ভার্গিস কে. জর্জ

একটি নতুন প্রজন্মের হাত ধরে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন মাত্রার যোগ হয়েছে। যা কেবল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জই করছে না, বরং বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশকেও নতুন করে সাজাতে বাধ্য করছে। এই আন্দোলন ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রকে কীভাবে পরিবর্তিত করছে, তা নিয়ে বিরোধী শিবিরের একাংশ নতুন সম্ভাবনার আলো দেখছে। বিজেপির বিরোধিতাকারী অনেকেই নিজেদের ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা বলে অভিহিত করা তরুণ আন্দোলনকারীদের মধ্যে এক ধরনের নতুন আশা খুঁজে পাচ্ছেন।
ভারত সরকারের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ এই তরুণদের ভারতের সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি যখন তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন, তখন তারা স্বকীয় আত্মব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে নিজেদের দলটির নাম দেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। বিরোধীদের একটি অংশের ধারণা, কংগ্রেসের মতো প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর উচিত এই সিজেপির রাজনৈতিক বার্তার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করা।
অন্যদিকে, বিজেপির ভেতরে আশা এবং কংগ্রেসের মূল দুশ্চিন্তার জায়গাটি হলো— এই ধরনের আন্দোলন হয়তো অদূর ভবিষ্যতে কংগ্রেসের নিজস্ব ভোটব্যাংককেই গ্রাস করে ফেলবে। বিজেপির নির্বাচন কৌশলবিদ দেবেন্দ্র কুমার যেমন এক্সে মন্তব্য করেছেন যে, যেভাবে আম আদমি পার্টি (আপ) দিল্লি ও পাঞ্জাবে কংগ্রেসকে নিশ্চিহ্ন করেছে, সেভাবে সিজেপি কংগ্রেসকে কোথায় গিয়ে ঠেকায় তা-ই এখন দেখার বিষয়।
তবে এই নতুন আন্দোলন মোকাবিলায় বিরোধী দলগুলো মোটেও ঐক্যবদ্ধ নয়। কারণ দলগুলোর মধ্যে ও ভেতরে দৃষ্টিভঙ্গির স্পষ্ট ফারাক রয়েছে। সমাজবাদী পার্টি ও বামপন্থীদের একাংশ মনে করে যে এই প্রতিবাদকারীদের সমর্থন করলে বিরোধী রাজনৈতিক ক্ষেত্র আরও প্রসারিত হতে পারে। যদিও তরুণ প্রতিবাদকারীদের পেছনে থেকে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করা কতটুকু যুক্তিযুক্ত হবে তা নিয়ে কংগ্রেসের ভেতরে দ্বিমত রয়েছে। আবার বামপন্থীদের মধ্যেও কেউ কেউ এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার পক্ষপাতী। পরিস্থিতি বুঝে গত ২১ জুলাই কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের বাইরে ধরনা কর্মসূচি পালন করে সময়ের সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
সাধারণ গণতান্ত্রিক সমাজে সরকারের নীতি বা শাসনের বিরুদ্ধে জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষের হঠাৎ প্রকাশ পাওয়া কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। কিন্তু এই ধরনের সাময়িক সামাজিক ক্ষোভ বাস্তবে কোনো সুসংগঠিত রাজনৈতিক গণজাগরণে রূপ নেবে কি না এবং নির্বাচনে তার কী প্রভাব পড়বে, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে পরিস্থিতির ওপর। প্রতিবাদ আন্দোলন অনেক সময় নাটকীয় নির্বাচনী ফলাফলের জন্ম দিতে পারে, আবার কখনো কখনো সাময়িক বাষ্প মোচন করে কোনো বড় পরিবর্তন ছাড়াই মিলিয়ে যেতে পারে।
