জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার কাফরুল থানার হত্যা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর আইনজীবী মহসিন রেজা গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তার শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, “আসামির রাজনৈতিক কোনো পদ নেই, তিনি একজন প্রফেসর। আওয়ামী লীগের আমলেও তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তিনি শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদ বহন করতেন। এটা থেকেই তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।”
এ সময় আদালতে গ্রেপ্তার নামঞ্জুরের আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। তিনি বলেন, “আসামি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত ছিল এবং এই হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে।”
এ সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, “আমি ছাত্রজীবন এবং আমার শিক্ষকতার জীবনে কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না এবং এখন নেই। আমি ভিসি থাকাকালীন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছি। এতে আমাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”
আদালতে কলিমুল্লাহ আরও বলেন, “আমি ভিসি থাকাকালীন জুলাই আন্দোলনে শহীদ হওয়া শিক্ষার্থী আবু সাঈদ ভর্তি হয়ে ছিলেন। সাইদ হত্যা নিয়ে আমি প্রতিবাদ করেছি এবং কথা বলেছি। আমি একজন শিক্ষক এর বাইরে আর কিছু না।”
আদালত উভয় পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
২০২৫ সালের ৭ আগস্ট মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ওইদিনই জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
গত ১৪ জুন তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। পরবর্তীতে এক লাখ টাকা মুচলেকা ও পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সাপেক্ষে জামিননামা দাখিলের অনুমতি দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির। অন্য কোনো মামলা না থাকায় তিনি কারামুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন।
তবে গত ৩০ জুলাই ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানার জুলাই আন্দোলনের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোয় তার মুক্তি আটকে যায়। এরপর সম্প্রতি ওই মামলায় জামিন পান তিনি।
গত ৭ সেপ্টেম্বর তরিকুল ইসলাম রুবেল হত্যা মামলায় তাকে আবার গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন কাফরুল থানার এসআই জহুরুল ইসলাম। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখে বৃহস্পতিবার।
এদিন শুনানিকালে নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই কাফরুল এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেন তরিকুল ইসলাম রুবেল। রাত ৮টার দিকে তাদের ওপর গুলি ও হামলা করা হয়। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তরিকুল ইসলাম রুবেল। পরে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়।