
মার্কিন সেনাবাহিনীতে বড় বড় পদত্যাগ কেন ঘটছে?
মার্কিন সেনাবাহিনী সচিব ড্যান ড্রিসকল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী একাধিক সূত্র বিষয়টি তাদের নিশ্চিত করেছে।
চরচা ডেস্ক

বিশ্ব রাজনীতি এখন এমন এক উত্তরণপর্বের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে পুরোনো শক্তির কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি, আবার নতুন কোনো ব্যবস্থা স্থায়ী রূপও পায়নি। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা। সাম্প্রতিক সময়ে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার অ্যাশভিলে জি-২০ অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নরদের বৈঠক— এই দুটি আলাদা আন্তর্জাতিক সমাবেশ পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থার দুটি ভিন্ন ছবি সামনে এনেছে।
বিশকেকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে একই মঞ্চে রয়েছেন। অন্যদিকে অ্যাশভিলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত জি-২০ বৈঠকে রাশিয়াকে আমন্ত্রণ দেওয়া নিয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে। জার্মান অর্থমন্ত্রী ও ভাইস চ্যান্সেলর লার্স ক্লিংবাইল রুশ অর্থমন্ত্রী আন্তন সিলুয়ানোভের উপস্থিতিকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা এমনকি রুশ মন্ত্রীর সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ‘ফ্যামিলি ফটো’তেও অংশ নিতে চাননি।
দুটি ঘটনাকে পাশাপাশি রাখলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা স্পষ্ট হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পুরোনো জোটব্যবস্থায় টানাপোড়েন বাড়ছে। আর সুযোগ বুঝে চীন সেই শূন্যস্থানকে কূটনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।
চীনের কৌশলটি সরাসরি কোনো নতুন সামরিক জোট তৈরির চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত। বেইজিং এমন একটি বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার ধারণা সামনে আনছে, যেখানে কোনো একক শক্তি আন্তর্জাতিক রাজনীতির নিয়ম, অর্থনৈতিক কাঠামো ও বৈশ্বিক এজেন্ডা একতরফাভাবে নির্ধারণ করতে পারবে না। বিশকেক সম্মেলনে সি চিনপিং ‘সর্বজনীন নিরাপত্তা’, সংলাপ ও পরামর্শ এবং আরও ন্যায্য ও সুশৃঙ্খল বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার কথা বলেছেন। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি এসসিওকে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার সংস্কার এবং ‘সমান ও সুশৃঙ্খল বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থা’ এগিয়ে নেওয়ার শক্তি হিসেবে দেখতে চান।
এখানেই চীনের কৌশলের মূল তাৎপর্য। বেইজিং নিজেকে শুধু এশিয়ার একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে নয়, বরং পশ্চিমা নেতৃত্বের বাইরে একটি বিকল্প আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। রাশিয়ার সঙ্গে তার কৌশলগত সম্পর্ক এর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। বিশকেকে সি ও পুতিনের বৈঠকে দুই নেতা চীন-রাশিয়া সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সি বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি আরও দৃঢ় হবে এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনাও বাড়বে।
তবে চীনের কূটনৈতিক তৎপরতাকে কেবল রাশিয়া-চীন ঘনিষ্ঠতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখলে ভুল হবে। বেইজিংয়ের বড় লক্ষ্য হলো তথাকথিত ‘গ্লোবাল মেজরিটি’—এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকার বিপুলসংখ্যক উন্নয়নশীল দেশকে নিজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। এই দেশগুলো অনেক ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায়, আবার চীনের সঙ্গেও অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক ছিন্ন করতে চায় না। ফলে তারা কোনো একটি শিবিরে পুরোপুরি যোগ দেওয়ার পরিবর্তে একাধিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক রেখে নিজেদের ঝুঁকি কমাতে চাইছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) এই কৌশলের জন্য একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। তবে এটিকে ন্যাটোর মতো সামরিক জোট হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এসসিওর সদস্যরা পারস্পরিক সামরিক প্রতিরক্ষার কোনো বাধ্যতামূলক নিশ্চয়তা দেয় না। ফলে চীন রাশিয়া বা ইরানের সঙ্গে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ হতে পারলেও তাদের সামরিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়ার অবস্থানে নেই। এ কারণেই এসসিও এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে না গিয়েও চীনের নেতৃত্বাধীন বহুমুখী কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
এই বাস্তবতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ ভারত। চীন ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্তবিরোধ এবং কৌশলগত প্রতিযোগিতা রয়েছে। আবার ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। কিন্তু একই সঙ্গে ভারত ব্রিকস, এসসিও এবং অন্যান্য বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় রয়েছে। মানে নয়াদিল্লি কোনো একটি শক্তির সম্পূর্ণ বলয়ে ঢুকে পড়তে চায় না। বরং যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন এবং অন্যান্য শক্তির মধ্যে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রেখে নিজের স্বার্থ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
এটি বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। নতুন মেরুকরণ আগের শীতল যুদ্ধের মতো সরল দুই শিবিরের মেরুকরণ নয়। বরং এটি বহুস্তরীয়। একটি দেশ নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হতে পারে, একই সঙ্গে বাণিজ্যে চীনের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে এবং জ্বালানি ক্ষেত্রে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে পারে। ফলে ‘কে কোন শিবিরে’—এই পুরোনো প্রশ্নের চেয়ে ‘কোন ইস্যুতে কার সঙ্গে’—এই নতুন প্রশ্নটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
অন্যদিকে অ্যাশভিলের জি-২০ বৈঠক যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের সামনে থাকা সমস্যাগুলোও স্পষ্ট করেছে। রাশিয়াকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর আপত্তি করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নে ওয়াশিংটন ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে আগের মতো অভিন্ন অবস্থান নেই। জার্মান অর্থমন্ত্রী ক্লিংবাইল সরাসরি বলেছেন, রুশ অর্থমন্ত্রীর উপস্থিতি তাকে উদ্বিগ্ন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অবশ্য যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে রাশিয়া জি-২০-এর সদস্য এবং সংঘাতের মধ্যেও সংলাপ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি। কানাডার সঙ্গে ওয়াশিংটনের বাণিজ্য বিরোধ, ইউরোপের সঙ্গে শুল্ক নিয়ে টানাপোড়েন এবং ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র ও অর্থনৈতিক নীতি মিত্রদের জন্যও অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। অ্যাশভিল বৈঠকে স্কট বেসেন্ট বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি, নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্যের ওপর জোর দিলেও বৈঠকের বাইরের ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতগুলো সেই অর্থনৈতিক আলোচনাকে ছাপিয়ে গেছে।
