Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ অক্টোবর, ২০২৬
১২ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ অক্টোবর, ২০২৬
১২ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> ভাবনা

চলছে ক্ষমতার কামড়াকামড়ি, মশার কামড় নিয়ে কি ভাবছে কেউ?

অর্ণব সান্যাল

অর্ণব সান্যাল

প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮: ৪২
চলছে ক্ষমতার কামড়াকামড়ি, মশার কামড় নিয়ে কি ভাবছে কেউ?

ঢাকাজুড়ে যেন মশার গুনগুন। দাঁড়িয়ে থাকা, বসা–কোনো কিছুই আর স্বস্তিতে করা যাচ্ছে না। একটুক্ষণ বাড়ির বাইরে থাকলেও মনে হবে, মশা কামড়ে ছিবড়ে করে ফেলবে যেন!

Advertisement

এই অধমের বাসা ঢাকা উত্তরে। সেখানেই আপাত অস্থায়ী আশ্রয়। পাঁচতলার ওপরের সেই বাসার বারান্দাতেও পাঁচ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকলে মশা তাড়াতে তাড়াতেই ৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড চলে যায়! নিচে নেমে পাড়ার দোকানে কেনাকাটা করতে গেলেও মশা তাড়াতে হয়।

ওদিকে এই সাধারণ নাগরিকের অফিস ঢাকা দক্ষিণে। সেখানে ১৪ তলার ওপরেও মশা মেলে। আর নিচে তো কথাই নেই। হাতে, মুখে তাড়াতে পারলেও দেখা যায় ঘাড়ে চুপটি মেরে বসে আছে, খেয়ে চলেছে রক্ত।

অর্থাৎ, ঢাকার উত্তর, দক্ষিণ বা পূর্ব, পশ্চিম–যেখানেই যাবেন, মশা থেকে নিস্তার মিলবে না। মশার কামড় খেতে খেতেই চলতে হচ্ছে। এমন অবস্থা অবশ্য গত ১ বছর ধরেই। মশা কারও পিছু ছাড়ছে না। ঢাকা এত বড় একটা শহর, যার দুটি সিটি করপোরেশন আছে, সেই ঢাকাতে এত মশার আবাদ হলো কীভাবে?

Advertisement
Advertisement
Advertisement

প্রধান বিষয় হলো, মশা মারার চেষ্টাটা সরকারিভাবে সেভাবে করা হয়নি। আমজনতার একজন সদস্য হিসেবে এতটুকু নির্দ্বিধায় বলে দেওয়া যায়। কারণ, সেই চেষ্টাটা এই দুই চোখে পরিলক্ষিত হয়নি। কদাচিৎ ফগার মেশিনে ধোঁয়া ছড়াতে দেখা গেছে, এই পর্যন্তই।

এর ফলাফল হলো, রাজধানীতে মশার রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকায় মশার উপদ্রব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশারের নেতৃত্বে পরিচালিত এ গবেষণায় দেখা গেছে, জানুয়ারি মাসের তুলনায় চলতি ফেব্রুয়ারিতে মশার সংখ্যা ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আর মশার ৯০ শতাংশই কিউলেক্স।

এডিস মশা টিকে থাকার অন্যতম কারণBe-Nazir Ahmed

অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলছেন, এক ঘণ্টায় পাঁচটি মশা কামড়াতে এলেই বৈশ্বিক হিসাবে তা বেশি। সেখানে ঢাকায় সংখ্যাটি এই ফেব্রুয়ারিতে ৮৫০। জানুয়ারিতে এ সংখ্যা ছিল ৪০০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০০। এটি একটি বিপৎসংকেত। আর মার্চে মশার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গবেষকেরা বলছেন, মশার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ, নর্দমা ও জলাশয়ের দূষণ যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি। আর রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে জনপ্রতিনিধির অভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিও এগোচ্ছে না। ফলে মশার পরিমাণ বাড়ছেই কেবল।

