
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: বিএনপিই নাকি জামায়াত, ভোটে ফ্যাক্টর কী?
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সুষ্ঠু নাও হতে পারে বলে এরই মধ্যে অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। গত রোববার মোট ৯টি অভিযোগ ও তিনটি দাবি ইসিতে দিয়েছে জামায়াত।
চরচা ডেস্ক

আজ মঙ্গলবার ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন। ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। একে ইসরায়েলের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন দেশটির ফিলিস্তিনি নাগরিকেরা। প্রায় ১২ লাখ ফিলিস্তিনি নাগরিকের ভোটের ওপর নির্ভর করতে পারে সরকার গঠনের হিসাব-নিকাশ। কিন্তু আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনে আপত্তি রয়েছে প্রধান দুই রাজনৈতিক জোটেরই। ফলে নির্বাচনে আরব দলগুলো কত আসন পাবে এবং তাদের সমর্থন ছাড়া কোনো জোট সরকার গঠন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
দেশটির সর্বশেষ জনমত জরিপ একই দিকে ইঙ্গিত করছে। এই নির্বাচনে পিছিয়ে রয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাছাড়া কোনো জোটই সরকার গঠন করার জন্য প্রয়োজনীয় আসন পাবে না বলে জরিপে দেখা গেছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, কয়েক বছর ধরে চলা একাধিক সংঘাত, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়তে থাকা সমালোচনা এবং দেশের ভেতরে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন আরও গভীর হওয়ার এমন সময়ে এই নির্বাচন ইসরায়েলের পরবর্তী সরকারের গতিপথ নির্ধারণ করবে। সেইসঙ্গে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও নির্ধারণ করবে এই নির্বাচনের ফল।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচন সম্পর্কিত এই বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
নির্বাচনে প্রধান দলগুলো কোনগুলো?
ইসরায়েলের নির্বাচনে কোনো দল ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট পেলে পার্লামেন্টে আসন পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে। দেশটির পার্লামেন্টের মেয়াদ চার বছর। দেশটিতে পরবর্তী সরকার গঠন করতে মূলত দুটি বড় রাজনৈতিক জোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। প্রথমটি নেতানিয়াহুর পক্ষে থাকা জোট। এই জোটের নেতৃত্বে রয়েছে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। এর সঙ্গে রয়েছে কয়েকটি কট্টর ডানপন্থী ও কট্টর ধর্মভিত্তিক দল।
এই দলগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) ও শাস। দুটি দলই রক্ষণশীল ধর্মীয় আদর্শে বিশ্বাসী। এ ছাড়া রয়েছে ওতজমা ইয়েহুদিত ও রিলিজিয়াস জায়োনিজম-জেহুত। দল দুটির নেতৃত্বে রয়েছেন কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির ও বেজালেল স্মোত্রিচ।
অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী জোটে রয়েছে ইহুদিদের নেতৃত্বাধীন চারটি রাজনৈতিক দল ও জোট। এগুলো হলো–ইয়াশার পার্টি, ডেমোক্র্যাটস, ইসরায়েল বেইতেনু এবং টুগেদার জোট।
সাবেক ইসরায়েলি সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট ইয়াশার পার্টির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সাবেক উপসেনাপ্রধান ইয়ার গোলান নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডেমোক্র্যাটস পার্টির। সাবেক অর্থমন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যানের নেতৃত্বে রয়েছে ইসরায়েল বেইতেনু পার্টি।
অন্যদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বে রয়েছে টুগেদার জোট। এই জোটে যুক্ত হয়েছেন পার্লামেন্টে বিরোধী দলের নেতা ইয়ার লাপিদও।
জনমত জরিপ কী বলছে?
স্থানীয় সময় গত শুক্রবার ইসরায়েলে জনমত জরিপ প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। তার আগে প্রকাশিত জরিপগুলোতে দেখা গেছে, কোনো জোটই পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পাওয়ার পথে নেই।
ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কেএএন-এর এক জরিপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিরোধী জোট পার্লামেন্টের ১২০টি আসনের মধ্যে ৫২টি পেতে পারে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর জোট পেতে পারে ৫০টি আসন। কোনো জোটের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়, এমন দলগুলোর কাছে বাকি আসনগুলো যেতে পারে।
এসব দলের মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলের দুটি প্রধান আরব-অধ্যুষিত রাজনৈতিক দল বা জোট। এগুলো হলো রা’আম–যা ইউনাইটেড আরব লিস্ট নামেও পরিচিত; আর জয়েন্ট লিস্ট। জয়েন্ট লিস্ট গঠিত হয়েছে হাদাশ, বালাদ ও তা’আল দলের সমন্বয়ে।
তবে আপাতত নেতানিয়াহুর পক্ষে থাকা জোট এবং তার বিরোধী জোট–দুটিই আরবদের নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে।
আল জাজিরা বলছে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এই বিভক্তির কারণে নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে কঠিন দর-কষাকষি হতে পারে। শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষ সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে, ইসরায়েলে এমন একটি সরকার গঠিত হতে পারে, যেটিকে ক্ষমতায় টিকে থাকতে জোটের বাইরের দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হবে। আবার নতুন করে নির্বাচনও হতে পারে।
নির্বাচনের প্রধান ইস্যুগুলো কী?
এমন একটি সময়ে ইসরায়েলে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন দেশের ভেতরে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একাধিক সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
আল জাজিরা বলছে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতার জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি–বিশেষ করে ২০২৩ সালের অক্টোবরের হামলার আগে যেসব ব্যর্থতা ছিল, সেগুলোর তদন্তের দাবি।
এছাড়া অতি-রক্ষণশীল ইহুদি জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়া থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে। একই সঙ্গে বিচারব্যবস্থায় সংস্কারের জন্য নেতানিয়াহুর বারবারের চেষ্টা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সমালোচকদের মতে, এসব সংস্কারের উদ্যোগ ইসরায়েলের উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিতে পারে।
ইসরায়েলি-আমেরিকান বিশ্লেষক মাইরাভ জন্সজেইন আল জাজিরাকে বলেন, “ইসরায়েলের ধর্মনিরপেক্ষ ও উদারপন্থী বিরোধী দলগুলো মনে করছে, এই নির্বাচনই দেশটির গণতন্ত্র রক্ষা এবং নেতানিয়াহুর মেয়াদে একের পর এক দুর্বল হয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার শক্তিশালী করার শেষ সুযোগ।”
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক জন্সজেইন আরও বলেন, নেতানিয়াহুর শাসনামলে দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করে বিরোধী দলগুলো।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে চলা যুদ্ধেও সাধারণ মানুষ ক্লান্ত। ইসরায়েল একাধিক সামরিক সংঘাত কীভাবে এগিয়ে নেবে, তা নিয়েও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে। অনেকেই নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা চান। তবে গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননের বিষয়ে ইসরায়েল কোনো ছাড় দিক, তা তারা চান না।

