Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ | স্বত্ব © চরচা
> ভাবনা

রাষ্ট্র যখন আত্মসংযম দেখাচ্ছে, তখন কেন সংখ্যালঘু নির্যাতন বাড়ছে?

মাহফুজ পারভেজ

মাহফুজ পারভেজ

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৪: ০৫
রাষ্ট্র যখন আত্মসংযম দেখাচ্ছে, তখন কেন সংখ্যালঘু নির্যাতন বাড়ছে?
রাষ্ট্র যখন আত্মসংযম দেখাচ্ছে, তখন কেন সংখ্যালঘু নির্যাতন বাড়ছে? ছবি: এআই দিয়ে নির্মিত

মানবাধিকার সংগঠন এমএসএফের (মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন) অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির একটি পরস্পরবিরোধী চিত্র তুলে ধরেছে। একদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু ও নির্যাতনে আহতের ঘটনা শূন্যে নেমেছে, কারা হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যাও কমেছে। রাজনৈতিক সহিংসতায় আহতের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপাসনালয়ে হামলা এবং মব সহিংসতায় প্রাণহানি বেড়েছে। এই বৈপরীত্যের মধ্যেই রয়েছে রাষ্ট্রের বর্তমান সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র এবং কেন সংখ্যালঘু নির্যাতন বাড়ছে, তার কার্যকারণ।

Advertisement

প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতিমা ও মন্দির ভাঙচুর বা চুরির ঘটনা ছিল ১০টি। অক্টোবরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫টিতে। অর্থাৎ এক মাসে বৃদ্ধি ২৫০ শতাংশ। একই সময়ে মব সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ২৩ থেকে বেড়ে ৩২ হয়েছে, যা প্রায় ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি। বিপরীতে রাজনৈতিক সহিংসতায় আহতের সংখ্যা ৩৮৪ থেকে কমে ৮৮-তে নেমেছে। কারা হেফাজতে মৃত্যু ২৪ থেকে কমে ১৬ হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু ও নির্যাতনে আহতের কোনো ঘটনা নথিভুক্ত হয়নি।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এই পরিসংখ্যানকে পাশাপাশি রাখলে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে: রাষ্ট্রের নিজস্ব বাহিনীর আচরণে যখন কিছুটা সংযমের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তখন নাগরিকদের, বিশেষত ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা কেন নিশ্চিত হচ্ছে না? এর উত্তর খুঁজতে হলে কেবল আইনশৃঙ্খলার প্রচলিত ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। রাষ্ট্রের সুরক্ষামূলক দায়িত্ব, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সামাজিক বিদ্বেষ, দায়মুক্তি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা—সবকিছুকে একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

সহিংসতা কমেনি, তার প্রকাশ বদলেছে

রাজনৈতিক সহিংসতায় আহতের সংখ্যা কমে যাওয়াকে সামগ্রিক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ একই সময়ে মব সহিংসতায় প্রাণহানি বেড়েছে এবং রাজনৈতিক বিরোধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু সহিংস ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিহতের সংখ্যা এক থেকে পাঁচে, অজ্ঞাত হামলায় নিহত সাত থেকে নয়ে এবং আহত তিন থেকে দশে পৌঁছেছে।

খুলনায় যুবকের মরদেহ উদ্ধারdead body 2

অর্থাৎ প্রকাশ্য রাজনৈতিক সংঘর্ষের একটি অংশ কমলেও সহিংসতার প্রাণঘাতী রূপ অব্যাহত রয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতা সব সময় বড় মিছিল, সংঘর্ষ কিংবা দলীয় শক্তি প্রদর্শনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। কখনো তা ব্যক্তিগত আক্রমণ, প্রতিশোধ, স্থানীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা কিংবা পরিচয়ভিত্তিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার রূপ নেয়। ফলে আহতের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া একই সঙ্গে ঘটতে পারে।

এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী বিশেষভাবে ঝুঁকিতে থাকে। স্থানীয় পর্যায়ে তাদের রাজনৈতিক দর-কষাকষির ক্ষমতা, সংগঠিত প্রতিরোধ এবং প্রশাসনিক প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে সীমিত। কোনো এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলে তাদের উপাসনালয়, বসতবাড়ি কিংবা সম্পত্তি সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। এ ধরনের হামলা তাই বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখলে এর রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট আড়াল থেকে যায়।

রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষার মধ্যে ব্যবধান

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচনায় রাষ্ট্রের ক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নাগরিকের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার সক্ষমতা। রাষ্ট্রের হাতে আইন প্রয়োগ, গ্রেপ্তার ও শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা থাকে। কিন্তু সেই ক্ষমতার বৈধতা নির্ভর করে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও। রাষ্ট্র নিজের বাহিনীকে সংযত রাখতে পারছে কি না, তা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সাধারণ মানুষকে অন্যের সহিংসতা থেকে রক্ষা করতে পারছে কি না, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এমএসএফের প্রতিবেদনে হেফাজতে মৃত্যু ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্যাতনে আহতের ঘটনা কমে আসা ইতিবাচক লক্ষণ। এটি বাহিনীর আচরণে সংযম এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে জবাবদিহির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিতে পারে। কিন্তু একই সময়ে মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা বৃদ্ধি দেখায়, নাগরিকের ওপর নাগরিকের সহিংসতা প্রতিরোধে রাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ও দুর্বলতা রয়ে গেছে।

চার্লস টিলি রাষ্ট্রকে বৈধ বলপ্রয়োগের একচেটিয়া কর্তৃত্বের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এই ধারণার তাৎপর্য হলো, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজস্ব বিচারবোধ, ধর্মীয় ব্যাখ্যা কিংবা রাজনৈতিক শক্তির ভিত্তিতে অন্যের জীবন ও সম্পত্তির ওপর আক্রমণ চালাতে পারে না। আইন প্রয়োগের কর্তৃত্ব রাষ্ট্রের। কিন্তু মব যখন গুজব, অভিযোগ বা পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষকে আক্রমণ করে, তখন রাষ্ট্রের এই কর্তৃত্ব কার্যত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সেই চ্যালেঞ্জ আরও শক্তিশালী হয়।

সুতরাং রাষ্ট্রের আত্মসংযমকে স্বাগত জানিয়েও বলা দরকার, আত্মসংযমের অর্থ নিষ্ক্রিয়তা নয়। নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে দৃশ্যমান, নিরপেক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে হবে।

‘আমরা’ ও ‘অন্য’-এর রাজনীতি

সংখ্যালঘু নির্যাতনের পেছনে শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতা কাজ করে না; এর একটি মতাদর্শিক ভিত্তিও থাকে। সমাজে যখন কোনো জনগোষ্ঠীকে ‘অন্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তখন তাদের অধিকার ও নিরাপত্তাকে সহজেই প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়। ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয়ের কারণে কাউকে জাতীয় জীবনের সমান অংশীদার হিসেবে বিবেচনা না করার প্রবণতা নাগরিক সমতার ধারণার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, বিজিবি মোতায়েনGazipur

রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় ধর্মীয় আবেগ কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠের পরিচয়কে ব্যবহার করা হলে এই ঝুঁকি বাড়ে। কোনো সংখ্যালঘু নাগরিকের রাজনৈতিক অবস্থান, ধর্মীয় পরিচয় বা সামাজিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে সন্দেহ তৈরি করা হতে পারে। কখনো তাদের একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে এক করে দেখা হয়। তখন ব্যক্তির অপরাধ বা নির্দোষতার প্রশ্নটি গৌণ হয়ে যায়; তার পরিচয়ই তাকে আক্রমণের লক্ষ্য করে তোলে।

এমএসএফের প্রতিবেদনে মাজারে হামলায় আহত হওয়ার দুটি ঘটনা এবং সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি ভাঙচুরের দুটি ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। এগুলো সংখ্যায় সীমিত হলেও সামাজিক তাৎপর্যে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উপাসনালয় বা বসতবাড়িতে হামলা মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত মর্যাদা ও নিরাপদে বসবাসের অধিকারকে আঘাত করে। কোনো জনগোষ্ঠীর উপাসনালয় নিরাপদ না থাকলে তার নাগরিক নিরাপত্তাও প্রশ্নের মুখে পড়ে।

এখানে রাজনৈতিক দলগুলোর দায় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ধর্মীয় পরিচয়কে নির্বাচনী সুবিধা অর্জনের হাতিয়ার করা, প্রতিপক্ষকে অবৈধ বা দেশবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা কিংবা উসকানিমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে নীরব থাকা—এসব আচরণ সামাজিক অসহিষ্ণুতাকে প্রশ্রয় দিতে পারে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব হলো এমন প্রবণতা প্রতিহত করা, কোনোভাবেই তা থেকে তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়া নয়।