২০১১ সালের কেজরিওয়াল-আন্না হাজারের আন্দোলন কিন্তু তৎকালীন কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের বিরুদ্ধে জমে থাকা গণক্ষোভকে এক ছাতার নিচে এনে শেষ পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদীর বিজেপির অনুকূলে নিয়ে গিয়েছিল। কংগ্রেস সেই সময়ে জনগণের ক্ষোভের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল। আর আজ কংগ্রেস ভয় পাচ্ছে যে বর্তমান শাসকদলের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা ক্ষোভের তরঙ্গটি কোনো নির্দিষ্ট নীতি, কর্মসূচি বা সাংগঠনিক কাঠামো না থাকার কারণে একটি অরাজনৈতিক আন্দোলনের দারুণ অপচয় হতে পারে। তবে যারা এই আন্দোলনের সুবিধা নিতে চান, তাদের বিশ্বাস এই তরুণেরা মূলত সরকারকেই নিশানায় রাখছে এবং উপযুক্ত সমন্বয়ের মাধ্যমে এই ক্ষোভকে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।

বিগত দিনের অন্তত তিনটি অরাজনৈতিক আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকে বর্তমান পরিস্থিতিকে বোঝা সহজ হতে পারে। প্রথম দফায় রয়েছে মোদী সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে ঘটা ২০১৯-২০ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) বিরোধী আন্দোলন এবং ২০২০-২১ সালের ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলন। আর তার ঠিক আগের ধাপে রয়েছে ২০১১ সালের আন্না হাজারে-অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০১২ সালের নির্ভয়া গণধর্ষণ মামলা কেন্দ্রিক বিক্ষোভ। যদিও এই আন্দোলনগুলোর সামাজিক রূপরেখা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিমাপ করা কঠিন। তবুও কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট। কৃষক আন্দোলন মূলত দিল্লির আশপাশের একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানার ধনী কৃষকদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল।
অন্যদিকে সিএএ বিরোধী আন্দোলনটিকে শাসকদল একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছিল। আবার শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণী, যারা নিজেদের রাজনীতিবিচ্ছিন্ন মনে করে, তারা ২০১১ সালে আন্না হাজারের আন্দোলনে মোমবাতি হাতে রাজপথে নামলেও কৃষক বা সিএএ আন্দোলনের সময়ে নীরব ভূমিকা পালন করেছে কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে আন্দোলনের বিরোধিতা করেছে।
অনেক ক্ষেত্রে এই কথিত ‘অরাজনৈতিক’ মধ্যবিত্তের ভূমিকা চরম রূপ নেয় এবং তারা সার্বিক রাজনীতিকেই অবৈধ মনে করতে শুরু করে। এই মধ্যবিত্ত শ্রেণীই আবার যখন মূল্যবৃদ্ধি বা পরীক্ষা প্রশ্নফাঁসের মতো নিজস্ব সরাসরি ব্যক্তিগত সংকটের মুখোমুখি হয়, তখন প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। ২০২৬ সালে ভারতের বিপুল সংখ্যক তরুণ যখন আয় ও কর্মসংস্থানের চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষায় অনিয়ম তাদের সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।

বিগত দিনের কৃষক আন্দোলনের সামনে নতিস্বীকার করে সরকার শেষ পর্যন্ত বিতর্কিত কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছিল। তবে সিএএ আন্দোলন একসময় ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, এই দুটি আন্দোলনই পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনগুলোতে বড় ধরনের কোনো সার্বিক রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারেনি। কারণ বিজেপি তাদের কৌশলগত রাজনীতির মাধ্যমে এগুলোকে দেশের বৃহৎ অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন একটি নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর লড়াই হিসেবে চিহ্নিত করতে পেরেছিল।
