।
তবে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে মিত্র দেশগুলো বিস্মিত। আর দক্ষিণ কোরিয়ার মাথায় হাত।
দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন অবশ্য বিষয়টিকে দুই দেশের পারস্পরিক সিদ্ধান্ত বলে তুলে ধরার একটা চেষ্টা করেছেন। তবে তিনিও স্বীকার করে নিয়েছেন, মহড়া কমানোর বিষয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা আগে থেকে জানতেন না দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে তাইওয়ান আর জাপানও দুশ্চিন্তায় পড়ে যাওয়ার কথা। এই অঞ্চলের নিরাপত্তায় তারা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করে আসছে কিনা!
ট্রাম্পের হঠাৎ করে এবারের মহড়ার আগের ঘোষণাটা দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য আরেক দিক থেকেও ধাক্কা হয়ে এসেছে। ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিমের সঙ্গে বৈঠক করুন–সেটা দক্ষিণ কোরিয়ারও দীর্ঘদিনের চাওয়া। আশা–এই বৈঠকের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার কূটনৈতিক যোগাযোগের একটা রাস্তা তৈরি হবে। কিন্তু এর বিনিময়ে যে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে অর্থ আর সামরিক সহায়তা দেওয়ার চাপও তাদের ঘাড়ে জুড়ে দেবেন ট্রাম্প, এটা দক্ষিণ কোরিয়া ভাবতে পারেনি।
যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার জোটটা কেমন?
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্ষিক সামরিক মহড়াটাকে দক্ষিণ কোরিয়া দুই দেশের জোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করে। তারা মনে করে, এই মহড়া একটা বার্তাও দেয় যে, উত্তর কোরিয়া যদি দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর হামলা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তখন দক্ষিণ কোরিয়ার পাশে থাকবে।
শান্তি আলোচনায় উত্তর কোরিয়াকে ডেকে আনার স্বার্থে দক্ষিণ কোরিয়া আগেও এসব মহড়ার আকার-আয়তন কমাতে বা স্থগিত করতে রাজি হয়েছে বটে। কিন্তু আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ গবেষক জো বি-ইউনের মতে, এবার ট্রাম্প যেভাবে একতরফাভাবে, হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে মহড়ার পরিসর কমানোর নির্দেশ দিলেন, সেটা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মৈত্রী ভবিষ্যতে কোন দিকে যাবে–এ নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার বড় আশঙ্কা, ট্রাম্প আরেক ধাপ এগিয়ে গিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকা মার্কিন সেনার সংখ্যা কমিয়ে দিতে পারেন। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ২৭ হাজার মার্কিন সেনা আছে। এর চেয়েও বড় আশঙ্কা, উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার যে দীর্ঘদিনের মার্কিন কৌশল, সেটাও না ট্রাম্প বাদ দিয়ে দেন! ট্রাম্পের যা ধরন, তাতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কোনো আলাপও তিনি করবেন না–এমন শঙ্কাও আছে দক্ষিণ কোরিয়ার।
কাগজে-কলমে কিন্তু উত্তর আর দক্ষিণ–দুই কোরিয়ার মধ্যে এখনো যুদ্ধ চলছে। কোরিয়ান যুদ্ধের পর দুই কোরিয়ার মধ্যে কোনো শান্তিচুক্তি তো হয়নি! একটা সময় পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার আদর্শিক অবস্থান ছিল–দক্ষিণ কোরিয়াকে নিজেদের সঙ্গে মিলিয়ে এক কোরিয়া হয়ে যাওয়া; যদিও এই স্বপ্ন দিনে দিনে অলীকই মনে হয়েছে। ২০২৪ সালে কিম জং উন ঘোষণা দিয়ে এই নীতি থেকে সরে গেছেন।
তারপরও দক্ষিণ কোরিয়াকে উদ্দেশ করে উত্তর কোরিয়ার হুমকি থামেনি। এবারের মার্কিন-দক্ষিণ কোরিয়ান যৌথ সামরিক মহড়া শুরুর কয়েক দিন আগেও উত্তর কোরিয়া ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছে জাপানের দিকে। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়া এটাও বলে সতর্ক করে দিয়েছে যে, আক্রমণের মুখে পড়লে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের অধিকার তাদের আছে। এই বৃহস্পতিবারও আরও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া।
ফেল কড়ি, মাখো তেল
যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেবে, আর বাণিজ্য সম্পর্কিত বিষয়গুলো এর সঙ্গে জড়িয়ে যাবে না–ট্রাম্প প্রশাসন সেটা হতে দিতে রাজি না। ট্রাম্পের এই নীতিও দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। ইরান যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের সঙ্গে যোগ না দেওয়ায় ট্রাম্প অসন্তোষ তো জানিয়েছেনই, একই সঙ্গে এটাও জানিয়ে দিয়েছেন যে, বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবেও দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর তিনি অসন্তুষ্ট।
