Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১১ অক্টোবর, ২০২৬
১১ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১১ অক্টোবর, ২০২৬
১১ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

নাবিক নিহতের ঘটনায় চীনের মতো কড়া প্রতিক্রিয়া দেখাবে ভারত?

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬, ১৭: ০৯
নাবিক নিহতের ঘটনায় চীনের মতো কড়া প্রতিক্রিয়া দেখাবে ভারত?

দৃশ্যটা এড়ানোর মতো নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, ওমান উপকূলের কাছে একটি জাহাজে থাকা ৩৫ বছর বয়সী এক ভারতীয় নাবিকের মরদেহ। জাহাজের অন্য কর্মীরা মরদেহের দ্রুত পচন ঠেকাতে মরিয়া হয়ে ঠান্ডা পানির বোতল ব্যবহার করছেন।

Advertisement

গত বৃহস্পতিবার চিকিৎসাজনিত জটিলতায় ওই নাবিকের মৃত্যু হয়। কিন্তু হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে জাহাজটিতে সহায়তা পাঠানো বা তাকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এর আগের দিন কাছাকাছি নোঙর করা একটি তেলবাহী জাহাজে বোমা হামলায় আরও তিনজন ভারতীয় নাবিক নিহত হন। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, জাহাজটি বারবার মার্কিন বাহিনীর নির্দেশনা মানতে ব্যর্থ হয়েছিল।

ওই সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ভারতীয় নাবিকদের নিয়ে চলা আরও দুটি জাহাজ অচল হয়ে পড়ে। তবে সেসব জাহাজে থাকা সবাই প্রাণে বেঁচে যান।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এসব ঘটনায় ভারতে ক্ষোভ বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপের জবাবে কার্যকরভাবে প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা ভারতের কতটা আছে।

এক প্রতিবেদনে বিষয়টি বিশ্লেষণ করেছে হংকংভিত্তিক ইংরেজি সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ভারতের প্রতিবাদের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কোনো দুঃখ প্রকাশ করেননি। বরং তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ‘নির্দেশ’ অমান্য না করতে। এতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ১৮ হাজার ভারতীয় নাবিক কর্মরত আছেন। চলমান সংঘাতের মানবিক মূল্য এখন ভারত ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য বড় এক পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

ship blast
ছবি: সংগৃহীত

এমন পরিস্থিতিতে আগামীকাল বুধবার ফ্রান্সে অনুষ্ঠিতব্য জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মোদির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

এ ঘটনায় মোদির কড়া সমালোচনা করেছেন মোদির ভারতীয় জনতা পাটির (বিজেপি) প্রবীণ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী সুব্রামনিয়ান স্বামী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ‘বিড়ালের মতো নমনীয়’ আচরণ করছেন। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ক্ষমা না চাইলে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়া উচিত।

ওমান উপকূলে আমেরিকার হামলায় ৩ ভারতীয় নাবিক নিহতship india

এ ঘটনায় নয়াদিল্লির সংযত প্রতিক্রিয়া নিয়ে দেশটিতে মতভেদ তৈরি হয়েছে। কেউ এটিকে বিচক্ষণ কূটনীতি হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন এটি ভারতের পররাষ্ট্রনীতির দুর্বলতার ইঙ্গিত।

এদিকে অনেকেই ১৯৯৯ সালে কসোভো যুদ্ধের সময় সার্বিয়ার বেলগ্রেডে চীনা দূতাবাসে ন্যাটোর বোমা হামলার পর চীনের প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সেই ঘটনা দেখিয়েছিল, কীভাবে একটি দেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মান আদায় করে নেয়।

নয়াদিল্লিভিত্তিক থিংকট্যাংক সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের বিশ্লেষক ব্রহ্ম চেলানি বলেন, ওই সময় সামরিক শক্তিতে চীন যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ ছিল না। তবুও শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনকে দূতাবাসে হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতি এবং নিহত-আহতদের জন্য ৩ কোটি ২৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই দাবি করে এসেছে যে দূতাবাসে বোমা হামলা ছিল একটি দুর্ঘটনা। তবে চেলানি বলেন, ওয়াশিংটন একাধিকবার আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমাও চেয়েছিল। এমনকি তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চেয়ে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করেছিলেন।