দায়মুক্তি সহিংসতার ঝুঁকি বাড়ায়

সংখ্যালঘু নির্যাতন ও মব সহিংসতা অব্যাহত থাকার পেছনে বিচারহীনতার আশঙ্কা একটি বড় কারণ। অপরাধী যদি মনে করে, হামলার পর তাকে শনাক্ত করা হবে না, গ্রেপ্তার করা হবে না কিংবা রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে বিচার এড়ানো সম্ভব হবে, তাহলে অপরাধের ঝুঁকি তার কাছে কম মনে হতে পারে। অপরাধবিজ্ঞানের যুক্তিতে এটিকে অপরাধের প্রত্যাশিত ব্যয় ও সম্ভাব্য লাভের হিসাবের সঙ্গে ব্যাখ্যা করা যায়।

তবে দায়মুক্তি শুধু আদালতে বিচার না হওয়ার বিষয় নয়। ঘটনার পরপর পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা, অভিযোগ গ্রহণে অনীহা, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় পক্ষপাত, তদন্তে বিলম্ব এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তাহীনতাও বিচারহীনতার পরিবেশ তৈরি করে। ফলে প্রতিটি ঘটনার পর প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যৎ সহিংসতার ওপর প্রভাব ফেলে।

প্রতিমা ও মন্দির ভাঙচুরের ঘটনা ১০ থেকে ৩৫-এ পৌঁছানো তাই শুধু অপরাধের সংখ্যা বৃদ্ধির হিসাব নয়। এটি প্রতিরোধব্যবস্থা কতটা কার্যকর, অপরাধীরা কতটা নিরুৎসাহিত হচ্ছে এবং আক্রান্ত জনগোষ্ঠী প্রশাসনের ওপর কতটা আস্থা রাখতে পারছে—এসব প্রশ্ন সামনে আনে। অপরাধের পর দ্রুত তদন্ত, অভিযুক্তদের নিরপেক্ষভাবে বিচারের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে একই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থাকে।

অক্টোবরে দলবদ্ধ ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন ও হয়রানি বেড়েছে: এমএসএফmsf

পরিসংখ্যানের অর্থ ও সীমাবদ্ধতা

এমএসএফের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক পর্যবেক্ষণ। তবে এর তথ্যকে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। কোনো মাসে ঘটনা বেশি নথিভুক্ত হওয়া মানেই সব ক্ষেত্রে প্রকৃত অপরাধের হার একই অনুপাতে বেড়েছে—এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের সংখ্যা, স্থানীয়ভাবে তথ্য সংগ্রহ, ভুক্তভোগীর অভিযোগ জানানোর সুযোগ এবং ভয়ভীতির পরিবেশ—এসব বিষয় পরিসংখ্যানকে প্রভাবিত করতে পারে।

প্রতিবেদনে কিছু সূচকের উন্নতির পাশাপাশি অন্য কিছু সূচকের অবনতির কথা এসেছে। তাই এক বা দুটি ইতিবাচক সংখ্যার ভিত্তিতে সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি দাবি করা যেমন যুক্তিসংগত নয়, তেমনি একটি মাসের পরিসংখ্যান থেকেই দীর্ঘমেয়াদি অবনতির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়াও সতর্কতার দাবি রাখে। প্রয়োজন ধারাবাহিক তথ্য, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সরকারি ও বেসরকারি পর্যবেক্ষণের তুলনামূলক এবং অব্যাহত মূল্যায়ন ও মনিটরিং, যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

গণতন্ত্রের পরীক্ষা সংখ্যালঘুর নিরাপত্তায়

গণতন্ত্রের বৈধতা শুধু নির্বাচন, সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন কিংবা সরকার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় না। এর প্রকৃত পরীক্ষা হলো রাষ্ট্র সব নাগরিককে সমান অধিকার ও নিরাপত্তা দিতে পারছে কি না। সংখ্যাগরিষ্ঠের রাজনৈতিক ইচ্ছা কখনো সংখ্যালঘুর জীবন, সম্পত্তি, ধর্মীয় স্বাধীনতা কিংবা মর্যাদা হরণের অনুমতি দিতে পারে না। এই সীমারেখা রক্ষা করাই সাংবিধানিক গণতন্ত্রের অন্যতম শর্ত।

