Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ অক্টোবর, ২০২৬
১২ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ অক্টোবর, ২০২৬
১২ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> ভাবনা

দুনিয়ায় তাহলে মাস্তানিই চলবে?

অর্ণব সান্যাল

অর্ণব সান্যাল

প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯: ০৬
দুনিয়ায় তাহলে মাস্তানিই চলবে?

চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুর দিকের ঘটনা। একটি দেশের প্রেসিডেন্টকে সস্ত্রীক তুলে নেওয়ার বা সাধারণ শব্দে অপহরণ করার ঘোষণা দিলেন আরেক দেশের প্রেসিডেন্ট। ঘোষণাটি দম্ভভরেই দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, এর মধ্য দিয়ে নাকি আদতে আইনের শাসনই জারি হয়েছে!

Advertisement

দ্বিতীয় ঘটনা ফেব্রুয়ারিতে। এবার সেই ‘অপহরণকারী’ দেশটির প্রেসিডেন্ট আরেক দেশের সরকার প্রধানের সাথে মিলে অন্য একটি দেশে হামলা চালালেন। সেই দেশের ‘সুপ্রিম লিডার’কে বোমা মেরে, মেরেই ফেলা হলো। শুধু ‘লিডার’ মেরে ক্ষান্ত হলো না আগ্রাসনকারীরা। একই সঙ্গে মারা হলো লিডারের বংশের মানুষজনকেও। আর সাধারণ মানুষের কথা তো ছেড়েই দিন!

কোনো দেশের নাম এখানে উল্লেখ করা হয়নি। সিদ্ধান্ত নিতে যাতে সুবিধা হয়, সেজন্যই এমনটা করা। ভাসুরের পরিচয় জানলে সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা ‘কিন্তু কিন্তু’ বোধ হয় তো। আচ্ছা, এটা কি মাস্তানি? গুন্ডামি? কারও এলাকায় কেউ কাউকে এভাবে তুলে নিয়ে গেলে বা মারলে, কী বলা হতো এর বদলে?

মাস্তানিই বলা হতো বাংলায়। এ ছাড়া আর কিই বা বলা যায়? তবে এমন ঘটনাই যখন বিশ্বমঞ্চে ঘটে, তখন নানা কূটনৈতিক পরিভাষা এসে বাক্যের অর্থ বদলে দেয়। কিন্তু দিনশেষে এমন কাজ আসলে মাস্তানিই।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

উপরে উল্লেখিত দুটি ঘটনাই ঘটিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথমটা ভেনেজুয়েলায়, দ্বিতীয়টা ইরানে। দ্বিতীয় ঘটনায় সহযোগী হিসেবে ইসরায়েলের বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আছেন। আবার লজিস্টিকস সাপোর্ট দিচ্ছে ইউরোপের নানা দেশও। কেউ কেউ আবার দু-একদিন সমর্থন দেওয়ার পর উল্টো সুরে গাওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু পুরোপুরি বিরোধিতায় দু-একটি দেশ ছাড়া আর কেউ নেই। চীন, রাশিয়া বিরোধিতা করছে বটে, তবে তাতে সংঘাত থামিয়ে দেওয়ার মনোভাব খুব জোরালো নয়।

চলছে ক্ষমতার কামড়াকামড়ি, মশার কামড় নিয়ে কি ভাবছে কেউ?mosquito-bite01_freepik

কথা হলো, এমন মাস্তানি বা গুণ্ডামি দুনিয়ায় নতুন নয়। এই শতকে বারবারই দেখা যাচ্ছে। ইরাক, আফগানিস্তান, ইউক্রেন, হংকং, ইরান–এমন আরও অনেক নাম পাওয়া যাবে, নেওয়া যাবে। এর বিপরীতে কোনো আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে ‘মাস্তানি’ করা দেশের নামও একাধিক। আমেরিকা, ব্রিটেন, ইসরায়েল, চীন, রাশিয়া–আছে বহু। তবে এসব দেশের প্রকৃতির মধ্যে একটি প্রধান, তা হলো ‘মাস্তানি’।

