
সরকারের সমালোচকেরা জোর দিয়ে বলছেন যে, সারা বিশ্বেই তরুণদের জন্য ভালো বেতনের চাকরি তৈরি করা কঠিন হলেও ভারতের এই বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে সরকারের নিজস্ব নীতিগত ভুল ও সিদ্ধান্তহীনতা অনেক বেশি দায়ী।

আমি নিজে তেলাপোকার সঙ্গে আজীবন যুদ্ধে প্রায় হেরে গিয়েছি। আত্মসমর্পণের দলিল হিসেবে একটি প্রবন্ধ লিখব বলে ভাবছিলাম। এর ভেতরই প্রতিবেশি ভারতে রাজনীতির মহাভারত অশুদ্ধ করা-প্রায় এক তেলাপোকা যুদ্ধের খবর দেখলাম। ব্যক্তির চেয়ে জগৎ বড় মনে পড়ল; নিজের তেলাপোকার যুদ্ধ ছেড়ে জগত জাগানো ওই তেলাপোকা যুদ্ধ নি

পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সোনম ওয়াংচুকের আমরণ অনশন শুরুতে অবহেলিত হলেও পুলিশি দমনপীড়নের পর তা বিশাল আন্দোলনের রূপ নেয়।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর ককরোচ জনতা পার্টির উল্লাস

কিন্তু ঠিক এই জায়গাতেই বর্তমানের তরুণদের আন্দোলন বিজেপির সামনে এক অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জ এবং বিরোধী দলগুলোর জন্য এক অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে। কারণ সিজেপির ব্যানারে সমবেত হওয়া এই প্রতিবাদী তরুণেরা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছে না।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী বছর পাঞ্জাবে হতে যাওয়া বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেই এই পদত্যাগ। আম আদমি পার্টির ক্ষমতায় থাকা এই সীমান্ত রাজ্যে বিজেপির ভিত্তি শক্ত করতে কিছুদিন ধরেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করছিলেন তিনি।

ভারতে হোয়াটসঅ্যাপ প্রজন্ম ছিল হিন্দুত্ববাদী, অন্যদিকে ইনস্টাগ্রাম প্রজন্ম বিদ্রোহী। হোয়াটসঅ্যাপ জগতকে নিজেদের মতো করে কন্ট্রোলের ক্ষমতা ছিল বিজেপির হাতে, কিন্তু ইনস্টাগ্রামের জগতে বিজেপি যেন হেডলাইটের আলোয় হতভম্ব হরিণের মতো। যেখানে শক্তি প্রয়োগ ছাড়া বিজেপির হাতে আর কোনো উপায় থাকে না।

২০২০ সালে কারাবন্দী হওয়ার পর দেওয়া প্রথম সাক্ষাৎকারে নিজের এই কষ্টের অনুভূতি বোঝাতে বিখ্যাত লেখক দস্তয়েভস্কির প্রসঙ্গ টেনেছেন উমর খালিদ। তিনি বলেন, কারাগারে সূর্যাস্তের সময়কার মানসিক অবস্থার কথা দস্তয়েভস্কিও তার জেলের স্মৃতিচারণে লিখেছিলেন।

গত ১৯ ও ২০ জুন বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই কর্মসূচির অনুমতি দিয়েছিল পুলিশ। তবে অনুমতির সময়সীমা শেষ হয়ে গেলেও বিক্ষোভকারীরা স্থান ত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানান এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

ভারতে এই প্রথমবার উর্বরতার হার জনসংখ্যা সংকোচন রোধের জন্য প্রয়োজনীয় সীমার নিচে নেমে গেছে। যা ভবিষ্যতে শ্রমিকের ঘাটতি এবং বার্ধক্যজনিত সমাজ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ককরোচ জনতা পার্টির এই আকস্মিক উত্থান ও উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দিহান হয়ে উঠেছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এই আন্দোলনের পেছনে পাকিস্তানি মদদ এবং মার্কিন ধনকুবের জর্জ সোরসের হাত রয়েছে।

তাই আমাদের অবশ্যই সিজেপি’র প্রতি প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য প্রচলিত রাজনৈতিক স্বার্থপরতা, রাজনৈতিক নিষ্ঠুরতা, কৌশলগত দূরত্ব বজায় রাখা কিংবা সস্তা ও সাময়িক নির্বাচনী জোটের রাজনীতির বাইরে গিয়ে একটি সম্পূর্ণ নতুন পথ খুঁজে বের করতে হবে।

একটি নতুন রাজনৈতিক দলের আবির্ভূত হওয়ার মতো যথেষ্ট জায়গা এখন রয়েছে। এমনকি যদি সেটি একটি তেলাপোকার রূপ ধারণ করে বা পোশাকে সেজেও আসে। এটা সম্পূর্ণভাবে সম্ভব যে, আগামী সপ্তাহের মধ্যে আমরা রাজনীতিতে তেলাপোকাদের সম্পর্কে আর কিছুই শুনতে পাব না।

একটি নতুন রাজনৈতিক দলের আবির্ভূত হওয়ার মতো যথেষ্ট জায়গা এখন রয়েছে। এমনকি যদি সেটি একটি তেলাপোকার রূপ ধারণ করে বা পোশাকে সেজেও আসে।

বিজেপির এই কঠোর অবস্থানের বিপরীতে তাদের নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের শরিক দলগুলো অনেক বেশি সতর্ক এবং বাস্তবসম্মত অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে অন্ধ্র প্রদেশের ক্ষমতাসীন দল টিডিপি বা তেলুগু দেশম পার্টি সরকারের পক্ষ থেকে ককরোচ জনতা পার্টির হ্যান্ডেলটি বন্ধ করে দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে ভালো চোখে দেখছে না।

ক্রিস স্মিথ ভারতকে একটি চরম ঐতিহাসিক ভুলের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, অতীতে ঠিক এই একই দমনমূলক পথ অবলম্বন করেছিল সোভিয়েত রাশিয়া, কমিউনিস্ট চীন এবং অন্যান্য একনায়কতান্ত্রিক কমিউনিস্ট সরকারগুলো, যারা চার্চ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি জবরদস্তিমূলকভাবে জাতীয়করণ করেছিল।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী নামমাত্র প্রচারেই দায় সেরেছেন। পশ্চিমবঙ্গ বাদ দিলেও অন্য রাজ্যেও কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তি বা প্রচারের জৌলুস বিজেপির তুলনায় নিমিত্ত মাত্র।

আখতার আহমেদ বলেন, যেসব রাজনৈতিক দল এখনো নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দাখিল করেনি, তাদের উদ্দেশে সময়সীমা নির্ধারণ করে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ভারত কখনো শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার উজানের পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করে কোনো চুক্তি করেনি। ফলে ভাটিতে থাকা বাংলাদেশকে প্রতি বছর তার কৃষিভিত্তিক অঞ্চল আরও একটু করে শুকিয়ে যেতে দেখতে হচ্ছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নবগঠিত বিজেপি সরকার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তকে অগ্রাধিকার দেয়, তখন সেটি কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রশ্ন ওঠে, এটি কি সত্যিই নিরাপত্তার প্রয়োজনে, নাকি রাজনৈতিক বার্তা?