অসন্তোষের কারণ কী? কিছু কারণ ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করেই বলে দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, মার্কিন সেনাদের অবস্থানের বিনিময়ে দক্ষিণ কোরিয়া বছরে যে প্রায় ১০০ কোটি ডলার খরচ করে, এটা যথেষ্ট না। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া যে ৩৫০ বিলিয়ন বা ৩৫ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেটার বাস্তবায়নেও ঢিলেমি করছে বলে অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের। দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকা মার্কিন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের কথাও এসেছে ট্রাম্প প্রশাসনের দিক থেকে।
বাণিজ্যিক দিকের এই বিরোধগুলোর কারণে যখন জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যুতেও ঝামেলা তৈরি হচ্ছে, দক্ষিণ কোরিয়ার কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর কথা বলছেন। সেজং ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট চিওং সিওং-চ্যাং, যিনি কিনা সব সময়ই দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব পরমাণু অস্ত্র তৈরির জোর সমর্থক, তিনি বিবিসিকে বলেছেন, সিউলকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোট টিকিয়ে রাখতে হবে; তবে একই সঙ্গে নিজেদের পরমাণু প্রতিরোধক্ষমতা তৈরির দিকেও এগোতে হবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার বেশির ভাগ মানুষও একটি পরমাণু অস্ত্রসমৃদ্ধ দক্ষিণ কোরিয়াকে দেখতে চায়। তবে দেশটির সরকার মনে করে, পরমাণু অস্ত্র তৈরির কোনো দরকার নেই, বরং সেটা করতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক খারাপ হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি এশিয়ায় মিত্র দেশগুলোকে নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি দেওয়ার নীতি থেকে আরও দূরে সরতে থাকে, তাহলে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারের অবস্থান আর এমন থাকবে কি না, তা বলা মুশকিল।
ট্রাম্পের মোসাহেবি সিউলের?
এদিকে ট্রাম্পের নির্দেশ মেনে যে দুই দেশের যৌথ সামরিক মহড়া আগেভাগেই শেষ করতে হলো, সেটাকে গায়ে না মেখে বরং এই সিদ্ধান্তকেই নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে দক্ষিণ কোরিয়া।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি যে মিয়ুং সব সময়ই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোড়া লাগানোর পক্ষে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যা লিখেছেন, তাতে প্রতিটি শব্দে ট্রাম্পের প্রশংসা গলে গলে পড়ছে, “আমার বিশ্বাস, ওটা (ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালের পোস্ট) ছিল শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আপনার গভীর চিন্তাপ্রসূত একটা সাহসী সিদ্ধান্ত।”
নিজ দেশের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন লি জে মিয়ুং। এও বলেছেন, দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদের নেওয়া উচিত–ট্রাম্পের এই মতের সঙ্গে তিনি ‘পুরোপুরি একমত’।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকেই তার কূটনৈতিক নীতিকে দৃশ্যত খামখেয়ালি বলে মনে হয়েছে বারবার, আর দক্ষিণ কোরিয়া সেটাকে একই সঙ্গে ঝুঁকি ও সুযোগ হিসেবে দেখে আসছে। দক্ষিণ কোরিয়ার চাটুকারিতা আর আশাবাদের মিশেলে গড়া কৌশল ট্রাম্পের ক্ষেত্রে কিছুটা কাজেও দিয়েছে। ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো কোনো ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কিম জং উনের বৈঠকের ব্যবস্থা করতে সক্ষম হয় সিউল।
যদিও ওই বৈঠকের পরপরই দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প!
২০১৯ সালে ট্রাম্প-কিমের দ্বিতীয় বৈঠকে কিম যখন উত্তর কোরিয়ার পরমাণু স্থাপনাগুলো বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেবেন না বলে জানিয়ে দেন, কোনো চুক্তি ছাড়াই বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান ট্রাম্প। ওই বছরই পানমুনজমে দুই পক্ষের আরেকটা বৈঠক হয়েছিল। তবে সংক্ষিপ্ত ওই বৈঠককে স্রেফ টেলিভিশনে লোক দেখানোর উদ্দেশ্যেই আয়োজিত বলে অভিহিত করা হয়। এরপর থেকে ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে আর উল্লেখযোগ্য কোনো আলোচনা হয়নি।
কিম জং উন এখন শক্ত অবস্থানে
২০১৮-১৯-এ কিম জং উনের ব্যর্থ বৈঠক হলো ট্রাম্পের সঙ্গে, কিন্তু সেটার জেরে পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষোভ দেখতে হলো সিউলকে! দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নিজেদের ভূখণ্ডে যে লিয়াজোঁ অফিসটি তৈরি করা হয়েছিল, সেটি গুঁড়িয়ে দেয় উত্তর কোরিয়া। এরপর দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগই বন্ধ করার ঘোষণা দেয়।
শুধু তা-ই নয়, দক্ষিণ কোরিয়ার সিনেমা ও টেলিভিশন অনুষ্ঠান দেখানো বা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রেখে নতুন আইনও পাস করে উত্তর কোরিয়া। এর সঙ্গে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের অধিকারের কথা নিজেদের সংবিধানেও যুক্ত করে নেয় কিম জং উনের দেশ!
