ইরানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করাই ইসরায়েলের প্রধান লক্ষ্য বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে সামরিক হামলা চালিয়ে ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা সম্ভব হলেও সরকার পরিবর্তন কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ লক্ষ্য অর্জনে ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা, স্থল অভিযানের প্রস্তুতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে সংশয় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা এবং পেন্টাগনপ্রধান পিট হেগসেথের ইসরায়েল সফরের পর নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করাই এখনো ইসরায়েলের ‘প্রধান লক্ষ্য’। তবে ইরানে নতুন করে হামলা চালানো, এমনকি দেশটির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে কি না, সে ব্যাপারে কোনো ইঙ্গিত দেননি নেতানিয়াহু।
আল জাজিরাকে বিশ্লেষকরা বলেছেন, ইরানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করার মতো সামরিক শক্তি ইসরায়েলের থাকলেও, এই সামরিক সাফল্য কীভাবে ইরানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে কাজে লাগানো হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো কৌশল নেই ইসরায়েলের। তাদের মতে, শুধু বিমান হামলা চালিয়ে এই লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন। অন্যদিকে, স্থল অভিযান চালাতে হলে অনেক বড় সামরিক প্রস্তুতি ও শক্তি প্রয়োগ করতে হবে।
নতুন করে হামলা চালালে ইসরায়েলকে এমন একটি রাষ্ট্রের মুখোমুখি হতে হবে, যারা এরই মধ্যে দুই দফা হামলা মোকাবিলা করেছে এবং পাল্টা হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে। ইসরায়েল ছাড়াও উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব প্রতিবেশী দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা রয়েছে, সেসব দেশেও হামলা চালাতে পারে ইরান।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়া যাবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। নতুন করে যুদ্ধে জড়াতে ওয়াশিংটন কতটা আগ্রহী, এ ব্যাপারেও সন্দেহ আছে বিশেষজ্ঞদের। কারণ, ইরান সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মানতে বাধ্য করার মতো কোনো বিশ্বাসযোগ্য উপায় এখনো খুঁজে পায়নি ট্রাম্প প্রশাসন।
ইসরায়েলের কি যুদ্ধে জড়ানোর মতো যথেষ্ট সামরিক শক্তি আছে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানে হামলা চালানোর সক্ষমতা যে ইসরায়েলের আছে, এ নিয়ে কোনো সংশয় নেই। অবশ্যই তাদের সে সক্ষমতা আছে। রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (রুসি) গবেষক আরবান কনিংহাম আল জাজিরাকে বলেন, ইসরায়েলের কাছে বিপুল পরিমাণ আক্রমণাত্মক অস্ত্রের মজুত এবং আকাশে জ্বালানি সরবরাহের সক্ষমতা থাকায় দেশটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবে। কনিংহাম বলেন, “ইসরায়েল আবারও আকাশপথে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারবে এবং ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারবে।”
তবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করতে পারলেও ইরানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা ইসরায়েলের পক্ষে সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান বিশ্লেষকেরা।
১৯৯৬ সালে প্রথমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই নেতানিয়াহু ইরানের নেতাদের বড় হুমকি হিসেবে তুলে ধরেন। ওই বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, “(প্রতিবেশি) সরকারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো ইরান, যারা নিষ্ঠুর স্বৈরশাসনের সঙ্গে উগ্র জঙ্গিবাদের সমন্বয় ঘটিয়েছে।”
সামরিক হস্তক্ষেপের যে দীর্ঘদিনের চাওয়া ছিল নেতানিয়াহুর, তা প্রায় ৩০ বছর পর পূরণের পথ তৈরি হয়–২০২৫ সালের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে এবং চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে শুরু হওয়া যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের মাধ্যমে। তবে এ বছরের মার্চে নেতানিয়াহু নিজেও স্বীকার করে নেন, শুধু আকাশপথে যুদ্ধ চালিয়ে ইরানে সরকার পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “এর পাশাপাশি স্থল অভিযানও থাকতে হবে।” তবে এতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি নেতানিয়াহু।
