Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৮ অক্টোবর, ২০২৬
২৮ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৮ অক্টোবর, ২০২৬
২৮ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ | স্বত্ব © চরচা
> বিশ্লেষণ

বিশ্বে নারী-পুরুষে বৈষম্য ঘুচেছে কতটা?

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩: ২৪
বিশ্বে নারী-পুরুষে বৈষম্য ঘুচেছে কতটা?
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

বিশ্বজুড়ে নারী ও পুরুষের মধ্যে বৈষম্য কমছে, কিন্তু সেই অগ্রগতির গতি কি যথেষ্ট? শিক্ষায় সমতার কাছাকাছি পৌঁছেছে বিশ্ব। স্বাস্থ্য খাতেও ব্যবধান তুলনামূলক কম। কিন্তু অর্থনৈতিক সুযোগ এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী-পুরুষের সমতা এখনো অনেক দূরে। বর্তমান অগ্রগতির হার অপরিবর্তিত থাকলে বিশ্বজুড়ে পূর্ণ লিঙ্গসমতা অর্জনে আরও ১২০ বছর লাগতে পারে।

Advertisement

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট ২০২৬–এ উঠে এসেছে এমন চিত্র। ১৪৫টি অর্থনীতির তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি এই সূচকে নারী ও পুরুষের মধ্যে চারটি ক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যবধান পরিমাপ করা হয়েছে: অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সুযোগ, শিক্ষাগত অর্জন, স্বাস্থ্য ও বেঁচে থাকা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

দুই দশকে কতটা এগিয়েছে বিশ্ব?

২০২৬ সালের সূচকে বিশ্বজুড়ে লিঙ্গবৈষম্যের ব্যবধানের ৬৯.২ শতাংশ পূরণ হয়েছে। আগের বছর এই হার ছিল ৬৮.৮ শতাংশ। অর্থাৎ, এক বছরে অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ০.৪ শতাংশ পয়েন্ট।

তবে গত দুই দশকের পরিবর্তন বুঝতে প্রতিবেদনটিতে ধারাবাহিকভাবে অন্তর্ভুক্ত ৯৭টি অর্থনীতির তথ্য আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এই দেশগুলোর গড় স্কোর ২০০৬ সালের ৬৪.২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৬৯.৪ শতাংশ হয়েছে।অর্থাৎ, ২০ বছরে অগ্রগতি ৫.২ শতাংশ পয়েন্ট।

এখানে দুটি হিসাবের পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের ৬৯.২ শতাংশ স্কোর ১৪৫টি অর্থনীতির তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। অন্যদিকে, ৬৯.৪ শতাংশ হলো ২০০৬ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা ৯৭টি অর্থনীতির স্কোর। তাই এই দুটি সংখ্যাকে পরস্পরবিরোধী মনে করার কারণ নেই।

অগ্রগতির গতিও সব সময় এক রকম ছিল না। ২০০৬ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রথম দশকে তুলনামূলক দ্রুত অগ্রগতি হয়েছে। পরের দশকে সেই গতি কমেছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময়ের ধাক্কার পর ২০২৪ সাল থেকে পর্যবেক্ষণ করা অর্থনীতিগুলোর অর্ধেকের বেশি আবার অগ্রগতির পথে ফিরেছে।

তারপরও সামগ্রিক পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জক হওয়ার মতো নয়। বর্তমান দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতির হার ধরে হিসাব করলে বিশ্বে পূর্ণ লিঙ্গসমতা অর্জনে আরও ১২০ বছর লাগবে। অর্থাৎ, অগ্রগতি হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় ধীর।

লিঙ্গসমতায় শীর্ষে কোন দেশগুলো?

