Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ | স্বত্ব © চরচা
> এক্সপ্লেইনার

ইতালি-স্পেন থেকে কেন সেনা সরাতে চান ট্রাম্প

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬, ২০: ২৯
ইতালি-স্পেন থেকে কেন সেনা সরাতে চান ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন। তিনি ইতালি ও স্পেন থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছেন। এর আগে জার্মানিতে অবস্থানরত সেনা কমানোর কথাও বলেছিলেন তিনি। ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি তার এই অবস্থান ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের মধ্যে বাড়তি উত্তেজনা তৈরি করেছে।

Advertisement

এই হুমকি এল এমন এক প্রেক্ষাপটে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের সামরিক অভিযান নিয়ে ইউরোপের বেশ কিছু দেশ আপত্তি জানাচ্ছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখতে ন্যাটো মিত্রদের পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন ট্রাম্প। তিনি প্রকাশ্যে ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা করে বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে না।

ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, তিনি ইউরোপীয় মিত্রদের আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে দেখছেন। ইতালি ও স্পেনকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, “তারা আমাদের কোনো সাহায্য করেনি। স্পেন তো একেবারেই খারাপ আচরণ করেছে।” তার এই মন্তব্য কেবল কূটনৈতিক ভাষা নয়, বরং বাস্তব সামরিক সিদ্ধান্তে রূপ নিতে পারে–এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্প কি শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাবেন?trump new

এই পরিস্থিতির পেছনে জার্মানির চ্যান্সেলরের একটি মন্তব্যও ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘হেনস্তা’ হচ্ছে। এই মন্তব্যের পরই ট্রাম্প জার্মানিতে মার্কিন সেনা কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন। ফলে বোঝা যাচ্ছে, ইউরোপীয় নেতাদের প্রকাশ্য সমালোচনা ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিক্রিয়াকে আরও কঠোর করছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুরু থেকেই ইরানবিরোধী যুদ্ধের বিরোধিতা করে আসছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, স্পেন আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে কোনো সামরিক পদক্ষেপে অংশ নেবে না। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর। স্পেন তাই তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত যৌথ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার অনুমতি দেয়নি।

ইতালিও একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে, যদিও তারা শুরুতে কিছুটা ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছিল। কিন্তু মার্চের শেষ দিকে ইতালি সিসিলির সিগোনেলা ঘাঁটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র পরিবহনের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ট্রাম্পের অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করে ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ইতালি কখনোই যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানায়নি। বরং তারা সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে।

ইরানে ফের যুদ্ধ শুরুর ইঙ্গিত, ইতালি ও স্পেন থেকে সরানো হতে পারে মার্কিন সেনাtrump

ইতালির মতে, যুক্তরাষ্ট্র যে অভিযোগ করেছে– ইউরোপীয় জাহাজ হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করছে অথচ নিরাপত্তায় অংশ নিচ্ছে না– তা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। ইতালির কর্মকর্তারা বলছেন, তারা বরং সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছিল।

বর্তমানে ইতালিতে প্রায় ১৩ হাজার মার্কিন সেনা বিভিন্ন নৌঘাঁটিতে অবস্থান করছে। অন্যদিকে স্পেনে প্রায় ৩৮০০ মার্কিন সেনা রয়েছে, যারা মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি– রোটা এবং মোরন বিমানঘাঁটিতে কাজ করে। এই ঘাঁটিগুলো ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রভাব বিস্তারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই এসব ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়ে নেয়, তাহলে ইউরোপে তাদের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। একই সঙ্গে ন্যাটোর সামগ্রিক প্রতিরক্ষা কাঠামোও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

এই উত্তেজনার আরেকটি দিক হলো ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং ট্রাম্পের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি। মেলোনি ইরান যুদ্ধের সমালোচনা করেছিলেন এবং ভ্যাটিকানের প্রধান পোপ লিওর বক্তব্যকে সমর্থন করেছিলেন। পোপ এই যুদ্ধের নিন্দা করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প মেলোনির সমালোচনা করে বলেন, তিনি যথেষ্ট সাহস দেখাতে পারেননি।

ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা ইতালিরGeorgia meloni $

এই ধরনের বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলছে। ট্রাম্প এমনকি সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করে বলেছেন, “ইতালি আমাদের পাশে ছিল না, আমরাও তাদের পাশে থাকব না।” এটি কূটনৈতিক ভাষার বাইরে গিয়ে সরাসরি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্পেনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের চাপ প্রয়োগের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্প ইতিমধ্যে স্পেনের বিরুদ্ধে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছেন। এর আগে স্পেন ন্যাটোর প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনাও প্রত্যাখ্যান করেছিল, যা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে আরও খারাপ করে।

এই প্রেক্ষাপটে ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো যদি সহযোগিতা না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথাও ভাবতে পারে। যদিও বাস্তবে এটি সহজ নয়, কারণ ২০২৪ সালে পাস হওয়া একটি আইনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে ন্যাটো ছাড়তে পারবেন না। এর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন।

হারলেন ট্রাম্প-পুতিনের ‘বন্ধু’ অরবান, হাঙ্গেরির ক্ষমতায় কারাvictor

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ কেবল একটি সামরিক বা কূটনৈতিক বিরোধ নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ইউরোপ এখন আরও বেশি স্বতন্ত্র পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করতে চাইছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সব সিদ্ধান্তে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমর্থন দেবে না।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আওতায় মিত্রদের কাছ থেকেও স্পষ্ট আনুগত্য প্রত্যাশা করছে। ফলে দুই পক্ষের এই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে সম্পর্ককে।

সব মিলিয়ে ইতালি ও স্পেন থেকে সেনা প্রত্যাহারের হুমকি শুধু একটি সামরিক পদক্ষেপ নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে আস্থার সংকটের প্রতিফলন। ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে এই সংকট আরও তীব্র হয়েছে এবং ভবিষ্যতে ন্যাটো জোটের কাঠামো ও কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

বিষয়: প্রধানমন্ত্রীঅস্ত্রইরানইউরোপহরমুজ প্রণালিইতালিমধ্যপ্রাচ্যডোনাল্ড ট্রাম্পজার্মানিমার্কিনযুক্তরাষ্ট্রস্পেনইসরায়েলন্যাটো
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    র‍্যাগিং-মারধরের অভিযোগে খুবির ৩০ শিক্ষার্থীকে সাজা

  • ২

    এসআরবির অভিযানে শ্রমিকের মৃত্যু: গুলি করা ‘দুর্বৃত্ত’ আসলে কারা?

  • ৩

    খুলনায় তাঁতীদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

  • ৪

    ব্র্যাক ব্যাংকের ‘ওমনিচ্যানেল’ সেবা চালু

  • ৫

    মহড়ায় অংশ নিতে চট্টগ্রামে যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর জাহাজ ইউএসএস ওয়ারিয়র

সম্পর্কিত
  • জার্মানিতে জেন-জি বিক্ষোভে সহিংসতা-লুটপাট, নেপথ্যে কী?

    জার্মানিতে জেন-জি বিক্ষোভে সহিংসতা-লুটপাট, নেপথ্যে কী?

    জার্মানিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অন্যান্য সামাজিক ইস্যুতে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বিক্ষোভ শনিবার রাতে সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। ফ্রাঙ্কফুর্ট, বার্লিন, হামবুর্গ ও কোলনে পরিস্থিতি বিশেষভাবে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে চ্যালেঞ্জের মুখে প্রচলিত সাংবাদিকতা

    যুক্তরাষ্ট্রে চ্যালেঞ্জের মুখে প্রচলিত সাংবাদিকতা

    এখন অধিকাংশ আমেরিকান প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নিয়মিত সংবাদ জানতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্বাধীন সংবাদ নির্মাতাদের ওপর নির্ভর করছেন। এমনকি রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সংবাদ পাওয়ার ক্ষেত্রেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রচলিত টেলিভিশন সাংবাদিকতাকে পেছনে ফেলেছে।

  • তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

    তাহসিফ ও দীপকে ‘ধাওয়া’ দিয়েছিল কারা?

    ঢাকার তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের তিন দিন পরও মৃত্যুরহস্যের কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। এর মধ্যে তাহসিফের বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপের বক্তব্য নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

  • ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে ট্রাম্পের অলীক কল্পনা

    ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে ট্রাম্পের অলীক কল্পনা

    ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বিশাল বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন, বাস্তব পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল।