বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ বাংলাদেশ। বিপুল পরিমাণ পোশাক রপ্তানি করে প্রতিবছর আয় হয় কয়েক হাজার কোটি ডলার। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের উপস্থিতি শক্তিশালী। কিন্তু রপ্তানির পরিমাণের দিক থেকে শক্তিশালী অবস্থানে থাকার পরও কেন বাংলাদেশ প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় কম দামে পোশাক বিক্রি করছে? আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের দরকষাকষির ক্ষমতা কতটুকু? কেন বাংলাদেশ নিজের পণ্যের দাম বাড়াতে পারছে না?
ইইউ-এর বাজারের সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাংলাদেশের পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য অনেক প্রতিযোগী দেশের তুলনায় কম। এমনকি ২০২৬ সালের শুরুতে ব্যবধানটি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠে। বিপুল পরিমাণ পোশাক রপ্তানি করলেও সেই অনুপাতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বাড়ছে না। অর্থাৎ বাংলাদেশের পোশাক খাত এখনো অনেকাংশে পরিমাণনির্ভর হয়ে আছে। মূল্যনির্ভর নয়।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি ও জায়ান্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক হাসান চরচাকে বলেন, “বাংলাদেশ কম দামে পোশাক রপ্তানি করে মানে পোশাকের মান কম বিষয়টি এমন না। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে একেক দেশ একেক কৌশল গ্রহণ করে। আমরা একটু কম দামে, কম সময়ে এবং খুব ভালো মানের পোশাক রপ্তানি করি। আমাদের এখানে যে সমস্যাটা হচ্ছে তা হলো, পণ্যের বৈচিত্র খুব কম। আমরা কটন বেজড পোশাক থেকে বেরিয়ে ম্যান-মেইড ফাইবারে যেতে চাচ্ছি। এর জন্য সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।”
ইইউ-এর বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের দাম কত
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার ইইউ। ইইউ এর পরিসংখ্যান দপ্তর ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে এই বাজারে বাংলাদেশ প্রায় ১২.৩০ লাখ টন তৈরি পোশাক রপ্তানি করে আয় করেছে প্রায় ১৯ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু এক বছর আগের তুলনায় রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ, যেখানে রপ্তানি মূল্য বেড়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
প্রতি কেজি পোশাকের গড় রপ্তানি মূল্য ২০২৩ সালের ১৬ দশমিক ৮৮ ডলার থেকে কমে ২০২৪ সালে দাঁড়ায় ১৬ দশমিক ০৭ ডলারে। অর্থাৎ এক বছরেই গড় ইউনিট মূল্য কমেছে প্রায় ৫ শতাংশ।
২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মিলিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের গড় রপ্তানি মূল্য কমে প্রতি কেজিতে প্রায় ১৪ দশমিক ৪ ইউরোতে নেমেছে। এক বছর আগে একই সময়ে এই মূল্য ছিল প্রায় ১৫ দশমিক ৪৫ ইউরো। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ইউনিট মূল্য কমেছে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ।
বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস-এর প্রতিষ্ঠাতা মহিউদ্দিন রুবেল চরচাকে বলেন, “বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা ও প্রতিযোগিতা প্রায় স্থায়ী বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। ক্রেতারা বাড়তি দামে পণ্য কিনতে রাজি নন, আর সেই মূল্য চাপ ব্র্যান্ড বায়াররা সরাসরি চাপিয়ে দিচ্ছেন কারখানার ওপর। এ চাপ সামলাতে নন-কটন পণ্য হতে পারে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সহায়ক শক্তি। কারণ বেশি মূল্য সংযোজিত এসব ক্যাটাগরিতে মার্জিন তুলনামূলক বেশি, মূল্য চাপ সামলানোর সক্ষমতাও বেশি।”
প্রতিযোগীদের তুলনায় ব্যবধান কত
চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির ইইউ-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের পোশাকের গড় রপ্তানি মূল্য ছিল প্রতি কেজি প্রায় ১৪ দশমিক ৪ ইউরো। বিপরীতে ভিয়েতনামের প্রায় ২৯ দশমিক ৮২ ইউরো, তুরস্কের ২৮ দশমিক ১৯ ইউরো, মরক্কোর ৩০ দশমিক ২৮ ইউরো এবং শ্রীলঙ্কার ২৪ দশমিক ৪৪ ইউরো। অর্থাৎ বাংলাদেশের পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য ভিয়েতনাম, তুরস্ক, মরক্কো কিংবা শ্রীলঙ্কার চেয়েও অনেক কম।
তবে প্রতি কেজির গড় মূল্য দিয়ে সব ধরনের পোশাকের মান বা লাভজনক কি না তা বিচার করা যায় না। একটি ভারী জ্যাকেট এবং একটি হালকা টি-শার্টের প্রতি কেজি মূল্য এক হবে না। আবার একটি সাধারণ টি-শার্ট এবং একটি বিশেষ নকশার উচ্চমূল্যের টি-শার্টের দামও এক নয়। তাই দেশের সামগ্রিক ইউনিট মূল্য তুলনা করার পাশাপাশি একই ধরনের পণ্যের ইউনিট মূল্যও দেখা হয়। সেই জায়গাতেও বাংলাদেশ অনেকটা পিছিয়ে।
