Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৩ অক্টোবর, ২০২৬
২৩ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৩ অক্টোবর, ২০২৬
২৩ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> এক্সপ্লেইনার

ইরানে নতুন হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯: ৩৪
ইরানে নতুন হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকা। ছবি: রয়টার্স

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ভাণ্ডারকে লক্ষ্য করে স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দুই দেশের সামরিক বাহিনী।

Advertisement

প্রায় আট মাস ধরে চলা সংঘাতের পরও তেহরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ছাড় দিতে বাধ্য করা যায়নি। ফলে সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ইরানের ওপর আরও চাপ সৃষ্টির চিন্তা সামনে এসেছে। তবে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালালেই যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং আগের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা বলছে, সামরিক অভিযান যত দীর্ঘ ও বিস্তৃত হবে, তার অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক মূল্যও তত বাড়তে পারে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস- এ গত বুধবারের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে এই নতুন সামরিক প্রস্তুতি, ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক হিসাব, তেহরানের পাল্টা আঘাতের পরিকল্পনা ও কূটনৈতিক আলোচনার অচলাবস্থার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ও সামরিক পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরের শুরুর দিকে প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম ও জনবল মোতায়েন সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন অভিযান চালানোর মতো প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের থাকবে। দুই দেশের সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে ইরাকের আকাশসীমায় বিমান চালিয়ে হামলার কৌশল অনুশীলন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ চলতি সপ্তাহে ইসরায়েল সফরে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে নতুন হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন বলেও মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এই সামরিক প্রস্তুতির পেছনে প্রধান যুক্তি হলো, ইরানের ওপর আরও বড় অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ সৃষ্টি করে দেশটিকে আলোচনার টেবিলে ছাড় দিতে বাধ্য করা। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন পরিকল্পনাকারী মনে করছেন, টানা তিন দিনের একটি তীব্র সামরিক অভিযান ইরানের অর্থনীতির ওপর এমন আঘাত হানতে পারে, যা দেশটির নেতৃত্বকে তাদের অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য করবে। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তেহরানের ওপর চাপ বাড়বে বলে তাদের ধারণা। দীর্ঘ সংঘাতের কারণে ইরানের অর্থনীতি ইতিমধ্যে চাপে রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে নতুন হামলা দেশটির অর্থনৈতিক সংকট আরও তীব্র করতে পারে। কিন্তু অর্থনৈতিক দুর্বলতা তৈরি করা এবং একটি সরকারকে তার মৌলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য করা এক বিষয় নয়। একটি দেশ অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখেও রাজনৈতিক ও সামরিক প্রতিরোধ অব্যাহত রাখতে পারে। ইরানের ক্ষেত্রে সেই সম্ভাবনা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

ছবি: রয়টার্স
ছবি: রয়টার্স

প্রতিবেদনটিতে যুক্তরাষ্ট্রের আগের সামরিক অভিযানের ফলাফল নিয়ে সংশয়ের কথাও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তীব্র হামলা বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি বাড়িয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থার মজুতের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। এত বড় সামরিক অভিযান চালানোর পরও ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অর্থবহ ছাড় দিতে বাধ্য করা যায়নি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং মার্কিন নৌ অবরোধের চাপ। ফলে নতুন করে হামলা চালানোর আগে ওয়াশিংটনের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন রয়েছে: আগের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ যদি ইরানের অবস্থান পরিবর্তন করতে না পারে, তাহলে আরও হামলা কীভাবে ভিন্ন ফল বয়ে আনবে?

যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন প্রশাসনে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক প্রতিরক্ষা নীতির শীর্ষ দায়িত্ব পালন করা ডানা স্ট্রুল এই প্রশ্নটিই সামনে এনেছেন। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির সঙ্গে যুক্ত স্ট্রুলের মতে, এখন পর্যন্ত পরিচালিত প্রচলিত সামরিক অভিযান, কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং মার্কিন নৌ অবরোধ ইরান সরকারকে অর্থবহ আলোচনায় ফিরিয়ে আনতে পারেনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা নেতানিয়াহু- কেউই ব্যাখ্যা করতে পারেননি যে আরও যুদ্ধ কীভাবে এই কৌশলগত অচলাবস্থা দূর করবে। বিশেষ করে এমন একটি অঞ্চলে, যেখানে সংঘাতের বিস্তার ও নিরাপত্তাহীনতা ক্রমেই বাড়ছে, সেখানে নতুন যুদ্ধের ফলাফল আগাম নির্ধারণ করা কঠিন।