এর বিপরীতে ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনায় ভারতের প্রতিক্রিয়াকে চেলানি ‘দুর্বল’ বলে আখ্যা দেন। তার মতে, ভারতের মধ্যে একই ধরনের রাজনৈতিক দৃঢ়তা দেখা যাচ্ছে না। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থেকে না ক্ষমা চাওয়া, না নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।

gulf-sea-indian-dream
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

চেলানি বলেন, “দুটি ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মাত্রা ভিন্ন হলেও একটি বিষয় অভিন্ন। কেবল অর্থনৈতিক বা সামরিক শক্তি দিয়ে সম্মান অর্জন করা যায় না। এর জন্য প্রয়োজন নেতৃত্ব, দৃঢ় সংকল্প এবং নিজের স্বার্থ রক্ষার ইচ্ছাশক্তি। সম্মান কাউকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয় না, অর্জন করে নিতে হয়।”

বৈশ্বিক শান্তি সূচকে এগিয়েছে বাংলাদেশ, পিছিয়েছে ভারত-পাকিস্তানglobal peace index (1)

হাভার্ড কেনেডি স্কুলের বেলফার সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের গবেষক কুনাল সিং বলেন, বেলগ্রেডে চীনা দূতাবাসে বোমা হামলার পর বেইজিং যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল, তা নিঃসন্দেহে এবার ভারতের প্রতিক্রিয়ার তুলনায় অনেক বেশি শক্ত অবস্থানের ছিল।

তবে তার মতে, ভারতের সতর্ক থাকারও যথেষ্ট কারণ আছে। কারণ বিল ক্লিনটনের তুলনায় ট্রাম্প অনেক বেশি অনিশ্চিত ও প্রতিশোধপরায়ণ হতে পারেন। তাই চীনের মতো একই ধরনের দাবি তুললে ভারত ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

কুনাল সিং বলেন, ১৯৯৯ সালের দূতাবাস বোমা হামলা দেখিয়ে দেয় যে, উত্থানশীল শক্তিগুলোকে প্রতিষ্ঠিত পরাশক্তির সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রায়ই কিছু সমঝোতা করতে হয়। তিনি বলেন, তখন চীন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) যোগ দেওয়ার শেষ পর্যায়ে ছিল। দেশের নেতা জিয়াং জেমিন কোনোভাবেই সেই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে চাননি।

চীন ন্যাটোর বোমা হামলাকে অবৈধ মনে করলেও, দেশটির প্রধানমন্ত্রী ঝু রোংজির যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং ডব্লিউটিওতে যোগদানের জন্য ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে তখন দেশটির ভেতরে সমালোচনা হচ্ছিল।

কুনাল সিং বলেন, বিরোধিতা সত্ত্বেও জিয়াং জেমিন ঝু রোংজিকে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যেতে বলেন। সফর শেষে দেশে ফেরার অল্প সময় পরই দূতাবাসে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে।

এই বিশ্লেষক আরও বলেন, হামলার পর চীনে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। সরকার শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের অনুমতিও দিয়েছিল, যা সে সময় খুবই বিরল ঘটনা ছিল। তবু জিয়াং জেমিন দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন। একই বছরের শেষ দিকে তিনি আবারও ডব্লিউটিও নিয়ে আলোচনা শুরু করেন এবং দুই বছর পর চীন আনুষ্ঠানিকভাবে সংস্থাটির সদস্য হয়।

ভারতের বহুমুখী-জোটবদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার গণতন্ত্রীকরণindia us (1)

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক ইন্সটিটিউট ফর চায়না-আমেরিকা স্টাডিজের গবেষক সৌরভ গুপ্ত মনে করেন, বেলগ্রেডে দূতাবাসে বোমা হামলার ঘটনা শেষ পর্যন্ত চীনকে আরও আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ় পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি গড়ে দেয়।

সৌরভ বলেন, দূতাবাসে বোমা হামলার ঘটনাটি চীনের মানুষের মধ্যে এই ধারণা আরও জোরাল করে যে পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে চীনকে অপমান ও অবমূল্যায়ন করে এসেছে। এর ফলে চীন নিজের সেনাবাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করার ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়। তার মতে, আজকের বিশ্বেও এমন কোনো সংকট শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান করা সম্ভব।