২০২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছিল ১৯ দশমিক ১ শতাংশ। কিন্তু গড় ইউনিট মূল্য বেড়েছিল মাত্র ২ শতাংশ। ছবি: রয়টার্স
পাকিস্তান বিজনেস কাউন্সিলের ২০২৫ সালের একটি গবেষণায় ২০২৪ সালের তথ্য ব্যবহার করে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, চীন ও ভিয়েতনামের একই ধরনের পোশাকের ইউনিট মূল্য তুলনা করা হয়েছে। ইইউ-এর বাজারে বাংলাদেশের কটন-নির্ভর পোশাকগুলোর বড় অংশেই ইউনিট মূল্য পাকিস্তান, চীন ও ভিয়েতনামের চেয়ে কম। গবেষণাটির তথ্যের উৎস ছিল আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বাণিজ্য সংস্থার পরিসংখ্যান।
ফারুক হাসান বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশগুলো হলো চীন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া এসব। এরা আমাদের চেয়ে বেশি বৈচিত্রময় পোশাক রপ্তানি করে। এই জায়গায় আমরা তাদের চেয়ে পিছিয়ে। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
দাম ও বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পণ্যের বৈচিত্র আনার সুপারিশ করে মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “প্রতিযোগী দেশ অর্থাৎ ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া নিজেদের নন-কটন হিস্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়াচ্ছে। চীন নিজের কটন সুতা-কাপড় উৎপাদনের বড় অংশ সরিয়ে নিয়েছে ভিয়েতনামে, আর নিজে বিনিয়োগ করছে নন-কটন ও উঁচু প্রযুক্তির ফাইবারে। অর্থাৎ বিশ্বের বড় উৎপাদক-বিনিয়োগকারীরা নিজেরাই বাজি ধরছেন নন-কটনের ওপর। বাংলাদেশ এখনই এগিয়ে না এলে এ ব্যবধান আরও বাড়বে।”
বাংলাদেশের পোশাক সস্তা কেন?
রপ্তানির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাংলাদেশ বহু বছর ধরে টি-শার্ট, শার্ট, ট্রাউজার, সোয়েটারসহ এই ধরনের কিছু পোশাকের উপর ভর করে বিশ্ববাজারে জায়গা তৈরি করেছে। এই মডেলের মূল শক্তি হচ্ছে বিপুল পরিমাণ উৎপাদন, কম উৎপাদন ব্যয় এবং বড় অর্ডার দ্রুত সরবরাহ করার সক্ষমতা।
কিন্তু এর বিপরীত দিকও রয়েছে। এসব সাধারণ পোশাকের বাজারে উৎপাদন বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের দরকষাকষির ক্ষমতা অনেক বেশি। একই ধরনের পোশাক চীন, ভিয়েতনাম, ভারত, পাকিস্তান, কম্বোডিয়া কিংবা অন্যান্য দেশ থেকেও পাওয়া যায়। ফলে বাংলাদেশের কারখানাগুলো শুধু মান ও সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে না, দামের সঙ্গেও প্রতিযোগিতা করতে হয়।
বিজিএমইএও দীর্ঘদিন ধরে পণ্যের বৈচিত্র্য ও দাম বাড়ানোর কথা বলে আসছে। বাংলাদেশের এক্সপোর্ট বাস্কেট দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি মৌলিক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ বহু বছর ধরে টি-শার্ট, শার্ট, ট্রাউজার, সোয়েটারসহ এই ধরনের কিছু পোশাকের উপর ভর করে বিশ্ববাজারে জায়গা তৈরি করেছে। ছবি: রয়টার্স
বিজেএমইএর সাবেক সভাপতি ফারুক হাসান জানান, সংগঠনটির দায়িত্বে থাকার সময় তিনি পণ্যের বৈচিত্র আনার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
ক্রেতাদের দরকষাকষির ক্ষমতা কত বড়
২০২৩ সালে দেশের পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা জানিয়েছিলেন, কিছু কারখানা উৎপাদন ব্যয়ের চেয়েও কম দামে অর্ডার নিচ্ছে শুধু কারখানা সচল রাখার জন্য। ওই সময় বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, স্থানীয় কারখানাগুলোর অতিরিক্ত সক্ষমতা এবং নিজেদের মধ্যে অস্বাস্থ্যকর মূল্য প্রতিযোগিতাও ক্রেতাদের কম দাম আদায়ের সুযোগ তৈরি করছে। অর্থাৎ শুধু বিদেশি ক্রেতাদের চাপ নয়, দেশের ভেতরের প্রতিযোগিতাও বাংলাদেশের রপ্তানি মূল্য কমিয়ে দিতে ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশের কারখানাগুলোর নিজেদের মধ্যেও দাম নিয়ে প্রতিযোগিতা করে। একই ধরনের পোশাক উৎপাদনকারী অনেক কারখানা একই ধরনের অর্ডারের জন্য প্রতিযোগিতা করে। কোনো কারখানা যদি অর্ডার না নেয়, অন্য কারখানা কম দামে সেটি নেওয়ার চেষ্টা করে। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতার সঙ্গে দরকষাকষিতে বাংলাদেশের কারখানাগুলোর সম্মিলিত দরকষাকষির ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছিল ১৯ দশমিক ১ শতাংশ। কিন্তু গড় ইউনিট মূল্য বেড়েছিল মাত্র ২ শতাংশ। ফলে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধির প্রায় ৯০ শতাংশই এসেছিল রপ্তানির পরিমাণ বাড়ার কারণে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে একই সময়ে গড় ইউনিট মূল্য বরং কমেছিল।
কেন বেশি দাম পাচ্ছে না বাংলাদেশ?