২০২৬ সালের সূচকে ৯৩ শতাংশ স্কোর নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে আইসল্যান্ড। দেশটি টানা ১৭তম সংস্করণে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। বিশ্বের একমাত্র অর্থনীতি হিসেবে আইসল্যান্ডের স্কোর ৯০ শতাংশের বেশি। এর অর্থ, সূচকে পরিমাপ করা লিঙ্গবৈষম্যের ব্যবধানের ৯৩ শতাংশ পূরণ হয়েছে।

দ্বিতীয় স্থানে ফিনল্যান্ড, স্কোর ৮৭.২ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে নরওয়ে, ৮৫.৭ শতাংশ। চতুর্থ স্থানে থাকা নামিবিয়ার স্কোর ৮৪.৫ শতাংশ। সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে নামিবিয়াই শীর্ষে। পঞ্চম স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য, যার স্কোর ৮৪.২ শতাংশ।

বাংলাদেশে নারীদের বডি বিল্ডিংয়ে বাধা কোথায়? body building

শীর্ষ ১০টি দেশের বাকি পাঁচটি হলো নিউজিল্যান্ড (স্কোর ৮২.৮), সুইডেন (৮২.৩), অস্ট্রেলিয়া (৮১.৯), জার্মানি (৮১.৭) ও আয়ারল্যান্ড (৮১.৪)।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, শীর্ষ ১০টি দেশের সাতটিই ইউরোপের। তবে নামিবিয়ার অবস্থান দেখায়, লিঙ্গসমতায় অগ্রগতি কেবল উচ্চ আয়ের দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতি এবং নীতিগত উদ্যোগের মাধ্যমে বিভিন্ন আয়স্তরের অর্থনীতিও ভালো ফল করতে পারে।

সবচেয়ে পিছিয়ে কোন দেশগুলো?

সূচকের একেবারে নিচে রয়েছে চাদ। ১৪৫টি অর্থনীতির মধ্যে দেশটির অবস্থান ১৪৫তম, স্কোর মাত্র ৫৭.৮ শতাংশ। এর ঠিক ওপরে রয়েছে ইরান, ৫৮.৫ শতাংশ স্কোর নিয়ে ১৪৪তম স্থানে।

সূচকের সবচেয়ে নিচের পাঁচ অবস্থানে থাকা বাকি তিন দেশের মধ্যে পাকিস্তান ৫৯.৫ শতাংশ স্কোর নিয়ে ১৪৩তম এবং গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র একই স্কোর নিয়ে ১৪২তম স্থানে রয়েছে। আলজেরিয়া ৬১.৮ শতাংশ স্কোর নিয়ে আছে ১৪১তম স্থানে।

বিশ্বের সর্বোচ্চ স্কোরধারী আইসল্যান্ডের সঙ্গে সর্বনিম্ন স্কোরধারী চাদের ব্যবধান ৩৫.২ শতাংশ পয়েন্ট। এই পার্থক্যই দেখায়, বিশ্বব্যাপী গড় অগ্রগতি হলেও বিভিন্ন দেশের মধ্যে সমতার মাত্রা এখনো অনেক আলাদা।

তবে শুধু সামগ্রিক স্কোর দিয়ে কোনো দেশের বৈষম্যের সব কারণ ব্যাখ্যা করা যায় না। কোনো দেশে শিক্ষায় অগ্রগতি থাকলেও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বা রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে বড় ঘাটতি থাকতে পারে। তাই দেশগুলোর অবস্থান বোঝার জন্য চারটি খাতের তথ্যও বিবেচনা করা জরুরি।

অঞ্চলভেদে লিঙ্গসমতার চিত্র কেমন?

বিশ্বের সব অঞ্চলে সমতার অগ্রগতি এক রকম নয়। কোথাও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণে অগ্রগতি বেশি, কোথাও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ঘাটতি বড়। ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে আটটি অঞ্চলের মধ্যে ইউরোপ সামগ্রিক সমতায় এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা সবচেয়ে পিছিয়ে।

ইউরোপের সামগ্রিক স্কোর ৭৫.৭ শতাংশ। উত্তর আমেরিকা ৭৫.২ শতাংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের স্কোর ৭৪.৫ শতাংশ। পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের স্কোর ৭০.৩ শতাংশ এবং মধ্য এশিয়ার ৭০ শতাংশ। সাব-সাহারান আফ্রিকার স্কোর ৬৮.৮ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার স্কোর ৬৪.৫ শতাংশ এবং মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার ৬২.৫ শতাংশ।

অর্থাৎ, সামগ্রিক স্কোরে ইউরোপ এগিয়ে থাকলেও অঞ্চলভিত্তিক পরিস্থিতি বুঝতে আরও কিছু পার্থক্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বাড়িতে ঢুকে নারীর চুল কেটে শরীরে দেওয়া হলো মরিচের গুঁড়া women-abstract2