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনও পাঁচ এলাকায় মশা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এই পর্যবেক্ষণে গত ১৬ থেকে ২০ জানুয়ারি রাজধানীর পাঁচটি এলাকায় ১৭ হাজার ১৫৯টি মশা পাওয়া যায়। আর ৩০ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া যায় ২২ হাজার ৩৬২টি। ওই পাঁচ এলাকা হলো উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের পার্ক, মিরপুর ২-এ ডিএনসিসির ভান্ডার শাখা অফিস, গুলশান ১-এর পুরাতন ভান্ডার শাখা অফিস, মিরপুর ১-এর ১০ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টার ও মোহাম্মদপুরের ডিএনসিসির আঞ্চলিক অফিস।

mosquito-bite_freepik

মূল কথা হলো, মশা বাড়ছেই কেবল। সরকারি, বেসরকারি–সব হিসাবেই এটি স্পষ্ট। আর সাধারণ মানুষ তো টের পাচ্ছেই কামড় খেয়ে খেয়ে। সরকারি সংস্থাগুলোর অবহেলার বিষয়টি সেখানে দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার। অথচ, গত এক বছরের বেশি সময় ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব থেকে উঠে আসা একজন ‘ছাত্র উপদেষ্টা’ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। ওই সরকার ‘রাজনৈতিক’ ছিল না বলেই দাবি করা হয়ে থাকে। যদিও সেই সরকারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ আছে। আমরা দেখেছি, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে প্রশাসক বসানো অথবা তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের গণহারে বরখাস্ত করা নিয়ে নানা রাজনীতিতে উসকানি দেওয়া হয়েছে সরকারি পর্যায় থেকে। আবার সিটি করপোরেশনে প্রশাসক বসার পরও উঠেছে নানা ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ। রাজনৈতিক বিরোধীদের আবার দেখা গেছে, দুই সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া নিয়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে অংশ নিতে। এসবের একেবারে সামনে থাকা এক রাজনৈতিক নেতা আবার সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনে এমপি হয়ে মন্ত্রিপরিষদেও জায়গা পেয়েছেন।

এখন কথা হলো, সিটি করপোরেশনের ক্ষমতার দখল নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের বিভিন্ন আন্দোলন, সংগ্রাম তো হলো ভালোই। এখনো হচ্ছে। আগের ছাত্র উপদেষ্টা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করার কথা বলছেন, বলছেন মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাওয়া সদ্য ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাও। তা, ক্ষমতা নিয়ে কামড়াকামড়ির ফাঁকে কি তারা কেউ মশার কামড় নিয়ে ভেবেছেন একবারও? একটুও যদি ভাবতেন, তাহলে হয়তো রাজধানীর সাধারণ বাসিন্দাদের আজ এভাবে মশা তাড়াতে তাড়াতে হয়রান হয়ে যেতে হতো না।

মশা ভয়াবহভাবে বেড়েছে, গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি: স্বাস্থ্যমন্ত্রীSardar-Sakhawat-Husain-Bakul

অথচ গেল ২০২৫ সালেই এ দেশে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে সরকারি হিসাবেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করে সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে দেশে এডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১। এর মধ্যে ৬৯ শতাংশ রোগী ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় ভর্তি হয়েছে। আক্রান্তের এই হার পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৪১৪, যা দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ। এর মধ্যে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে মৃত্যু ছিল সবচেয়ে বেশি ২৬২ জন, যা মোট মৃত্যুর ৬৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

mosquito-bite-ai-generation
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

অর্থাৎ, মশার কামড়ে এ দেশের রাজধানীর হাসপাতালগুলোতেই ফি বছরে শয়ে শয়ে নাগরিক মরছে। কিন্তু তা নিয়ে সত্যিকারের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আসলে দেখা যায় না খুব একটা। নতুন সরকার এসেই অবশ্য অন্তত এতটুকু বলেছে যে, মশা নিয়ন্ত্রণের সরকারি কর্মকাণ্ডে সমন্বয়ের অভাব আছে। সমন্বয়ের অভাব থাকায় রাজধানীর দুই সিটিতে মশার উপদ্রব বেড়েছে বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। দ্রুত সময়ের মধ্যে মশা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা প্রকাশও করেছেন তিনি।