বাংলায় ‘মাস্তানি’ বলতে বোঝায় ‘গুণ্ডা’ বা ‘বদমাস’। উচ্চারণ বা বানানে ‘মস্তানি’ও বলা হয়। উর্দু, হিন্দিতে একই শব্দের অর্থ আবার ভিন্ন। যদিও এ দেশের বাংলায় মাস্তান বা মস্তান, মাস্তানি বা মস্তানি বলতে পেশিশক্তির বেআইনি ও জোরপূর্বক ব্যবহারকেই শুধু বোঝায়। স্থানীয় পাড়া থেকে বিশ্বমঞ্চ–সব ক্ষেত্রেই এই শব্দের প্রয়োগের একই হিসাব।

মাস্তানি বা মস্তানি হয় আসলে বেআইনি কাজ করতেই। আইনি পথে ‘দখল’ করা যায় না। তাই দখল করতে মাস্তানিই করা লাগে। আর সেই কাজটিই বছরের পর বছর ধরে করে চলেছে আমেরিকা, ব্রিটেন, ইসরায়েল, চীন, রাশিয়াসহ গুটিকয়েক দেশ। আমেরিকা ইরাক, আফগানিস্তানে আগেই করেছে। সম্প্রতি মাস্তানি করল ভেনেজুয়েলা ও ইরানে। ফিলিস্তিন ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই এই মনোভাব নিয়ে আছে ইসরায়েল। ওদিকে চীনকে এমন ভূমিকায় দেখা যায় হংকং, তাইওয়ান বা তিব্বতের ক্ষেত্রে। বলকান অঞ্চলের বড় ‘মাস্তান’ আবার রাশিয়া। সেই পাড়ায় আরেক পাড়ার ‘মাস্তান’ এসে নাক গলানোয় আবার যুদ্ধ বেঁধে যায়। ইউক্রেনে তাই তেমন আচরণই করছে রাশিয়া।

আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের একটি এলাকা। ছবি: রয়টার্স
আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের একটি এলাকা। ছবি: রয়টার্স

অবশ্য এই সব কর্মকাণ্ডের নানা ধরনের সংজ্ঞা দাঁড় করানো হয়। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতির পরিভাষায় বিভিন্ন ব্যাখ্যা দাঁড় করানো হয়। এই মাস্তানদের মধ্যে আবার পক্ষ, বিপক্ষ বা গোষ্ঠী আছে। এরা বিরোধী পক্ষের মাস্তানিকে ‘আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করলেও নিজেদেরটাকে আবার ‘ন্যায্য’ বলে। এই প্রক্রিয়া আবার বিপরীত গোষ্ঠীর সদস্যরাও করে। এভাবেই চলতে থাকে পাল্টাপাল্টি, পুরো বিশ্ব শাসিত হতে থাকে। বেশ অনেক বছর ধরেই এমনটা চলছে। তবে তারপরও সবকিছুর মধ্যে কিছু সীমা মেনে চলার বিষয় ছিল। ওই ‘চক্ষু লজ্জা’ যাকে বলে আর কি!

আমেরিকা কী এখন ফ্যাসিবাদের কবলে?donald trump

তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এসব হায়া, লজ্জা নামের শব্দগুলোকে জাদুঘরে পাঠানোর মনোভাবই দেখাচ্ছেন। তার বক্তব্যের মাজেজা হলো, নাচতে নেমে ঘোমটা কেন দেব? আর এই সত্যের সত্যিকারের বাস্তবায়ন শুরু হতেই পুরো দুনিয়া পড়ে গেছে এক নিদারূণ পরিস্থিতিতে। এক বেপরোয়া মাস্তানের মাস্তানির প্রতিক্রিয়ায় অন্য মাস্তানের পাল্টাপাল্টি মাস্তানি–সব মিলিয়ে পুরো বিশ্বে এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সবাই ঘোমটা খুলে ফেলার চেষ্টাই তাই করছে। আর এই বেহায়াপনায় জান নিয়ে চিন্তায় সকল সাধারণেরা।

মাস্তান আদতে মাস্তানি করে নিজের পেশির জোরে। সেই পেশি অর্থনৈতিক হতে পারে, সামরিকও হতে পারে। আর এ দুইয়ের যোগফলেই তৈরি হয় দখলদারির মনোভাব। এসবের ভুক্তভোগী কেবলই সাধারণ মানুষ, শক্তিতে ছোট দেশ। ‘তুলে নেওয়ার’ সংস্কৃতি চালু হয়ে যাওয়ায় আতঙ্ক আরও বেশি।