ইউরোপ: ৭৫.৭ শতাংশ স্কোর নিয়ে অঞ্চলটি প্রথম স্থানে। ২০০৬ সালের তুলনায় সমতার স্কোর বেড়েছে ৭ শতাংশ পয়েন্ট। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য। বর্তমান গতিতে পূর্ণ সমতায় পৌঁছাতে আনুমানিক ৭০ বছর লাগতে পারে।

উত্তর আমেরিকা: সামগ্রিক স্কোর ৭৫.২ শতাংশ। অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সুযোগের ক্ষেত্রে ৭৭.১ শতাংশ স্কোর নিয়ে অঞ্চলটি সবার ওপরে। তবে সামগ্রিক অগ্রগতির গতি আগের তুলনায় কমেছে। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে পূর্ণ সমতায় পৌঁছাতে আনুমানিক ১০৮ বছর লাগতে পারে।

লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল: ৭৪.৫ শতাংশ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে অঞ্চলটি। ২০০৬ সালের পর স্কোর বেড়েছে ৮.৬ শতাংশ পয়েন্ট, যা অঞ্চলগুলোর মধ্যে অন্যতম বড় অগ্রগতি। সংসদ ও মন্ত্রিসভায় নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধিও এই অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ দিক। বর্তমান গতিতে পূর্ণ সমতা অর্জনে আনুমানিক ৬০ বছর লাগতে পারে।

পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল: স্কোর ৭০.৩ শতাংশ। প্রথমবারের মতো অঞ্চলটি ৭০ শতাংশের সীমা অতিক্রম করেছে। তবে রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের স্কোর মাত্র ১৫.৫ শতাংশ। বর্তমান গতিতে পূর্ণ সমতায় পৌঁছাতে আনুমানিক ১৪৪ বছর লাগতে পারে।

মধ্য এশিয়া: স্কোর ৭০ শতাংশ। ২০০৬ সালের পর অগ্রগতি হয়েছে ২.৯ শতাংশ পয়েন্ট। এই অঞ্চলে বর্তমান গতিতে পূর্ণ সমতা অর্জনে আনুমানিক ২০২ বছর লাগতে পারে, যা অঞ্চলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়।

সাব-সাহারান আফ্রিকা: স্কোর ৬৮.৮ শতাংশ। ২০০৬ সালের পর অগ্রগতি হয়েছে ৬ শতাংশ পয়েন্ট। তবে অঞ্চলটির দেশগুলোর মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। নামিবিয়া ৮৪.৫ শতাংশ স্কোর নিয়ে বিশ্বে চতুর্থ হলেও চাদ ৫৭.৮ শতাংশ নিয়ে সর্বশেষ অবস্থানে। বর্তমান গতিতে এই অঞ্চলে পূর্ণ সমতা অর্জনে আনুমানিক ১০২ বছর লাগতে পারে।

দক্ষিণ এশিয়া: স্কোর ৬৪.৫ শতাংশ, যা অঞ্চলগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সুযোগের ক্ষেত্রে স্কোর মাত্র ৪০.৯ শতাংশ, যা সব অঞ্চলের মধ্যে সর্বনিম্ন। শিক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতি থাকলেও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণে ব্যবধান রয়ে গেছে। বর্তমান গতিতে পূর্ণ সমতা অর্জনে আনুমানিক ১৪৯ বছর লাগতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা: ৬২.৫ শতাংশ স্কোর নিয়ে অঞ্চলটি সর্বশেষ স্থানে। রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের স্কোর মাত্র ১১.৫ শতাংশ, যা আটটি অঞ্চলের মধ্যে সর্বনিম্ন। বর্তমান গতিতে পূর্ণ সমতায় পৌঁছাতে আনুমানিক ১৮২ বছর লাগতে পারে।

এই আঞ্চলিক হিসাবগুলো পূর্বাভাস, নিশ্চিত সময়সীমা নয়। এগুলো বর্তমান অগ্রগতির গতি অব্যাহত থাকার ভিত্তিতে তৈরি।

চারটি খাতে কোথায় কতটা ব্যবধান?

