আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকি ও দেশের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক উদ্বেগের মধ্যে আজ রোববার বুলগেরিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ইলিয়ানা ইয়োতোভা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিরোধী প্রার্থী ও সাবেক অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই গিউরভের সঙ্গে। ইয়োতোভা নির্বাচনে জয়ী হলে বুলগেরিয়ার প্রথম নির্বাচিত নারী প্রেসিডেন্ট হবেন।
বার্তা সংস্থা এপির বরাতে বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
গত ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোটে গিউরভের চেয়ে মাত্র ২ দশমিক ৮ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন ইয়োতোভা। দেশটির নির্বাচন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ওই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল রেকর্ড সর্বনিম্ন। যোগ্য ভোটারদের মাত্র ২৩ শতাংশ ভোট দিয়েছিলেন। নিয়মানুযায়ী প্রথম রাউন্ডে কোনো প্রার্থী প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে বা ভোটার উপস্থিতি ৫০ শতাংশের নিচে থাকলে, শীর্ষ দুই প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় বা চূড়ান্ত রাউন্ডের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত মেরুকৃত এই নির্বাচনে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে দুই প্রার্থীই তাদের ভিন্ন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় (বাংলাদেশ সময় ১১টা) ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। রাত ৮টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা) ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই বুথফেরত জরিপের প্রাথমিক ফল প্রকাশের কথা রয়েছে। আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করা হবে আগামীকাল সোমবার।
ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক দুরবস্থা এবং কৃষ্ণসাগরে নৌযান চলাচলের ওপর ড্রোন হামলা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বুলগেরিয়ার জনগণ ভোট দিচ্ছেন। এসব হামলায় বেশ কয়েকজন নাবিক নিহত হয়েছেন, নিখোঁজও রয়েছেন কয়েকজন।
ইয়োতোভা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এ বছরের শুরুর দিকে সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান রুমেন রাদেভ পদত্যাগ করে সাধারণ নির্বাচনে তার দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পান ইয়োতোভা।
প্রধানমন্ত্রী রাদেভের মস্কোপন্থী প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়া পার্টির জন্য এই নির্বাচন প্রথম বড় পরীক্ষা। দলটি ইয়োতোভাকে সমর্থন দিয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, ইয়োতোভা বুলগেরিয়াকে ইউরোপমুখী রাখার পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পক্ষে রাদেভের নীতি অব্যাহত রাখবেন।
ইয়োতোভা ও রাদেভ—দুজনই ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন হামলায় রাশিয়ার সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তারা স্পষ্ট অবস্থান নিতে এড়িয়ে গেছেন।
চলতি সপ্তাহে দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর মধ্যে টেলিভিশন বিতর্কে ইয়োতোভা ইউক্রেন ও রাশিয়া—উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সমঝোতার পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, “শুধু আলোচনার মাধ্যমেই শান্তি আসতে পারে।” এ ছাড়া কৃষ্ণসাগরের ছয়টি দেশকে নিয়ে একটি নিরাপত্তাবিষয়ক বৈঠক আয়োজন করে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে একটি স্থগিতাদেশে স্বাক্ষরের প্রস্তাব দেন তিনি।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ইয়োতোভা জয়ী হলে প্রেসিডেন্টের পদ ক্ষমতাসীন সংখ্যাগরিষ্ঠের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। তাদের আশঙ্কা, ক্ষমতার এমন কেন্দ্রীকরণ নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য বজায় রাখার পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
ইয়োতোভার প্রতিদ্বন্দ্বী অর্থনীতিবিদ গিউরভ। তিনি দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে তিনি দেশটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পশ্চিমাপন্থী ও সংস্কারপন্থী বিরোধী দলগুলো তাকে সমর্থন দিচ্ছে।
গিউরভ প্রায়ই ইউক্রেনের প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে তিনি কিয়েভের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তিও স্বাক্ষর করেন।
গিউরভ বলেছেন, তিনি বুলগেরিয়াকে ন্যাটোর এমন একটি নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে দেখতে চান, যে দেশ শক্তিশালী কূটনীতি ও দৃঢ় অবস্থানের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে সক্ষম।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে আগ্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করতে সরকারের অনীহার সমালোচনা করেছেন গিউরভ। তিনি হুমকি চিহ্নিত করার পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই বুলগেরিয়ার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আপনার কোনো অবস্থান না থাকলে এবং আপনি আলোচনার টেবিলে না থাকলে, প্রকৃতপক্ষে আপনাকেই খাবারের তালিকায় রাখা হয়।”