প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফরকালে হওয়া আট দফা সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৩ হাজার কোটি (৩০ বিলিয়ন) ইউএস ডলারের পারস্পরিক শুল্ক কমানোর ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে সংলাপ শুরুর বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়েছে বলে চীন জানিয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ শনিবার জানায়, দুই দেশ একটি বাণিজ্য পরিষদ গঠনের পাশাপাশি কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত আগের আলোচনায় অর্জিত সমঝোতাগুলোও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন তাদের বাণিজ্যবিরতি আরও দুই মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ১০ নভেম্বর ওই বিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। সম্ভাব্য আরও বড় একটি বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে কাজ করার জন্য অতিরিক্ত সময় দিতেই এই মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
সি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তিন দিনের শীর্ষ বৈঠক গতকাল শুক্রবার শেষ হয়। বৈঠকে বড় কোনো প্রকাশ্য অগ্রগতির চেয়ে দুই নেতার ব্যক্তিগত কূটনীতিই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, এরপর সি চিনপিং বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এক বিবৃতিতে বলেন, “এই ঐতিহাসিক সফর চীন-যুক্তরাষ্ট্রের গঠনমূলক ও স্থিতিশীল সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করেছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বিশ্বশান্তি ও উন্নয়নের ওপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে।”
এআই নিয়ে সংলাপ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিষয়ে দুই দেশ প্রযুক্তিটির ঝুঁকি ও সুফল নিয়ে সংলাপ আয়োজনের ব্যাপারে একমত হয়েছে। আগামী নভেম্বরেই পরবর্তী দফার আলোচনা হওয়ার কথা। এআই-সংক্রান্ত কোনো ঘটনা ঘটলে তা নিয়ে যোগাযোগের জন্য একটি পৃথক যোগাযোগ চ্যানেলও গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
আলাদা এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বদলে “সুপার ইন্টেলিজেন্স” শব্দটি ব্যবহারের বিষয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থানকে বেইজিং গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে নতুন নতুন পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দুই দেশের উচিত পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং অভিন্ন মতৈক্যের দিকে এগিয়ে যাওয়া, বিবৃতিতে বলা হয়।
দুই দেশ এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) নেতাদের বৈঠক এবং জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের ক্ষেত্রেও একে অন্যকে সহযোগিতা করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। দুই নেতাই অপর দেশ আয়োজিত এসব সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে দুই নেতা একমত হয়েছেন যে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। পাশাপাশি কোনো দেশ বা কোনো পক্ষ আন্তর্জাতিক নৌপথে চলাচলের ওপর ট্রানজিট টোল আরোপ করতে পারবে না বলেও দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে বলে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে বেইজিংয়ের যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।