সৌরভ বলেন, “শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বের ক্ষেত্রে অন্য পক্ষের উদ্দেশ্য ঠিকভাবে বোঝা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।” তার মতে, তখন যেমন চীনের সতর্ক থাকার যথেষ্ট কারণ ছিল, আজও ভারতের কাছে তেমন কারণ আছে। যদিও এর ফলে দুঃখজনক পরিণতি ঘটেছে, তবু যখন অন্য পক্ষের উদ্দেশ্য নিয়ে যৌক্তিক সন্দেহ থাকে, তখন তড়িঘড়ি পদক্ষেপ না নেওয়াই যুক্তিসঙ্গত।

এই বিশ্লেষক আরও বলেন, নাবিকদের মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে মোদি সরাসরি ট্রাম্পের মুখোমুখি হবেন বলে তিনি মনে করেন না। কারণ তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথা বলার সময় ভারতের আগে নিজের অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরতে হবে। এমনকি প্রয়োজন হলে কঠোর ভাষায় জবাব দিতেও শিখতে হবে।

china india
চীন ও ভারত। ছবি: রয়টার্স

সৌরভ গুপ্তের দাবি, মোদি কিছু ‘খুবই খারাপ’ পররাষ্ট্রনীতি নিয়েছেন। এর মধ্যে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করাও রয়েছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের মুখে ভারত এখন অন্য কোথাও থেকে তেমন সমর্থন পাওয়ার সুযোগ হারিয়েছে। তিনি আরও বলেন, জি-৭ সম্মেলনে নিয়মিত অতিথি হিসেবে অংশ নেওয়াও ভারতের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি খুব একটা শক্তিশালী করতে পারেনি।

বৈশ্বিক শান্তি সূচকে এগিয়েছে বাংলাদেশ, পিছিয়েছে ভারত-পাকিস্তানglobal peace index (1)

কিছু বিশ্লেষকের মতে, ভারত একদিকে অস্ত্রের জন্য রাশিয়া, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং গুরুত্বপূর্ণ আমদানির জন্য চীনের ওপর নির্ভর করেছে। এই কৌশল উল্টো ফল দিয়েছে। কারণ, এসব দেশ যখন ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে গেছে, তখন ভারতের হাতে বিকল্প খুব কম ছিল।

কুনাল সিং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের বর্তমান দুর্বল অবস্থার সুযোগ নিচ্ছে। তার মতে, ভারত শক্তিশালী হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের তুলনায় তার অবস্থান তুলনামূলকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে।

বিদেশি অস্ত্রের ওপর ভারতের নির্ভরতার কথাও উল্লেখ করেন এই বিশ্লেষক। তার দাবি, গত বছরের মে মাসে পাকিস্তান চীনা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভারতের অন্তত চারটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার পর ভারত উন্নত ফরাসি যুদ্ধবিমান কেনার নতুন অর্ডার দেয়। একই সঙ্গে দেশীয়ভাবে সামরিক সরঞ্জাম তৈরির জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তরের দাবিও জোরদার করে।

তবে কুনাল সিং সতর্ক করে বলেন, ভারত যদি এখন থেকেই অত্যাধুনিক অস্ত্র নিজে তৈরি শুরু করে, তবুও পুরোপুরি আত্মনির্ভর হতে দুই থেকে তিন দশক সময় লাগতে পারে। কিছু বিশ্লেষকের মতে, ৯৯৯ সালে চীনের অবস্থান আজকের ভারতের চেয়েও শক্তিশালী ছিল।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কুইন্সি ইন্সটিটিউটের সারাং শিদোরে বলেন, চীনের অবস্থান ভারতের মতো নয়। চীন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য।

সারাং আরও বলেন, ১৯৯০–এর দশকের শেষভাগ ছিল বিশ্বায়নের উত্থানের সময়। তখন কম খরচে উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে চীন মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল। কিন্তু এখন ওয়াশিংটন বিদেশে উৎপাদন স্থানান্তরের সেই নীতি থেকে সরে এসে দেশে কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে বিজয়ী আসলে কে?india pakistan