পোশাক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের শক্তি মূলত বিশাল পরিমাণ পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহে। অন্যদিকে ভিয়েতনাম বা তুরস্কের মতো দেশ অনেক বেশি মূল্য সংযোজনকারী পোশাক, উন্নত নকশা, জটিল পণ্য এবং তুলনামূলক উচ্চমূল্যের পোশাকে বেশি শক্তিশালী।
ফলে একই পরিমাণ পোশাক রপ্তানি করলেও দেশভেদে রপ্তানি আয় এক হয় না। একটি দেশের পোশাক রপ্তানি যত বেশি উচ্চমূল্যের পণ্যের দিকে যাবে, একই পরিমাণ উৎপাদন থেকে তত বেশি রপ্তানি আয় করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশের জন্য এখানেই সবচেয়ে বড় সুযোগ।
বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদন বেড়েছে। স্যুট, জ্যাকেট, বিশেষায়িত পোশাক, উন্নত নকশার পোশাকসহ বিভিন্ন ধরনের মূল্য সংযোজনকারী পণ্যের উৎপাদন বাড়ছে। কিন্তু মোট রপ্তানির তুলনায় এসব পণ্যের অংশ এখনো বড় নয়।
বিজিএমইএও বলছে, ভবিষ্যতে প্রবৃদ্ধির জন্য পরিমাণনির্ভর উৎপাদন থেকে মূল্য সংযোজনের দিকে যেতে হবে। সংগঠনটির বিভিন্ন বিশ্লেষণে উচ্চমূল্যের পোশাক, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং উন্নত প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফারুক হাসান বলেন, “পোশাকের দাম নিয়ে একাধিকবার ইউরোপের বায়ারদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা বিভিন্ন সময় আশা দিয়েছে। আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।”
বাংলাদেশের সামনে কোন পথ?
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় পথ হচ্ছে পরিমাণ থেকে মূল্যের দিকে যাওয়া। এর অর্থ সাধারণ পোশাকের রপ্তানি বন্ধ করা নয়। বরং বর্তমান বৃহৎ বাজার ধরে রেখেই তার পাশাপাশি বেশি মূল্য সংযোজনকারী পণ্যের অংশ বাড়ানো। উন্নত নকশার পোশাক, বিশেষায়িত পোশাক, ম্যান-মেইড ফাইবার ভিত্তিক পোশাক, কারিগরি পোশাক, ক্রীড়া পোশাক, জ্যাকেট, স্যুট, প্রিমিয়াম পোশাক এবং নিজস্ব নকশাভিত্তিক পণ্যের বাজার বাড়াতে হবে।
একই সঙ্গে শুধু পোশাক তৈরি নয়, নকশা, গবেষণা, পণ্য উন্নয়ন, ব্র্যান্ডিং এবং আন্তর্জাতিক বিপণনেও বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। কারণ যে দেশ শুধু পোশাক তৈরি করে, সে পোশাকের উৎপাদনমূল্য পায়। কিন্তু যে দেশ নকশা করে, পণ্য তৈরি করে, ব্র্যান্ড তৈরি করে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ করে, সে একই পোশাক থেকে বেশি মূল্য পায়।
বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “পরিকল্পনা অবকাঠামো, দক্ষ জনবল, জ্বালানি নিশ্চয়তা ও বিনিয়োগ, এ চার বিষয় একসঙ্গে এগোতে না পারলে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ধীরগতিতেই থেকে যাবে, আর বিশ্ববাজারের সঙ্গে ব্যবধান বাড়তেই থাকবে। সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারলে আগামী দশকে বাংলাদেশ শুধু রপ্তানির পরিমাণে নয়, মূল্য সংযোজনেও বিশ্ববাজারের প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে, আর সেটাই হওয়া উচিত এ যাত্রার আসল লক্ষ্য।”