এই নির্বাচন এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?
২০২৩ সালের অক্টোবরের হামলার পর ইসরায়েলে এটিই প্রথম নির্বাচন। দেশটিতে এখন কট্টর ডানপন্থী মনোভাব বাড়ছে এবং ইসরায়েল কোন পথে এগোবে, তা নিয়ে বিভক্তি আরও গভীর হচ্ছে।
ইসরায়েলের বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ইয়েহুদা শেনহাভ-শাহরাবানি আল জাজিরাকে বলেন, ইসরায়েলি সমাজের কিছু অংশে আগে থেকেই সহিংসতা ও কট্টর ডানপন্থী বক্তব্যের প্রবণতা ছিল। তবে আগে থেকেই থাকা এসব প্রবণতা বর্তমান সরকারের আমলে আরও দ্রুত বেড়েছে।
তাছাড়া এই নির্বাচন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি আরও খারাপ হচ্ছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতিগুলোর বিরুদ্ধে দেশটির কয়েকটি মিত্ররাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এছাড়া গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলারও নিন্দা জানিয়েছে অনেক দেশ।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু। এ সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অধিবেশনকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। অনেকে আবার নেতানিয়াহুর বক্তব্যে অসন্তোষও প্রকাশ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বর্তমান সম্পর্ক ও নীতি বজায় রাখবে, নাকি অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করবে–সেটাও নির্ধারণ করতে পারে আসন্ন নির্বাচনের ফল।
ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ভূমিকা কী?
মঙ্গলবারের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য ইসরায়েলি নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ৭৩ লাখ। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইসরায়েলের প্রায় ১২ লাখ ফিলিস্তিনি নাগরিক।
অন্যদিকে, গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে বসবাসকারী প্রায় ৩০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ফিলিস্তিনি এই সরকার নির্বাচনে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেন না। অথচ এই সরকারই তাদের সীমান্ত, চলাচল ও আইনি অবস্থান নিয়ন্ত্রণ করে।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মধ্যে ভোট দেওয়ার হার ৬০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তাদের অধিকাংশ ভোট আরবদের নেতৃত্বাধীন দলগুলো পেতে পারে। ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে এসব দল পরিচিত।
ভোট দেওয়ার হার ৬৫ শতাংশে পৌঁছালে আরব দলগুলো পার্লামেন্টে সর্বোচ্চ ১৫টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, নির্বাচনী প্রচারকেরা ভোট দেওয়ার হার ৭০ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এমনটি হলে কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটদানের হার দেখা যেতে পারে। এতে ছোট দলগুলোর পার্লামেন্টে প্রবেশের সুযোগও কমে যেতে পারে।
গত মাসে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম–এই দুটি আরব দলকেই নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত দ্রুতই সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেন। ফলে দল দুটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়।
কিন্তু আদালত জয়েন্ট লিস্টের নেতা সামি আবু শাহাদেহকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। ৭ অক্টোবরের হামলাকে তিনি একটি নিবন্ধে ‘গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। এ কারণেই তাকে নির্বাচন থেকে সরে যেতে হয়।
আল জাজিরা বলছে, নির্বাচনে আরব দলগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রধান দুই জোটই আপাতত আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছে। কিন্তু এসব দলের সমর্থন ছাড়া কোনো জোটই হয়তো পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারবে না।