কিন্তু ঠিক এই জায়গাতেই বর্তমানের তরুণদের আন্দোলন বিজেপির সামনে এক অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জ এবং বিরোধী দলগুলোর জন্য এক অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে। কারণ সিজেপির ব্যানারে সমবেত হওয়া এই প্রতিবাদী তরুণেরা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছে না। তারা পুরো ভারতীয় সমাজের এক অনুভূমিক অংশের প্রতিনিধি, বিশেষ করে হিন্দি বলয়ের সেই বিজেপির দুর্গগুলোতে এদের বিস্তার বেশি, যেখানে জনসংখ্যাভিত্তিক এই তরুণ অনুপাতটি আশার চেয়ে বরং হতাশার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফলে বিজেপি সহজেই এদের ওপর কোনো একটি নির্দিষ্ট ট্যাগের তকমা এঁটে দিতে বা একটি বিশেষ গোষ্ঠী হিসেবে কোণঠাসা করতে পারছে না। এরা সামাজিকভাবে বৈচিত্র্যময় এবং মূলত হিন্দু-হিন্দী বলয়ের কেন্দ্রস্থলে অবস্থান করায় এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ ঘটানো শাসকদলের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। অতীতে ১৯৭৪ সালের গুজরাতের নবনির্মাণ আন্দোলন, জেপি আন্দোলন কিংবা আন্না হাজারের আন্দোলনের মতো ঘটনাগুলোতে দুর্নীতিবিরোধী স্লোগানকে ঢাল করে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী একজোট হয়ে তৎকালীন কংগ্রেস ব্যবস্থা ভেঙে দিয়েছিল।
অতীতে যেসব কৌশল ও আন্দোলন বিজেপিকে ক্ষমতায় আসতে সাহায্য করেছিল, সেই একই কৌশল এখন বিজেপির আধিপত্যকে ভেঙে দিতে পারে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। ২০১৯ সালে বিজেপি সর্বোচ্চ ৩৭ শতাংশের মতো ভোট পেয়েছিল, যার অর্থ দাঁড়ায় দেশের প্রায় ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ কিন্তু কখনোই বিজেপিকে ভোট দেয় না। তবে কোনো আন্দোলন যদি একটি বিশেষ সম্প্রদায় বা অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে বিজেপি তা নিয়ে খুব একটা চিন্তা করে না। বরং অনেক সময় বিপরীত মেরুকরণ ঘটিয়ে নিজের ভোট সুসংহত করে। যেমনটি তারা কৃষক বা সিএএ আন্দোলনের ক্ষেত্রে করেছিল। তবে ভারতে মানুষের ভোট দেওয়ার পছন্দে একটি গতিশীলতা রয়েছে।
২০০৪ বা ২০১৪ সালের পর থেকে বিজেপি যেমন অনেক পুরোনো সমর্থক হারিয়েছে, তেমনি নতুন ক্ষেত্রে সমর্থন জোগাড়ও করেছে। হিন্দুত্বের ভাবাদর্শগত আবেদন এখনও অটুট রয়েছে। তবে তারা আগামী ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে তাদের ভোটের অনুপাতকে আরও শক্তিশালী করতে চায়। বিজেপির রাজনৈতিক ছকে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর চেয়ে সিজেপি সংবাদপত্রের শিরোনামে থাকা অনেক বেশি সুবিধাজনক বলে মনে করা হতে পারে।
কিন্তু বিক্ষোভ দমনের জন্য বিজেপির পুরোনো কৌশলগুলো এখন আর তেমন কার্যকর হচ্ছে না। কারণ তারা এখন এক সম্পূর্ণ নতুন প্রজন্ম এবং তাদের রাজনৈতিক মনস্তত্ত্বের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। আজকের ২০ বছর বয়সী একজন প্রতিবাদীর বয়স ২০১৪ সালে মোদি প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় ছিল মাত্র ৮ বছর। তাদের বাবা-মায়ের প্রজন্ম হয়তো তড়িঘড়ি করে বিজেপির আগমনকে স্বাগত জানিয়েছিল, কিন্তু তাদের সন্তানেরা আজ সেই রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের বোঝা ঝেড়ে ফেলতে চাইছে।
মোদি সরকারের অধীনে ‘হিন্দুত্ব ২.০’-এর উত্থান যদি হোয়াটসঅ্যাপ প্রজন্মের মাধ্যমে ঘটে থাকে, তবে আজকের এই চ্যালেঞ্জটি আসছে মূলত ইনস্টাগ্রাম প্রজন্মের কাছ থেকে। আর এই কারণেই রাজনীতিবিচ্ছিন্ন বলে মনে হওয়া এই হঠাৎ ক্ষোভের স্ফুরণ একসময় গণআন্দোলনে রূপ নিয়ে বিজেপিকে বিপাকে ফেলতে পারে। তবে এটাও সত্যি যে, কেবল এই তরুণ আন্দোলনকারীদের একা বিজেপির মতো শক্ত ভিত্তিকে নড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা নেই। আর এখানেই কংগ্রেসসহ প্রধান বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
অতীতে বিজেপি ও তাদের পূর্বসূরি জনসংঘ জেপি আন্দোলন কিংবা আন্না হাজারের আন্দোলনের মতো গণজাগরণকে নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দায় ব্যবহার করে কংগ্রেসকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিতে সফল হয়েছিল এবং ভি পি সিং বা কেজরিওয়ালের মতো নতুন মুখের উত্থানের সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু ভারতের ইতিহাসে এটিই প্রথম ঘটনা, যেখানে একই ধরনের একটি অরাজনৈতিক আন্দোলনের ঢেউ খোদ বিজেপির বিরুদ্ধে আছড়ে পড়ছে। যেখানে বিজেপি এমন একটি দল যার সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, সুনির্দিষ্ট আদর্শিক ভিত্তি, কঠোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহারের কোনো দ্বিধা নেই।
ইতিহাস বলে, এই ধরণের ক্ষোভের আন্দোলন চূড়ান্ত বিচারে ভারতের উদারবাদী, ধর্মনিরপেক্ষ ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা কমায়। সেই অর্থে এই তেলাপোকা বা ককরোচ আন্দোলনটি ভারতের রাজনৈতিক সংকটের সমাধান হওয়ার চেয়ে বরং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতার একটি লক্ষণ মাত্র। আগে যেভাবে বিজেপি অন্য আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কংগ্রেসকে কোণঠাসা করেছিল, কংগ্রেস কি এখন একই অস্ত্র ব্যবহার করে বিজেপির ক্ষেত্রে তা পুনরাবৃত্তি করতে পারবে? সেটাই এখন দেশের রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কারণ এই চলমান তরুণ আন্দোলনের ভেতরে বিজেপি ও বিরোধী দল– উভয়ের জন্যই চরম ঝুঁকি ও সম্ভাবনা পাশাপাশি অবস্থান করছে।
(এই লেখাটি ভারতের দ্য হিন্দু পত্রিকার সৌজন্যে প্রকাশিত)
লেখক: দ্য হিন্দু পত্রিকার নয়াদিল্লির আবাসিক সম্পাদক

একটি নতুন প্রজন্মের হাত ধরে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন মাত্রার যোগ হয়েছে। যা কেবল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জই করছে না, বরং বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশকেও নতুন করে সাজাতে বাধ্য করছে। এই আন্দোলন ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রকে কীভাবে পরিবর্তিত করছে, তা নিয়ে বিরোধী শিবিরের একাংশ নতুন সম্ভাবনার আলো দেখছে। বিজেপির বিরোধিতাকারী অনেকেই নিজেদের ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা বলে অভিহিত করা তরুণ আন্দোলনকারীদের মধ্যে এক ধরনের নতুন আশা খুঁজে পাচ্ছেন।
ভারত সরকারের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ এই তরুণদের ভারতের সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি যখন তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন, তখন তারা স্বকীয় আত্মব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে নিজেদের দলটির নাম দেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। বিরোধীদের একটি অংশের ধারণা, কংগ্রেসের মতো প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর উচিত এই সিজেপির রাজনৈতিক বার্তার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করা।
অন্যদিকে, বিজেপির ভেতরে আশা এবং কংগ্রেসের মূল দুশ্চিন্তার জায়গাটি হলো— এই ধরনের আন্দোলন হয়তো অদূর ভবিষ্যতে কংগ্রেসের নিজস্ব ভোটব্যাংককেই গ্রাস করে ফেলবে। বিজেপির নির্বাচন কৌশলবিদ দেবেন্দ্র কুমার যেমন এক্সে মন্তব্য করেছেন যে, যেভাবে আম আদমি পার্টি (আপ) দিল্লি ও পাঞ্জাবে কংগ্রেসকে নিশ্চিহ্ন করেছে, সেভাবে সিজেপি কংগ্রেসকে কোথায় গিয়ে ঠেকায় তা-ই এখন দেখার বিষয়।
