জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। গতকাল মঙ্গলবারের ওই ভূমিকম্পের একদিন পর আজ বুধবারও ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের খুঁজতে মরিয়া উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ভূমিকম্পে হাজার হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন এবং অঞ্চলজুড়ে বহু সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
কুমামোতো শহরের কাছে আংশিক ধসে পড়া একটি শপিংমলের ধ্বংসস্তূপ থেকে আটজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবারের ভূমিকম্পের প্রায় এক ঘণ্টা পর ওই শপিংমলে একটি বিস্ফোরণ ঘটে। উদ্ধার হওয়া আটজনের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
শপিংমল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট আকিও ইয়োশিদা বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রায় ২ হাজার ৭০০ কর্মীর উপস্থিতি যাচাইয়ের পরও শপিং সেন্টারের আরও তিন কর্মীর কোনো খোঁজ মেলেনি। তবে প্রথম ভূমিকম্পের পরপরই সব ক্রেতাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
টোকিওতে সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, “এখনো অনেক মানুষ উদ্ধারের অপেক্ষায় আছেন। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। যত বেশি সম্ভব মানুষকে জীবিত উদ্ধার করতে মাঠে থাকা সব ধরনের সম্পদ কাজে লাগানো হবে।”
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ১৩ জন নিহত হয়েছে, পাঁচজন হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ অবস্থায় রয়েছে এবং অন্তত আটজন গুরুতর আহত হয়েছে। এ ছাড়া, বিভিন্ন হাসপাতালে আরও কয়েক ডজন আহত ব্যক্তির চিকিৎসা চলছে।
কুমামোতোর ওই শপিংমলে সম্ভাব্য গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ। জাপানের প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা জানান, উদ্ধারকারীরা ভবনের ভেতরে গ্যাসের গন্ধ পেয়েছেন, তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এখনো তদন্তাধীন।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রির একটি কারখানায় ভূমিকম্পে চিমনি ভেঙে পড়ায় পাঁচজন নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছে। এর আগে স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ঘটনায় সাতজন নিখোঁজ ছিলেন।
ভবন ও সেতু ধসে পড়েছে
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি ইয়াতসুশিরো শহরে বহু বাড়ির ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে। উপকূলীয় শহরটির দিকে যাওয়া বিভিন্ন সড়কে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কোথাও কোথাও সড়ক উঁচু-নিচু হয়ে গেছে। অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এখনো বন্ধ রয়েছে।
কুমাগাওয়া নদীর ওপর একটি সেতুর অংশ ভেঙে পড়েছে। ঘটনাস্থলে কৌতূহলী স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড় দেখা গেছে।