মাইকেল কুগেলম্যান

নয়াদিল্লিতে গত সোমবার হাজার হাজার আন্দোলনকারী ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রা করেন। নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে তাদের ওপর চড়াও হলেও বিক্ষোভকারীরা রাজধানীতে অবস্থান ধর্মঘট অব্যাহত রেখেছেন।
এই প্রতিবাদ কর্মসূচিটি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আন্দোলনের সাথে যুক্ত অন্যতম বৃহত্তম বিক্ষোভ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যার সূচনা ঘটেছিল মূলত একটি ইন্টারনেট স্যাটায়ার বা ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে।
অনলাইনকেন্দ্রিক এই ব্যঙ্গাত্মক দলটি ইতোমধ্যেই ইনস্টাগ্রামে লাখ লাখ অনুসারী জোগাড় করেছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছে। তবে বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় যেভাবে তরুণদের গণঅভ্যুত্থান সরকার পতন ঘটিয়েছিল, এই আন্দোলনটি সেরকম কোনো সুবিশাল ছাত্র-যুব আন্দোলনে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম। আর এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে।
সিজেপির আন্দোলনটি বর্তমানে খুবই সুনির্দিষ্ট ও সীমিত কিছু বিষয়ের ওপর আলোকপাত করছে, যা মূলত শিক্ষা নীতির সাথেই সম্পর্কিত। ২০১১ সালের ভারত দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০১২ সালের যৌন সহিংসতাবিরোধী প্রচারণায় যে দশ হাজারেরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণ ছিল। সে তুলনায় বর্তমান বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা খুবই কম।
তাছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে আন্দোলনের মুখে পড়া সরকারগুলোর তুলনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার অনেকটাই জনপ্রিয়। তবুও চলতি সপ্তাহে ভারতের রাজপথে যা ঘটে চলেছে, তা ভারতীয় রাজনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
মোদি সরকারের গত ১২ বছরের শাসনামলে যে কটি বড় ধরনের সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে উঠেছে, তার মধ্যে সিজেপি অন্যতম। অন্যান্য প্রধান আন্দোলনের মধ্যে রয়েছে ২০২০-২১ সালের কৃষি সংস্কার আইনবিরোধী কৃষক আন্দোলন, যা পরবর্তীতে প্রত্যাহার করা হয়েছিল এবং ২০১৯-২০ সালের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, যা সমালোচকদের মতে মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যমূলক ছিল।

চলতি সপ্তাহের এই বিক্ষোভের মূল অনুঘটক ছিল ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাম্প্রতিক ঘটনা। এর ফলে প্রায় ২২ লাখ চিকিৎসাপ্রত্যাশী শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তাদেরকে পুনরায় পরীক্ষায় বসতে হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অন্তত এক ডজন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার খবর পাওয়া যায়।
এই আন্দোলনটি মোদির প্রতি বিপুল সংখ্যক তরুণের ক্ষোভকেই সুস্পষ্ট করে তোলে। এমনকি গত সোমবারের বিক্ষোভে আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও জানান। এটি তরুণদের বেকারত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয়টিকেও প্রতিফলিত করে, যা সরকারের জন্য একটি স্থায়ী নীতিগত চ্যালেঞ্জ। শিক্ষাক্ষেত্রের সমস্যাগুলো যদি তরুণের কর্মসংস্থানের পথকেই হুমকির মুখে ফেলে, তবে তাদের ভবিষ্যৎ ব্যাপকভাবে সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।
তাছাড়া শিক্ষাসংক্রান্ত নানা অসন্তোষকে কেন্দ্র করে তরুণদের রাজপথে নেমে আসার যে আঞ্চলিক প্রবণতা তৈরি হয়েছে, সিজেপি তারই প্রতিফলন।
নেপালে দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে চরম অবহেলার অভিযোগে বিক্ষোভকারীরা জাতীয় পরীক্ষা বোর্ডের বিরুদ্ধে কামান দেগেছেন; পাশাপাশি বেসরকারি স্কুলের টিউশন ফির ওপর নতুন কর আরোপের নিন্দা জানিয়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ বাতিলের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশে শিক্ষার্থীরা একঝাঁক শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে প্রচারণা শুরু করেছে।
এই তিনটি দেশেই তরুণ জনগোষ্ঠীর হার ব্যাপক এবং তাদের প্রত্যেকেরই শিক্ষাক্ষেত্র নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাব এবং রাষ্ট্র তাদেরকে মর্যাদার সাথে মূল্যায়ন করছে না বলে এক ধরণের পুঞ্জীভূত অসন্তোষ রয়েছে (উল্লেখ্য, গত মে মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি কিছু বেকার যুব সমাজকে তেলাপোকার সাথে তুলনা করেছিলেন, যা মূলত এই দলটির নামকরণে অনুপ্রাণিত করেছে)।
এই আন্দোলনগুলো সরকার উৎখাতের সরাসরি হুমকি না হলেও, শাসনব্যবস্থার সামনে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বাংলাদেশ ও নেপালের নেতাদের ওপর জনগণের দাবি মেটানোর জোরালো চাপ রয়েছে, কারণ গণঅভ্যুত্থানে পূর্ববর্তী সরকার পতনের পরপরই চলতি বছরে এই দুই দেশের নতুন সরকার নির্বাচিত হয়েছে।
ভারতে এই সিজেপির আন্দোলনটি মোদীর দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জন্য এক বড় ধাক্কা। ২০২৪ সালের নির্বাচনে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় এলেও প্রথমবারের মতো জোট সরকার গঠন করতে বাধ্য হওয়া দলটি মূলত নিজেদের শক্তি ও আধিপত্য জাহির করার চেষ্টা করছিল। এই আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়া রাজনৈতিক বিরোধী দলগুলোর মধ্যেও নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। দলটির নেতারা মঙ্গলবার মোদির বাসভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমনপীড়নের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
চলতি বছরে রাজ্য নির্বাচনে বিজেপির ধারাবাহিক জয় এবং ভারতের শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দলটিকে রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছিল। কিন্তু চলতি সপ্তাহে নতুন দিল্লি এক অপ্রিয় সত্যের মুখোমুখি হলো—রাজনীতির মাঠে কোনো কিছুই নিশ্চিত ধরে নেওয়া যায় না।
লেখাটি ফরেন পলিসি থেকে অনূদিত
লেখক: দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক

নয়াদিল্লিতে গত সোমবার হাজার হাজার আন্দোলনকারী ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রা করেন। নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে তাদের ওপর চড়াও হলেও বিক্ষোভকারীরা রাজধানীতে অবস্থান ধর্মঘট অব্যাহত রেখেছেন।
এই প্রতিবাদ কর্মসূচিটি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আন্দোলনের সাথে যুক্ত অন্যতম বৃহত্তম বিক্ষোভ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যার সূচনা ঘটেছিল মূলত একটি ইন্টারনেট স্যাটায়ার বা ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে।
অনলাইনকেন্দ্রিক এই ব্যঙ্গাত্মক দলটি ইতোমধ্যেই ইনস্টাগ্রামে লাখ লাখ অনুসারী জোগাড় করেছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছে। তবে বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় যেভাবে তরুণদের গণঅভ্যুত্থান সরকার পতন ঘটিয়েছিল, এই আন্দোলনটি সেরকম কোনো সুবিশাল ছাত্র-যুব আন্দোলনে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম। আর এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে।
সিজেপির আন্দোলনটি বর্তমানে খুবই সুনির্দিষ্ট ও সীমিত কিছু বিষয়ের ওপর আলোকপাত করছে, যা মূলত শিক্ষা নীতির সাথেই সম্পর্কিত। ২০১১ সালের ভারত দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০১২ সালের যৌন সহিংসতাবিরোধী প্রচারণায় যে দশ হাজারেরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণ ছিল। সে তুলনায় বর্তমান বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা খুবই কম।
তাছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে আন্দোলনের মুখে পড়া সরকারগুলোর তুলনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার অনেকটাই জনপ্রিয়। তবুও চলতি সপ্তাহে ভারতের রাজপথে যা ঘটে চলেছে, তা ভারতীয় রাজনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
মোদি সরকারের গত ১২ বছরের শাসনামলে যে কটি বড় ধরনের সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে উঠেছে, তার মধ্যে সিজেপি অন্যতম। অন্যান্য প্রধান আন্দোলনের মধ্যে রয়েছে ২০২০-২১ সালের কৃষি সংস্কার আইনবিরোধী কৃষক আন্দোলন, যা পরবর্তীতে প্রত্যাহার করা হয়েছিল এবং ২০১৯-২০ সালের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, যা সমালোচকদের মতে মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যমূলক ছিল।