এই সংশয় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ ইরান সরকার এখন পর্যন্ত অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করে টিকে আছে। পশ্চিমা দেশগুলোর কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করেন, ইরানের অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। ওয়াশিংটন অতীতেও একাধিকবার ইরান সরকারের পতন বা বড় ধরনের দুর্বলতার পূর্বাভাস দিয়েছে। কিন্তু দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্ব এখনো টিকে রয়েছে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ছাড় দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। ইরানের আলোচকেরা পারমাণবিক প্রশ্নটি আলোচনার পরবর্তী পর্যায়ে নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র যখন পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দ্রুত সমাধান চায়, তেহরান তখন আলোচনার ক্রম ও শর্ত নির্ধারণের ক্ষেত্রেও নিজস্ব অবস্থান ধরে রাখতে চাইছে।

এখানেই সংঘাতের সামরিক ও কূটনৈতিক দিক পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র একদিকে নতুন হামলার জন্য বিশাল সামরিক শক্তি প্রস্তুত করছে, অন্যদিকে সেই সম্ভাবনাকে কূটনৈতিক আলোচনায় চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য, ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ছাড় দিতে বাধ্য করা। কিন্তু সামরিক হুমকি কূটনৈতিক সমঝোতার পথ তৈরি করবে, নাকি দুই পক্ষের অবিশ্বাস আরও বাড়াবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইরানের দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা শুধু দর-কষাকষির কৌশল নয়; এটি দেশটির সরকার ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ওপর সরাসরি হুমকি হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। সে কারণে চাপ বাড়লে তেহরান ছাড় দেওয়ার বদলে আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রতিটি পর্যায়ের পর ইরানের নেতৃত্ব আলোচনায় আরও কম নমনীয় হয়েছে। তাদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চূড়ান্ত লক্ষ্য শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা নয়, বরং ইরানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা। এই ধারণা সত্য হোক বা না হোক, ইরানের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে তা শক্তিশালী হয়ে উঠলে সমঝোতার সুযোগ সংকুচিত হতে পারে। কোনো সরকার যদি মনে করে যে প্রতিপক্ষের লক্ষ্য তার রাজনৈতিক অস্তিত্ব বিলুপ্ত করা, তাহলে সামরিক চাপের মুখে ছাড় দেওয়াকে সে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপায় হিসেবে না দেখে দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আরও হামলা প্রতিপক্ষকে আলোচনায় আগ্রহী করার বদলে সংঘাত দীর্ঘায়িত করার ঝুঁকি তৈরি করে।

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির অবস্থানও এই পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অনিশ্চয়তা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে তিনি এখনো অনেকাংশে অজানা। কিছু কর্মকর্তা মনে করেন, তার বাবার তুলনায় তিনি কম ক্ষমতাবান। তাদের ধারণা, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কট্টরপন্থী নেতারা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ভূমিকা পালন করছেন। তবে নেতৃত্বের ক্ষমতার প্রকৃত ভারসাম্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য প্রতিবেদনে নেই। এই অনিশ্চয়তা সামরিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের অবস্থান, সামরিক বাহিনীর সিদ্ধান্ত এবং প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের মাত্রা সম্পর্কে ভুল হিসাব সংঘাতের বিস্তার ঘটাতে পারে।

ইরান ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, নতুন করে হামলা হলে তাদের পাল্টা আঘাতের পরিধি আগের তুলনায় বিস্তৃত হবে। এত দিন বাণিজ্যিক জাহাজ ও আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামো ছিল সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলোর মধ্যে। এবার উপসাগরীয় অঞ্চলের ডেটা সেন্টার এবং সমুদ্রের নিচে থাকা ইন্টারনেট কেবলও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন। এর তাৎপর্য হলো, সংঘাত আর শুধু সামরিক ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা জ্বালানি স্থাপনায় সীমাবদ্ধ থাকার ঝুঁকিতে নেই। আধুনিক অর্থনীতি যে ডিজিটাল যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও আন্তর্দেশীয় নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল, সেসব অবকাঠামোও যুদ্ধের প্রভাবের মধ্যে চলে আসতে পারে। ডেটা সেন্টার বা সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবলে হামলা হলে তার প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও ব্যবসায়ীক কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটতে পারে।

ইরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক পেইমান সালেহি বলেছেন, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হলে ইরান সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারগুলোতে, বিশেষ করে আরামকোর স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানার কথা বিবেচনা করতে পারে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তেলের দাম ও জ্বালানির মূল্য বাড়িয়ে দেওয়া হবে ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি কার্যকর উপায়। কারণ এতে মার্কিন জনগণও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয়, ইরান তার প্রতিশোধের পরিকল্পনায় শুধু সামরিক ক্ষয়ক্ষতি ঘটানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে না; বরং প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক হিসাবেও প্রভাব ফেলতে চাইছে।

আমেরিকার চোখে চোখ রেখে ইরানের লড়াই, নেপথ্যে কী? iran sahed drone

এখানে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় দ্বন্দ্ব রয়েছে। একদিকে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন নিজেই জ্বালানির দাম আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে চায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করেন, তেল শোধনাগার ও তেল উৎপাদন অবকাঠামো এড়িয়ে অন্য লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হতে পারে। কারণ, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি মার্কিন ভোক্তাদের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করবে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। অর্থাৎ, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে, যার ফলে নিজের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ নতুন করে সংঘাতের কেন্দ্রে চলে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, তেহরান এই প্রশ্নে ছাড় দিক। কিন্তু ইরানের জন্য প্রণালিটি কেবল একটি নৌপথ নয়; এটি আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি কৌশলগত মাধ্যমও হতে পারে। ফলে প্রণালি নিয়ে বিরোধের সমাধান শুধু সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে সম্ভব হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং এই নৌপথকে ঘিরে সংঘাত বাড়লে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নতুন অভিযানের প্রস্তুতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নভেম্বরের শুরুর দিকে তিনটি বিমানবাহী রণতরি, হাজার হাজার মেরিন সেনা, যুদ্ধবিমান এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী বাহিনীসহ প্রয়োজনীয় সামরিক শক্তি মোতায়েন সম্পন্ন হওয়ার কথা। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সাধারণত রাতের অন্ধকারে অভিযান পরিচালনা করতে পছন্দ করে। নভেম্বরের শুরুতে ইরানের ওপর রাতের অন্ধকারের সময় বাড়বে, যা পরিকল্পিত অভিযানের সময় নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো মানেই যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেবে, তা নয়। ট্রাম্প চলতি বছর একাধিকবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার প্রস্তাব আটকে দিয়েছেন। অক্টোবরের শুরুতেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলার প্রায় চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার পর শেষ মুহূর্তে তিনি তা স্থগিত করেন বলে মার্কিন ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বারবার সামরিক পরিকল্পনা তৈরি করা এবং শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করার কারণে মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কমান্ডার এই পরিস্থিতিকে প্রতিদিনের বড় ধরনের মানসিক ও প্রশাসনিক টানাপোড়েন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সামরিক বাহিনীকে একদিকে যেকোনো মুহূর্তে অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তুত থাকতে হচ্ছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। এই দ্বিধা শুধু পরিকল্পনার ধারাবাহিকতাকেই প্রভাবিত করতে পারে না; বরং সামরিক প্রস্তুতি, সম্পদের ব্যবহার এবং কূটনৈতিক সংকেতের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

ইরানে হামলা করতে ‘মাদার অব অল বোম্বস’ ব্যবহারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রেরmother of all bombs

ট্রাম্পের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা। তিনি চলতি মাসের শুরুতে নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সে কারণে নির্বাচনের আগে নতুন অভিযান শুরু করার রাজনৈতিক ঝুঁকি রয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়া, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় সংঘাতের আশঙ্কা মার্কিন ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এই বাস্তবতায় নির্বাচনের পর অভিযান পরিচালনার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তবে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, প্রশাসন এমন সামরিক পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্তব্য করে না, যেগুলো বাস্তবে থাকতে পারে বা নাও পারে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্প সব বিকল্প বিবেচনায় রাখছেন।

নতুন হামলার পরিকল্পনায় পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের পারমাণবিক স্থাপনাও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ইরানিদের কাছে কোহে কোলাং নামে পরিচিত এই স্থাপনাটি গভীর ভূগর্ভে অবস্থিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্প গত সপ্তাহে সেখানে ২২ হাজার পাউন্ড ওজনের জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট বোমা বা ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহারের সম্ভাবনা বিবেচনা করার কথা বলেছেন।