এখানে চীনের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র যখন মিত্রদের সঙ্গে বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিতে মতপার্থক্যের মুখে পড়ছে, তখন বেইজিং নিজেকে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল এবং ‘প্রেডিক্টেবল’ অংশীদার হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। চীনের বক্তব্য হলো—বিশ্ব অর্থনীতিকে বিভক্ত না করে সহযোগিতা বাড়াতে হবে, বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে এবং কোনো একটি দেশের একক আধিপত্যের পরিবর্তে বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
তবে চীনের এই প্রচেষ্টার মধ্যেও বড় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। চীনের অর্থনীতি নিজেই চাপের মধ্যে। আবাসন খাতের দীর্ঘস্থায়ী সংকট, অভ্যন্তরীণ চাহিদার দুর্বলতা এবং প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে রপ্তানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বেইজিংয়ের জন্য সমস্যা তৈরি করছে। চীনের সস্তা বৈদ্যুতিক গাড়ি, সৌর প্যানেল, ব্যাটারি ও বিভিন্ন শিল্পপণ্য ইউরোপ ও অন্যান্য বাজারে দ্রুত প্রবেশ করায় সেসব দেশের স্থানীয় শিল্পের ওপর চাপ বাড়ছে। ফলে চীনের রপ্তানি-নির্ভর প্রবৃদ্ধি একদিকে তার অর্থনীতিকে সচল রাখছে, অন্যদিকে বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে নতুন বিরোধও তৈরি করছে।
প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রতিযোগিতা চলছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ডেটা সেন্টার এবং উচ্চপ্রযুক্তি উৎপাদন এখন আর নিছক অর্থনৈতিক বিষয় নয়। এগুলো জাতীয় নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনীতির অংশ হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ‘প্যাক্স সিলিকা’ উদ্যোগের লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ সেমিকন্ডাক্টর ও প্রযুক্তি সরবরাহব্যবস্থায় মিত্রদের নিয়ে একটি নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্ক তৈরি করা। এর বিপরীতে চীন ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএআইসিও)-এর মাধ্যমে এআই প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিকল্প প্রযুক্তি-পরিকাঠামোর ধারণা সামনে এনেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিযোগিতা এখন বাণিজ্যযুদ্ধের বাইরে প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণের লড়াইতেও পরিণত হয়েছে।
এই প্রতিযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—উভয় শক্তিই একে অপরকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করতে পারছে না। যুক্তরাষ্ট্র চীনের প্রযুক্তিগত উত্থান ঠেকাতে চায়, কিন্তু একই সঙ্গে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় চীনের ভূমিকা অস্বীকার করা কঠিন। চীনও যুক্তরাষ্ট্রের বাজার, প্রযুক্তি ও আর্থিক ব্যবস্থার বিকল্প তৈরি করতে চাইলেও রাতারাতি তা সম্ভব নয়। ফলে ‘সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা’র পরিবর্তে বাস্তবে প্রতিযোগিতা, সীমিত সহযোগিতা এবং পারস্পরিক নির্ভরতার এক জটিল সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে।
চীনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তাই শুধু যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলা করা নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রকে অতিরিক্ত উসকে না দিয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থনের পরিধি বাড়ানো। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের চ্যালেঞ্জও শুধু চীনের উত্থান ঠেকানো নয়; মিত্রদের আস্থা ধরে রাখা। কারণ বৈশ্বিক নেতৃত্ব শুধু সামরিক শক্তি বা অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না। নেতৃত্বের জন্য দরকার মিত্রদের আস্থা, নীতির ধারাবাহিকতা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর প্রভাব।
এখানেই বর্তমান পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থার সবচেয়ে বড় শিক্ষা। যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক, আর্থিক ও প্রযুক্তিগত শক্তিগুলোর একটি। চীনও অর্থনীতি, শিল্প, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও কূটনীতিতে দ্রুত নিজের প্রভাব বাড়াচ্ছে। কিন্তু বিশ্ব এখন আর এমন অবস্থায় নেই যেখানে একটি শক্তি একাই আন্তর্জাতিক এজেন্ডা নির্ধারণ করতে পারে। রাশিয়া, ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিগুলো এবং গ্লোবাল সাউথের বহু দেশ নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী অবস্থান বদলাচ্ছে।
ফলে সামনে যে বিশ্বব্যবস্থা তৈরি হতে যাচ্ছে, তা সম্ভবত এককেন্দ্রিকও হবে না, আবার পুরোপুরি দ্বিমেরুও হবে না। বরং এটি হবে বহু-কেন্দ্রিক, প্রতিযোগিতামূলক এবং ইস্যুভিত্তিক জোটের বিশ্ব। বিশকেকে সি কূটনৈতিক তৎপরতা এবং অ্যাশভিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের টানাপোড়েন সেই পরিবর্তনেরই প্রতীক।
বিশ্ব রাজনীতির পরবর্তী অধ্যায়ে তাই প্রশ্নটি শুধু ‘কে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিস্থাপন করবে’—এটি নয়। আসল প্রশ্ন হলো, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে ভারত, রাশিয়া, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও গ্লোবাল সাউথের দেশগুলো কীভাবে নিজেদের অবস্থান নির্ধারণ করবে’। যে শক্তি এই পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় সবচেয়ে বেশি অংশীদার তৈরি করতে পারবে, শুধু সামরিক বা অর্থনৈতিক শক্তি দিয়ে নয়, কূটনীতি ও গ্রহণযোগ্যতার মাধ্যমে, একবিংশ শতকের নতুন বিশ্বব্যবস্থায় নেতৃত্বের দাবিদার হওয়ার সম্ভাবনাও তারই বেশি।
অতএব, বিশকেক ও অ্যাশভিলের ঘটনাপ্রবাহকে দুটি বিচ্ছিন্ন আন্তর্জাতিক বৈঠক হিসেবে দেখলে এর গভীর তাৎপর্য ধরা পড়বে না। এগুলো আসলে একই বৃহত্তর পরিবর্তনের দুটি আলাদা প্রতিচ্ছবি। একদিকে চীন বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার জন্য সমর্থন সংগঠিত করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তার নেতৃত্বাধীন জোটের ভেতরের মতপার্থক্য সামলানোর চেষ্টা করছে। বিশ্বব্যবস্থার এই উত্তরণ এখনো অসম্পূর্ণ। কিন্তু একটি বিষয় ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে—আগামী দিনের আন্তর্জাতিক রাজনীতি আর কেবল ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তে পরিচালিত হবে না। বেইজিং সেই বাস্তবতাকে নিজের পক্ষে কাজে লাগাতে চাইছে, আর বিশ্বের অন্যান্য শক্তি নিজেদের জন্য নতুন ভারসাম্যের পথ খুঁজছে।

