পটুয়াখালীতে বিয়ের আশ্বাসে এক বিধবা নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ পরে জোরপূর্বক গর্ভপাতের অভিযোগে সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে পুলিশকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
আজ বুধবার বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, “পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলায় বিচারক শিরিন নিলা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা বিবেচনায় নিয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।”
মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ওই নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। পরে বিয়ে ও তার সন্তানের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। গত ২৪ মার্চ শহরের শের-ই-বাংলা সড়কে অভিযুক্তের বোনের বাসায় নিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়। এরপর ভয়ভীতি ও বিয়ের আশ্বাস দেখিয়ে তাকে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা হয়। ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হলে অভিযুক্ত গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দিতে থাকেন। এতে রাজি না হওয়ায় গত ১৮ মে চিকিৎসার কথা বলে একটি ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে কৌশলে তার গর্ভপাত ঘটানো হয়। পর দিন জ্ঞান ফিরলে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত মো. শহিদুল ইসলাম পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বানিয়াকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতির পাশাপাশি একটি সামাজিক সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। মামলা দায়েরের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে বাদীপক্ষ।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান বলেন, “বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, “আদালতের নির্দেশের কপি এখনো থানায় পৌঁছায়নি। কপি হাতে পেলেই আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”