তুরস্কের কায়সেরিতে অবস্থিত আবদুল্লাহ গুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক চাগলার কুরচ বলেন, বোমা হামলায় ইরানের সামরিক শক্তি দুর্বল হতে পারে, তবে এতে দেশটির পাল্টা হামলা চালানোর সক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট না-ও হতে পারে। ইরান যেভাবে ভূগর্ভে মিসাইল লুকিয়ে রাখে, সেটি তুলে ধরে চাগলার কুরচ আল জাজিরাকে বলেন, “বিমান হামলায় সামরিক সক্ষমতা কমানো যায়, কিন্তু আক্রমণ চালানোর সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা যায় না। সুনিপুণভাবে লুকিয়ে রাখা সামরিক ব্যবস্থা টিকে থাকবে।”
কুরচ বলেন, ইরানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে হলে সেনা মোতায়েন এবং বছরের পর বছর সেখানে অবস্থান করার প্রস্তুতি থাকতে হবে। এ ছাড়া, আগের হামলাগুলোতে ইসরায়েল যেসব গোপন কৌশল ব্যবহার করেছিল, সেগুলো আবারও একইরকম কার্যকর হবে–এমনটাও ধরে নেওয়া যাবে না।
এর বাইরে থাকে ইসরায়েলের গোয়েন্দা তৎপরতা। এ নিয়ে কনিংহামের বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা শক্তি কোনো জায়গায় একবার ব্যবহার করে ফেললে সেটি আবার একইভাবে ব্যবহার করা যায় না, বা একই লোককে আবার কাজে লাগানো যায় না। এই পদ্ধতিকে তিনি বলেছেন ‘ইউজ অ্যান্ড বার্ন।’ কারণ, গোয়েন্দা কৌশল ব্যবহার করলে এমন গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, যেগুলো ইরানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তদন্ত করে বের করতে পারে।
কনিংহাম বলেন, এখনো ইরানের ভেতরে ইসরায়েলের গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক রয়েছে। এ ছাড়া, নতুন কোনো অভিযানে ‘সাইবার হামলাও’ চালাতে পারে ইসরায়েল। তবে এসব সক্ষমতা একবার ব্যবহার করলে সেগুলো ফাঁস হয়ে যাওয়ার এবং হারাতে হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই সামরিক অভিযানে বাস্তব কোনো সাফল্য পাওয়ার সম্ভাবনা কতটা, সেটা বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ ইসরায়েলের জন্য।
সামরিক মহড়া চলাকালীন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ। ফাইল ছবি: রয়টার্স
কনিংহামের মূল্যায়ন, গোপন অভিযান ও সাইবার হামলার মাধ্যমে ইরানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার কোনো স্পষ্ট পথ নেই ইসরায়েলের হাতে। তার মতে, ইরানের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে যে স্থলবাহিনী দরকার হবে, তা সরবরাহ করার ক্ষেত্রে কুর্দি বা বালুচ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, সেটা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।
সিএনএন মার্চ মাসে কুর্দি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, বিরোধী কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে তাদেরকে ইরানের বিরুদ্ধে নামিয়ে দেওয়ার বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসন গুরুত্ব দিয়েই আলোচনা করেছিল। তবে সেই আলোচনা আর এগোয়নি। কনিংহাম বলেন, “ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো সামরিক সক্ষমতা কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর নেই।”
ইরান কি এখনো পাল্টা হামলা চালাতে সক্ষম?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন করে হামলা চালালে ইসরায়েলকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে ইরান এবং সে জন্য ইরানের কাছে ইসরায়েলের সমান যুদ্ধবিমান থাকারও প্রয়োজন নেই।
রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (রুসি) জ্যেষ্ঠ গবেষক সিদ্ধার্থ কৌশল আল জাজিরাকে বলেন, ইরানের লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ ব্যবস্থার ক্ষতি হওয়ায় ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। তবে দেশটির কাছে এখনো বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিদ্ধার্থ কৌশল বলেন, “(ইরানের হাতে) জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এখনো অনেক বেশি থাকতে পারে। কারণ, এসব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা তুলনামূলক সহজ। এ ছাড়া, পুরনো চীনা জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের প্রক্রিয়ার প্রায় পুরোটাই এখন ইরান নিজে নিজেই করতে পারে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের পাহাড়গুলোও বিমান হামলা থেকে রক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক আশ্রয় হিসেবে কাজ করে।”
