যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার হোয়াইট হাউসে বক্তব্য দেওয়ার সময় এই আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলার কঠোর সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। এর এক দিন আগে রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহের একটি চুক্তির ঘোষণা দেন তিনি, যা নিয়ে জেলেনস্কি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এই মূল্যবৃদ্ধি ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য রাজনৈতিক দায় হয়ে উঠেছে। ওই নির্বাচনে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেতে পারে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয়, ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে।” রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার কারণে বিশ্বজুড়ে ডিজেল সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, “সে (জেলেনস্কি) আমাদের কৃষক ও খামারিদের জন্য ডিজেল নিয়ে সমস্যা তৈরি করতে চায়। কারণ, সারা বিশ্বে ব্যবহৃত ডিজেলের একটি বড় অংশ রাশিয়া সরবরাহ করে।”
সাম্প্রতিক হামলাগুলোর আগে শুক্রবার মায়ামিতে ইউক্রেন ও ইউরোপের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমেরিকান আলোচকদের বৈঠক হয়। আলোচনার বিষয়ে অবগত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, যুদ্ধ অবসানে একটি অভিন্ন প্রস্তাব তৈরির লক্ষ্যেই ওই বৈঠক হয়েছিল।
আলোচনা চলার মধ্যেই ট্রাম্প ডিজেল চুক্তির ঘোষণা দেন। জেলেনস্কি বলেছেন, এ ঘোষণায় কিয়েভ বিস্মিত হয়েছে।
ইন্টারফ্যাক্স ইউক্রেন সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সহযোগী দিমিত্রো লিতভিনকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, শনিবার ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদল দেশে ফেরার পথে রওনা হয়েছে।
শুক্রবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের পর পুতিন বলেন, অবিলম্বে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম। এর কারণ হিসেবে তিনি মস্কোয় ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কথা উল্লেখ করেন।
রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস শনিবার এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আমেরিকান আলোচক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার মস্কো সফর করতে পারেন।
হোয়াইট হাউসে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প শান্তিচুক্তি না হওয়ার জন্য জেলেনস্কির সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে ইউক্রেনের রুশ জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের দাবি জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, “আমি তাকে বলেছিলাম, ‘তুমি যা খুশি করো। তেল শোধনাগারে হামলা কোরো না। হামলা করার মতো প্রচুর লক্ষ্যবস্তু আছে। তেল শোধনাগারে হামলা কোরো না।’ কিন্তু সে বাইরে গিয়ে হামলা চালিয়েছে। তার এসব অবশ্যই বন্ধ করা উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “আমি পরামর্শ দিচ্ছি, তারা এমন একজন নতুন নেতা নিয়োগ করুক, যিনি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবেন। কারণ, তিনি অনেক চুক্তি করতে পারতেন, কিন্তু কোনো এক কারণে তিনি তা কখনোই করেন না।”