ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কর্তৃক পাচার ও দুর্নীতিবিরোধী গণসমাবেশ বাতিলের সিদ্ধান্তকে অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী আখ্যা দিয়ে আগামী সাত দিনের মধ্যে এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি জানিয়েছে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।
আজ শনিবার পুরানা পল্টনের তোপখানা রোডে দলের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান সংগঠনটির সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে বিরাজমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা, পাচারকৃত ও অবৈধ অর্থ উদ্ধার এবং প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে পুঁজি দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিশেষ আইন প্রণয়নের দাবিতে ২২ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণসমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
হাসনাত কাইয়ূম বলেন, সমাবেশের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নেওয়া হয়েছিল এবং ১০ দিন আগেই ডিএমপিকে নিরাপত্তা বিধানের লিখিত অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই ডিএমপি এই সমাবেশ বাতিল করে দেয়। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে সমাবেশ বন্ধ করা বাক্স্বাধীনতাবিরোধী ও দুর্নীতিবাজদের স্বার্থ রক্ষার শামিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে তিন দফা দাবি পেশ করা হয়:
১. সমাবেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত পুলিশের একক হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিচার করতে হবে। আর এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত হলে সাত দিনের মধ্যে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে; অন্যথায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের আন্দোলন শুরু হবে।
২. আগামী ৩০ আগস্ট জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে ‘অর্থনৈতিক সংস্কার ও পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারপূর্বক প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের পুঁজি প্রদান সংক্রান্ত বিশেষ আইন’-এর খসড়া জমা দেওয়া হবে।
৩. প্রশাসন ও সরকারের বাক্স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থানের বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ জনগণকে ঐকবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন বাসদ (মার্কসবাদী)-এর কেন্দ্রীয় নেতা জয়দীপ ভট্টাচার্য্য, অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. নজরুল হক, জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদসহ যৌথ আয়োজক সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।