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি পণ্য কেনা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছে। একই সঙ্গে ভারতীয় পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য নতুন বাধাও তৈরি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ভারতকে চীনের মোকাবিলায় একটি ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি হিসেবে প্রকাশ্যে তুলে ধরতে এড়িয়ে গেছে। মে মাসে ট্রাম্প বেইজিং সফর করলেও নয়াদিল্লি যাননি। এর বদলে কয়েক সপ্তাহ পরে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওকে ভারতে পাঠান।

নিউইয়র্কভিত্তিক এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইন্সটিটিউটের দক্ষিণ এশিয়া কর্মসূচির পরিচালক ফারওয়া আমের বলেন, সম্পর্ক স্থিতিশীল করার চেষ্টা হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে এখনো ‘বিশ্বাসের ঘাটতি’ রয়েছে।

india us
india us

ফারওয়া বলেন, “গত কয়েক বছরে ভারত অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। আমার মনে হয় না, ভারতের জন্য চীনের পথ অনুসরণ করা জরুরি। ওয়াশিংটনের সঙ্গে ভারতের নিজস্ব সম্পর্ক রয়েছে। তবে ভারত ও চীন এশিয়ার দুই বৃহৎ শক্তি, তাই তাদের মধ্যে তুলনা হওয়াটা স্বাভাবিক।”

অন্যদিকে কুনাল সিং মনে করেন, ভারত দেশের জনগণকে শান্ত রাখতে কিছু প্রতীকী পদক্ষেপ নিতে পারে। যেমন–কিছু মার্কিন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা বা বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করা। তবে যুক্তরাষ্ট্র এসব পদক্ষেপকে গুরুত্ব নাও দিতে পারে।

তবে এই বিশ্লেষক সতর্ক করে বলেন, দুই দেশের মধ্যে যদি কোনো ‘নীরব সমঝোতা’ না থাকে, তাহলে এমন পদক্ষেপ উল্টো প্রতিক্রিয়া ডেকে আনতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তখন ভারতের ওপর আরও বেশি শুল্কারোপ করতে পারে বা ভারতীয়দের ভিসা প্রক্রিয়া আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

বিষয়: প্রধানমন্ত্রীপরীক্ষাইরাননরেন্দ্র মোদিযুক্তরাষ্ট্রভারত
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানকে জড়িয়ে অপপ্রচারে প্রভাবিত না হওয়ার অনুরোধ আইএসপিআরের

  • ২

    ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটে ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমান

  • ৩

    যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বন্দুক হামলায় নিহত ৯

  • ৪

    ফিলিস্তিনের নির্বাচন কেন স্থগিত করলেন আব্বাস?

  • ৫

    রিয়াদের কিং খালেদ বিমানবন্দরে হামলায় কয়েকজন আহত, কার্যক্রম বন্ধ

সম্পর্কিত
  • ফিলিস্তিনের নির্বাচন কেন স্থগিত করলেন আব্বাস?

    ফিলিস্তিনের নির্বাচন কেন স্থগিত করলেন আব্বাস?

    গত ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে আব্বাস নভেম্বরে নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন। আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অংশ হিসেবেই তিনি ওই অঙ্গীকার করেছিলেন। এর দুই সপ্তাহ পর আব্বাসের নির্বাচনের সময়সূচি পেছানোর সিদ্ধান্ত এলো।

  • ক্ষমতার ২৫ বছরে কীভাবে এই বাচ্চাদের থামাবেন মোদি?

    ক্ষমতার ২৫ বছরে কীভাবে এই বাচ্চাদের থামাবেন মোদি?

    সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ও অধিকারকর্মী প্রশান্ত ভূষণ আল জাজিরাকে বলেন, “মোদি সরকারকে জনগণের কাছে বেশ ভীত বলে মনে হচ্ছে।”

  • ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

    ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

    ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের কৌশল, রাজনৈতিক মেরুকরণ, ডিজিটাল প্রচারণা এবং আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে

  • মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

    মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

    বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর প্রায় প্রতিদিনের বিক্ষোভ মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এর মাত্র কয়েক মাস আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় একই ধরনের বিক্ষোভের মুখে তার শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।