চলতি সপ্তাহের এই বিক্ষোভের মূল অনুঘটক ছিল ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাম্প্রতিক ঘটনা। এর ফলে প্রায় ২২ লাখ চিকিৎসাপ্রত্যাশী শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তাদেরকে পুনরায় পরীক্ষায় বসতে হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অন্তত এক ডজন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার খবর পাওয়া যায়।
এই আন্দোলনটি মোদির প্রতি বিপুল সংখ্যক তরুণের ক্ষোভকেই সুস্পষ্ট করে তোলে। এমনকি গত সোমবারের বিক্ষোভে আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও জানান। এটি তরুণদের বেকারত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয়টিকেও প্রতিফলিত করে, যা সরকারের জন্য একটি স্থায়ী নীতিগত চ্যালেঞ্জ। শিক্ষাক্ষেত্রের সমস্যাগুলো যদি তরুণের কর্মসংস্থানের পথকেই হুমকির মুখে ফেলে, তবে তাদের ভবিষ্যৎ ব্যাপকভাবে সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।
তাছাড়া শিক্ষাসংক্রান্ত নানা অসন্তোষকে কেন্দ্র করে তরুণদের রাজপথে নেমে আসার যে আঞ্চলিক প্রবণতা তৈরি হয়েছে, সিজেপি তারই প্রতিফলন।
নেপালে দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে চরম অবহেলার অভিযোগে বিক্ষোভকারীরা জাতীয় পরীক্ষা বোর্ডের বিরুদ্ধে কামান দেগেছেন; পাশাপাশি বেসরকারি স্কুলের টিউশন ফির ওপর নতুন কর আরোপের নিন্দা জানিয়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ বাতিলের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশে শিক্ষার্থীরা একঝাঁক শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে প্রচারণা শুরু করেছে।
এই তিনটি দেশেই তরুণ জনগোষ্ঠীর হার ব্যাপক এবং তাদের প্রত্যেকেরই শিক্ষাক্ষেত্র নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাব এবং রাষ্ট্র তাদেরকে মর্যাদার সাথে মূল্যায়ন করছে না বলে এক ধরণের পুঞ্জীভূত অসন্তোষ রয়েছে (উল্লেখ্য, গত মে মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি কিছু বেকার যুব সমাজকে তেলাপোকার সাথে তুলনা করেছিলেন, যা মূলত এই দলটির নামকরণে অনুপ্রাণিত করেছে)।
এই আন্দোলনগুলো সরকার উৎখাতের সরাসরি হুমকি না হলেও, শাসনব্যবস্থার সামনে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বাংলাদেশ ও নেপালের নেতাদের ওপর জনগণের দাবি মেটানোর জোরালো চাপ রয়েছে, কারণ গণঅভ্যুত্থানে পূর্ববর্তী সরকার পতনের পরপরই চলতি বছরে এই দুই দেশের নতুন সরকার নির্বাচিত হয়েছে।
ভারতে এই সিজেপির আন্দোলনটি মোদীর দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জন্য এক বড় ধাক্কা। ২০২৪ সালের নির্বাচনে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় এলেও প্রথমবারের মতো জোট সরকার গঠন করতে বাধ্য হওয়া দলটি মূলত নিজেদের শক্তি ও আধিপত্য জাহির করার চেষ্টা করছিল। এই আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়া রাজনৈতিক বিরোধী দলগুলোর মধ্যেও নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। দলটির নেতারা মঙ্গলবার মোদির বাসভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমনপীড়নের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
চলতি বছরে রাজ্য নির্বাচনে বিজেপির ধারাবাহিক জয় এবং ভারতের শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দলটিকে রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছিল। কিন্তু চলতি সপ্তাহে নতুন দিল্লি এক অপ্রিয় সত্যের মুখোমুখি হলো—রাজনীতির মাঠে কোনো কিছুই নিশ্চিত ধরে নেওয়া যায় না।
লেখাটি ফরেন পলিসি থেকে অনূদিত
লেখক: দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক

আজ যখন সেই রাতের কথা মনে পড়ে, তখন ক্লান্তি, ভয়, রক্ত, মানুষের আর্তনাদ—সবকিছুর মাঝে নিজের দায়িত্ববোধের তৃপ্তিও অনুভব করি। কারণ চিকিৎসকের জীবনে কিছু রাত থাকে, যেগুলোর কোনো ডিউটি রোস্টার থাকে না, কোনো অতিরিক্ত ভাতা থাকে না, কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও থাকে না।