প্রতিবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিশ্ব প্রায় পূর্ণ সমতার কাছাকাছি পৌঁছালেও অর্থনৈতিক সুযোগ ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে ব্যবধান অনেক বেশি।

নারীর প্রতি সহিংসতা কতটা ঠেকাতে পারছে ৯৯৯?national-emergency

শিক্ষা: সমতার প্রায় কাছাকাছি

শিক্ষাগত অর্জনের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক সমতার স্কোর ৯৬.৯ শতাংশ। ২০০৬ সালের পর দীর্ঘমেয়াদি হিসাবে স্কোর বেড়েছে ৬.৫ শতাংশ পয়েন্ট। উচ্চশিক্ষায় নারী-পুরুষের ভর্তির সমতার স্কোরও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০০৬ সালের ৮১.৩ শতাংশ থেকে তা ২০২৬ সালে ৯৮.৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রেও সমতা প্রায় পূর্ণতার কাছাকাছি। বর্তমান অগ্রগতির হার ধরে শিক্ষায় অবশিষ্ট ব্যবধান পূরণে আনুমানিক আট বছর লাগতে পারে।

স্বাস্থ্য: উচ্চ সমতা, কিন্তু অগ্রগতি প্রায় স্থির

স্বাস্থ্য ও বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক সমতার স্কোর ৯৬.২ শতাংশ। জন্মের সময় লিঙ্গ অনুপাত এবং সুস্থ আয়ুষ্কালের মতো সূচক এখানে বিবেচনা করা হয়।

তবে গত দুই দশকে এই খাতে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়নি। ২০০৬ সালে স্কোর ছিল ৯৬.৩ শতাংশ, যা ২০২৬ সালে সামান্য কমে ৯৬.২ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ, স্কোর উঁচু হলেও এই ক্ষেত্রে সমতার অগ্রগতি প্রায় স্থির।

অর্থনীতি: বড় ব্যবধান এখনো রয়ে গেছে

অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সুযোগের ক্ষেত্রে স্কোর ৬১.৭ শতাংশ। অর্থাৎ, এই খাতে পরিমাপ করা ব্যবধানের ৩৮.৩ শতাংশ এখনো পূরণ হয়নি।

কর্মশক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণ, মজুরির সমতা এবং উচ্চপদস্থ ব্যবস্থাপনায় নারীদের উপস্থিতি এই খাতের গুরুত্বপূর্ণ সূচক। ২০০৬ সালের পর অর্থনৈতিক সমতার স্কোর বেড়েছে ৬.১ শতাংশ পয়েন্ট। উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বে নারীদের প্রতিনিধিত্বের স্কোর ২৪.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪০.৬ শতাংশ হয়েছে। কিন্তু সামগ্রিক কর্মশক্তিতে অংশগ্রহণ ও মজুরির সমতায় অগ্রগতি তুলনামূলক ধীর।

বর্তমান গতিতে অর্থনৈতিক সমতার ব্যবধান পূরণ করতে আনুমানিক ১২৯ বছর লাগতে পারে।

রাজনীতি: সবচেয়ে বড় ঘাটতি

চারটি খাতের মধ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বৈশ্বিক সমতার স্কোর সবচেয়ে কম, মাত্র ২২.১ শতাংশ। অর্থাৎ, পরিমাপ করা ব্যবধানের ৭৭.৯ শতাংশ এখনো পূরণ হয়নি।

সংসদীয় আসন, মন্ত্রিসভার পদ এবং রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানের দায়িত্বে নারীর প্রতিনিধিত্ব এই সূচকের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০০৬ সালের ১৪.৪ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে স্কোর বেড়ে ২২.১ শতাংশ হয়েছে। তবে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতি থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার প্রবণতা দেখা গেছে।

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার: যে বীরকন্যাকে আমরা ভুলে গেছিপ্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার

বর্তমান গতিতে রাজনৈতিক সমতার ব্যবধান পূরণে আনুমানিক ১৯৪ বছর লাগতে পারে। অর্থাৎ, এই খাতেই পূর্ণ সমতা অর্জনের পথ সবচেয়ে দীর্ঘ।

গত দুই দশকে কোন দেশগুলো সবচেয়ে বেশি এগিয়েছে?