মার্কিন সেনাবাহিনীতে বড় বড় পদত্যাগ কেন ঘটছে?
মার্কিন সেনাবাহিনী সচিব ড্যান ড্রিসকল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী একাধিক সূত্র বিষয়টি তাদের নিশ্চিত করেছে।

পাকিস্তানের কাশ্মীরে আসলে কী ঘটছে?
গত জুলাই ও আগস্ট মাসে ছিল পাকিস্তান অধ্যুষিত কাশ্মীরে নির্বাচন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) বরাত দিয়ে জানায়, গত ৩ আগস্ট পর্যন্ত রাওয়ালকোটের আশপাশে সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছে।

কল লিস্ট, লোকেশন, এনআইডি: টাকা দিলেই মিলছে ব্যক্তিগত তথ্য
বিক্রেতারা সামাজিক মাধ্যমে ‘এই সেবার’ প্রচারণা চালান, ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তথ্য বিক্রি করেন, টেলিগ্রাম চ্যানেলে গ্রাহক সেবা দেন এবং সেখানে বিকাশ-নগদের মতো মোবাইল আর্থিক সেবা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে টাকা বিনিময় করেন।

ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে এত টানাপোড়েন কেন?
নোয়াখালীর সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নে ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার পর দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ ঘটনা আবারও সামনে এনেছে কমিটি গঠন নিয়ে সংগঠনটির পুরনো সংকট। সেই সংকট হলো পদ পাওয়া ও পদবঞ্চিতদের বিরোধ সংক্রান্ত। গত শনিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অশ্বদিয়া