ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলের ওলেশকিতে গতকাল রোববার স্থানীয় পর্যায়ের যুদ্ধবিরতি শেষ হয়েছে। প্রায় পাঁচ বছর আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ যুদ্ধবিরতি।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প সীমিত পরিসরের এই যুদ্ধবিরতি কার্যকরে মধ্যস্থতা করেছেন। গত মঙ্গলবার ভোরে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতিটি গতকাল রোববার সন্ধ্যায় শেষ হয়। এই সময়ে সম্মুখসারির শহর ওলেশকিতে অবরুদ্ধ বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। বিরল এক যৌথ অভিযানের মাধ্যমে শনিবার এই উদ্ধারকাজ শেষ হয়।
বার্তা সংস্থা এপির বরাতে বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প বলেন, “ওলেশকি ও আশপাশের খেরসন অঞ্চলে যুদ্ধবিরতির ফলে বাসিন্দারা চলাচল, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধ পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। পাশাপাশি হামলার অবিরাম হুমকি ছাড়াই তারা নতুন করে মর্যাদার অনুভূতি ফিরে পেয়েছেন। ওলেশকি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির সূচনাস্থল হয়ে উঠুক।”
অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সময় ওলেশকিতে আনুমানিক দুই হাজার বেসামরিক নাগরিক ছিলেন। তাদের ইউক্রেন অথবা রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ভূখণ্ডে চলে যাওয়ার কিংবা খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রীর নতুন সরবরাহ নিয়ে শহরেই থেকে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে যারা শহরে থেকে গেছেন, তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে উদ্ধার অভিযানের পর সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
গত শনিবার ইউক্রেনের সীমান্তে পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনদের একনজর দেখার অপেক্ষায় ছিলেন। অন্যদিকে, আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা মহাসড়কের পাশে পতাকা ও টর্চলাইট হাতে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তা বহরের সদস্যদের স্বাগত জানান।
তবে অন্য এলাকায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে আকাশপথে হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রোববার বলেছেন, শীত আসার আগে রাশিয়া এখনো ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ঘাটতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করায় রাতভর কয়েক লাখ পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, “হামলার তীব্রতা অত্যন্ত বেশি। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার মতো ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতির সর্বোচ্চ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে রুশ বাহিনী।”
যুদ্ধবিরতির শেষ দিনে কিছুটা স্বস্তি
ইউক্রেনের খেরসন শহরের বাসিন্দারা রোববার শান্ত ছিলেন। যদিও তারা জানতেন, স্থানীয় পর্যায়ের যুদ্ধবিরতির কারণে যে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে।
খেরসন আঞ্চলিক একাডেমিক সংগীত ও নাট্য থিয়েটারের প্রধান ওলেক্সান্দর ন্যাখা একটি কনসার্টের উদ্বোধন করতে গিয়ে দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, “ভয় পাবেন না, ধৈর্য ধরে থাকুন।”
থিয়েটারটিতে প্রতি শনিবার ও রোববার নিয়মিত পরিবেশনা হয়। এ সপ্তাহান্তের অনুষ্ঠানগুলো যুদ্ধবিরতির সময় পড়েছে।
ন্যাখা বলেন, “অবশ্যই আমরা চাই, শেষ পর্যন্ত শান্তি ফিরে আসুক।”
বর্তমানে থিয়েটারটির পরিবেশনা হয় একটি বেজমেন্টে। পাশাপাশি আরেকটি বোমা আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। থিয়েটারের ১২০ জন কর্মীর মধ্যে প্রায় ১০০ জন খেরসনেই কাজ করেন। তাদের কেউই শহর ছেড়ে যাননি।