তবে এই নতুন আন্দোলন মোকাবিলায় বিরোধী দলগুলো মোটেও ঐক্যবদ্ধ নয়। কারণ দলগুলোর মধ্যে ও ভেতরে দৃষ্টিভঙ্গির স্পষ্ট ফারাক রয়েছে। সমাজবাদী পার্টি ও বামপন্থীদের একাংশ মনে করে যে এই প্রতিবাদকারীদের সমর্থন করলে বিরোধী রাজনৈতিক ক্ষেত্র আরও প্রসারিত হতে পারে। যদিও তরুণ প্রতিবাদকারীদের পেছনে থেকে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করা কতটুকু যুক্তিযুক্ত হবে তা নিয়ে কংগ্রেসের ভেতরে দ্বিমত রয়েছে। আবার বামপন্থীদের মধ্যেও কেউ কেউ এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার পক্ষপাতী। পরিস্থিতি বুঝে গত ২১ জুলাই কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের বাইরে ধরনা কর্মসূচি পালন করে সময়ের সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
সাধারণ গণতান্ত্রিক সমাজে সরকারের নীতি বা শাসনের বিরুদ্ধে জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষের হঠাৎ প্রকাশ পাওয়া কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। কিন্তু এই ধরনের সাময়িক সামাজিক ক্ষোভ বাস্তবে কোনো সুসংগঠিত রাজনৈতিক গণজাগরণে রূপ নেবে কি না এবং নির্বাচনে তার কী প্রভাব পড়বে, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে পরিস্থিতির ওপর। প্রতিবাদ আন্দোলন অনেক সময় নাটকীয় নির্বাচনী ফলাফলের জন্ম দিতে পারে, আবার কখনো কখনো সাময়িক বাষ্প মোচন করে কোনো বড় পরিবর্তন ছাড়াই মিলিয়ে যেতে পারে।
২০১১ সালের কেজরিওয়াল-আন্না হাজারের আন্দোলন কিন্তু তৎকালীন কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের বিরুদ্ধে জমে থাকা গণক্ষোভকে এক ছাতার নিচে এনে শেষ পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদীর বিজেপির অনুকূলে নিয়ে গিয়েছিল। কংগ্রেস সেই সময়ে জনগণের ক্ষোভের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল। আর আজ কংগ্রেস ভয় পাচ্ছে যে বর্তমান শাসকদলের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা ক্ষোভের তরঙ্গটি কোনো নির্দিষ্ট নীতি, কর্মসূচি বা সাংগঠনিক কাঠামো না থাকার কারণে একটি অরাজনৈতিক আন্দোলনের দারুণ অপচয় হতে পারে। তবে যারা এই আন্দোলনের সুবিধা নিতে চান, তাদের বিশ্বাস এই তরুণেরা মূলত সরকারকেই নিশানায় রাখছে এবং উপযুক্ত সমন্বয়ের মাধ্যমে এই ক্ষোভকে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।

বিগত দিনের অন্তত তিনটি অরাজনৈতিক আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকে বর্তমান পরিস্থিতিকে বোঝা সহজ হতে পারে। প্রথম দফায় রয়েছে মোদী সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে ঘটা ২০১৯-২০ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) বিরোধী আন্দোলন এবং ২০২০-২১ সালের ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলন। আর তার ঠিক আগের ধাপে রয়েছে ২০১১ সালের আন্না হাজারে-অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০১২ সালের নির্ভয়া গণধর্ষণ মামলা কেন্দ্রিক বিক্ষোভ। যদিও এই আন্দোলনগুলোর সামাজিক রূপরেখা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিমাপ করা কঠিন। তবুও কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট। কৃষক আন্দোলন মূলত দিল্লির আশপাশের একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানার ধনী কৃষকদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল।
অন্যদিকে সিএএ বিরোধী আন্দোলনটিকে শাসকদল একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছিল। আবার শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণী, যারা নিজেদের রাজনীতিবিচ্ছিন্ন মনে করে, তারা ২০১১ সালে আন্না হাজারের আন্দোলনে মোমবাতি হাতে রাজপথে নামলেও কৃষক বা সিএএ আন্দোলনের সময়ে নীরব ভূমিকা পালন করেছে কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে আন্দোলনের বিরোধিতা করেছে।