আশা থাকা ভালো। সরকারি পর্যায় থেকে আশা প্রদর্শন করলে, সাধারণ মানুষও একটু দিশা পায়। তবে এ দেশের মানুষের তো আবার সব আশাতেই শেষে শুধু নিরাশা মেলে। তা সরকার নির্বাচিত হোক, বা অনির্বাচিত। রাজনৈতিক হোক, বা তথাকথিত অরাজনৈতিক!

তাই কথার চেয়ে কাজই আসল। সামনের মার্চ, এপ্রিল আসতে আসতেই হয়তো সেই কাজের নমুনা আমাদের বোঝা হয়ে যাবে। এখন সেই বোঝাপড়াটা হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে হবে, নাকি বাসার বারান্দায় নিশ্চিন্তে দাঁড়িয়ে–ওটিই দেখার।

লেখক: বার্তা সম্পাদক, চরচা 

বিষয়: মশারাজধানীঢাকাঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনএডিস মশা
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সাজেক ভ্যালিতে পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

  • ২

    রিয়াদ বিমানবন্দরে শনিবারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২৪ বাংলাদেশি আহত

  • ৩

    সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে আবার হামলা, টার্মিনালে আগুন

  • ৪

    রাশিয়া-ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ট্রাম্পের, বিস্মিত জেলেনস্কি

  • ৫

    ইউপি নির্বাচন: জানুয়ারি থেকে শুরু পাঁচ ধাপের ভোট

সম্পর্কিত
  • দিল্লির জেনজি আন্দোলনে টালমাটাল মোদির গদি!

    দিল্লির জেনজি আন্দোলনে টালমাটাল মোদির গদি!

    তরুণদের ক্ষেপিয়ে কোনো দেশের শাসকেরা যে টিকতে পারেন না, সেটা নিকট অতীতে বাংলাদেশ ও নেপাল প্রমাণ করেছে।

  • ভারত: গণ-আন্দোলনের মুখোমুখি এক অনমনীয় রাষ্ট্র

    ভারত: গণ-আন্দোলনের মুখোমুখি এক অনমনীয় রাষ্ট্র

    সরকার ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব এবং নেপাল ও বাংলাদেশে কথিত বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে এই আন্দোলনকে বিদেশি শক্তির কারসাজি হিসেবে চিহ্নিত করে এর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করবে। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই, যারা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইচ্ছুক ছিলেন, তাদের কাছেই জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের গভীরতা স্পষ্ট ছিল।

  • সরকারি কর্মী: বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক ও সময়োচিত

    সরকারি কর্মী: বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক ও সময়োচিত

    দু বছর পর যখন এ বেতন স্কেল পুরো কার্যকর হবে তখন মুদ্রাস্ফীতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেটা দেখার বিষয়। এর মাঝে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। বাড়ানো ছাড়া হয়তো উপায়ও ছিল না। তবে এর ফলে বাড়বে সকল ধরনের পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়সহ ভোগ্যপণ্যের দাম।

  • ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তান আইনসভায় নির্বাচিত অমুসলিম ছিলেন ৭২ জন, এখন বাংলাদেশে ৪

    ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তান আইনসভায় নির্বাচিত অমুসলিম ছিলেন ৭২ জন, এখন বাংলাদেশে ৪

    ২০২৪-এর পর থেকে এই অন্তর্ভুক্তিমূলক শব্দটা আমরা বেশি শুনছি। এটা ভালো লক্ষণ। কিন্তু যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল এবং শিডিউলড কাস্টের ব্যাপারে, নিম্নবর্গের ব্যাপারে অন্তর্ভুক্তিমূলকের দশা কিন্তু খুবই খারাপ।