কনিংহাম বলেন, ইসরায়েলের জন্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখা আরও কঠিন হবে। কারণ, আগের দফার পাল্টাপাল্টি হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে গেছে।
বারবার হামলার কারণে ইসরায়েলের ওপর আর্থিক চাপও বাড়বে। কারণ, ইরানের তুলনামূলক সস্তায় ও অল্প সময়ে বানানো ড্রোনগুলোকে প্রতিহত করতে ইসরায়েলকে অনেক বেশি দাম ও সময় দিয়ে বানানো প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করতে হবে। খরচ ও উৎপাদন সময়ের এই অসমতার কারণে, দীর্ঘ সময় ধরে পাল্টাপাল্টি হামলা চলতে থাকলে ইসরায়েলের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আরও কমে যেতে পারে। অন্যদিকে, ইরান আরও দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল পরিমাণে সস্তা অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম।
নতুন হামলায় কি যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেবে?
বিশ্লেষকেরা মনে করেন, নতুন করে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা কম। তাদের মতে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্বার্থে পার্থক্য রয়েছে। এ ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন করে উত্তেজনা যাতে না বাড়ে, সেটা নিশ্চিত করার একটা চাপ আছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এ সপ্তাহে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরায়েলের নতুন করে হামলা চালানোর প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন মেলেনি। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে মতপার্থক্য তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে, ভবিষ্যতে নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করা নিয়ে নয়।
ট্রাম্প হামলায় অংশ নিতে রাজি না হলে সমস্যা কোথায়? কনিংহাম বলেন, সে ক্ষেত্রে ইরানের মাটির নিচে থাকা স্থাপনায় হামলার চালানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের যে দক্ষতা ও সক্ষমতা, সেটা পাবে না ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতার হিসাবে সব সময় ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের জিবিইউ-৫৭ বাংকারবিধ্বংসী বোমার কথা আসে। ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে ইরানের ফোরদো ও নাতাঞ্জের পারমাণবিক স্থাপনায় যে হামলা চালানো হয়েছিল, সেখানে এসব বাংকারবিধ্বংসী বোমা ফেলা হয়েছিল।
মাটির গভীরে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য তৈরি এসব অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রকে এমন আক্রমণাত্মক সক্ষমতা দিয়েছে, যা এককভাবে ইসরায়েলের নেই।
কনিংহাম আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া ইসরায়েল হামলা চালালে, ইরানও মূলত ইসরায়েলি ভূখণ্ডেই পাল্টা হামলা চালাতে পারে। সে ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলো হামলা করা কিংবা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার দিকে অত মনোযোগ না-ও দিতে পারে ইরান।
ইরান কেন এমনটা করতে পারে? কারণ, সেটা হলে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়েই ইসরায়েলকে শাস্তি দেওয়ার কথা ভাবতে পারবে ইরান। এর ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় একটি অংশের কাছ থেকে এরই মধ্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ইসরায়েল আরও একঘরে হয়ে পড়তে পারে। গাজায় গণহত্যার প্রেক্ষাপটে দেশটিকে এমনিতেই অনেক দেশ আন্তর্জাতিকভাবে বর্জন করেছে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার সক্ষমতা এবং ইরানের ভেতরে রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটানোর মতো সক্ষমতা। কুরচ বলেন, “একটা দেশে সেনা মোতায়েন করে কয়েক বছর সেখানে অবস্থান করার প্রস্তুতি না থাকলে সে দেশের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা সম্ভব নয়। ইসরায়েল ইরানকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্রও সরকার পরিবর্তনের আরেকটি অভিযানে জড়াবে না, কারণ এ ধরনের অভিযান কয়েক দশক ধরে চলতে পারে।”