তাড়াহুড়া করে নয়, বরং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে আলোচনায় অগ্রগতি হলে উপযুক্ত সময়ে ভারত সফর করা হবে বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ভারতের সঙ্গে ইতিবাচক ও কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, আজ শনিবার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ভারত সফরের সূচি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আলোচনার ভিত্তিতে এবং আমাদের জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে আমরা অবশ্যই যাব, যখন উপযুক্ত সময় আসবে। আগামীকালও যদি জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়, তবে আগামী সপ্তাহে বা তার পরের সপ্তাহেও যাওয়া যেতে পারে। এখানে কোনো তাড়াহুড়া নেই।”
প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক রাখার পক্ষে মত দিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক চাই। তবে শুধু ভারত নয়, কোনো দেশের সঙ্গেই বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে বিকিয়ে দিয়ে বা আপস করে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।”
ভারতে পালিয়ে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেড় হাজার মানুষ হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসী হিসেবে তিনি ভারতে গেছেন। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে কয়েকটি বিচারিক প্রক্রিয়ার ফল এসেছে এবং আরও মামলা বিচারাধীন রয়েছে।” ভারতের সাথে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ চুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এগুলো কোনো নতুন শর্ত বা সম্পৃক্ততা নয়, বরং একটি চলমান আইনি প্রক্রিয়া।
ভারতের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে যে আঘাত লেগেছে, তা ভারতের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছে। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর পলাতক শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন এ দেশের মানুষের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে এবং ভারত সরকার বিষয়টি লক্ষ করেছে। এটিকে ইতিবাচক সূচনা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আলোচনার অগ্রগতি হলে সঠিক সময়েই এই দ্বিপক্ষীয় সফর অনুষ্ঠিত হবে।