এদিকে ট্রাম্প এখনো বলে চলেছেন, কিমের সঙ্গে তার ‘সম্পর্কটা দারুণ’! গত বুধবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছেন, “ও আমাকে পছন্দ করে।”
তবে উত্তর কোরিয়ার রাজনীতিতে প্রভাবশালী ও কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং এক বিবৃতিতে বলেন, তার ভাই ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে ট্রাম্পের যে দাবি, এ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। কণ্ঠে শ্লেষ ছড়িয়ে বলেন, উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রনীতিতে এটাই সম্ভবত একমাত্র বিষয়, যেটা তার জানা নেই।
কিম ইয়ো জং পরমাণু অস্ত্রের ব্যাপারে উত্তর কোরিয়ার অবস্থানও আরেকবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন। বলেছেন, উত্তর কোরিয়া কখনোই পরমাণু অস্ত্র হাতছাড়া করবে না। কেন? কারণ, এই অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা বাড়াতে পরমাণু অস্ত্র থাকা দরকার।
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়া হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নেও খুব একটা গা করেননি কিম ইয়ো জং। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তিনি বলেছেন, এটা উত্তর কোরিয়ার আগ্রহ জাগানোর বা মন্তব্য করার মতো কিছু না; আবার এভাবে মহড়া বন্ধ করলেও তাতে মহড়াগুলোর ‘শত্রুভাবাপন্ন ও আগ্রাসী চরিত্র’ বদলে যায় না।
ট্রাম্প যদিও বছরের শেষ দিকে কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করার কথা বলছেন, খুব বেশি বিশ্লেষক আরেকটি সাড়া জাগানোর মতো বৈঠকের সম্ভাবনা দেখছেন না। বিশেষ করে যখন রাশিয়ার সঙ্গে মৈত্রী আর চীনের সঙ্গে ক্রমেই জোরালো হতে থাকা সম্পর্ক–দুই দিক থেকেই লাভবান হচ্ছেন কিম জং উন। ট্রাম্প যদি সবার সামনে উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু শক্তিধর দেশ হিসেবে ঘোষণা দিতে রাজি না থাকেন–যেটা কিনা উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় দাবি–তাহলে উত্তর কোরিয়ার জন্য ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বাড়তি কোনো প্রণোদনা তো থাকবে না!
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার আকার কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে এরই মধ্যে একটা বড় ছাড়–সেটা শুধু উত্তর কোরিয়ার জন্যই না, চীনের জন্যও। কারণ, বেইজিংও এসব সামরিক মহড়াকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের এভাবে মহড়া থামিয়ে দেওয়া উত্তর কোরিয়ার জন্য সামনে আরও বেশি দাবি নিয়ে হাজির হওয়ার দরজা তৈরি করে দিতে পারে। বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন সামরিক দিক থেকে দেশটিকে আগের চেয়ে শক্তিশালী মনে হচ্ছে।
ট্রাম্প যদিও বারবার দাবি করে আসছেন যে, উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো হুমকি নয়, উত্তর কোরিয়া কিন্তু নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো কখনো থামায়নি। দেশটা পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষাই এ পর্যন্ত চালিয়েছে ছয়বার। তাদের কাছে এমন দূরপাল্লার মিসাইলও আছে, যেগুলো দিয়ে পরমাণু অস্ত্রগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড পর্যন্ত ছুড়তে পারে।
উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পাশেও দাঁড়িয়েছে। রাশিয়ায় অন্তত ১৩ হাজার সেনা তো পাঠিয়েছেই, পাশাপাশি এমনও ধারণা করা হয় যে, রাশিয়াকে কয়েক শ কোটি ডলারের গোলাবারুদ ও মিসাইল দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার কয়েক হাজার সেনা হতাহত হয়েছে ঠিকই, তবে ইউক্রেন যুদ্ধের শিক্ষা থেকে তারা এখন ড্রোনকে কীভাবে কাজে লাগাতে হয়–এ ব্যাপারে আরও দক্ষ হয়ে উঠেছে।
জো বি-ইউনের মতে, উত্তর কোরিয়ার হাত থেকে নিজেদের বাঁচানোর ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার নিজের হাতে আসলে খুব বেশি রাস্তা নেই। সে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোটটা দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য ‘জীবন আর মৃত্যুর প্রশ্ন’ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।