অনেক ক্ষেত্রে এই কথিত ‘অরাজনৈতিক’ মধ্যবিত্তের ভূমিকা চরম রূপ নেয় এবং তারা সার্বিক রাজনীতিকেই অবৈধ মনে করতে শুরু করে। এই মধ্যবিত্ত শ্রেণীই আবার যখন মূল্যবৃদ্ধি বা পরীক্ষা প্রশ্নফাঁসের মতো নিজস্ব সরাসরি ব্যক্তিগত সংকটের মুখোমুখি হয়, তখন প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। ২০২৬ সালে ভারতের বিপুল সংখ্যক তরুণ যখন আয় ও কর্মসংস্থানের চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষায় অনিয়ম তাদের সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।

বিগত দিনের কৃষক আন্দোলনের সামনে নতিস্বীকার করে সরকার শেষ পর্যন্ত বিতর্কিত কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছিল। তবে সিএএ আন্দোলন একসময় ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, এই দুটি আন্দোলনই পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনগুলোতে বড় ধরনের কোনো সার্বিক রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারেনি। কারণ বিজেপি তাদের কৌশলগত রাজনীতির মাধ্যমে এগুলোকে দেশের বৃহৎ অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন একটি নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর লড়াই হিসেবে চিহ্নিত করতে পেরেছিল।
কিন্তু ঠিক এই জায়গাতেই বর্তমানের তরুণদের আন্দোলন বিজেপির সামনে এক অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জ এবং বিরোধী দলগুলোর জন্য এক অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে। কারণ সিজেপির ব্যানারে সমবেত হওয়া এই প্রতিবাদী তরুণেরা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছে না। তারা পুরো ভারতীয় সমাজের এক অনুভূমিক অংশের প্রতিনিধি, বিশেষ করে হিন্দি বলয়ের সেই বিজেপির দুর্গগুলোতে এদের বিস্তার বেশি, যেখানে জনসংখ্যাভিত্তিক এই তরুণ অনুপাতটি আশার চেয়ে বরং হতাশার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফলে বিজেপি সহজেই এদের ওপর কোনো একটি নির্দিষ্ট ট্যাগের তকমা এঁটে দিতে বা একটি বিশেষ গোষ্ঠী হিসেবে কোণঠাসা করতে পারছে না। এরা সামাজিকভাবে বৈচিত্র্যময় এবং মূলত হিন্দু-হিন্দী বলয়ের কেন্দ্রস্থলে অবস্থান করায় এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ ঘটানো শাসকদলের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। অতীতে ১৯৭৪ সালের গুজরাতের নবনির্মাণ আন্দোলন, জেপি আন্দোলন কিংবা আন্না হাজারের আন্দোলনের মতো ঘটনাগুলোতে দুর্নীতিবিরোধী স্লোগানকে ঢাল করে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী একজোট হয়ে তৎকালীন কংগ্রেস ব্যবস্থা ভেঙে দিয়েছিল।
অতীতে যেসব কৌশল ও আন্দোলন বিজেপিকে ক্ষমতায় আসতে সাহায্য করেছিল, সেই একই কৌশল এখন বিজেপির আধিপত্যকে ভেঙে দিতে পারে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। ২০১৯ সালে বিজেপি সর্বোচ্চ ৩৭ শতাংশের মতো ভোট পেয়েছিল, যার অর্থ দাঁড়ায় দেশের প্রায় ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ কিন্তু কখনোই বিজেপিকে ভোট দেয় না। তবে কোনো আন্দোলন যদি একটি বিশেষ সম্প্রদায় বা অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে বিজেপি তা নিয়ে খুব একটা চিন্তা করে না। বরং অনেক সময় বিপরীত মেরুকরণ ঘটিয়ে নিজের ভোট সুসংহত করে। যেমনটি তারা কৃষক বা সিএএ আন্দোলনের ক্ষেত্রে করেছিল। তবে ভারতে মানুষের ভোট দেওয়ার পছন্দে একটি গতিশীলতা রয়েছে।