মোদ্দা কথা, কে কার চেয়ে বেশি ‘মাস্তান’ হতে পারে, ওই প্রতিযোগিতাই এখন চলছে। অনেকটা আমাদের দেশের প্রয়াত জনপ্রিয় চিত্রনায়ক মান্না’র সিনেমার মতো করে। ২০০২ সালে এই নায়কের একটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল, নাম ‘মাস্তানের উপর মাস্তান’। মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ওই সিনেমায় দেখা গিয়েছিল, মাস্তানদের ঠেকাতে পুলিশ অফিসার চরিত্রে অভিনয় করা নায়ক মান্না’কে মাস্তানদের মতো তরিকাতেই এগোনোর গল্প। কে কত বেশি মাস্তানি করতে পারে, তাই ছিল মোক্ষ। অনেকটা মাস্তানির প্রতিযোগিতাই যেন!

সমস্যা হলো, রূপালি পর্দায় মাস্তানির প্রতিযোগিতা দেখতে দেখতে গায়ে শিহরণ দিলেও, বাস্তবের দুনিয়ায় তা প্রবল আতঙ্কে পরিণত হয়। ট্রাম্প, নেতানিয়াহু, পুতিন বা চিন পিং–সবাই মিলে এখন সেটাই করছেন, আরও করবেন নিশ্চয়ই। আমাদের মতো আমজনতার অপেক্ষা তাই আরও ‘বড় গুণ্ডা’র আগমনের। একমাত্র সেই চরিত্রটিই অন্যদের থামানোর কার্যকর চেষ্টাটি করতে পারবেন কিনা!

লেখক: বার্তা সম্পাদক, চরচা

বিষয়: রাশিয়াআমেরিকামধ্যপ্রাচ্যবেনইয়ামিন নেতানিয়াহুডোনাল্ড ট্রাম্পইসরায়েলচীনভ্লাদিমির পুতিন
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সাজেক ভ্যালিতে পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

  • ২

    রিয়াদ বিমানবন্দরে শনিবারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২৪ বাংলাদেশি আহত

  • ৩

    সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে আবার হামলা, টার্মিনালে আগুন

  • ৪

    রাশিয়া-ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ট্রাম্পের, বিস্মিত জেলেনস্কি

  • ৫

    ইউপি নির্বাচন: জানুয়ারি থেকে শুরু পাঁচ ধাপের ভোট

সম্পর্কিত
  • দিল্লির জেনজি আন্দোলনে টালমাটাল মোদির গদি!

    দিল্লির জেনজি আন্দোলনে টালমাটাল মোদির গদি!

    তরুণদের ক্ষেপিয়ে কোনো দেশের শাসকেরা যে টিকতে পারেন না, সেটা নিকট অতীতে বাংলাদেশ ও নেপাল প্রমাণ করেছে।

  • ভারত: গণ-আন্দোলনের মুখোমুখি এক অনমনীয় রাষ্ট্র

    ভারত: গণ-আন্দোলনের মুখোমুখি এক অনমনীয় রাষ্ট্র

    সরকার ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব এবং নেপাল ও বাংলাদেশে কথিত বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে এই আন্দোলনকে বিদেশি শক্তির কারসাজি হিসেবে চিহ্নিত করে এর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করবে। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই, যারা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইচ্ছুক ছিলেন, তাদের কাছেই জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের গভীরতা স্পষ্ট ছিল।

  • সরকারি কর্মী: বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক ও সময়োচিত

    সরকারি কর্মী: বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক ও সময়োচিত

    দু বছর পর যখন এ বেতন স্কেল পুরো কার্যকর হবে তখন মুদ্রাস্ফীতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেটা দেখার বিষয়। এর মাঝে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। বাড়ানো ছাড়া হয়তো উপায়ও ছিল না। তবে এর ফলে বাড়বে সকল ধরনের পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়সহ ভোগ্যপণ্যের দাম।

  • ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তান আইনসভায় নির্বাচিত অমুসলিম ছিলেন ৭২ জন, এখন বাংলাদেশে ৪

    ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তান আইনসভায় নির্বাচিত অমুসলিম ছিলেন ৭২ জন, এখন বাংলাদেশে ৪

    ২০২৪-এর পর থেকে এই অন্তর্ভুক্তিমূলক শব্দটা আমরা বেশি শুনছি। এটা ভালো লক্ষণ। কিন্তু যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল এবং শিডিউলড কাস্টের ব্যাপারে, নিম্নবর্গের ব্যাপারে অন্তর্ভুক্তিমূলকের দশা কিন্তু খুবই খারাপ।