কিন্তু অস্ত্রবিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বোমাটি মাটির ওপর বিস্ফোরণের মাধ্যমে বিস্তৃত এলাকায় শক্তিশালী আঘাত হানার জন্য তৈরি; গভীর ভূগর্ভে গ্রানাইটে ঘেরা স্থাপনা ধ্বংস করার জন্য এটি কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। সামরিক কর্মকর্তারা আরও সতর্ক করেছেন, বোমাটি বহন করতে তুলনামূলক ধীরগতির এমসি-১৩০ পরিবহন বিমান প্রয়োজন, যা ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ লক্ষ্য হতে পারে। ফলে অত্যন্ত শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহার করার রাজনৈতিক ঘোষণা এবং বাস্তবে নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্য ধ্বংস করার সক্ষমতার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকেও পাল্টা আঘাতের বিষয়ে কঠোর বক্তব্য এসেছে। দেশটির আলোচক জেনারেল মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নতুন হামলা শেষ করে দিতে পারবে- এমন ধারণা কল্পনামাত্র।” তার বক্তব্য, যুদ্ধ কখন শেষ হবে, তা ইরানই নির্ধারণ করবে। তিনি আরও বলেছেন, “ইরানের হামলা হবে আগের তুলনায় বেশি তীব্র, সৃজনশীল ও ভিন্ন ধরনের।” ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প যুদ্ধ দুই সপ্তাহ স্থায়ী হবে বলে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, সেটির কথাও তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তেহরান বোঝাতে চাইছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনায় নির্ধারিত সময়সীমা ইরানের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।

বিষয়: যুক্তরাষ্ট্রযুদ্ধহামলাইরানইসরায়েল
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    ইরানে নতুন হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের

  • ২

    দাহরান থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ সৌদি আরামকোর

  • ৩

    বিমান বাংলাদেশের দাম্মাম ও রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত

  • ৪

    চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প

  • ৫

    ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা কি আসন্ন?

সম্পর্কিত
  • ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা কি আসন্ন?

    ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা কি আসন্ন?

    ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং সেই সূত্রে ফের যুদ্ধ কি আসন্ন? ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ঘোষিত নতুন কৌশল ঘোষণার পর এরই মধ্যে সৌদি আরব থেকে নিজের কূটনীতিকদের সরে যাওয়ার আদেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন। এতে এই প্রশ্ন এবার উঠছে জোরেশোরেই।

  • সড়কে ‘মৃত্যুর মিছিল’ নিয়ে উদাসীনতার শেষ কোথায়?

    সড়কে ‘মৃত্যুর মিছিল’ নিয়ে উদাসীনতার শেষ কোথায়?

    সড়ক দুর্ঘটনার খবর নেই—এমন একটা দিন সাংবাদিকতা জীবনে বেশ বিরল। প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো প্রান্ত থেকে কোনো না কোনো সড়ক দুর্ঘটনার খবর আসে। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু এখন আর আমাদের মনে সেভাবে রেখাপাত করে না। সড়ক দুর্ঘটনার মৃত্যু এখন পরিণত শুধুই আর কিছু সংখ্যায়।

  • বাংলাদেশের ব্যাটিং মানেই যেন ব্যর্থতার গল্প!

    বাংলাদেশের ব্যাটিং মানেই যেন ব্যর্থতার গল্প!

    বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটে ব্যাটিং ব্যর্থতা যেন এক নিয়মিত চিত্র হয়ে উঠেছে। প্রতিপক্ষ কিংবা ভেন্যু—কোনোটিই যেন আর গুরুত্বপূর্ণ নয়। ম্যাচ দেশে, জিম্বাবুয়েতে বা সংযুক্ত আরব আমিরাতে যেখানেই হোক না কেন, বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা বড় স্কোর করার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারছেন না। টপ অর্ডার থেকে

  • এইচএসবিসির ইসলামিক ফান্ড কীভাবে ইসরায়েলের কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগ করেছে, বিতর্ক কেন?

    এইচএসবিসির ইসলামিক ফান্ড কীভাবে ইসরায়েলের কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগ করেছে, বিতর্ক কেন?

    ইসলামি শরিয়াহর বিধান লঙ্ঘন করে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর সাথে সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ১৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের শেয়ার কিনেছে এইচএসবিসি। গাজায় চলমান গণহত্যা, অধিকৃত পশ্চিম তীরে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ এবং দক্ষিণ লেবাননের দখলদারির মধ্যে ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংক এইচএসবিসি তাদের ইসলামিক