২০০৪ বা ২০১৪ সালের পর থেকে বিজেপি যেমন অনেক পুরোনো সমর্থক হারিয়েছে, তেমনি নতুন ক্ষেত্রে সমর্থন জোগাড়ও করেছে। হিন্দুত্বের ভাবাদর্শগত আবেদন এখনও অটুট রয়েছে। তবে তারা আগামী ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে তাদের ভোটের অনুপাতকে আরও শক্তিশালী করতে চায়। বিজেপির রাজনৈতিক ছকে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর চেয়ে সিজেপি সংবাদপত্রের শিরোনামে থাকা অনেক বেশি সুবিধাজনক বলে মনে করা হতে পারে।
কিন্তু বিক্ষোভ দমনের জন্য বিজেপির পুরোনো কৌশলগুলো এখন আর তেমন কার্যকর হচ্ছে না। কারণ তারা এখন এক সম্পূর্ণ নতুন প্রজন্ম এবং তাদের রাজনৈতিক মনস্তত্ত্বের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। আজকের ২০ বছর বয়সী একজন প্রতিবাদীর বয়স ২০১৪ সালে মোদি প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় ছিল মাত্র ৮ বছর। তাদের বাবা-মায়ের প্রজন্ম হয়তো তড়িঘড়ি করে বিজেপির আগমনকে স্বাগত জানিয়েছিল, কিন্তু তাদের সন্তানেরা আজ সেই রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের বোঝা ঝেড়ে ফেলতে চাইছে।
মোদি সরকারের অধীনে ‘হিন্দুত্ব ২.০’-এর উত্থান যদি হোয়াটসঅ্যাপ প্রজন্মের মাধ্যমে ঘটে থাকে, তবে আজকের এই চ্যালেঞ্জটি আসছে মূলত ইনস্টাগ্রাম প্রজন্মের কাছ থেকে। আর এই কারণেই রাজনীতিবিচ্ছিন্ন বলে মনে হওয়া এই হঠাৎ ক্ষোভের স্ফুরণ একসময় গণআন্দোলনে রূপ নিয়ে বিজেপিকে বিপাকে ফেলতে পারে। তবে এটাও সত্যি যে, কেবল এই তরুণ আন্দোলনকারীদের একা বিজেপির মতো শক্ত ভিত্তিকে নড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা নেই। আর এখানেই কংগ্রেসসহ প্রধান বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
অতীতে বিজেপি ও তাদের পূর্বসূরি জনসংঘ জেপি আন্দোলন কিংবা আন্না হাজারের আন্দোলনের মতো গণজাগরণকে নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দায় ব্যবহার করে কংগ্রেসকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিতে সফল হয়েছিল এবং ভি পি সিং বা কেজরিওয়ালের মতো নতুন মুখের উত্থানের সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু ভারতের ইতিহাসে এটিই প্রথম ঘটনা, যেখানে একই ধরনের একটি অরাজনৈতিক আন্দোলনের ঢেউ খোদ বিজেপির বিরুদ্ধে আছড়ে পড়ছে। যেখানে বিজেপি এমন একটি দল যার সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, সুনির্দিষ্ট আদর্শিক ভিত্তি, কঠোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহারের কোনো দ্বিধা নেই।
ইতিহাস বলে, এই ধরণের ক্ষোভের আন্দোলন চূড়ান্ত বিচারে ভারতের উদারবাদী, ধর্মনিরপেক্ষ ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা কমায়। সেই অর্থে এই তেলাপোকা বা ককরোচ আন্দোলনটি ভারতের রাজনৈতিক সংকটের সমাধান হওয়ার চেয়ে বরং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতার একটি লক্ষণ মাত্র। আগে যেভাবে বিজেপি অন্য আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কংগ্রেসকে কোণঠাসা করেছিল, কংগ্রেস কি এখন একই অস্ত্র ব্যবহার করে বিজেপির ক্ষেত্রে তা পুনরাবৃত্তি করতে পারবে? সেটাই এখন দেশের রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কারণ এই চলমান তরুণ আন্দোলনের ভেতরে বিজেপি ও বিরোধী দল– উভয়ের জন্যই চরম ঝুঁকি ও সম্ভাবনা পাশাপাশি অবস্থান করছে।
(এই লেখাটি ভারতের দ্য হিন্দু পত্রিকার সৌজন্যে প্রকাশিত)
লেখক: দ্য হিন্দু পত্রিকার নয়াদিল্লির আবাসিক সম্পাদক

ভারতে হোয়াটসঅ্যাপ প্রজন্ম ছিল হিন্দুত্ববাদী, অন্যদিকে ইনস্টাগ্রাম প্রজন্ম বিদ্রোহী। হোয়াটসঅ্যাপ জগতকে নিজেদের মতো করে কন্ট্রোলের ক্ষমতা ছিল বিজেপির হাতে, কিন্তু ইনস্টাগ্রামের জগতে বিজেপি যেন হেডলাইটের আলোয় হতভম্ব হরিণের মতো। যেখানে শক্তি প্রয়োগ ছাড়া বিজেপির হাতে আর কোনো উপায় থাকে না।