গ্রীষ্মের চতুর্থ তাপপ্রবাহে ফ্রান্স ও স্পেনে আজ বুধবার তাপমাত্রা আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এতে দাবানলের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। দাবানলের কারণে ইতিমধ্যে বহু মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, পুড়ে গেছে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল এবং মারা গেছে বন্যপ্রাণী।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
স্পেনের আবহাওয়া সংস্থা এইএমইটি জানিয়েছে, বুধবার দেশটির অন্তত ছয়টি অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত উঠতে পারে। এসব অঞ্চলে ‘কমলা সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা স্তর।
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে, যেখানে ভয়াবহ দাবানল চলছে, মঙ্গলবারের প্রায় ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে তাপমাত্রা বেড়ে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া সংস্থা। বুধবার সকালে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে এবং বিকেলে পশ্চিম দিক থেকে আসা শুষ্ক বাতাস আগুন আরও ছড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফ্রান্সের বোর্দোর পশ্চিমাঞ্চলে বড় ধরনের একটি দাবানল রাতভর নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা। তবে কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, আগুন এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
অগ্নিনির্বাপক কমান্ডার ম্যাথিউ জোমাঁ সাংবাদিকদের বলেন, “এই মুহূর্তে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে, কিন্তু আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আজকের আবহাওয়ার পূর্বাভাস বিবেচনায় আমরা অবশ্যই সতর্ক থাকব। কারণ তাপমাত্রা আবার বাড়বে এবং বিকেলে বাতাসের গতিও বাড়তে পারে।”
বিশ্বের দ্রুততম উষ্ণায়ন হওয়া মহাদেশ ইউরোপ এ বছর রেকর্ড তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হয়েছে। মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তীব্র তাপ ও খরা বেড়ে যাওয়ায় দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
ঘন ঘন ও তীব্র তাপপ্রবাহে হাজার হাজার অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়ও ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে—সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যাহত হওয়া থেকে শুরু করে নদীপথে নৌযান চলাচলেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
এদিকে ফ্রান্সের বোর্দোর পশ্চিমে জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা লঁদ অঞ্চলের দাবানলে প্রধানত পাইনগাছে ভরা প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর (১ লাখ ৪ হাজার একর) বন ধ্বংস হয়েছে।
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লান্তন এলাকায়, যেখানে দাবানল ব্যাপক ক্ষতি করেছে, স্বেচ্ছাসেবীরা বালতিতে পানি বহন করে গ্রাম রক্ষার চেষ্টা করছেন।