বর্তমানে কোন দেশ শীর্ষে রয়েছে, তা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতির সম্পূর্ণ চিত্র বোঝা যায় না। এ কারণে ২০০৬ সালের পর যেসব অর্থনীতির সামগ্রিক সমতার স্কোর ১২ শতাংশ পয়েন্টের বেশি বেড়েছে, সেগুলোর তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ।

এই তালিকায় রয়েছে নামিবিয়া, আইসল্যান্ড, ইকুয়েডর, মেক্সিকো, গুয়াতেমালা, ফ্রান্স, বলিভিয়া, চিলি ও নেপাল।

এখানে নামিবিয়া বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দেশটি শুধু দীর্ঘমেয়াদে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিই করেনি, ২০২৬ সালের সূচকে বিশ্বে চতুর্থ স্থানও অর্জন করেছে। একইভাবে, লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশও দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতির তালিকায় রয়েছে।

প্রতিবেদনে এমন ১০টি অর্থনীতির কথাও বলা হয়েছে, যেগুলো বর্তমান গতিতে এগোতে পারলে আগামী ৪০ বছরের মধ্যে পূর্ণ সমতার ব্যবধান বন্ধ করতে পারে। এই তালিকায় আইসল্যান্ড, নামিবিয়া, ইকুয়েডর, যুক্তরাজ্য ও মেক্সিকোর মতো দেশ রয়েছে।

তবে এটি একটি শর্তসাপেক্ষ পূর্বাভাস। বর্তমান অগ্রগতির হার ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। রাজনৈতিক পরিবর্তন, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর ভবিষ্যৎ অগ্রগতি নির্ভর করবে।

কর্মক্ষেত্র ও প্রযুক্তিতে নারীদের অবস্থান কী বলছে?

লিঙ্গসমতার ব্যবধান শুধু কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগেই সীমাবদ্ধ নয়। একজন নারী চাকরিতে প্রবেশ করতে পারলেও নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর সুযোগ সমান না-ও হতে পারে।

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত লিংকডইনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশপর্যায়ে নারীদের প্রতিনিধিত্ব ৪৬ শতাংশ হলেও সর্বোচ্চ নির্বাহী পর্যায়ে তা ২৩ শতাংশ। অর্থাৎ, কর্মজীবনের উচ্চপর্যায়ে নারীদের প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-সংশ্লিষ্ট পেশাতেও একই ধরনের ব্যবধান রয়েছে। এআইয়ের জন্য তথ্য প্রস্তুত ও লেবেলিংয়ের কাজে নারীদের অংশ প্রায় অর্ধেক হলেও এআই ডেভেলপার ও ডেপ্লয়মেন্ট ইঞ্জিনিয়ারদের মধ্যে তাদের অংশ প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।

এ থেকে বোঝা যায়, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেই কর্মক্ষেত্রে সমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে না। নতুন প্রযুক্তি ও উচ্চদক্ষতার পেশায় নারীদের প্রবেশ, প্রশিক্ষণ এবং নেতৃত্বের সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ।

গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট ২০২৬-এর তথ্য থেকে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট।

প্রথমত, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অগ্রগতি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমতা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নয়। নারীরা শিক্ষায় এগিয়ে গেলেও কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ, মজুরি এবং নেতৃত্বের অবস্থান নিশ্চিত করা আলাদা চ্যালেঞ্জ।

দ্বিতীয়ত, লিঙ্গসমতার অগ্রগতি কেবল জাতীয় আয়ের ওপর নির্ভর করে না। নামিবিয়ার মতো দেশ উচ্চ অবস্থানে রয়েছে, আবার কিছু উচ্চ আয়ের দেশও বিভিন্ন খাতে ব্যবধান পুরোপুরি দূর করতে পারেনি। অর্থাৎ, নীতি, প্রতিষ্ঠান ও সুযোগের কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ।

তৃতীয়ত, সামগ্রিক স্কোরের পাশাপাশি অঞ্চল ও খাতভিত্তিক তথ্য বিবেচনা করা জরুরি। দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের ঘাটতি এবং মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের দুর্বলতা দেখায়, সব অঞ্চলের জন্য একই ধরনের সমাধান যথেষ্ট না-ও হতে পারে।

এখানে একটি সীমাবদ্ধতাও মনে রাখা প্রয়োজন। এই সূচক নারী ও পুরুষের মধ্যে নির্দিষ্ট চারটি ক্ষেত্রে আপেক্ষিক ব্যবধান পরিমাপ করে। এটি দারিদ্র্য, সহিংসতা, আইনি অধিকার কিংবা নারীদের জীবনের প্রতিটি দিকের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন নয়। কোনো দেশের স্কোরকে সেই দেশের সব ধরনের বৈষম্যের সামগ্রিক চিত্র হিসেবেও দেখা উচিত নয়।