নেতানিয়াহু বারবার তার বিরোধীদের আরব দলগুলোর সম্ভাব্য মিত্র হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তার দাবি, বিরোধীরা সরকার গঠন করলে আরব দলগুলোর সমর্থন নেবে। আর তার নিজের লিকুদ পার্টিই কেবল এমন পরিস্থিতি ঠেকাতে পারবে।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট সদস্য আয়মান ওদেহর সাবেক সহযোগী জোসেফ মনসুর বলেন, আরব দলগুলোকে রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে রাখা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। এর ফলে কোনো জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় থাকতে পারেন।
আরব সেন্টার ওয়াশিংটন ডিসির জন্য লেখা এক নিবন্ধে মনসুর বলেন, “ফিলিস্তিনিদের নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থন যদি রাজনৈতিকভাবে গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং বিরোধীরা ৬১টি আসন পেতে ব্যর্থ হয়, তাহলে এই অচলাবস্থাই নেতানিয়াহুর জন্য আরেকটি সাফল্য হয়ে উঠবে।”
নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হতে পারে?
ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে থাকা প্রধানমন্ত্রী হলেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত ১৭ বছরের মধ্যে ১৫ বছরেরও বেশি সময় তিনি দেশটির নেতৃত্ব দিয়েছেন। সব মিলিয়ে তার প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদ ১৯ বছর।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার আগে নিরাপত্তাব্যবস্থায় কথিত ব্যর্থতা এবং দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে দেশে ও বিদেশে তার ওপর চাপ বাড়ছে। ২০১৯ সাল থেকে তিনি দুর্নীতির মামলারও মুখোমুখি হচ্ছেন। নির্বাচনে পরাজিত হলে দুর্নীতির মামলায় নেতানিয়াহুর ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে শেষ পর্যন্ত তার কারাদণ্ডও হতে পারে।
নতুন সরকার গঠিত হলে ২০২৩ সালের অক্টোবরের হামলার ঘটনা তদন্তে কমিশন গঠনের সম্ভাবনাও বাড়তে পারে। এছাড়া যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়েও নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান আরও চাপে পড়তে পারে।
সবশেষে আল জাজিরার বিশ্লেষণ বলছে, ইসরায়েলের এই নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের লড়াই নয়, বরং দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণেরও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। নির্বাচনে কোনো জোট এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে। আবার নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকা, তার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে এই নির্বাচনের ফল। তাই, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ইসরায়েল বর্তমান রাজনৈতিক পথেই এগোবে, নাকি পরিবর্তনের দিকে যাবে, তা অনেকটাই স্পষ্ট হতে পারে।

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: বিএনপিই নাকি জামায়াত, ভোটে ফ্যাক্টর কী?
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সুষ্ঠু নাও হতে পারে বলে এরই মধ্যে অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। গত রোববার মোট ৯টি অভিযোগ ও তিনটি দাবি ইসিতে দিয়েছে জামায়াত।

শান্তি প্রতিষ্ঠায় তেহরানে মক্কা চুক্তিভুক্ত দেশের প্রতিনিধিরা, তাদের মধ্যে কী আলোচনা হলো
এদিকে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানানো মিশরের পার্লামেন্ট সোমবার সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় দেশটির সামরিক বাহিনীকে সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে।

মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশ: অর্থনীতির এই হিসাব কী বলছে?
সহজ করে বললে, গত দুই দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ছিল রপ্তানিমুখী ম্যানুফ্যাকচারিং খাত নির্ভর। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প, যা রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থানের প্রধান উৎস ছিল।

ফের ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স দিচ্ছে সরকার, পরিস্থিতি আসলে কেমন?
দুই বছরেরও বেশি সময় স্থগিত থাকার পর ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া আবার চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ১৬ সেপ্টেম্বর দেশের সকল জেলা প্রশাসককে (ডিসি) নতুন করে ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের সব আবেদন গভীরভাবে যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দিয়েছে