অতএব, অক্টোবর মাসের পরিসংখ্যান রাষ্ট্রের জন্য একটি দ্বিমুখী সতর্কবার্তা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু ও নির্যাতনের ঘটনা কমে আসা অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে মব সহিংসতা, উপাসনালয়ে হামলা এবং পরিচয়ভিত্তিক নির্যাতন প্রতিরোধে রাষ্ট্রের সুরক্ষামূলক ভূমিকা জোরদার করতে হবে। এ জন্য আক্রান্ত এলাকায় আগাম নিরাপত্তা, দ্রুত পুলিশি হস্তক্ষেপ, নিরপেক্ষ তদন্ত, সাক্ষী ও ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক দলগুলোকেও স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় উদ্দেশ্যেই গ্রহণযোগ্য নয়।

রাষ্ট্রের আত্মসংযম তখনই অর্থবহ হবে, যখন তা নাগরিকের নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত হবে। রাষ্ট্র নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে বিরত থাকবে, আবার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকেও সেই সরকারি ক্ষমতার শূন্যতার সুযোগ ব্যবহার করে অন্যের অধিকার হরণ করতে দেবে না। গণতন্ত্রের শক্তি সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রভাব দিয়ে নয়, সবচেয়ে দুর্বল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই পরিমাপ যোগ্য। অক্টোবরের পরিসংখ্যান সেই কথাই নতুন করে মনে করিয়ে দেয়।

লেখক : প্রফেসর ও চেয়ারম্যান, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং নির্বাহী পরিচালক, চট্টগ্রাম সেন্টার ফর রিজিওনাল স্টাডিজ বাংলাদেশ (সিসিআরএসবিডি)।

বিষয়: নির্যাতনরাষ্ট্রসংখ্যালঘুমানবাধিকার দিবসমানবাধিকার লঙ্ঘনআইনশৃঙ্খলা
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    বুলগেরিয়ায় চলছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট

  • ২

    তাহসিফ ও দ্বীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

  • ৩

    দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশ, নিরাপত্তা জোরদার

  • ৪

    তাহসিফের সঙ্গে থাকা সেই তরুণী গ্রেপ্তার, ৭ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

  • ৫

    রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ গ্রেপ্তার

সম্পর্কিত
  • প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    চলতি বছর জানুয়ারি থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (মোট ২৭৩ দিন) ৯ মাসে দেশে এসেছে চার হাজার ৬০টি মরদেহ। এ হিসাবে দিনে মরদেহ এসেছে গড়ে ১৪টির বেশি। সবচেয়ে বেশি কর্মী মারা যান সৌদি আরবে, দুই হাজারের মতো। সরকার প্রবাসী কার্ড দেবে, ভালো কথা। কিন্তু বিদেশে গিয়ে যারা লাশ বা পঙ্গু হয়ে ফিরে আসেন, তাদের তো

  • স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ঘিরে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় একটি প্রশ্ন সামনে আসে। আর তা হলো, সমস্যা স্লোগানের উচ্চারণে, নাকি অপব্যবহারে? কারণ, রাজনীতির মাঠ-ময়দানে উচ্চারিত একটি স্লোগান কখনো কেবল কয়েকটি শব্দের সমষ্টি নয়: ইতিহাস, আবেগ, পরিচয়, রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা এবং কখনো কখনো মানুষের আত্মত্যাগের স্মৃতি। দৃষ্

  • আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা: দুধের বোতল থেকে বিশ্বরাজনীতির শিক্ষা

    আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা: দুধের বোতল থেকে বিশ্বরাজনীতির শিক্ষা

    সুপারমার্কেট থেকে দুই শতাংশ চর্বিযুক্ত দুধের একটি বোতল কেনার সময় সাধারণত কেউ আন্তর্জাতিক রাজনীতির কথা ভাবেন না। ক্রেতার প্রত্যাশা থাকে, বোতলের গায়ে যা লেখা আছে, ভেতরের পণ্যও ঠিক তা-ই হবে। কিন্তু এই সাধারণ আস্থার পেছনেও রয়েছে আন্তর্জাতিক নিয়ম, মান নির্ধারণ এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের একটি বিস্তৃত

  • অর্থনীতির নাজুক অবস্থায় সচিবালয় স্থানান্তর খুব কি জরুরি?

    অর্থনীতির নাজুক অবস্থায় সচিবালয় স্থানান্তর খুব কি জরুরি?

    বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য জানাচ্ছে, বাজেটের আওতাধীন দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যাংক থেকে নেওয়া সরকারের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজর ২৪৫ কোটি টাকা। একই ধারাবাহিকতায় নভেম্বরের গোড়াতে সরকারি কর্মচারীদেরকে নতুন বেতন স্কেলে অক্টোবর মাসের বেতন