সব মিলিয়ে, বিশ্বে লিঙ্গসমতার অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু তা এখনো অসম এবং ধীর। শিক্ষায় প্রায় পূর্ণ সমতার কাছাকাছি পৌঁছানো একটি বড় অর্জন। কিন্তু অর্থনৈতিক সুযোগ ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে নারীদের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ছাড়া এই অগ্রগতি পূর্ণতা পাবে না। বর্তমান গতিতে আরও ১২০ বছরের হিসাবটি তাই শুধু ভবিষ্যতের একটি অনুমান নয়, বৈশ্বিক লিঙ্গসমতার পথে এখনো কতটা কাজ বাকি রয়েছে, তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

বিষয়: নারীনরওয়েবৈষম্যপুরুষআইসল্যান্ডস্বাস্থ্যশিক্ষাপ্রযুক্তি
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    ‘আমরা চাচ্ছি ক্লাইমেট চেঞ্জে বাংলাদেশ একটা লিডিং পজিশনে যাক’

  • ২

    পার্বত্য চট্টগ্রাম কেন বারবার অশান্ত হয়?

  • ৩

    অস্ট্রেলিয়ায় খাদ্যসংকটে ৩৬ লাখ পরিবার, চাপে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও

  • ৪

    ইরান যুদ্ধ: প্রত্যেক মার্কিন পরিবারের ব্যয় বেড়েছে ২০০০ ডলার

  • ৫

    বিশ্বে নারী-পুরুষে বৈষম্য ঘুচেছে কতটা?

সম্পর্কিত
  • ইরান যুদ্ধ: প্রত্যেক মার্কিন পরিবারের ব্যয় বেড়েছে ২০০০ ডলার

    ইরান যুদ্ধ: প্রত্যেক মার্কিন পরিবারের ব্যয় বেড়েছে ২০০০ ডলার

    যুদ্ধের ব্যয়, উচ্চ সুদের হার এবং নিত্যপণ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য জিনিসের বর্ধিত মূল্য বিবেচনায় নিলে, এই যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি পরিবারের ওপর প্রায় ২,০০০ ডলারের সমতুল্য আর্থিক বোঝা পড়েছে। আর ট্রাম্প প্রশাসন যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের স্বেচ্ছায় বেছে নেওয়া এই যুদ্ধ চালিয়ে যাবে

  • ইসরায়েলের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক ভোটার, আরব ভোটারদের উপস্থিতি কার পক্ষে যেতে পারে

    ইসরায়েলের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক ভোটার, আরব ভোটারদের উপস্থিতি কার পক্ষে যেতে পারে

    আরব দলের প্রার্থী আহমেদ তিবি বলেছেন, ইসরায়েলের আরব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি “বিকল্প সরকার গঠনের পথ তৈরি করবে এবং ভয়াবহ বাস্তবতা পরিবর্তনে সহায়তা করবে।”

  • এআই: অ্যানথ্রোপিক কি সবাইকে ছাড়িয়ে যাবে?

    এআই: অ্যানথ্রোপিক কি সবাইকে ছাড়িয়ে যাবে?

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) জোয়ার শুরুর চার বছর পর, বিনিয়োগকারীরা এখন প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন যে এই ধারা আর কতদিন অব্যাহত থাকবে। সোমবার, ‘ক্লড’ চ্যাটবটের নির্মাতা এবং অত্যাধুনিক এআই মডেল তৈরির অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রোপিক’ ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধির একটি চিত্র তুলে ধরেছে।

  • ইসরায়েলের নির্বাচনে দেশটির ফিলিস্তিনিদের ভূমিকা কী?

    ইসরায়েলের নির্বাচনে দেশটির ফিলিস্তিনিদের ভূমিকা কী?

    সাম্প্রতিক জনমত জরিপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মধ্যে ভোট দেওয়ার হার ৬০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তাদের অধিকাংশ ভোট আরবদের নেতৃত্বাধীন দলগুলো পেতে পারে। ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে এসব দল পরিচিত।